হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর পরই তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ জব্দের দাবি করার পরই বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়।
এর আগে শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইরান ঘোষণা দেয়, তারা গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করছে এবং ওই এলাকায় প্রবেশকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। এ ঘোষণার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।
বাজারে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে তেলের দামে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৬৬ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৮৮ দশমিক ৫৫ ডলারে ওঠে।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এ রুটে উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreসিডনির পশ্চিমাঞ্চলে সন্দেহভাজন গ্যাং হামলায় নিহত ৪০ বছর বয়সী জোশুয়া ম্যাকডোনাল্ডকে পরিবারের পক্ষ থেকে এমন একজন মানুষ হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে, যিনি গুলির মুখে নিজের জীবনের কথা না ভেবে বন্ধুর দুই শিশুকন্যাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ বলছে, ম্যাকডোনাল্ডের সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে কোনো যোগসূত্র ছিল না এবং ঘটনাটি ভুল পরিচয়ের কারণে ঘটে থাকতে পারে। বুধবার বিকেলে সিডনির পশ্চিমাঞ্চলের মেরিল্যান্ডস ওয়েস্টের ব্রুস স্ট্রিটের একটি বাড়ির সামনে গুলিতে নিহত হন ম্যাকডোনাল্ড। তিনি পেশায় বৈদ্যুতিক কাজের ঠিকাদার ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, একটি চুরি যাওয়া ধূসর অডি গাড়িতে থাকা বন্দুকধারীরা ওই বাড়ির সামনে এসে গুলি চালায়। ম্যাকডোনাল্ড মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় ম্যাকডোনাল্ড তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু নিক ব্রাউন এবং ব্রাউনের দুই ছোট মেয়ের সঙ্গে বাড়িটির সামনে ছিলেন। গুলি শুরু হলে তিনি শিশুদের সামনে নিজেকে আড়াল হিসেবে দাঁড় করান। পরিবারের সদস্য ডার্লিন নর্টন জানিয়েছেন, তাঁর ভাগনে এমনই ছিলেন। বিপদে কাউকে দেখলে নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে সামনে দাঁড়াতেন তিনি। ব্রাউন নর্টন পরিবারকে পাঠানো এক বার্তায় ম্যাকডোনাল্ডকে তাঁর নিজের ও সন্তানদের ‘অভিভাবক দেবদূত’ হিসেবে স্মরণ করেছেন বলে পরিবার জানিয়েছে। ম্যাকডোনাল্ডের স্বজনেরা বলেন, তাঁর শেষ কাজটিও ছিল অন্যদের নিরাপদ রাখার চেষ্টা। ঘটনার তদন্তে পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করেছে। এতে একটি ধূসর অডি গাড়িকে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে দেখা গেছে। পুলিশের ধারণা, হামলাকারীরা যে ব্যক্তিকে লক্ষ্য করেছিল, ম্যাকডোনাল্ড সম্ভবত সেই ব্যক্তি ছিলেন না। যে বাড়িতে তিনি গিয়েছিলেন, সেটির সঙ্গে অপরাধজগতের সংশ্লিষ্টতার তথ্য থাকলেও পুলিশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ম্যাকডোনাল্ড নিজে সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ম্যাকডোনাল্ড হত্যার মাত্র এক দিন আগে সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গ্লেন অ্যালপাইনে একই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটে। ৩১ আগস্ট ভোরে মুখোশধারী কয়েকজন একটি বাড়িতে ঢুকে ২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মার্কো তাপিয়াকে গুলি করে হত্যা করে। তাপিয়াও অপরাধজগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সেই ঘটনাও ভুল পরিচয়ের কারণে ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই ঘটনার মধ্যে মাত্র প্রায় ৩৬ ঘণ্টার ব্যবধান থাকায় সিডনিতে সংগঠিত অপরাধীদের সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পুলিশের তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এসব হামলার পেছনে একই অপরাধী চক্র বা বিরোধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা। ম্যাকডোনাল্ডের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁর খালা ডার্লিন নর্টন অভিযোগ করেন, হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটি দীর্ঘ সময় ওই এলাকায় অবস্থান করেছিল। এমন পরিস্থিতিতে আগে থেকে পুলিশি টহল বাড়ানো হলে হয়তো ঘটনাটি ঠেকানো সম্ভব হতো বলে তাঁর ধারণা। তবে নিউ সাউথ ওয়েলসের সরকার ও পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা কাজ করছে। পুলিশ কমিশনার ম্যাল ল্যানিয়ন জানিয়েছেন, সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হবে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আদালতের মুখোমুখি করার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, বিদেশে অবস্থানরত অপরাধীদের নির্দেশে স্থানীয় তরুণদের ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে কি না। এদিকে ম্যাকডোনাল্ডের স্বজনেরা তাঁকে পরিশ্রমী, সদয় ও পরিবারপ্রিয় মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন। তাঁর খালা জানিয়েছেন, মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই জন্মদিনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। জবাবে ম্যাকডোনাল্ড লিখেছিলেন, দেখা হওয়ার অপেক্ষায় আছেন তিনি। সেই সাক্ষাৎ আর হয়নি। পুলিশ এখনো দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তদন্তকারীরা হামলাকারীদের শনাক্ত করতে নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করছেন। সূত্র: ডেইলি মেইল, এবিসি নিউজ ও ৭নিউজ।
রোগীর কষ্টকে 'অজুহাত' ভেবে অক্সিজেন ছাড়াই মাস্ক পরিয়ে দিলেন নার্স, মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তরুণ
আর্জেন্টিনার ফকল্যান্ড দাবিতে ট্রাম্পের সমর্থনের ইঙ্গিত, বিপাকে যুক্তরাজ্য
তালেবানের চোখ ফাঁকি দিয়ে ছেলে সেজে পড়াশোনা, আজ ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মানজনক দায়িত্বে জাহরা
ইন্দোনেশিয়ায় সরকারের বিনা মূল্যের স্কুল খাবার কর্মসূচির খাবার খেয়ে চলতি সপ্তাহে পৃথক কয়েকটি ঘটনায় ২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন। দেশটির অন্তত চারটি অঞ্চলে এসব ঘটনা ঘটেছে। বারবার খাবারজনিত অসুস্থতার ঘটনায় প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর শিশুদের অপুষ্টি দূর করার এই কর্মসূচি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশের তানা তোরাজায় প্রায় ১৭০ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অসুস্থ হন। স্থানীয় সরকারের প্রধান জাদরাক তমবেগ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে চলতি সপ্তাহে মধ্য জাভা, পূর্ব জাভা ও পশ্চিম সুমাত্রা প্রদেশে আরও ১ হাজার ৭০০ জনের বেশি অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পূর্ব জাভার আরেকটি এলাকায় এর আগে ২৫৬ শিক্ষার্থী স্কুলের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়েছিল। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, কমনাস হাম, পুলিশকে বিষয়গুলো তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে কমিশন বলেছে, নিরাপদ খাবার পাওয়ার অধিকারও মানবাধিকারের অংশ। খাবার প্রস্তুত ও বিতরণে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা না গেলে সরকারের পরিচালিত পুষ্টি কর্মসূচি তার নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা হারাতে পারে বলেও সতর্ক করেছে কমিশন। কমিশন একই সঙ্গে যেসব রান্নাঘর থেকে দূষিত বা অনিরাপদ খাবার সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পুষ্টি সংস্থা কর্মসূচিটি পরিচালনা করে। সংস্থাটির প্রধান সুদারিয়োনো বৃহস্পতিবার বলেছেন, খাবারজনিত অসুস্থতার ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তবে শুক্রবার নির্ধারিত একটি সংবাদ সম্মেলন কোনো কারণ না জানিয়ে স্থগিত করা হয় এবং নতুন তারিখও জানানো হয়নি। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো গত বছর বিনা মূল্যের পুষ্টিকর খাবার কর্মসূচি চালু করেন। শিশুদের অপুষ্টি কমানো এবং শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সরকার দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক শিশুকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে। তবে কর্মসূচি চালুর পর থেকেই খাবারের মান, সংরক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার মধ্যে মধ্য জাভার লাসেমে ৭৫২ শিক্ষার্থী ও ২৫ শিক্ষক অসুস্থ হওয়ার ঘটনা বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় খাবার হিসেবে দেওয়া ভাজা মুরগি নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। খাবার ভোরে রান্না করে দুপুরে পরিবেশন করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। খাবার সংরক্ষণ ও পরিবেশনের সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পূর্ব জাভার সিদোয়ারজো এলাকায়ও ৫০০-এর বেশি শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যায়। জাতীয় পুষ্টি সংস্থা জানিয়েছে, সন্দেহভাজন একটি রান্নাঘর ৩০ দিনের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে এবং তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে। এর আগে সরকারি কর্মসূচির খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাগুলোর সঙ্গে খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা এবং রান্না করা খাবার দেরিতে স্কুলে পৌঁছানোর মতো কারণের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। তবে সমস্যার ব্যাপকতা সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার চেয়েও বেশি হতে পারে। ইন্দোনেশিয়ার পার্লামেন্ট সদস্য চার্লস হনোরিস স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছেন, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এই সংখ্যা নিয়ে সরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। কমনাস হামও এর আগে কর্মসূচিটির পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জুনে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় সংস্থাটি বলেছিল, বিনা মূল্যের পুষ্টিকর খাবার কর্মসূচিতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, খাবারের মান ও পুষ্টিগুণ এবং মানবাধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে আরও কার্যকর ব্যবস্থাপনার সুপারিশও করেছিল কমিশন। বারবার খাবারজনিত অসুস্থতার ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। তানা তোরাজার ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক শিশুর মা এস্টার পাতানদুং রয়টার্সকে বলেছেন, একজন অভিভাবক হিসেবে তাঁর প্রত্যাশা হলো কেন্দ্রীয় বা আঞ্চলিক সরকার যেন বিনা মূল্যের খাবার কর্মসূচি বাতিল করে। জনসমর্থনের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে। জুলাইয়ে সাইফুল