বনানী সামরিক কবরস্থানে ‘শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নতুন করে কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে না।
তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যথাযথ লোক দিয়ে জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত সেনা সদস্যদের স্মরণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আজ অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই হত্যাকাণ্ড শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের একটি। তিনি জানান, কমিশনের রিপোর্টে থাকা সুপারিশগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, এবং বিচারাধীন মামলাগুলো সমাপ্ত করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ শহীদ পরিবারদের আশ্বাস দেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা হবে। তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা, যা কেবল তাদেরই সম্ভব যারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
পারিবারিক কারণ দেখিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ–এর (ডিএমপি) কমিশনার পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন ডিএমপির মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান। ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ উল্লেখ করে শেখ মো. সাজ্জাত আলী পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করে তা পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়েছেন। এর আগে তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে পুনর্বহাল করা হয়। পরে ২০ নভেম্বর জারি করা আরেক প্রজ্ঞাপনে তাকে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি এ পদে মো. মাইনুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। তৎকালীন আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুনকে কারাগারে নেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়। সরকার পতনের পরদিন ৬ আগস্ট রাতে মো. ময়নুল ইসলামকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ডিএমপির নেতৃত্বেও একাধিক পরিবর্তন আসে এবং শেষ পর্যন্ত শেখ মো. সাজ্জাত আলী কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি, এক শোকাতুর দিন—জাতীয় শহীদ সেনা দিবস। ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ১৭তম বার্ষিকীতে আজ সকালে বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের স্মৃতির প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এই শ্রদ্ধা জানান। এসময় বিউগলের করুণ সুরে এক শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং তারা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, বিজিবি মহাপরিচালক এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে এই দিনটিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হচ্ছে। ২০০৯ সালের এই বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞে তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন প্রাণ হারান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান মুক্ত বাংলাদেশে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণগুলো এখন জনগণের কাছে স্বচ্ছ। তিনি এই নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। আজ সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হচ্ছে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব কমাতে নিম্নআয় ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য নতুন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামে এ উদ্যোগের পাইলট কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলায় এটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১০ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোরও পরিকল্পনা রয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন-২০২৬’ নামে একটি খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। নীতিমালার মূল দর্শন—উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হবে পরিবার, ব্যক্তি নয়। খুব শিগগিরই এটি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি হতে পারে। কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার, প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছে এমন পরিবার, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী—যেমন হিজড়া, বেদে ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী—এবং অর্ধ একর বা তার কম জমির মালিক পরিবার। তবে সরকারি পেনশনভোগী সদস্য থাকলে সেই পরিবার এই সুবিধা পাবে না। একইভাবে যেসব পরিবারে সরকারি চাকরিজীবী আছেন, বড় ব্যবসা রয়েছে, ব্যক্তিগত গাড়ি বা এসির মতো বিলাসবহুল সামগ্রী ব্যবহার করা হয়, তারাও অযোগ্য বিবেচিত হবেন। সম্ভাব্য চূড়ান্ত নীতিমালা অনুযায়ী নিম্ন, মধ্যম ও উচ্চ আয়ের নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণিও এ সুবিধার বাইরে থাকবে। প্রতি পরিবারে একটি করে কার্ড দেওয়া হবে এবং সহায়তার অর্থ পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর হাতে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন জোরদার হয়। নগদ অর্থের পাশাপাশি সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে। কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় একটি ডেটাবেস তৈরি করা হচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিটি পরিবারের উপাত্ত সংরক্ষণ করা হবে। মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে। পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত—এই চার শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। আবেদন প্রক্রিয়া এখনও পুরোপুরি চালু হয়নি। তবে আগ্রহীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি এবং একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বর প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। পাইলট কার্যক্রম শেষ হলে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে। পাশাপাশি একটি নির্ধারিত সরকারি অনলাইন পোর্টাল চালুর প্রস্তুতিও চলছে। সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার দ্রুত এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে। ঈদের আগেই প্রাথমিক পর্যায়ে কার্ড বিতরণ শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।