টেকসই সমৃদ্ধির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক জ্ঞান–অবকাঠামো: আর্জেন্টিনা থেকে শিক্ষা

প্রফেসর ড. আসিফ মিজান

উপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়, সোমালিয়া এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অপরাধ বিশ্লেষক

জুন ১৯, ২০২৬ ৭:৫৪
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান

প্রফেসর ড. আসিফ মিজান

সমকালীন বিশ্বব্যবস্থায় একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের টিকে থাকা, পতন কিংবা পুনরুত্থানের সমীকরণ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজতাত্ত্বিক এবং অপরাধবিজ্ঞানীদের চিরকালই এক গভীর তাত্ত্বিক ভাবনায় নিমগ্ন করেছে। প্রচলিত নব্য-উদারবাদী অর্থনৈতিক তত্ত্বগুলো প্রায়শই সামষ্টিক অর্থনীতির সূচক, জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধি কিংবা প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য দিয়ে একটি দেশের সামগ্রিক শক্তি ও স্থায়িত্ব পরিমাপ করতে চায়।

 

কিন্তু ইতিহাসের অমোঘ গতিপথ বলে, কেবল বাহ্যিক বস্তুগত উপাদান কোনো রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই অস্তিত্বের নিশ্চয়তা হতে পারে না। সংকটের চরম মুহূর্তে রাষ্ট্রকে যা ভেতর থেকে খণ্ডবিখণ্ড হওয়া থেকে টিকিয়ে রাখে, তা হলো তার প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান-কাঠামো (Institutional Knowledge Infrastructure) এবং সামষ্টিক মনস্তাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক পুঁজি (Cultural Capital)। এই সমাজতাত্ত্বিক সত্যের সবচেয়ে সমকালীন এবং জীবন্ত ল্যাবরেটরি হলো লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনা।


সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকের নিরিখে বর্তমান আর্জেন্টিনা এক দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর কাঠামোগত সংকটের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি, জাতীয় মুদ্রার ক্রমাগত অবমূল্যায়ন এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) ঋণ-ফাঁদ দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতিকে বারবার প্রান্তিক সীমানায় ঠেলে দিচ্ছে। অপরাধবিজ্ঞানের (Criminology) দৃষ্টিতে, এমন তীব্র অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা, বৈষম্য ও প্রাতিষ্ঠানিক অকার্যকারিতা যেকোনো সমাজেই চরম নৈরাজ্য, সামাজিক অপরাধের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং শেষ বিচারে সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় ভাঙন (State Collapse) ডেকে আনার জন্য যথেষ্ট অনুঘটক।

 

অথচ, বিশ্বরাজনীতির সমস্ত নেতিবাচক পূর্বাভাস ও তাত্ত্বিক মডেলকে ভুল প্রমাণিত করে আর্জেন্টিনা এখনো কেবল টিকেই নেই, বরং তারা বৈশ্বিক মঞ্চে লড়ে যাচ্ছে এবং সামূহিক সামাজিক বিপর্যয়কে রুখে দিচ্ছে।


কী সেই অদৃশ্য অথচ অভেদ্য শক্তি, যা এই ভঙ্গুর অর্থনীতির ভেতরেও রাষ্ট্রটিকে এক সুদৃঢ় সামাজিক চুক্তিতে একীভূত করে রেখেছে? উত্তরটি লুকিয়ে আছে দেশটির দীর্ঘদিনের শক্তিশালী বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক জ্ঞান–অবকাঠামো এবং উচ্চশিক্ষিত, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সচেতন নাগরিকসমাজের ভেতর।

 

বৌদ্ধিক জ্ঞান-অবকাঠামো: সংকটের ঢালঃ আর্জেন্টিনার টিকে থাকার প্রধানতম মনস্তাত্ত্বিক ও কাঠামোগত স্তম্ভ হলো তার উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা। মর্যাদাপূর্ণ কিউএস (QS) ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিংয়ে বুয়েনোস আইরেস বিশ্ববিদ্যালয় (Universidad de Buenos Aires) আজ বিশ্বসেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ৮৪তম স্থানে সগৌরবে অবস্থান করছে।

 

এর বাইরেও দেশটির একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছে। এই পরিসংখ্যান কেবল কিছু সংখ্যার গাণিতিক বিন্যাস নয়; এটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটি অকাট্য প্রমাণ যে, রাষ্ট্রটি চরম অর্থনৈতিক দোলাচলের মধ্যেও তার ‘জ্ঞান-উৎপাদনের কারখানা’ (Knowledge Production Houses) এবং বৌদ্ধিক চর্চাকে সচল ও স্বায়ত্তশাসিত রাখতে পেরেছে।


