দক্ষিণ-পূর্ব মিনাস গেরাইস রাজ্যে সোমবার থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় কমপক্ষে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া অন্তত ৪০ জনের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জুইজ ডি ফোরো শহরে। সেখানে এখন পর্যন্ত ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের খুঁজতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর ও আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করছেন উদ্ধারকর্মীরা। তবে আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে—এমন পূর্বাভাস থাকায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে।
রাজ্যের সিভিল ডিফেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, রিও ডি জেনিরো থেকে প্রায় ৩১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত জুইজ ডি ফোরোতে অন্তত ৪৪০ জন বাসিন্দা গৃহহীন হয়েছেন। শহরের মেয়র মার্গারিদা সালোমাও জানিয়েছেন, অন্তত ২০টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে এবং বহু বাড়িঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে।
উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে একটি শিশুকে জীবিত বের করতে সক্ষম হয়েছেন। তবু এখনও অনেকের খোঁজ মেলেনি। জুইজ ডি ফোরোর পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী উবা শহরেও অন্তত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলের ফায়ার ব্রিগেডের মেজর ডিমেট্রিয়াস গৌলার্ট বলেন, সোমবার রাতের প্রবল বর্ষণের সময় অনেকেই ঘুমিয়ে ছিলেন। নদীর পানি উপচে লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা কাদা ও পলিতে ঢেকে গেছে।
মেয়র সালোমাও জানান, মাত্র চার ঘণ্টায় ১৮০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসটি এ অঞ্চলের ইতিহাসে সবচেয়ে আর্দ্র সময় হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
এদিকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টার আশ্বাস দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, এখন প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে জীবন রক্ষা, বাস্তুচ্যুতদের পাশে দাঁড়ানো এবং জরুরি সেবা দ্রুত পুনর্বহাল করা।
বর্তমানে মিনাস গেরাইস ফায়ার সার্ভিসের শতাধিক সদস্য উদ্ধারকাজে যুক্ত রয়েছেন। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন যৌথভাবে পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিলেও অব্যাহত বৃষ্টি ও ভূমিধসের ঝুঁকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
যুক্তরাজ্য সরকার আজ (২৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে ভ্রমণের জন্য ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) ব্যবস্থা চালু করেছে। এই নতুন নিয়মে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া সহ মোট ৮৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইটিএ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইটিএ কী এবং কারা আবেদন করবেন? ইটিএ হলো যুক্তরাজ্যে যাত্রার আগে নেওয়ার জন্য ডিজিটাল অনুমতি। এতদিন যেসব দেশের নাগরিকরা ভিসা ছাড়া যুক্তরাজ্যে যেতেন, তাদেরও এখন ইটিএ নিতে হবে। অনুমোদন পেলেও একজন ভ্রমণকারী সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবেন। ইটিএর মেয়াদ দুই বছর বা পাসপোর্ট মেয়াদের শেষ হওয়ার পর্যন্ত থাকবে। পর্যটন, ব্যবসা বা স্বল্পমেয়াদি পড়াশোনার জন্য এটি ব্যবহার করা যাবে। দীর্ঘমেয়াদি কাজ বা পড়াশোনার জন্য আগের মতোই ভিসা প্রয়োজন। ব্রিটিশ ও আইরিশ নাগরিক, ‘সেটেলড স্ট্যাটাস’ধারী এবং কিছু শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। আবেদন প্রক্রিয়া ও খরচ ইটিএর জন্য আবেদন ফি ১৬ পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ২০ পাউন্ডে বৃদ্ধি পেতে পারে। আবেদন করতে সরকার গুগল প্লে বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে সরকারি অ্যাপ ডাউনলোড করার পরামর্শ দিয়েছে। আবেদনকারীর পাসপোর্ট ও যোগাযোগের তথ্য, একটি ছবি এবং কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনুমোদন কয়েক মিনিটের মধ্যে পাওয়া যাবে, তবে ভ্রমণের তিন দিন আগে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইটিএ বাতিল হলে আবেদনকারীর কারণ জানানো