মুজানি রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিং পরিচালিত এক জরিপে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ইন্দোনেশীয় এই কর্মসূচির কার্যক্রমে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছিলেন। অসন্তুষ্টদের অনেকেই খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। কর্মসূচিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তাই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। শিশুদের অপুষ্টি মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য সামনে রেখে চালু হওয়া উদ্যোগটি বড় পরিসরে পরিচালিত হওয়ায় খাবারের নিরাপত্তা, রান্নাঘরের স্বাস্থ্যবিধি, সংরক্ষণ এবং সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবাধিকার কমিশনের তদন্তের আহ্বানের পর সরকার কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।
ফ্রান্সে হিজাব নিষেধের প্রস্তাব: মুসলিম নারীদের পাশে দাঁড়াতে হিজাব পরে ছবি-ভিডিও প্রকাশ ফরাসি নারীদের
মানচিত্রে ছোট দেখানো আফ্রিকার ‘প্রকৃত আকার’ তুলে ধরতে জাতিসংঘের উদ্যোগ, ১৬৪ দেশের সমর্থনে প্রস্তাব পাস
ভিটামিন সি’র নামে প্রাণঘাতী ফেন্টানিলের রাসায়নিক পাচার, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়র কারাদণ্ড
ফিলিস্তিনি এক বন্দির ওপর গুরুতর নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত তিন ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনা দেশটির রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮০ লাখ শেকেল, প্রায় ৬০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছেন। চলতি বছরের মার্চে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদেরসহ পাঁচ সেনার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহার করার কয়েক মাস পর এ মামলা করা হলো। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, ‘ফোর্স ১০০’ রিজার্ভ ইউনিটের ওই তিন সেনা ডানপন্থি আইনি সহায়তা সংগঠন হনেনুর মাধ্যমে জেরুজালেমের একটি আদালতে মামলাটি করেছেন। মামলায় ইসরায়েল রাষ্ট্র, সেনাবাহিনী, সামরিক পুলিশ, ইসরায়েল পুলিশসহ মোট ১৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ জুলাই দক্ষিণ ইসরায়েলের স্দে তেইমান সামরিক আটককেন্দ্রে এক ফিলিস্তিনি বন্দির ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই ঘটনায় পাঁচ রিজার্ভ সেনার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, চোখ বাঁধা ও হাতকড়া পরানো অবস্থায় ওই বন্দিকে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে লাথি মারা, পায়ে মাড়ানো, লাঠি দিয়ে পেটানো এবং মাটিতে টেনে নেওয়া হয়। তাকে বারবার টেজারও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, এক সেনা ধারালো বস্তু দিয়ে বন্দির মলদ্বারের কাছে আঘাত করেন, এতে তার রেকটামে গুরুতর ক্ষত তৈরি হয়। বন্দির সাতটি পাঁজর ভেঙে যায়, ফুসফুসে ছিদ্র হয় এবং শরীরের ভেতরে ব্যাপক আঘাত লাগে। পরে তার বৃহদান্ত্রে অস্ত্রোপচার করতে হয় এবং সাময়িকভাবে স্টোমা স্থাপন করা হয়েছিল। ঘটনার ভিডিও পরে প্রকাশ্যে আসে। ২০২৪ সালের আগস্টে ইসরায়েলের চ্যানেল ১২তে আটককেন্দ্রের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ সম্প্রচার করা হলে ইসরায়েল ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরও ফুটেজটিকে ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছিল। তবে চলতি বছরের ১২ মার্চ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মিলিটারি অ্যাডভোকেট জেনারেল ইতাই অফির পাঁচ সেনার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তের প্রমাণভিত্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া, মামলার প্রক্রিয়াগত জটিলতা এবং আসামিদের ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বন্দি গাজায় ফিরে যাওয়ায় তার সাক্ষ্য ও মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ প্রত্যাহারের পর এবার ওই পাঁচজনের মধ্যে তিনজন উল্টো রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা করেছেন। মামলায় তারা দাবি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের মিথ্যা সন্দেহ তৈরি করা হয়েছে, বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মানহানিকর ও অন্যায়ভাবে মামলা করা হয়েছে। মামলায় বিভিন্ন দাবির মধ্যে যৌন অপরাধের অভিযোগের কারণে ক্ষতির জন্য ১৫ লাখ শেকেল, ১৫ দিনের কথিত বেআইনি আটকের জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার শেকেল, মানহানির জন্য ৩০ লাখ শেকেল এবং কথিত অন্যায় অভিযোগপত্রের জন্য ১০ লাখ শেকেল চাওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে তাদের ক্ষতিপূরণের দাবি ১ কোটি ৮০ লাখ শেকেল। এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলেছে, মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার মতো প্রমাণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুতর আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। নতুন ক্ষতিপূরণ মামলার বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
বিভেদের দেয়াল পেরিয়ে শান্তির দাবিতে একসঙ্গে আন্দোলন করছেন ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি মায়েরা
বন্যার পানিতে স্বামীকে জড়িয়ে ধরে বেঁচে ফিরেছিলেন স্ত্রী, ১৭ দিন পর সেই স্বামীকেই দেখতে হলো স্ত্রীর শেষ বিদায়