আমেরিকা

নিউইয়র্কে সাউথ এশিয়ান কালচারাল সেন্টারে ঈদ, হোলি ও স্বাধীনতা দিবসের বর্ণাঢ্য মিলনমেলা

Unknown প্রকাশ: এপ্রিল ১৯, ২০২৬ ১৭:০
ছবি: আমেরিকা বাংলা
ছবি: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি-এ সাউথ এশিয়ান কালচারাল সেন্টারে একসঙ্গে উদযাপিত হয়েছে ঈদুল ফিতর, হোলি এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। গত ১৫ এপ্রিল (শুক্রবার) আয়োজিত এই বহুসাংস্কৃতিক মিলনমেলায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে সৃষ্টি হয় আনন্দ, সম্প্রীতি ও বৈচিত্র্যের অনন্য পরিবেশ।

 

আয়োজনে অংশ নেন সেন্টারলাইট হেলথকেয়ারের পেস কর্মসূচির সদস্যরা। তারা বলেন, ঈদুল ফিতর রমজানের পর আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে, হোলি বসন্ত ও নতুন জীবনের প্রতীক এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস গৌরবময় ইতিহাসের স্মারক। তিনটি ভিন্ন উৎসব একসঙ্গে উদযাপনের মধ্য দিয়ে প্রবাসে সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি হয়।

 

দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ছিল ঐতিহ্যবাহী সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা, বিভিন্ন সংস্কৃতির খাবারের আয়োজন, প্রার্থনা এবং শেষে বাইরে রঙ খেলার মধ্য দিয়ে হোলির উচ্ছ্বাস।

 

অংশগ্রহণকারী আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, “অনুষ্ঠানটি খুবই সুন্দর হয়েছে, সবাই দারুণ উপভোগ করেছে।”

 

সেন্টারলাইট হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারা বুয়োনোকোরে-রুট বলেন, ভিন্ন সংস্কৃতির উৎসব একসঙ্গে উদযাপনের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে সবাই নিজেকে মূল্যবান মনে করতে পারে।

 

