দুই দশক ধরে দোভাষী হিসেবে কাজ করেছেন আদালতে; সেই ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারীই এখন ডিটেনশন সেন্টারে
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আদালতগুলোতে দোভাষী হিসেবে দীর্ঘ দুই দশক ধরে অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করেছেন ৫৩ বছর বয়সী মিনু বাতরা। হিন্দি, পাঞ্জাবি ও উর্দু ভাষায় পারদর্শী মিনু সেখানকার আইনি ব্যবস্থায় দক্ষিণ এশীয়দের অন্যতম ভরসা ছিলেন। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, ৩৫ বছর ধরে আমেরিকায় বৈধভাবে বসবাসের দাবি করা এই নারীকেই এখন আটক থাকতে হচ্ছে আইসিই (ICE) ডিটেনশন সেন্টারে।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৭ মার্চ, যখন মিনু বাতরা একটি আইনি কাজের উদ্দেশ্যে টেক্সাসের হার্লিনজেন বিমানবন্দর হয়ে উইসকনসিনের দিকে যাচ্ছিলেন। সেখানে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় তাকে আটক করে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টরা। এজেন্টদের দাবি, মিনু একজন 'অবৈধ অভিবাসী' এবং ২০০০ সাল থেকেই তার নামে একটি চূড়ান্ত বহিষ্কারের (final removal order) আদেশ রয়েছে।
তবে মিনু এবং তার আইনজীবীর দাবি ভিন্ন। ১৯৯১ সালে ভারত থেকে শিখ নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আমেরিকায় আশ্রয় নিয়েছিলেন মিনু। ২০০০ সালে একজন ইমিগ্রেশন বিচারক তাকে 'উইথহোল্ডিং অফ রিমুভাল' (Withholding of Removal) মর্যাদা প্রদান করেন, যার অর্থ হলো— তাকে তার দেশে ফেরত পাঠানো নিরাপদ নয় বলে গণ্য করা হয়েছিল। এই স্ট্যাটাস অনুযায়ী মিনু দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত কর্মসংস্থানের অনুমতি (Work Authorization) নবায়ন করে বৈধভাবে কাজ করে আসছিলেন।
মিনুর আইনজীবী দীপক আহলুওয়ালিয়া বলেন, "এটি আইনের চরম লঙ্ঘন। একজন নারী যিনি ৩৫ বছর ধরে এখানে আছেন, যার চার সন্তানই মার্কিন নাগরিক এবং যার কনিষ্ঠ পুত্র বর্তমানে মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত, তাকে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই এভাবে আটক করা অমানবিক।"বর্তমানে মিনু বাতরা টেক্সাসের এল ভ্যালে ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি রয়েছেন। সেখানে তাকে দীর্ঘ সময় খাবার ও পানি ছাড়া রাখা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা না দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। মিনুর পক্ষে ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসের আদালতে 'হেবিয়াস কর্পাস' পিটিশন দাখিল করা হয়েছে।
দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির কাছে মিনু বাতরা এক পরিচিত মুখ। আদালত কক্ষের সেই পরিচিত কণ্ঠস্বর আজ নিজেই বিচারের অপেক্ষায় বন্দিশালায় দিন গুনছেন। তার এই আটকাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভিবাসন নীতির কঠোরতা নিয়ে আবারও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreসিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে বন্দিদের নি র্যাতনের দায়ে দেশটির এক সাবেক সামরিক কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ৬০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি ফেডারেল আদালত সামির উসমান আলশেখকে এই সাজা দেন। আলশেখ ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সিরিয়ার কুখ্যাত আদরা কারাগারের দায়িত্বে ছিলেন। চলতি বছরের মার্চে একটি জুরি তাকে নি র্যাতনের ষড়যন্ত্রের এক অভিযোগ এবং নি র্যাতনের তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালতে প্রমাণ হয়, কারাগারে থাকা কয়েকজন বন্দিকে নি র্যাতনের জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং এতে সরাসরি অংশও নিয়েছিলেন। মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধিতা দমন করতে আলশেখ কিছু বন্দিকে আদরা কারাগারের একটি বিশেষ অংশে পাঠাতেন। সেখানে তাদের ছোট ছোট একাকী কক্ষে আটকে রাখা হতো এবং বিভিন্নভাবে নি র্যাতন করা হতো। দুই সপ্তাহের বিচার চলাকালে তিনজন ভুক্তভোগী আদালতে তাদের ওপর চালানো নি র্যাতনের বর্ণনা দেন। তারা জানান, তাদের দীর্ঘ সময় ধরে ছাদের পাইপের সঙ্গে ঝুলিয়ে মারধর করা হতো। এছাড়া শরীর ভাঁজ করে ফেলার মতো একটি যন্ত্র ব্যবহার করেও নি র্যাতন করা হয়েছিল বলে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া হয়। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রসিকিউটররা আদালতে বলেন, আলশেখ জানতেন তার কর্মকাণ্ড বেআইনি ও ভুল ছিল। তারপরও ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি বন্দিদের ওপর নি র্যাতনের নির্দেশ দেন এবং তাতে অংশ নেন বলে প্রসিকিউটরদের দাবি। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ার সাবেক সরকারের বিরুদ্ধে দেশটির কারাগারগুলোতে ব্যাপক নি র্যাতন ও বেআইনি আটকের অভিযোগ করে আসছে। তাদের অভিযোগ, হাজার হাজার মানুষকে অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের না জানিয়েই আটক রাখা হয়েছিল। আলশেখ ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং পরে নাগরিকত্বের আবেদন করেন। তবে মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, তিনি নিজের অতীত সম্পর্কে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নি র্যাতনের মামলার পাশাপাশি মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা তথ্য দেওয়া, প্রতারণার মাধ্যমে গ্রিন কার্ড নেওয়া এবং মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগেও তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। প্রসিকিউটররা আলশেখের জন্য কমপক্ষে ৮০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিলেন। অন্যদিকে তার আইনজীবীরা পাঁচ বছরের সাজা চেয়ে যুক্তি দেন, আলশেখের বয়স ৭৪ বছর এবং তার গুরুতর শারীরিক ও জ্ঞানগত সমস্যা রয়েছে। তারা আরও জানান, সিরিয়ায় ফেরত পাঠানো হলে তিনি সেখানে নতুন সরকারের কাছে জবাবদিহি করতে প্রস্তুত ছিলেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহীদের আকস্মিক অভিযানে বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হন। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ১৪ বছর ধরে চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের একটি বড় অধ্যায়ের অবসান ঘটে। তবে এরপরও দেশটিতে বিভিন্ন সময় সহিংসতা ও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।
নিউইয়র্কে মামদানির ৪ মিলিয়ন ডলারের টয়লেট, ১০ মিনিট পরই খুলবে দরজা
অপরাধীর সঙ্গে চেহারা, নাম হুবহু মেলায় ১৭ বছর জেল! বেরিয়ে এলো সত্য
মহাসড়কে যাত্রী নামিয়ে দেওয়ায় মর্মান্তিক মৃত্যু, উবারকে ৪০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ায় স্যাট আবার চালু করা হবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কাউন্সিল স্নাতক ভর্তি প্রক্রিয়ায় মানসম্মত পরীক্ষা ব্যবহারের বিষয়ে তথ্য ও গবেষণাভিত্তিক পর্যালোচনা শুরু করার নির্দেশ দেয়। এর মধ্যেই নিউইয়র্ক টাইমসের এক অতিথি নিবন্ধে লেখক মিরিয়াম পাওয়েল বর্তমান পরীক্ষামুক্ত ভর্তি ব্যবস্থার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। পাওয়েল তার ১৬ সেপ্টেম্বরের নিবন্ধে লিখেছেন, ২০২১ সালে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্যাট পরীক্ষার বাধ্যতামূলক ব্যবহার বাদ দেওয়ার পর ইউসিএলএতে