রাষ্ট্রীয় আভিজাত্য নয়, বরং গুলশানের চেনা স্মৃতিঘেরা ঘরকেই বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংস্কার কাজ শেষ হওয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’য় তিনি উঠছেন না বলে নিশ্চিত করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িতেই স্থায়ীভাবে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী তার নিজের ছোট এই বাসাটিতে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি সপরিবারে এখানে বসবাস করছেন এবং সেই অনুযায়ী বাড়িটি গোছানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এই বাড়িটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তৎকালীন সরকার খালেদা জিয়াকে বরাদ্দ দিয়েছিল। গত বছর আইনি প্রক্রিয়া শেষে বাড়িটির দলিল তার হাতে হস্তান্তর করা হয়।
যমুনার ভূমিকা এখন কেবলই রাষ্ট্রীয়:
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দীর্ঘ দেড় বছর যমুনায় অবস্থানের পর সম্প্রতি সেটি ছেড়ে দেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর ভবনটি প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রস্তুত করা হলেও তারেক রহমান সেখানে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে যমুনা ভবনটি কেবল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত হবে। ইতিমধ্যে সেখানে দুটি ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং পবিত্র ঈদের দিন কূটনীতিক ও বিশিষ্টজনদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানও সেখানেই আয়োজিত হবে।
অতীতের ঐতিহ্য অনুযায়ী বিচারপতি হাবিবুর রহমান, লতিফুর রহমান এবং ফখরুদ্দীন আহমেদের মতো রাষ্ট্রপ্রধানরা যমুনায় অবস্থান করলেও, তারেক রহমান সেই প্রথা ভেঙে নিজস্ব বাসভবনেই থাকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
রাষ্ট্রীয় আভিজাত্য নয়, বরং গুলশানের চেনা স্মৃতিঘেরা ঘরকেই বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংস্কার কাজ শেষ হওয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’য় তিনি উঠছেন না বলে নিশ্চিত করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িতেই স্থায়ীভাবে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী তার নিজের ছোট এই বাসাটিতে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি সপরিবারে এখানে বসবাস করছেন এবং সেই অনুযায়ী বাড়িটি গোছানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এই বাড়িটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তৎকালীন সরকার খালেদা জিয়াকে বরাদ্দ দিয়েছিল। গত বছর আইনি প্রক্রিয়া শেষে বাড়িটির দলিল তার হাতে হস্তান্তর করা হয়। যমুনার ভূমিকা এখন কেবলই রাষ্ট্রীয়: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দীর্ঘ দেড় বছর যমুনায় অবস্থানের পর সম্প্রতি সেটি ছেড়ে দেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর ভবনটি প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রস্তুত করা হলেও তারেক রহমান সেখানে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে যমুনা ভবনটি কেবল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত হবে। ইতিমধ্যে সেখানে দুটি ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং পবিত্র ঈদের দিন কূটনীতিক ও বিশিষ্টজনদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানও সেখানেই আয়োজিত হবে। অতীতের ঐতিহ্য অনুযায়ী বিচারপতি হাবিবুর রহমান, লতিফুর রহমান এবং ফখরুদ্দীন আহমেদের মতো রাষ্ট্রপ্রধানরা যমুনায় অবস্থান করলেও, তারেক রহমান সেই প্রথা ভেঙে নিজস্ব বাসভবনেই থাকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।
ঈদ সামনে রেখে বাড়িমুখো মানুষের ঢল নেমেছে মহাসড়কে। প্রিয়জনদের সঙ্গে উৎসব উদযাপন করতে রাজধানী ছাড়ছেন হাজারো মানুষ, যার ফলে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। এর প্রভাব পড়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে—যমুনা সেতু এলাকা থেকে রাবনা বাইপাস পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটারজুড়ে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন। এতে যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ বাড়ছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট—এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, আশেকপুর ও রাবনা বাইপাস এলাকায় দেখা গেছে, বাসের পাশাপাশি ট্রাক, পিকআপ ও মাইক্রোবাসে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন অনেকেই। গণপরিবহনের সংকট ও ভাড়া বেশি হওয়ায় অনেকে বিকল্প হিসেবে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার ব্যবহার করছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে খোলা ট্রাক বা পিকআপেও যাত্রা করছেন। যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, একদিনে (মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার রাত পর্যন্ত) ২৪ ঘণ্টায় ৫১ হাজারের বেশি যানবাহন সেতু পার হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গমুখী যানবাহনের সংখ্যা ছিল বেশি। টোল আদায় থেকেও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব এসেছে। আগের দিনের তুলনায় যানবাহন পারাপারও বেড়েছে কয়েক হাজার। গত চার দিনে সেতু দিয়ে মোট দেড় লাখের বেশি যানবাহন চলাচল করেছে, যা থেকে কয়েক কোটি টাকার টোল আদায় হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুহাম্মদ শরীফ জানান, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং পথে কোথাও কোথাও গাড়ি বিকল হয়ে পড়ার কারণে রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ধীরগতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মহাসড়কে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।
বগুড়ার শেরপুরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে একটি মাইক্রোবাসে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তিনজন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনা ঘটেছে বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা এলাকায়। নিহতরা হলেন শিউলী বেগম (৪৮), তায়েবা খাতুন (৩৫) এবং গাড়ির ড্রাইভার রিন্টু (৪৭)। আহতদের মধ্যে আছে শিশু ফাতেমা (১০) ও আরহাম (৭)সহ নয়জন। স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি ঈদের ছুটিতে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। ছোনকা এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয় এবং মুহূর্তে গাড়িতে আগুন ধরে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের তীব্রতায় যাত্রীদের বের হওয়া খুবই কঠিন ছিল। শেরপুর ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর বখতিয়ার উদ্দিন জানিয়েছেন, আহতদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুইজন মারা যান। শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ রোকন উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার পর নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।