সাউথ এশিয়ান কালচারাল সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশীয় বয়স্কদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চাহিদা পূরণে কাজ করে আসছে। এই আয়োজন প্রবাসে বহুসাংস্কৃতিক সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ইভানা বালিস্ট্রেরি ও তার শিশুকন্যা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বেপরোয়া গতির টেসলার ধাক্কায় মা ও শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, সিলিকন ভ্যালির কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসেতে বেপরোয়া গতিতে টেসলা গাড়ি চালিয়ে এক মা ও তার ছোট শিশুকন্যার মৃত্যুর ঘটনায় সিলিকন ভ্যালির এক প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও সফটওয়্যার নির্বাহীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, দুর্ঘটনার মাত্র ১৫ সেকেন্ড আগে অভিযুক্তের গাড়ির গতি ছিল ঘণ্টায় ১৪২ মাইল (প্রায় ২২৯ কিলোমিটার), যা ওই সড়কের নির্ধারিত গতিসীমার দ্বিগুণেরও বেশি।   সান্তা ক্লারা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, ৩১ বছর বয়সী জাকারি চারনিকিকে গত ১৩ জুলাই গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর সংঘটিত ওই দুর্ঘটনায় ২৯ বছর বয়সী ইভানা বালিস্ট্রেরি এবং তার প্রায় দুই বছর বয়সী কন্যা লিলিয়ানা নিহত হন। তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলার অভিযোগ আনা হয়েছে এবং আদালত তাকে জামিন ছাড়াই কারাগারে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পরবর্তী শুনানি আগামী ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে।   তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় সান হোসের হাইওয়ে ৮৭-এ যানজটের কারণে ইভানা বালিস্ট্রেরির লেক্সাস এসইউভি গাড়িটি থেমে ছিল। ঠিক সেই সময় উত্তরমুখী লেনে দ্রুতগতিতে আসা চারনিকির টেসলা গাড়িটি পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর লেক্সাস এবং আরও একটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়। আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ইভানা ও তার কন্যা।   প্রসিকিউটরদের দাবি, গাড়ির প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংঘর্ষের ১৫ সেকেন্ড আগে টেসলার গতি ছিল ঘণ্টায় ১৪২ মাইল, সংঘর্ষের পাঁচ সেকেন্ড আগে ছিল ১২৬ মাইল এবং ধাক্কার মুহূর্তেও গাড়িটি প্রায় ১০২ মাইল গতিতে চলছিল। ওই সড়কে অনুমোদিত সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৬৫ মাইল।   দুর্ঘটনায় নিহত লিলিয়ানা শিশুদের জন্য নির্ধারিত নিরাপত্তা আসনে বসানো ছিল। অন্যদিকে, গাড়ির চালক ও ইভানার বাগদত্তা জ্যাক মার্টিনস প্রাণে বেঁচে যান। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি আগুনে জ্বলতে থাকা গাড়ি থেকে স্ত্রী ও কন্যাকে উদ্ধারের মরিয়া চেষ্টা করছেন এবং আশপাশের মানুষকে সাহায্যের জন্য ডাকছেন। তবে আগুনের তীব্রতার কারণে তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।   দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে অতিরিক্ত গতিকেই দায়ী করছেন তদন্তকারীরা। কেন চারনিকি এত বেশি গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো কারণ জানা যায়নি। তবে এই ঘটনায় তিনি সামান্য আহত হন।   মামলার প্রসিকিউটরদের একজন মারিসা ম্যাককাউন বলেন, এ ধরনের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর স্বাভাবিক পরিণতিই হলো প্রাণহানি। অন্যদিকে সান্তা ক্লারা কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জেফ রোজেন বলেন, "যেমন জনতার ভিড়ে গুলি চালানোকে হত্যা বলা হয়, তেমনি ঘণ্টায় ১৪০ মাইল গতিতে গাড়ি চালানোও একই ধরনের প্রাণঘাতী আচরণ।"   জাকারি চারনিকি প্রযুক্তি খাতে পরিচিত একজন সফটওয়্যার উদ্যোক্তা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পেশাগত প্রোফাইলে তিনি অ্যাপল, গুগল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান মিস্ট্রাল এআইয়ের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি তিনি ডিজেদের জন্য সফটওয়্যার উন্নয়নের কাজও করছিলেন।   ইভানা বালিস্ট্রেরির পরিবার তাকে সবার প্রতি সহানুভূতিশীল, প্রাণবন্ত ও ভালোবাসায় ভরপুর একজন মানুষ হিসেবে স্মরণ করেছে। দুর্ঘটনার পর পরিবারের জন্য চিকিৎসা, আইনি ও অন্যান্য ব্যয় মেটাতে একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম চালু করা হয়, যেখানে এক লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ২১:২২
আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য এসেছে ইতিবাচক অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ফ্যামিলি গ্রিন কার্ডে বড় অগ্রগতি, তবে কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসায় চরম হতাশা

নেতানিয়াহুকে নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আহ্বান মেয়র মামদানির, ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে কড়া বক্তব্য

বিপদে পড়া এক অচেনা চালককে সাহায্য করতে গিয়ে প্রাণ হারান অফ-ডিউটির ফায়ারফাইটার ক্যামেরন ডুভ্যাল। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যরাতে বিপদে পড়া অচেনা চালককে সাহায্য করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন অফ-ডিউটিতে থাকা তরুণ দমকলকর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ফিরছে ক্রেতাদের সুদিন
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ফিরছে ক্রেতাদের সুদিন, প্রকাশিত হলো নতুন ৯ শহরের তালিকা

