আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি। ২০০৯ সালের এই দিনে রাজধানীর পিলখানায় সংঘটিত হয় দেশের ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস সেনা হত্যাকাণ্ড।
ঘটনার ১৭ বছর পর এবার দিনটি সরকারিভাবে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্যবাহী বাহিনী বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর)-এর নাম ও ইউনিফর্ম পুনর্বহালের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বাহিনীটি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নামে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআর সদর দপ্তরে বার্ষিক দরবার চলাকালে বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তা রক্তক্ষয়ী হত্যাযজ্ঞে রূপ নেয়। তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। নারী ও শিশুসহ মোট ৭৪ জন প্রাণ হারান। পরে অনেক মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত অনুবিভাগ সূত্র জানিয়েছে, বিজিবিকে পুনরায় বিডিআর নামে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন হয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু না হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রস্তাব এলে তা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নির্বাচনের আগে সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাহিনীর পুরোনো নাম পুনর্বহাল এবং ২৫ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণার অঙ্গীকার করেছিলেন। তারই অংশ হিসেবে দিনটি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘটনার পেছনের ষড়যন্ত্র নিয়ে নতুন করে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, আগের তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর সরকারের আস্থা নেই। তাই নতুন অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত ‘জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন’ তাদের প্রতিবেদনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, শেখ ফজলে নূর তাপস, মির্জা আজম ও জাহাঙ্গীর কবির নানক-এর নাম উল্লেখ করে অভিযোগ তোলে। পাশাপাশি একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার কথাও বলা হয়। তবে বর্তমান সরকার ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করেনি।
এ প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, এই নৃশংসতা সেনাবাহিনীর সদস্যরা করেননি; তৎকালীন বিডিআর সদস্যরাই এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় তা ব্যাহত না করার আহ্বান জানান তিনি। ঘটনার সময় সেনাপ্রধান ছিলেন মইন ইউ আহমেদ, যিনি পরে এক সাক্ষাৎকারে তদন্তে সহযোগিতার ঘাটতির অভিযোগ করেছিলেন।
হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি পৃথক মামলা হয়। বিস্ফোরক মামলাটি এখনো বিচারাধীন। হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তীতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ২৬ ও ২৭ নভেম্বর হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন।
হাইকোর্ট ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন, কয়েকজনের সাজা কমান এবং কিছু আসামিকে খালাস দেন। বিচার চলাকালে বিএনপি নেতা নাসিরউদ্দিন পিন্টু মারা যান। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যেও কিছুজনের সাজা বহাল ও কিছুজনের খালাসের সিদ্ধান্ত আসে।
বর্তমানে সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষ উভয়েই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন। ফলে মামলাটি এখন আপিল বিভাগের শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পৃথক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের এক নতুন নজির স্থাপন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এই আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। আমন্ত্রণ গ্রহণ শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দাওয়াত কবুল করেছেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও উল্লেখ করেন যে, জামায়াতের আমির ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও তার সহধর্মিণী ও পরিবারের সদস্যদেরও বিশেষভাবে আমন্ত্রিত হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টায় শুরু হতে যাওয়া এই অনুষ্ঠানটি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন সম্প্রতি অনলাইনে একটি অনুষ্ঠানে ঘোষণা দিয়েছেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে চারটি কারণে মামলা করা হবে। অধ্যাপক কার্জন জানান, ‘ইউনূস এবং তার দলে থাকা ব্যক্তিদের বিচার হওয়া উচিত কয়েকটি কারণে। এর মধ্যে একটি সংবিধান লঙ্ঘন, আরেকটি রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের ক্ষতি, এবং ড. ইউনূসের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সংক্রান্ত কার্যকলাপ চ্যালেঞ্জ করার সম্ভাবনা রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘একটি মামলা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ৩২ নম্বর বাড়ি ভাঙচুর সংক্রান্ত হবে। সেখানে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথি ও প্রমাণ দেশের ও বিদেশি প্রভাবের কারণে ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীলদের অপ্রত্যাশিত ভূমিকার বিষয়টিও বিচারাধীন হবে।’ কার্জন উল্লেখ করেন, ‘গত দেড় বছরে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি হয়েছে, যা স্বাভাবিক নয়। এর মধ্যে ১৩২টি অধ্যাদেশের বিষয় অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।’ তিনি এ তথ্যের উদাহরণ হিসেবে একটি বিবিসি-র প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন।
দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনতে এবং বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো তদারকিতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে নবগঠিত সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সভাপতি করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) পুনর্গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দেশের উন্নয়ন বাজেটের ভাগ্য নির্ধারণকারী ‘একনেক’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর অনুপস্থিতিতে বা বিশেষ প্রয়োজনে বিকল্প চেয়ারম্যান হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে সদস্য হিসেবে আরও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, শিল্প, আইন, স্বাস্থ্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীগণ। অর্থমন্ত্রীর কাঁধে দ্বৈত দায়িত্ব: দেশের অর্থব্যবস্থা ও কেনাকাটায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে। তাঁকে একই সঙ্গে ‘সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ এবং ‘অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র আহ্বায়ক করা হয়েছে। রাষ্ট্রের বড় বড় সব কেনাকাটার প্রস্তাব এবং নীতিনির্ধারণী অর্থনৈতিক বিষয়গুলো এখন থেকে তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিটির মাধ্যমেই পর্যালোচিত ও চূড়ান্ত হবে। ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকছেন স্থানীয় সরকার, স্বরাষ্ট্র, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, পররাষ্ট্র, শিল্প এবং আইন মন্ত্রী। প্রশাসনিক এই পুনর্গঠন ছাড়াও আজ ১০ জন নতুন উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন এবং রাষ্ট্রপতির নতুন প্রেস সচিব নিয়োগের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে সরকার। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নীতিনির্ধারণী এই কমিটিগুলো ঢেলে সাজানোর মধ্য দিয়ে নতুন সরকার উন্নয়ন কাজে গতি আনা এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে।