বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) একটি জাহাজ ইরানের নিক্ষিপ্ত ড্রোন হামলার মাত্র কয়েকশ গজ দূর থেকে বাঁচতে সক্ষম হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে জাহাজের সামনে ড্রোন বিস্ফোরিত হয়। এতে জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ ও এর ৩১ নাবিক রক্ষা পান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলার পর জাহাজ থেকে পণ্য খালাস স্থগিত করা হয়। দুই দিন পর খালাস পুনরায় শুরু হলেও যুদ্ধসংকুল হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের অনুমতি এখনও দেয়া হয়নি। এছাড়া হরমুজ প্রণালীর কাছে আরও তিনটি বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ নিরাপত্তার কারণে গতি কমানো ও বিধিনিষেধ মেনে চলার পরামর্শ পেয়েছে।
মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, কেএসআরএম গ্রুপের দুটি জাহাজ ও মেঘনা গ্রুপের একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের বন্দরে অবস্থান করছে। কেএসআরএমের নির্বাহী পরিচালক মেহেরুল করিম জানান, তাদের দুটি জাহাজ নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় সাময়িকভাবে গতি কমানো হয়েছে। মেঘনা গ্রুপের একটি জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজার খোর ফাক্কান বন্দরে গিয়ে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে যাত্রা স্থগিত করেছে।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিএসসির এমভি ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালীর মধ্যেই অবস্থান করছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতারের মোসাইয়িদ বন্দর থেকে ৩৮,৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। যুদ্ধসংকুল পরিস্থিতির কারণে পরদিন বন্দরে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয় এবং পণ্য খালাস স্থগিত করা হয়।
জাহাজের নাবিক আতিকুল হক জানান, মাত্র ১০০ গজ দূরে ড্রোন বিস্ফোরিত হওয়ার পরও জাহাজ ও নাবিকরা নিরাপদ ছিল। অন্য নাবিক জানান, মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল, তাদের জাহাজই হামলার মূল লক্ষ্য।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে আকস্মিক ড্রোন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই হামলার প্রেক্ষাপটে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভূমধ্যসাগরে শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের গুরুতর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাজ্য। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির অন্যতম আধুনিক যুদ্ধজাহাজ 'এইচএমএস ডানকান'-কে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যদিও জাহাজটি মোতায়েনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসেনি, তবে কৌশলগত কারণে একে যেকোনো মুহূর্তে রণক্ষেত্রে পাঠানোর জন্য তৈরি থাকতে বলা হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাইপ্রাসের ঘাঁটিতে এই ড্রোন হামলা ব্রিটিশ সামরিক উপস্থিতির ওপর একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর জবাবে রয়্যাল নেভির উপস্থিতি ওই অঞ্চলে যুক্তরাজ্যের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে।
ওয়াশিংটন: ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ কমে আসছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টমাহক ভূমি-আক্রমণ ক্ষেপণাস্ত্র এবং এসএম-৩ প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো কৌশলগত অস্ত্রের রিজার্ভ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে সিএনএন জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলার মাত্রা “উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি” পেতে পারে বলে ওয়াশিংটন আশঙ্কা করছে। চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় মজুদে চাপ তৈরি হয়েছে। টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণত দূরপাল্লার নির্ভুল হামলায় ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে স্থলভিত্তিক সামরিক স্থাপনায়। অন্যদিকে এসএম-৩ ইন্টারসেপ্টর মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়, যা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই দুই ধরনের অস্ত্রই চলমান সংঘাতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো বা মিত্র দেশগুলোর সহায়তা নিতে হতে পারে। একই সঙ্গে সামরিক কৌশলেও পরিবর্তন আসতে পারে, যাতে বিদ্যমান মজুদ দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করা যায়। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে তা এখন নির্ভর করছে সংঘাতের তীব্রতা ও কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর। তবে ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের খবর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালী ইসলামি প্রজাতন্ত্রের রেভল্যুশনারী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বন্ধ করে দেওয়ায় জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়ছে। ইউরোপের বাজারে গ্যাসের দাম ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। লন্ডন আইসিইর তথ্য অনুযায়ী, আইআরজিসির অবরোধসংক্রান্ত বিবৃতির পর ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় এক্সচেঞ্জে গ্যাসের দাম প্রতি ১ হাজার ঘনমিটারে ৭০০ ডলার অতিক্রম করেছে। নেদারল্যান্ডসের টিটিএফ হাবে এপ্রিলের চুক্তির মূল্য প্রায় ৭১১ ডলারে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা পর্যন্ত মস্কো এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরু হলে সূচক শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৮৪৮ দশমিক ৩ পয়েন্টে দাঁড়ায়। রাশিয়ার ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের প্রধান নির্বাহী কিরিল দিমিত্রিভ বলেছেন, প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম দ্বিগুণ হতে পারে এবং তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে। ভিটিবির বিনিয়োগ কৌশলবিদ স্তানিস্লাভ ক্লেশচেভের মতে, রুশ তেল ও গ্যাস কোম্পানির শেয়ারের ঊর্ধ্বগতিই মস্কো সূচককে ২ হাজার ৮০০ পয়েন্টের ওপরে তুলেছে। কমেক্স এক্সচেঞ্জে ২০২৬ সালের মে সরবরাহের রুপার ফিউচার ৬ শতাংশের বেশি কমে প্রতি ট্রয় আউন্স ৮৩ দশমিক ০০৫ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে ২০২৬ সালের এপ্রিলের সোনার চুক্তির দাম সামান্য বেড়ে ৫ হাজার ৩১৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে সোনার দাম ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধিতে রাশিয়াসহ রপ্তানিকারক দেশগুলোর রাজস্ব সাময়িকভাবে বাড়তে পারে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে কাতারের এলএনজি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় রাশিয়ার এলএনজি রপ্তানিকারকদের আয় বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত চার সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নতুন অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী সামরিক উত্তেজনা ও জ্বালানি সরবরাহ হ্রাস পেলে ইউরোজোনে মুদ্রাস্ফীতি বাড়া এবং উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: তাস।