যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের বিমান টিকিট কম দামে পাওয়ার কিছু কার্যকর ট্রিক
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য দেশে যাওয়ার সবচেয়ে বড় ব্যয়ের একটি হলো বিমান ভাড়া। বিশেষ করে ঈদ, সামার ভ্যাকেশন, শীতকালীন ছুটি কিংবা বছরের শেষভাগে বাংলাদেশমুখী যাত্রীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় টিকিটের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে ভ্রমণ খাতের অভিজ্ঞরা বলছেন, কিছু কার্যকর কৌশল জানা থাকলে একই যাত্রায় কয়েকশ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব।
বর্তমানে অধিকাংশ যাত্রী সরাসরি একটি শহর থেকে ঢাকা পর্যন্ত টিকিট খোঁজেন। কিন্তু অভিজ্ঞ ভ্রমণকারীরা বলছেন, অনুসন্ধানের ধরন পরিবর্তন করলেই অনেক সময় বড় ধরনের মূল্য পার্থক্য দেখা যায়। এর মধ্যে অন্যতম হলো একাধিক শহরভিত্তিক বা মাল্টি-সিটি অনুসন্ধান। অনেক ক্ষেত্রে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকা এবং ফেরার সময় ভিন্ন কোনো মার্কিন শহরে অবতরণের বিকল্প বেছে নিলে প্রচলিত যাতায়াত টিকিটের তুলনায় কম ভাড়া পাওয়া যায়।
ভ্রমণ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যেসব ফ্লাইটে অপেক্ষার সময় বা ট্রানজিট দীর্ঘ হয়, সেগুলোর ভাড়া সাধারণত তুলনামূলক কম থাকে। অধিকাংশ যাত্রী দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে চান বলে স্বল্প ট্রানজিটের ফ্লাইটের চাহিদা বেশি থাকে। ফলে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা কিংবা তারও বেশি ট্রানজিটযুক্ত কিছু ফ্লাইটে উল্লেখযোগ্য মূল্যছাড় দেখা যায়।
বিকল্প বিমানবন্দর ব্যবহার করাও অনেকের জন্য লাভজনক হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, আটলান্টা বা অন্য কোনো শহর থেকে সরাসরি বাংলাদেশগামী টিকিটের তুলনায় নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি কিংবা অরল্যান্ডো থেকে একই সময়ে কম ভাড়ার টিকিট পাওয়া যায়। অনেক প্রবাসী প্রথমে স্বল্পমূল্যের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে অন্য শহরে গিয়ে সেখান থেকে আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু করে খরচ কমিয়ে থাকেন।
জর্জিয়ার আটলান্টাভিত্তিক বাংলা ট্রাভেলের স্বত্বাধিকারী আবদুল্লাহ মামুন বলেন, ভ্রমণের তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও নমনীয়তা গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট একটি দিনের পরিবর্তে পুরো সপ্তাহ বা মাসজুড়ে ভাড়ার তুলনা করলে দেখা যায়, মাত্র এক বা দুই দিনের ব্যবধানে টিকিটের দামে কয়েকশ ডলারের পার্থক্য হতে পারে। বর্তমানে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই সুবিধা সহজেই পাওয়া যায়।
অনেক অভিজ্ঞ যাত্রী ‘ওপেন-জ’ পদ্ধতিও ব্যবহার করেন। অর্থাৎ এক শহরে পৌঁছে অন্য শহর থেকে ফেরার টিকিট কাটা। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কেউ ঢাকায় পৌঁছে ফেরার যাত্রা চট্টগ্রাম বা সিলেট থেকে শুরু করলে কিছু ক্ষেত্রে ভাড়া কম পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
আরেকটি জনপ্রিয় কৌশল হলো যাত্রাকে দুই বা ততোধিক অংশে ভাগ করা। উদাহরণস্বরূপ, আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক পর্যন্ত একটি টিকিট এবং নিউইয়র্ক থেকে ঢাকা পর্যন্ত আলাদা আরেকটি টিকিট কেনা। অনেক সময় এই পদ্ধতিতে মোট ব্যয় কম হয়। তবে ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা এ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ট্রানজিট সময় রাখার পরামর্শ দেন, যাতে একটি ফ্লাইট বিলম্বিত হলেও পরবর্তী যাত্রা ব্যাহত না হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা সুরক্ষা নীতির আওতায় অনেক এয়ারলাইন্স ও বুকিং প্ল্যাটফর্ম টিকিট কেনার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিনা খরচে বাতিল বা পরিবর্তনের সুযোগ দেয়। ফলে যাত্রীরা ভালো ভাড়া পেলে দ্রুত বুকিং করে পরে প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ পেতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, গভীর রাত বা ভোরবেলার ফ্লাইটেও অনেক সময় তুলনামূলক কম ভাড়া দেখা যায়। একই সঙ্গে ভাড়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু রাখলে মূল্য কমার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীরা তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারেন এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অনলাইনে প্রচলিত কিছু তথাকথিত ‘গোপন কৌশল’ সব সময় নিরাপদ বা গ্রহণযোগ্য নয়। বিমান সংস্থার নীতিমালার বাইরে গিয়ে কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করলে ভবিষ্যতে যাত্রা সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই সব সময় বৈধ ও স্বীকৃত উপায়ে টিকিট কেনার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ভ্রমণ খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, আগাম পরিকল্পনা, বিভিন্ন শহর ও বিমানবন্দরের ভাড়া তুলনা, নমনীয় তারিখ নির্বাচন, দীর্ঘ ট্রানজিট গ্রহণের মানসিকতা এবং একাধিক রুট যাচাই—এই কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে যাতায়াতের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি পরিবারের বিমান ভাড়ায় কয়েকশ থেকে এক হাজার ডলারেরও বেশি সাশ্রয় হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
নুরুল্লাহ সাঈদ
আটলান্টা, জর্জিয়া. যুক্তরাষ্ট্র
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী কিশা ল্যান্স বটমস। রিপাবলিকান প্রার্থী ও ব্যবসায়ী রিক জ্যাকসনকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন আটলান্টার সাবেক এই মেয়র। তাঁর জয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচিত হওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে নতুন নজির তৈরি হলো। ৪ নভেম্বর বুধবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের নির্বাচনী পূর্বাভাসে তাঁর জয় নিশ্চিত করা হয়। নির্বাচনে বটমসের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রিপাবলিকান ব্যবসায়ী রিক জ্যাকসন। নির্বাচনের রাতে জর্জিয়ার বিভিন্ন এলাকার ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই বটমস এগিয়ে ছিলেন। আটলান্টা জার্নাল-কনস্টিটিউশনের প্রকাশিত ফলাফলে ভোট গণনার এক পর্যায়ে তিনি ৫৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন, আর জ্যাকসনের পক্ষে ছিল ৪২ শতাংশ। পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাসে বটমসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ৫৬ বছর বয়সী কিশা ল্যান্স বটমস এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আটলান্টার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। এ ছাড়া হোয়াইট হাউসের জনসম্পৃক্ততা কার্যালয়ের পরিচালক ছিলেন। রাজনীতি ও প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচনে তাঁর প্রার্থিতা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। নির্বাচনী প্রচারে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো এবং অঙ্গরাজ্যের ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১৫ ডলারে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বটমস। পাশাপাশি শিক্ষক, অগ্নিনির্বাপণকর্মী ও পুলিশ সদস্যদের বেতন বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে নিজের নির্বাচনী অবস্থান তুলে ধরেন এই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী। অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী রিক জ্যাকসন ছিলেন একজন ধনকুবের ব্যবসায়ী। তিনি নিজের নির্বাচনী প্রচারে বিপুল অর্থ ব্যয় করেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থন পান। জ্যাকসন কর কমানো, জননিরাপত্তা জোরদার ও ব্যবসাবান্ধব নীতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বটমসের কাছে পরাজিত হন তিনি। এই জয়ের মধ্য দিয়ে দুই দশকের বেশি সময় ধরে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা জর্জিয়ার গভর্নর পদ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেল। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম অঙ্গরাজ্যটিতে গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জয় পেলেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে জর্জিয়া গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে। বটমসের জয় তাই শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অর্জন নয়, অঙ্গরাজ্যটির ক্ষমতার সমীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। সূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও আটলান্টা জার্নাল-কনস্টিটিউশন।
মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে এল-সাইদ, রজার্সের চেয়ে বেশি ৯৮ হাজার ভোট!
ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে উত্তর ক্যারোলাইনায় সিনেটর নির্বাচিত রয় কুপার
দাদির কবর দেখতে গিয়ে নেশাগ্রস্ত চালকের গাড়িচাপায় নিহত শিশু, হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বাবা
যুক্তরাষ্ট্রে জিন বিশ্লেষণ ও জিনগত তথ্য নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করছেন বাংলাদেশি গবেষক সামরিন মেহক। জীববিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়া এই তরুণীর কর্মজীবন এখন জিনতত্ত্ব ও ব্যক্তিনির্ভর চিকিৎসা নিয়ে। তবে নিজের পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে পড়তে আগ্রহী মেয়েদের জন্য গবেষণার সুযোগ, বৃত্তি এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা সহজলভ্য করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। ওয়াশিংটন ডিসিতে বসবাসকারী সামরিনের শিক্ষাজীবনের শুরু বাংলাদেশে। তিনি ঢাকার স্কলাস্টিকা থেকে ও লেভেল সম্পন্ন করেন। পরে ২০২০ সালে কোস্টারিকার ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজ থেকে ইন্টারন্যাশনাল ব্যাকালরিয়েট ডিগ্রি অর্জন করেন। বৃত্তির সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পথ তৈরি হয় তাঁর। ভার্জিনিয়ার জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২৪ সালের মে মাসে জীববিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হন সামরিন। জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা সহকারী ও শিক্ষক সহকারী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের ‘এক্সপ্লেইনার্স প্রোগ্রাম’-এ অংশ নেন। সেখানে জাদুঘরের দর্শনার্থীদের জন্য গবেষণাভিত্তিক শিক্ষামূলক কার্যক্রম তৈরিতে কাজ করেন তিনি। তাঁর গবেষণার বিষয়ের মধ্যে রয়েছে ফলের মাছির ক্রোমোজোমের বিবর্তন, বাংলাদেশের মৎস্যচাষ এবং স্মৃতিভ্রংশজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সেবাসংক্রান্ত বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরবর্তী ধাপে অর্থায়ন পাওয়াও তাঁর জন্য সহজ ছিল না। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও গবেষণায় অর্থায়নের সুযোগ তুলনামূলক সীমিত হওয়ায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। তবে চেষ্টা চালিয়ে গিয়ে জীববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পড়াশোনার জন্য ১৮ হাজার ডলারের মেধাভিত্তিক বৃত্তি অর্জন করেন সামরিন। ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশকে দেওয়া তথ্যের বরাতে এ বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের গেইথার্সবার্গে অবস্থিত জিনগত পরীক্ষা প্রতিষ্ঠান জিনডিএক্সে যোগ দেন তিনি। সেখানে পরবর্তী প্রজন্মের জিন বিশ্লেষণপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করেন পরীক্ষাগার প্রযুক্তিবিদ হিসেবে। ডিএনএ ও আরএনএ পৃথকীকরণ, নমুনা প্রস্তুত এবং জিন বিশ্লেষণের বিভিন্ন যন্ত্র ও পদ্ধতি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা অর্জনের পর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সহযোগী জিন বিশ্লেষক পদে দায়িত্ব পান। বর্তমানে জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করে চিকিৎসকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্লিনিক্যাল ধারণা ও তথ্য প্রস্তুত করেন সামরিন। এসব বিশ্লেষণ রোগীর চিকিৎসা নির্ধারণে চিকিৎসকদের সহায়তা করে। মানব জিনতত্ত্ব, ব্যক্তির জিনগত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চিকিৎসা এবং স্নায়ুর ক্ষয়জনিত রোগ নিয়ে তাঁর আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে আলঝেইমার রোগ নিয়ে গবেষণায় আগ্রহী তিনি। এর আগে স্মৃতিভ্রংশে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সেবা এবং প্রবীণ নিবাসের বাসিন্দাদের জন্য ব্যক্তিভিত্তিক সংগীত ব্যবহারের প্রভাব নিয়েও গবেষণায় অবদান রেখেছেন। নিজের কর্মজীবনের পাশাপাশি বাংলাদেশে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন সামরিন। তাঁর মতে, আগ্রহ ও মেধা থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষার্থী সঠিক শিক্ষাপথ, বৃত্তি, গবেষণার সুযোগ কিংবা পেশাগত যোগাযোগের অভাবে পিছিয়ে পড়েন। বিশেষ করে নারী গবেষকের সংখ্যা কম হওয়ায় নতুন প্রজন্মের অনেক মেয়ে নিজেদের সামনে অনুসরণ করার মতো পর্যাপ্ত উদাহরণ খুঁজে পায় না। বাংলাদেশে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত সংশ্লিষ্ট পেশায় নারীর অংশগ্রহণের চিত্রও এ ক্ষেত্রে উদ্বেগের। বিশ্বব্যাংকের ২০২১ সালের বাংলাদেশবিষয়ক লিঙ্গ মূল্যায়ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দেশের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মধ্যে নারীর অংশ ছিল মাত্র ১৪ শতাংশ। এ তথ্য উদ্ধৃত করে লাইটক্যাসল পার্টনার্সও বাংলাদেশে এই খাতে নারীর সীমিত অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরেছে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে সামরিন মনে করেন, তরুণীদের জন্য বৃত্তি ও গবেষণার সুযোগ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া, অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি এবং আর্থিক ও ব্যক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ। তিনি চান, বাংলাদেশে বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে আগ্রহী মেয়েরা যেন শুরুতেই প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পায় এবং গবেষণাকে সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। তাঁর প্রত্যাশা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বিজ্ঞান ও গবেষণার পথ আরও পরিচিত ও সহজলভ্য হয়ে উঠবে। সূত্র: ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ ও সামরিন মেহকের লিংকডইন প্রোফাইল।