  উচ্চ মর্টগেজ রেট এবং বিস্তৃত অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও, চলতি বসন্তে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে গত সাত বছরের মধ্যে ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৯টি মেট্রো এলাকা প্রকৃত 'বায়ারস মার্কেট' বা ক্রেতাদের বাজারে পরিণত হয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও ৯টি শহর। আগামী গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ আটলান্টা, বেকারসফিল্ড, বার্মিংহাম, হনুলুলু, হিউস্টন, মেমফিস, রিভারসাইড, সান আন্তোনিও এবং সিরাকিউজ—এই ৯টি মেট্রো এলাকা পুরোপুরি ক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।   মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘রিয়েল্টর ডটকম (Realtor.com) ২০২৬ কিউ২ মার্কেট ক্লক’ (Q2 Market Clock) রিপোর্টে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বাজারে বাড়ির সরবরাহ, বিক্রির জন্য অপেক্ষমাণ সময়, দামের ওঠানামা এবং তালিকা-থেকে-বিক্রির অনুপাতের মতো মূল সূচকগুলোর ওপর ভিত্তি করে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। এবারের রিপোর্টে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০০টি মেট্রো এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। ১২ ঘণ্টার একটি কাল্পনিক ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে তুলনা করে এই 'মার্কেট ক্লক' তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ১২টা মানে 'পিক সেলারস মার্কেট' (বিক্রেতাদের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ) এবং ৬টা মানে 'পিক বায়ারস মার্কেট' (ক্রেতাদের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ)। বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ে এই ঘড়ির কাঁটা ৩টায় অবস্থান করছে, যা ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্যই একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাজার নির্দেশ করে। তবে রিয়েল্টর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জেক ক্রিমেল জানিয়েছেন, জাতীয় গড়ের আড়ালে স্থানীয় বাজারগুলোতে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।   রিপোর্টের তথ্যমতে, বর্তমানে নজরদারিতে থাকা আবাসন বাজারগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশই ক্রেতাদের পক্ষে বা সেই দিকে এগোচ্ছে, যা গত বছর ছিল মাত্র অর্ধেক। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের বাজারগুলোতে ক্রেতারা বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। জেক ক্রিমেল জানান, বিক্রির জন্য থাকা বাড়ির মজুত বেড়ে যাওয়াই মূলত এই ৯টি মেট্রো এলাকাকে ক্রেতাদের বাজারে পরিণত করছে। নতুন তালিকাভুক্ত বাড়ির সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, বিক্রির হার তার চেয়ে অনেক ধীর। এর ফলে বাজারে বাড়িগুলো বেশিদিন পড়ে থাকছে এবং বিক্রেতারা দাম কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। এটি স্পষ্টভাবে বিক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং ক্রেতাদের দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।   সান আন্তোনিও-ভিত্তিক রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ট্র্যাভিস আমারো জানান, কোভিড-১৯ মহামারির আগের সময়ের পর বর্তমানে সান আন্তোনিওতে হাউজিং ইনভেন্টরি বা অবিক্রীত বাড়ির সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে ক্রেতারা বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বেশি বিকল্প পাচ্ছেন এবং দরকষাকষিতে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, বিক্রেতাদের গত বছরের বাজার পরিস্থিতির কথা ভুলে গিয়ে বর্তমান বাস্তবতা অনুযায়ী যৌক্তিক দাম হাঁকানো উচিত। অন্যদিকে, দেশের ২৫টি মেট্রো এলাকা এখনো বিক্রেতাদের বাজারে (সেলারস মার্কেট) রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে কানেকটিকাটের হার্টফোর্ড। বিক্রেতাদের এই বাজারগুলোর বেশিরভাগই মধ্যপশ্চিম, উত্তর-পূর্ব এবং পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ২০:৭
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

স্ত্রী উষা ভ্যান্স ভারতীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান, অথচ অভিবাসন নিয়ে কড়া অবস্থানে জেডি ভ্যান্স

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

ফিন্যান্সিয়াল এইডে কারচুপির অভিযোগে ২৮৪ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

ক্যালিফোর্নিয়ায় ডেটা সেন্টারের চাপে বিদ্যুৎ সংকটে বিলিয়নিয়ারদের স্বর্গরাজ্য 'লেক তাহো'

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
পেমেন্ট নিয়েছে মেশিন, তবু চুরির অভিযোগে বরখাস্ত ৪ ফোর্ড কর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফোর্ডের কারখানায় সেলফ-চেকআউট মেশিনের ত্রুটির কারণে অন্তত আরও চারজন কর্মীকে স্ন্যাকস চুরির অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি কারখানার এক ইলেকট্রিশিয়ান মাত্র ১.৯৫ ডলারের একটি কুকি চুরির মিথ্যা অভিযোগে চাকরি হারানোর পর ঘটনাটি প্রথম দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। পরবর্তীতে ওই ইলেকট্রিশিয়ান ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিয়ে প্রমাণ করতে সক্ষম হন যে তিনি কুকির দাম পরিশোধ করেছিলেন। এরপরই মূলত কারখানার ভেতরে থাকা সেলফ-চেকআউট কিয়স্কগুলোর ত্রুটির বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে এবং বিতর্ক আরও জোরালো রূপ নেয়।   নতুন করে চাকরি হারানো কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন ফোর্ডের মিশিগান অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্টে প্রায় নয় বছর ধরে কাজ করা নিক নাবোজনি। ৩৮ বছর বয়সী এই কর্মীকে এক প্যাকেট ডরিটোস এবং চিজযুক্ত রিটজ ক্র্যাকার্স চুরির অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে। নিক জানান, তিনি সেলফ-চেকআউট মেশিনে তার ডেবিট কার্ড ট্যাপ করেছিলেন এবং স্ক্রিনে পেমেন্ট প্রক্রিয়াকরণের সংকেত দেখার পরই স্ন্যাকসগুলো নিয়েছিলেন। ঘণ্টায় ৪০ ডলার বেতনে কাজ করা এবং ওভারটাইম মিলিয়ে বছরে সোয়া লাখ ডলারের বেশি আয় করা একজন মানুষ কেন সামান্য খাবারের জন্য নিজের ও পরিবারের জীবিকাকে ঝুঁকিতে ফেলবেন, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে সেই যৌক্তিক প্রশ্ন তুলেছেন নিক।   ফোর্ডের অন্যান্য কর্মীরাও দীর্ঘদিন ধরে কারখানার ভেতরে থাকা অ্যারামার্ক (Aramark) কোম্পানির এই কিয়স্কগুলোর নানা ত্রুটি নিয়ে অভিযোগ করে আসছিলেন। তাদের দাবি, মেশিনগুলোতে প্রায়ই পেমেন্ট আটকে যায়, ডাবল চার্জ কাটা হয় এবং স্ক্রিন ফ্রিজ হয়ে থাকে। সাধারণ কর্মীদের ওপর চুরির দায় চাপানোর এই ঘটনাগুলো গণমাধ্যমে আসার পর ফোর্ড এবং খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অ্যারামার্ক যৌথভাবে তাদের সেলফ-সার্ভ কিয়স্কগুলোর কার্যকারিতা পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। এদিকে সংবাদমাধ্যম ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস জানিয়েছে, স্ন্যাকস চুরির অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া মিশিগানের অন্তত তিনজন কর্মীকে ইতিমধ্যে তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ১৮:৩৮
সৎ-নাতি-নাতনিকে কামড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ৭৪ বছরের বৃদ্ধা

মিয়ামিতে সৎ-নাতি-নাতনিকে কামড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ৭৪ বছরের বৃদ্ধা

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

তুমি বিভ্রান্ত নও, তুমি নবী’ চ্যাটজিপিটির এমন প্ররোচনার অভিযোগে প্রাণ দিলেন এক মার্কিন মা

ক্যালিফোর্নিয়ায় এখন মোবাইলেই রাখা যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স I ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় এখন মোবাইলেই রাখা যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স, সুবিধা পাবেন ৬০% চালক

0 Comments