হবে। চূড়ান্তভাবে বাতিল হলে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। বাস্তবায়ন ও যাচাই চেক-ইন সময় বৈধ ইটিএ না থাকলে বোর্ডিং বাধা পেতে পারে। বিমান, রেল ও জাহাজ সংস্থাগুলোকে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল যাচাই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ইটিএ পাসপোর্টের সঙ্গে ডিজিটালি সংযুক্ত থাকবে। দ্বৈত নাগরিকদের সমস্যা দ্বৈত নাগরিকরা ইটিএর জন্য আবেদন করতে পারবে না। তারা ব্রিটিশ পাসপোর্ট বা দ্বিতীয় পাসপোর্টের সঙ্গে ‘সার্টিফিকেট অব এন্টাইটেলমেন্ট’-এর ডিজিটাল কপি দেখাতে হবে। তবে এই নথি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয় না, ফলে বহু দ্বৈত নাগরিককে নতুন নিয়মে জটিলতা দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ পাসপোর্টের খরচ প্রায় ১০০ পাউন্ড, সার্টিফিকেট প্রায় ৫৮৯ পাউন্ড। অন্য দেশে ইটিএ ইটিএ নতুন নয়। কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশে এ ধরনের ডিজিটাল অনুমতি ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে খরচের দিক থেকে পার্থক্য রয়েছে। কানাডার ইটিএ ফি ৭ কানাডিয়ান ডলার, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪০.২৭ মার্কিন ডলার। ব্রিটিশ সরকার আশা করছে, নতুন এই ব্যবস্থা সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং ভ্রমণ প্রক্রিয়া আরও আধুনিক ও কার্যকর হবে।
ইরান-এর ইসফাহান প্রদেশের দোরচেহ শহর-এ একটি ফলের বাজারে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন সামরিক পাইলট এবং বাজারে কাজ করা দুই দোকানি রয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত হেলিকপ্টারটি সামরিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হেলিকপ্টারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাজার এলাকায় বিধ্বস্ত হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। ইরান আর্মি এভিয়েশন ট্রেনিং সেন্টার এক বিবৃতিতে নিহত দুই সেনা সদস্যের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। নিহতরা হলেন— পাইলট কর্নেল হামিদ সারভাজাদ এবং কো-পাইলট মেজর মোজতবা কিয়ানি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই আগুন ধরে যায়। এতে বাজারের দোকানে কাজ করা দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই মারা যান। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে স্থানীয় বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ আইনি তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয় বিচার বিভাগীয় প্রধান আসাদুল্লাহ জাফারি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে হামাদান প্রদেশ-এ প্রশিক্ষণ মিশনের সময় বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত পুরোনো এফ–৪ ফ্যান্টম টু যুদ্ধবিমান ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান তাদের সামরিক ও বেসামরিক উড়োজাহাজ আধুনিকায়ন করতে পারছে না, যার ফলে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে এবং তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ প্রকাশ করা হবে।
পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির চাকলালায় সম্প্রতি এক আলোচিত বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। ৬০ বছর বয়সী হাকিম বাবর ও ২২ বছর বয়সী তরুণীর এই বিবাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অসম বয়সের এই সম্পর্ক নিয়ে নেট দুনিয়ায় নেতিবাচক মন্তব্য আসলেও, দম্পতি নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় এবং সুখী। হাকিম বাবর বলেন, “বয়স কেবল সংখ্যা, আসল হলো মনের তারুণ্য। আমার স্ত্রী একজন ডিভোর্সি ছিলেন, এবং ডিভোর্সিকে বিয়ে করা আল্লাহ ও নবীর সুন্নাহ অনুযায়ী।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, যারা বৈধভাবে বিয়ে করে তারা পরকীয়া বা অবৈধ সম্পর্কের তুলনায় বেশি সম্মানের অধিকারী। নববধূও স্বামীর সঙ্গে একমত প্রকাশ করে বলেছেন, সত্যিকারের ভালোবাসায় বয়স কোনো বাধা নয়। তারা সমালোচনার পরোয়া না করে নতুন জীবন শুরু করেছেন। জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের পর তারা সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করবেন এবং এরপর নেদারল্যান্ডস ভ্রমণের পরিকল্পনা রয়েছে।