আর্জেন্টিনার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেবল ডিগ্রি বা সনদ বিতরণের কোনো যান্ত্রিক কারখানা নয়, বরং এগুলো হলো ‘ক্রিটিক্যাল থিংকিং’ বা সমালোচনামূলক বোধ, মুক্তবুদ্ধির চর্চা এবং মননশীলতার আঁতুড়ঘর। এই উচ্চশিক্ষা কাঠামো রাষ্ট্রকে এমন এক সচেতন মধ্যবিত্ত ও সিভিল সোসাইটি উপহার দিয়েছে, যা যেকোনো রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক অচলাবস্থায় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিকল্প ও টেকসই চিন্তার খোরাক জোগায়।

 

সামষ্টিক অর্থনীতি যখন সাময়িকভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে, তখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সরবরাহ করা বৌদ্ধিক ভিত্তি সমাজকে সম্পূর্ণ নৈরাজ্যের অতলে তলিয়ে যেতে দেয় না। বিজ্ঞান, দর্শন, সাহিত্য, চলচ্চিত্র ও সমাজতত্ত্বের এই নিরবচ্ছিন্ন ও প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা দেশটির নীতি-কাঠামোকে একটি অদৃশ্য অথচ শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় দান করে।

 

মানবপুঁজি ও অপরাধ প্রতিরোধে শিক্ষার ভূমিকাঃ একজন অপরাধবিজ্ঞানী হিসেবে আমি মনে করি, মানসম্মত উচ্চশিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা সরাসরি অপরাধের গ্রাফ ও সামাজিক বিচ্যুতিকে (Social Deviance) নিয়ন্ত্রণ করে। যখন কোনো রাষ্ট্রে প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষার মান উন্নত ও সর্বজনীন থাকে, তখন সংকটের সময়েও যুবসমাজ কোনো চরমপন্থী মতাদর্শ বা সংঘবদ্ধ অপরাধের (Organized Crime) দিকে সহজে ধাবিত হয় না।

 

আর্জেন্টিনা থেকে আমাদের সমকালীন বিশ্বরাজনীতির সবচেয়ে বড় শিক্ষণীয় বিষয় এটাই—মানসম্মত শিক্ষা থেকে যে উচ্চমানের 'মানবপুঁজি' (Human Capital) তৈরি হয়, তা যেকোনো বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অভিঘাতের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষামূলক ঢাল হিসেবে কাজ করে।


দুর্ভাগ্যবশত, বাংলাদেশের দিকে তাকালে এই প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান-অবকাঠামোর তীব্র অভাব ও সংকট আমাদের গভীরভাবে পীড়িত করে। আমাদের অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ কিংবা জনমিতিক লভ্যাংশ (Demographic Dividend) থাকা সত্ত্বেও, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাঠামোগত দুর্বলতা, গবেষণার খরা, জ্ঞানতাত্ত্বিক দৈন্যতা এবং বৈশ্বিক মানদণ্ডে ধারাবাহিকভাবে পিছিয়ে থাকার কারণে আমরা টেকসই সমৃদ্ধি অর্জনে হিমশিম খাচ্ছি। মানবপুঁজি যদি যথাযথ জ্ঞানতাত্ত্বিক ভিত্তিতে এবং নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে না ওঠে, তবে তা শেষ পর্যন্ত দেশের জন্য এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক বোঝায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

 

সাংস্কৃতিক পুঁজি ও মনস্তাত্ত্বিক স্থিতিস্থাপকতাঃ আর্জেন্টিনার সমাজ-গঠনের পেছনে আরেকটি অনন্য ও শক্তিশালী উপাদান হলো তাদের ক্রীড়া সংস্কৃতি এবং অভিবাসনের ইতিহাস, যা তাদের জাতীয় আত্মপরিচয়কে সংকটের দিনে এক দুর্ভেদ্য দুর্গে রূপান্তর করেছে। ফুটবল সেখানে কেবল মাঠের কোনো বিনোদন বা খেলা নয়, বরং তা জাতীয় সংহতি ও সামষ্টিক মনস্তাত্ত্বিক আরোগ্য (Collective Psychological Healing)-এর এক অবিকল্প মাধ্যম। মারাদোনা থেকে মেসি পর্যন্ত প্রতীকী নায়করা সংকটের মুহূর্তে গোটা জাতির মনস্তত্ত্বে আশা ও আত্মবিশ্বাসের আলো প্রজ্বলন করেন।

 