উচ্চ ফল করা কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিনো শিক্ষার্থীদের আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। তার মতে, ওই মানসম্মত পরীক্ষাগুলো কিছু শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের বাধা হিসেবে কাজ করছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইউসির নয়টি স্নাতক ক্যাম্পাসেই আবেদন বেড়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ধরে রাখা ও স্নাতক করার ক্ষেত্রে রেকর্ড পর্যায়ে রয়েছে। তবে একই নিবন্ধে পাওয়েল স্বীকার করেছেন, ইউসির ক্যাম্পাসগুলোতে কিছু শিক্ষার্থী বেসিক গণিতে সমস্যায় পড়ছে। তার যুক্তি হলো, এই শিক্ষার্থীদের মধ্যেও স্নাতক হওয়ার হার রেকর্ড পর্যায়ে রয়েছে। তিনি ইউসিকে এমন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরেছেন, যেখানে উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি একাডেমিক মান ধরে রাখার চেষ্টা চলছে। স্যাট ফেরানোর পক্ষে অবস্থান নেওয়া শিক্ষকদের একটি অংশ অবশ্য শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতি নিয়ে ভিন্ন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এক খোলা চিঠিতে ৬৮০-এর বেশি ইউসি অধ্যাপক মানসম্মত পরীক্ষা পুনরায় বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, কিছু শিক্ষার্থীর প্রস্তুতির ঘাটতি এতটাই বেশি যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কলেজ পর্যায়ের বিষয় পড়ানোর পাশাপাশি আগের স্তরের গণিতও আবার শেখাতে হচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া ২০২০ সালে স্যাট ও অ্যাক্ট ব্যবহারের বিষয়ে বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। বোর্ড অব রিজেন্টস প্রথমে ২০২১ ও ২০২২ সালের ভর্তি চক্রে পরীক্ষাগুলোকে ঐচ্ছিক রাখে এবং ২০২৩ ও ২০২৪ সালের জন্য পরীক্ষার ফল ভর্তি সিদ্ধান্তে বিবেচনা না করার নীতি নেয়। পরে ২০২১ সাল থেকে স্যাট ও অ্যাক্ট ভর্তি সিদ্ধান্তে ব্যবহার না করার নীতি কার্যকর হয়। বর্তমানে ইউসি ভর্তি সিদ্ধান্তে স্যাট বা অ্যাক্টের স্কোর বিবেচনা করে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভর্তি নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা চাইলে স্কোর জমা দিতে পারে, তবে তা ভর্তি সিদ্ধান্ত বা স্কলারশিপ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় না। কিছু ক্ষেত্রে কোর্স প্লেসমেন্ট বা নির্দিষ্ট যোগ্যতা নির্ধারণে স্কোর ব্যবহার করা যেতে পারে। এই নীতিতে এখনই কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। ইউসির সাম্প্রতিক ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ শেষ হওয়ার আগে মানসম্মত পরীক্ষা সংক্রান্ত ভর্তি নীতিতে কোনো পরিবর্তন করা হবে না। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে একাডেমিক কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদন এবং জুনের মধ্যে রিজেন্টসের কাছে সুপারিশ দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে ২০২৭ সালের শরৎকালীন ভর্তির জন্য আবেদনকারীদের স্যাট বা অ্যাক্ট স্কোর জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ২০২৮ সালের ভর্তি নীতিও এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত গবেষণা, শিক্ষার্থীদের সাফল্য, শিক্ষায় প্রবেশাধিকার, শিক্ষকদের মতামত এবং সম্ভাব্য নীতিগত প্রভাব পর্যালোচনা করেই নেওয়া হবে। স্যাট নিয়ে বিতর্কের মূল প্রশ্ন এখন দুটি বিষয়কে ঘিরে। একদিকে পরীক্ষাটি ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতি পরিমাপের একটি মানদণ্ড দিতে পারে কি না, অন্যদিকে মানসম্মত পরীক্ষা বিভিন্ন আর্থসামাজিক ও জাতিগত গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি বাধা তৈরি করে কি না। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার চলমান পর্যালোচনায় এই দুই দিকসহ আরও বিভিন্ন তথ্য ও গবেষণা বিবেচনা করা হবে।
