বসন্তের শুরুতেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে অংশ নিতে পারেনি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ।
এই নির্বাচনে ইসলামপন্থি শক্তি হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর দৃশ্যমান উত্থান রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। খুলনা, রাজশাহী ও রংপুরসহ পশ্চিম সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দলটির শক্ত অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পালাবদলের রাজনীতিতে এবার যুক্ত হলো নতুন প্রভাবশালী ফ্যাক্টর।
সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিএনপিকে আইন প্রণয়নে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখলেও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কর্মসংস্থান সংকট, দুর্নীতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ে তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ সহজে কমবে না। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের রাজনৈতিক সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করবে অর্থনীতির দ্রুত পুনরুদ্ধারের ওপর।
দলটির লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে জিডিপি ৪৬০ বিলিয়ন ডলার থেকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। এজন্য প্রয়োজন প্রায় ৯ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, যা বর্তমান বাস্তবতায় উচ্চাভিলাষী। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বড় বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও রাজস্ব বৃদ্ধির কার্যকর রূপরেখা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে বেসরকারি বিনিয়োগ ২৩ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রয়োজন হবে।
কৃষি খাত, যা জিডিপির ১২ শতাংশ এবং কর্মসংস্থানের ৪৪ শতাংশ জুড়ে, সেখানে সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব খাদ্যমূল্য বাড়াচ্ছে। কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও শহরে খাদ্যদ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোর সংস্কার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
রেমিট্যান্স অর্থনীতির আরেক স্তম্ভ। প্রায় এক কোটি প্রবাসী কর্মীর পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ টিকিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে। বৈধ চ্যানেলে অর্থ প্রেরণ বাড়ায় ২০২৫ সালে রেমিট্যান্স ৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে অবৈধ চ্যানেলের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হলে এই প্রবাহ ঝুঁকিতে পড়তে পারে। শ্রমবাজারে দুর্নীতি ও নির্ভরশীলতা কমাতে সংস্কারও জরুরি।
অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত পররাষ্ট্রনীতি। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার এবং জ্বালানি বিনিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। অন্যদিকে চীন বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার ও অবকাঠামো বিনিয়োগের বড় উৎস। দুই পরাশক্তির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা হবে সরকারের কৌশলগত পরীক্ষা।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কও নতুন বাস্তবতায় পুনর্মূল্যায়নের মুখে। সীমান্ত, বাণিজ্য ও বিদ্যুৎ চুক্তি ইস্যুতে আস্থার ঘাটতি স্পষ্ট। একই সঙ্গে আসিয়ানমুখী কূটনীতি ও সার্ক পুনরুজ্জীবনের বক্তব্য আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন তুলছে।
চ্যালেঞ্জ গভীর, তবে সুযোগও বড়। অর্থনৈতিক সংস্কার, বিনিয়োগ আস্থা পুনর্গঠন এবং ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান নিতে পারলে নতুন সরকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি মজবুত করতে পারবে।
আপনার মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোনটি—অর্থনীতি নাকি পররাষ্ট্রনীতি
মতামত জানান
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
বসন্তের শুরুতেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে অংশ নিতে পারেনি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ। এই নির্বাচনে ইসলামপন্থি শক্তি হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর দৃশ্যমান উত্থান রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। খুলনা, রাজশাহী ও রংপুরসহ পশ্চিম সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দলটির শক্ত অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পালাবদলের রাজনীতিতে এবার যুক্ত হলো নতুন প্রভাবশালী ফ্যাক্টর। সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিএনপিকে আইন প্রণয়নে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখলেও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কর্মসংস্থান সংকট, দুর্নীতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ে তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ সহজে কমবে না। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের রাজনৈতিক সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করবে অর্থনীতির দ্রুত পুনরুদ্ধারের ওপর। দলটির লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে জিডিপি ৪৬০ বিলিয়ন ডলার থেকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। এজন্য প্রয়োজন প্রায় ৯ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, যা বর্তমান বাস্তবতায় উচ্চাভিলাষী। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বড় বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও রাজস্ব বৃদ্ধির কার্যকর রূপরেখা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে বেসরকারি বিনিয়োগ ২৩ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রয়োজন হবে। কৃষি খাত, যা জিডিপির ১২ শতাংশ এবং কর্মসংস্থানের ৪৪ শতাংশ জুড়ে, সেখানে সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব খাদ্যমূল্য বাড়াচ্ছে। কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও শহরে খাদ্যদ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোর সংস্কার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। রেমিট্যান্স অর্থনীতির আরেক স্তম্ভ। প্রায় এক কোটি প্রবাসী কর্মীর পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ টিকিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে। বৈধ চ্যানেলে অর্থ প্রেরণ বাড়ায় ২০২৫ সালে রেমিট্যান্স ৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে অবৈধ চ্যানেলের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হলে এই প্রবাহ ঝুঁকিতে পড়তে পারে। শ্রমবাজারে দুর্নীতি ও নির্ভরশীলতা কমাতে সংস্কারও জরুরি। অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত পররাষ্ট্রনীতি। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার এবং জ্বালানি বিনিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। অন্যদিকে চীন বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার ও অবকাঠামো বিনিয়োগের বড় উৎস। দুই পরাশক্তির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা হবে সরকারের কৌশলগত পরীক্ষা। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কও নতুন বাস্তবতায় পুনর্মূল্যায়নের মুখে। সীমান্ত, বাণিজ্য ও বিদ্যুৎ চুক্তি ইস্যুতে আস্থার ঘাটতি স্পষ্ট। একই সঙ্গে আসিয়ানমুখী কূটনীতি ও সার্ক পুনরুজ্জীবনের বক্তব্য আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন তুলছে। চ্যালেঞ্জ গভীর, তবে সুযোগও বড়। অর্থনৈতিক সংস্কার, বিনিয়োগ আস্থা পুনর্গঠন এবং ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান নিতে পারলে নতুন সরকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি মজবুত করতে পারবে। আপনার মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোনটি—অর্থনীতি নাকি পররাষ্ট্রনীতি মতামত জানান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান। আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নৌবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের এক বার্তার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সাক্ষাৎকালে দেশের জলসীমার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং সমুদ্রসম্পদ রক্ষায় নৌবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া নৌবাহিনীর বর্তমান সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন নৌবাহিনী প্রধান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের প্রশংসা করেন। সমুদ্রসীমা সুরক্ষায় বাহিনীর সদস্যদের নিরলস প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি আগামী দিনেও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নৌবাহিনীকে আধুনিক ও শক্তিশালী করে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আসন্ন মাস থেকেই দেশজুড়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ঐতিহাসিক উদ্যোগ শুরু হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রূপকল্প বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই কার্ড পাবেন ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের নারী সদস্যরা। প্রাথমিক পর্যায়ে সরাসরি নগদ অর্থ প্রদানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের শুভ সূচনা হবে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। অধিকার আদায়ে আপসহীন বাংলাদেশ মন্ত্রী তার বক্তব্যে বাঙালি জাতির লড়াইয়ের ইতিহাস স্মরণ করে বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি সংগ্রাম প্রমাণ করে যে, এ দেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার। ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই বাংলাদেশের মূল চেতনা। সুশাসন ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা জহির উদ্দিন স্বপন প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে প্রশাসনকে ব্যবহার করার সুযোগ নেই। পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় কোনো গোষ্ঠী বা মহলের হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরের একমাত্র পথ হলো সুষ্ঠু নির্বাচন। বরিশালে আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মঞ্জুর মোর্শেদ আলী, জেলা পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার আবদুল হান্নানসহ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভাষা সৈনিকরা। আলোচনা সভা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।