যখন নেতিবাচক অর্থনৈতিক খবর সমাজকে হতাশাগ্রস্ত করে তোলে, তখন ফুটবলের সবুজ মাঠে অর্জিত সাফল্য নাগরিকদের মনে করিয়ে দেয়—“আমরা এখনো ফুরিয়ে যাইনি।” এই সামষ্টিক আত্মবিশ্বাস অপরাধ ও সামাজিক অস্থিরতা রোধে এক মনস্তাত্ত্বিক অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।

 


এই সমাজের পেছনে রয়েছে এক গভীর ও বৈচিত্র্যময় বহুসাংস্কৃতিক ইতিহাস। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের, বিশেষ করে ইতালি থেকে আসা লাখ লাখ অভিবাসী তাদের শ্রমনিষ্ঠা, কারিগরি দক্ষতা এবং রন্ধনশৈলী নিয়ে মিশে গেছে আর্জেন্টিনার মূলধারায়।

 

এই ইউরোপীয়-লাতিন সংমিশ্রণ দেশটির শিল্প-সাহিত্য, দর্শন ও রাজনৈতিক চেতনাকে এক অনন্য বহুমাত্রিকতা দিয়েছে। লিওনেল মেসির মতো বিশ্বসেরা ব্যক্তিত্বরা মূলত এই অভিবাসন, কঠোর অধ্যাবসায় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরই ফসল।

 

সংকটের ছাইস্মৃতি থেকে পুনর্জাগরণের বার্তাঃ আর্জেন্টিনার এই জটিল দ্বৈত রূপ—একদিকে সামষ্টিক অর্থনীতির সাময়িক অস্থিরতা, অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষা ও সংস্কৃতির সুগভীর ঐতিহ্য—আমাদের সামনে এক নতুন রাষ্ট্রদর্শন ও আশাবাদের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। এই বাস্তবতা প্রমাণ করে যে, কোনো জাতির প্রকৃত দেউলিয়াত্ব তার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোষাগারের শূন্যতায় ঘটে না, বরং তার মেধা ও মননের শূন্যতায় ঘটে। আর্জেন্টিনা আজ বিশ্বকে দেখাচ্ছে কীভাবে একটি দেশ তার অভ্যন্তরীণ জ্ঞান-কাঠামোর জোরে অর্থনৈতিক ঝড়ঝাপ্টাকে উপেক্ষা করে নিজস্ব সার্বভৌম অস্তিত্ব ও আত্মমর্যাদা টিকিয়ে রাখতে পারে।

 

প্রতিটি সংকটই সেখানে ধ্বংসের শেষ রেখা নয়, বরং তা হয়ে উঠছে নতুন এক পুনর্জাগরণের (Renaissance) সূচনাবিন্দু। বাংলাদেশের নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ এবং গবেষকদের জন্য আর্জেন্টিনার এই জীবনসংগ্রাম এক যুগান্তকারী ও ইতিবাচক বার্তা বহন করে। আমাদের রয়েছে অফুরন্ত জনমিতিক লভ্যাংশ এবং অমিত সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্ম। এই বিশাল তরুণ সমাজকে যদি আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক বিশ্বমানের জ্ঞান-অবকাঠামো, মৌলিক গবেষণা এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার শক্তিতে দীক্ষিত করতে পারি, তবে যেকোনো বৈশ্বিক বা অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলা করা আমাদের জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র।

 


টেকসই সমৃদ্ধির এই অভিযাত্রায় আমাদের অতিসত্বর শিক্ষা খাতে কৌশলগত ও কাঠামোগত রূপান্তর ঘটাতে হবে এবং মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনে সর্বোচ্চ জাতীয় অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ, ইতিহাসের অমোঘ সত্য এটাই—অর্থনৈতিক সূচক সাময়িকভাবে থমকে যেতে পারে, কিন্তু যে রাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্বমানের মানবপুঁজি তৈরি করে এবং যে জাতির সংস্কৃতি অভেদ্য মনস্তাত্ত্বিক দুর্গ হিসেবে কাজ করে, পৃথিবীর কোনো সংকটের সাধ্য নেই তাকে চিরতরে থামিয়ে দেওয়ার। জ্ঞান ও সংস্কৃতির এই অক্ষয় আলোকেই বাংলাদেশ একদিন তার টেকসই সমৃদ্ধির চূড়ান্ত শিখর স্পর্শ করবে—আর্জেন্টিনা আখ্যান আজ আমাদের সেই অবিনাশী আত্মবিশ্বাসই জোগায়।

0 Comments

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগল প্রধান সুন্দর পিচাইকে দেখে শিক্ষার্থীদের মঞ্চ বর্জন

যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়।   বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা।   উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল।   চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগল প্রধান সুন্দর পিচাইকে দেখে শিক্ষার্থীদের মঞ্চ বর্জন

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0