ইন-এন-আউটে স্টোর ম্যানেজারদের গড় বার্ষিক আয় ২ লাখ ডলারের বেশি! রয়েছে সুবিধাও
ফিলাডেলফিয়ায় কুখ্যাত পর্নোগ্রাফারের বাড়িতে বিপুল ভিডিও, নিখোঁজ ৭ নারীকে ঘিরে তদন্ত
মিনিয়াপলিসে ভেনেজুয়েলীয়কে গুলি করার অভিযোগ, হেনেপিন কাউন্টি জেলে আইসিই এজেন্ট
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসে একটি এয়ারস্ট্রিম মোবাইল ট্রেলারে থাকছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের মেমফিস প্রকল্পের সম্প্রসারণের কাজ তদারকি করতে তিনি প্রকল্প এলাকার কাছাকাছি অবস্থান করছেন। বিষয়টি মাস্ক নিজেই জানিয়েছেন। ১৫ সেপ্টেম্বর ‘অল-ইন’ পডকাস্টের এক অনুষ্ঠানে ভিডিও সংযোগে অংশ নেন মাস্ক। সেখানে তিনি মেমফিসে নিজের থাকার জায়গাকে মজা করে ‘প্রাসাদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জানান, সেটি একটি এয়ারস্ট্রিম ট্রেলার। অনুষ্ঠানে স্পেসএক্সের প্রেসিডেন্ট গুইন শটওয়েলও উপস্থিত ছিলেন। মাস্ক মেমফিসে অবস্থান করছেন এক্সএআইয়ের ‘কলসাস’ সুপারকম্পিউটার প্রকল্পের সম্প্রসারণের কাজের কারণে। প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল পরিচালনা ও প্রশিক্ষণের জন্য এই বিশাল কম্পিউটার অবকাঠামো ব্যবহার করছে। মেমফিসে এক্সএআইয়ের অবকাঠামো আরও বাড়ানোর কাজও চলছে। গুইন শটওয়েল অনুষ্ঠানে বলেন, মাস্ক মেমফিসে থেকে নির্মাণকাজে যুক্ত আছেন। তিনি আরও জানান, মাস্ক এমনভাবে কাজ করেন যে প্রয়োজন হলে কারখানার মেঝেতেও ঘুমিয়ে থাকেন। এর আগে বিভিন্ন প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কর্মস্থলের কাছাকাছি থাকার অভ্যাসও তাঁর ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মাস্কের বর্তমান থাকার জায়গাটি কোনো বিলাসবহুল বাড়ি নয়। এয়ারস্ট্রিমের বিভিন্ন ট্রেলারে সীমিত জায়গার মধ্যে ঘুমানোর ব্যবস্থা, রান্নাঘর ও বাথরুমসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা থাকে। তবে মাস্ক ঠিক কোন মডেলের এয়ারস্ট্রিম ট্রেলারে থাকছেন, তা তিনি জানাননি। বিপুল সম্পদের মালিক হয়েও তুলনামূলক সাধারণ জায়গায় থাকার বিষয়টি মাস্কের জন্য নতুন নয়। ২০২০ সালে তিনি জানিয়েছিলেন, নিজের বেশির ভাগ সম্পত্তি বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন এবং কোনো বাড়ির মালিক থাকতে চান না। পরে অবশ্য টেক্সাসের অস্টিনে একাধিক বাড়ি কেনার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। এর আগেও কাজের প্রয়োজনে কর্মস্থলের কাছাকাছি থাকার নজির রয়েছে মাস্কের। জীবনীকার ওয়াল্টার আইজ্যাকসনের বর্ণনা অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যবসা ও প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি অফিস বা কারখানার কাছাকাছি থেকেছেন। ২০২২ সালে টুইটার অধিগ্রহণের পরও তিনি কোম্পানির কার্যালয়ে ঘুমিয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন। মেমফিসে তাঁর বর্তমান অবস্থানও মূলত কাজকেন্দ্রিক। এক্সএআইয়ের কম্পিউটিং অবকাঠামো সম্প্রসারণের সময় প্রকল্পের কাছাকাছি থেকে কাজের অগ্রগতি দেখছেন তিনি। ফলে বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি হয়েও বর্তমানে তাঁর অস্থায়ী থাকার জায়গা হয়ে উঠেছে টেনেসির একটি এয়ারস্ট্রিম মোবাইল ট্রেলার।
নিউইয়র্ককে পেছনে ফেলে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা খাবারের শহর হলো নিউ অরলিন্স
ফ্লোরিডায় ছুরি হাতে কুকুর ও তার মালিকের ওপর কাঁকড়ার হামলা