সদ্য সাবেক দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেছেন, নির্বাচিত সরকারের প্রত্যাশা পূরণে পদত্যাগ করেছেন, কোনো চাপের কারণে নয়। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
মোমেন বলেন, “নতুন সরকারের প্রত্যাশা পূরণে আমরা সহযোগী হিসেবে পদত্যাগ করেছি। নির্বাচিত সরকার আসার ১৪তম দিনে পদত্যাগ করা হলো। এর বিশেষ কোনো কারণ নেই।” তিনি আরও বলেন, “পরিবর্তনের পর আসা নির্বাচিত সরকারেরও প্রত্যাশা আছে। সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য সরকার আমাদের চেয়ে যোগ্য কমিশন স্থাপন করবেন। এতে দুদক এবং রাষ্ট্র উভয়ই উপকৃত হবে।”
দুদকের ক্ষমতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মোমেন বলেন, “আমাদের নখ-দাঁত থাকা না থাকা বিচার করার মালিক আপনারা। আমরা দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি।”
ড. মোমেন ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর পাঁচ বছরের মেয়াদে দুদক চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ছিলেন। তাদের সঙ্গে কমিশনার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত মিঞা মুহাম্মদ আলী আকবার আজিজী এবং হাফিজ আহসান ফরিদও মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চপর্যায়ের তিন কর্মকর্তা নতুন কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের প্রজ্ঞাপনে এই রদবদলের তথ্য জানা গেছে। রাষ্ট্রপতির আদেশে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌফিক আহমেদ। প্রজ্ঞাপনের অনুযায়ী, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মঞ্জুর মোর্শেদ আলমকে টুরিস্ট পুলিশের দায়িত্বে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলে পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমানকে বরিশাল রেঞ্জের নতুন ডিআইজি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ৫ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদকে রাজশাহীর বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি (বিপিএ), সারদায় বদলি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে এই রদবদল অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিভিআইপি) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে দায়িত্ব শেষ হওয়ার পরও তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন। তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব (বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত) মো. সাইফুল্লা পান্নার সই করা প্রজ্ঞাপনটি গত ১০ ফেব্রুয়ারি জারি করা হয়। যদিও বিষয়টি জনসম্মুখে আসে সম্প্রতি। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইনের ক্ষমতাবলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, নিজেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করতে গিয়ে ড. ইউনূস অসততার আশ্রয় নিয়েছেন। তারা বলেন, যে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়েছে, তা ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবরের এসআরও নং ২৮৫ সংশোধনের মাধ্যমে করা হয়েছে। সেই আদেশে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে পদে কর্মবসানের তারিখ থেকে এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে সর্বোচ্চ তিন মাসের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করার কথা বলা হয়েছিল। সমালোচকদের ভাষ্য, ড. ইউনূস ওই আদেশের আলোকে কেবল নিজের জন্য সময়সীমা এক বছর নির্ধারণ করেছেন, অন্যদের ক্ষেত্রে তা বাড়ানো হয়নি। আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য আইন পরিবর্তন বা প্রণয়ন করা সাংবিধানিক নীতির পরিপন্থী। তাদের দাবি, ১০ ফেব্রুয়ারি গোপনীয়ভাবে জারি করা অধ্যাদেশটি সংবিধানের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তারা আরও বলেন, যদি বিদায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ আগের আইনে বর্ণিত সবার জন্য সময়সীমা সমানভাবে বাড়ানো হতো, তবে এর যৌক্তিকতা নিয়ে ভিন্ন আলোচনা হতে পারত। কিন্তু কেবল নিজের জন্য এক বছরের সুবিধা নির্ধারণ করা নৈতিকতা ও আইনি ব্যাখ্যার প্রশ্ন তুলেছে। সমালোচকরা আরও অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে ড. ইউনূস বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সুদ মওকুফ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। তবে এ বিষয়ে ড. ইউনূস বা তার দপ্তরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিষয়টি এখন রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
জাতীয় নির্বাচনের দুই দিন আগে জারি করা এক বিশেষ গেজেটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস–কে এক বছরের জন্য ‘ভেরি ভেরি ইম্পর্ট্যান্ট পারসন’ (ভিভিআইপি) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারি করা এ গেজেটে বলা হয়, দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তাকে এই মর্যাদা দেওয়া হবে। ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের ঠিক দুই দিন আগে গেজেটটি প্রকাশিত হয়। তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্নার স্বাক্ষরে এটি জারি করা হয়। গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১-এর ধারা ২(ক) অনুযায়ী তাকে ভিভিআইপি ঘোষণা করা হয়েছে। ওই ধারায় বলা আছে, বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান ছাড়াও সরকার সরকারি গেজেটের মাধ্যমে অন্য কোনো ব্যক্তিকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করতে পারে। এই মর্যাদার ফলে তিনি এক বছরের জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর নিরাপত্তা পাবেন। ‘রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী তার বাসভবন, কর্মস্থল ও উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানসমূহ কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশির আওতায় থাকবে। দেশ-বিদেশে ভ্রমণের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী, ভিভিআইপির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই এবং বাসভবন বা অনুষ্ঠানের স্থানে দর্শনার্থী ও যানবাহন প্রবেশ–প্রস্থান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে এসএসএফ। তবে গেজেটটি জনসমক্ষে প্রচার করা হয়নি বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট প্রেসের ওয়েবসাইটেও এটি আপলোড করা হয়নি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর তিনি ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ত্যাগ করেন।