নিউ ইয়র্কের গ্রিনপয়েন্টে সাশ্রয়ী আবাসন লটারি, ভাড়া শুরু ৭৫১ ডলার থেকে
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ফ্লোরিডায় ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য, তিন আসনেই হারলেন রিপাবলিকান প্রার্থীরা
বেতন না কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টার বদলে ৩২ ঘণ্টা কাজের প্রস্তাব, কংগ্রেসে বিল উত্থাপন
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ৯ জনের প্রাণহানির ঘটনায় বিধ্বস্ত একটি ব্যক্তিগত বিমানের লেজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪ মাইল দূরে উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের (এনটিএসবি) পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটির সদস্য টম চ্যাপম্যান জানান, বিমানের লেজের সঙ্গে যুক্ত ‘লেফট এলিভেটর’ নামের নিয়ন্ত্রণ অংশটি তিনটি খণ্ডে পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১ দশমিক ৩ থেকে ৩ দশমিক ৮ মাইল দূরত্বের মধ্যে এসব অংশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাটিতে আঘাত করার আগেই বিমানের কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। গত রোববার (১ নভেম্বর) ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টির গ্রিনএকার্স এলাকায় লিয়ারজেট ৬০ মডেলের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি টেক্সাসের অস্টিন থেকে বাহামাসের উদ্দেশে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা সাত যাত্রী এবং দুই পাইলটসহ মোট নয়জনের সবাই নিহত হন। বিমানটি একটি আবাসিক এলাকার সড়কে আছড়ে পড়ে এবং সেখানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনার পর আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বিমানের বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ। তদন্তের স্বার্থে স্থানীয় বাসিন্দাদের এসব অংশ স্পর্শ বা সরিয়ে না ফেলে কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে এনটিএসবি। উদ্ধার হওয়া অংশটির নাম ‘লেফট এলিভেটর’। এটি বিমানের পেছনের অনুভূমিক লেজের সঙ্গে যুক্ত একটি চলমান নিয়ন্ত্রণ পৃষ্ঠ, যা বিমানের নাক ওপরে বা নিচে ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তদন্তকারীদের মতে, এত দূরে তিন খণ্ডে এর সন্ধান পাওয়া বিমানটি আঘাতের আগেই ভেঙে পড়তে শুরু করেছিল কি না, তা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। তবে এই অংশ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, নাকি নিচে নামার সময় অতিরিক্ত চাপের কারণে এটি ভেঙে যায়, তা এখনো নিশ্চিত নয়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। দুর্ঘটনার আগে বিমানের পাইলট ও সহকারী পাইলটের সঙ্গে আকাশপথ নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগের তথ্যও তদন্তের আওতায় রয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নের পর বিমানটির কর্মীরা বরফ জমা, মাঝারি মাত্রার বায়ুপ্রবাহের অস্থিরতা এবং বৃষ্টিপাতের কথা জানিয়েছিলেন। একপর্যায়ে বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে এবং সহকারী পাইলট জরুরি বিপৎসংকেত পাঠান। যোগাযোগের রেকর্ডে বিমানটির দ্রুত উচ্চতা হারানোর বিষয়টি উঠে এসেছে। আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। নিহতদের মধ্যে ছিলেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা অ্যাডাম রবিনসন (৪৫), তাঁর স্ত্রী হেলেন শার্প (৪০), তাঁদের দুই সন্তান এমা (৪) ও চার্লি (২), পরিবারের পরিচর্যাকারী এবং দুই পারিবারিক বন্ধু। বিমানের পাইলট ছিলেন ৫৫ বছর বয়সী জেফ গ্রেগরি এবং সহকারী পাইলট ছিলেন ২০ বছর বয়সী নাথালিয়া গাদেলহা ফিলগেইরাস। নাথালিয়া ছোটবেলা থেকেই বিমান চালানোর প্রতি আগ্রহী ছিলেন। ২০২৩ সালে স্কুলে পড়ার সময়ই তিনি ব্যক্তিগত বিমান চালানোর লাইসেন্স অর্জন করেন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমান চালানোই ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম বড় স্বপ্ন। এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিমানের বিভিন্ন অংশ সংগ্রহ ও পরীক্ষা করছেন এনটিএসবি কর্মকর্তারা। তদন্তকারীরা বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছেন, আশপাশে বিমানের কোনো ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেলে সেটি সরানো বা স্পর্শ করা যাবে না। বরং দ্রুত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কিংবা তদন্ত সংস্থাকে জানাতে হবে। সংস্থাটির মতে, উদ্ধার হওয়া লেজের অংশ দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তে বিমানের অবস্থার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) ও রয়টার্স।
ফ্লোরিডায় বাড়ির উঠানে কাজ করছিলেন বাবা-মা, অগোচরে সড়কে গিয়ে গাড়ির ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু
নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অংশগ্রহণে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের জন্য প্রায় ১০ লাখ ডলার অনুদান সংগ্রহ