অর্থনীতি

এআই ব্যবহারে ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ইঙ্গিত, বলেছেন এ কে আজাদ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ২:২৪
হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ। ছবি: সংগৃহীত
হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ। ছবি: সংগৃহীত

হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেছেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের কারণে তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১০ হাজার কর্মী কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে তাল মেলাতে উৎপাদন খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মানবশক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো এখন সময়ের দাবি।

 

রবিবার (৭ জুন) ইকবাল আহসানের সঞ্চালনায় ‘একাত্তর বিজনেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ কে আজাদ বলেন, বিশ্ব এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। বায়াররা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পণ্যের দাম বাড়ানো যাবে না।

 

এ অবস্থায় দক্ষতা বাড়াতে এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণে এআই ব্যবহার ছাড়া বিকল্প নেই। তার মতে, এ কারণে মানবশক্তি কমাতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর কাঠামোয় নিতে হবে।

 

তিনি আরও বলেন, হা-মীম গ্রুপে বর্তমানে প্রায় ৭৫ হাজার কর্মী কাজ করছেন। সেখান থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ১০ হাজার কর্মী কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এসব দক্ষ কর্মী চাকরি হারালে তাদের ভবিষ্যৎ কোথায় যাবে, সে বিষয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।

 

এ কে আজাদ বলেন, অনেক কোম্পানি উৎপাদন ব্যয় সামাল দিতে না পেরে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। ব্যয় বৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রপ্তানিমুখী শিল্পের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

 

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে বেসরকারি খাতকে সক্ষম করে তুলতে হবে। এ জন্য ব্যাংক সুদের হার কমানো জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

এ কে আজাদ আরও বলেন, বাংলাদেশ যদি বৈশ্বিক উৎপাদন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে চায়, তাহলে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

অর্থনীতি

View more
৬০টি বাণিজ্য অংশীদারের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক-গাড়িসহ ৫ খাতে দাম বাড়তে পারে রকেটের মতো

যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কয়েক ডজন বাণিজ্য অংশীদারের পণ্যের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক কার্যকর করায় পোশাক, ইলেকট্রনিকস, খাদ্যপণ্য, নির্মাণসামগ্রী ও গাড়িসহ অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে ভোক্তাদের খরচ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকেরা।   নতুন ব্যবস্থায় ৬০টি দেশের আমদানি পণ্যের ওপর সাধারণভাবে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য ঠেকানোর যুক্তি দেখিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, বিদেশি রপ্তানিকারকেরা নয়, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ ক্রেতাদেরই এই বাড়তি ব্যয়ের বড় অংশ বহন করতে হতে পারে।   সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে পোশাক ও বস্ত্রপণ্যে। যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া বিপুল পরিমাণ জামাকাপড়, জুতা ও কাপড়জাত পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। যেসব উৎপাদনকারী দেশ নতুন শুল্কের আওতায় পড়েছে, সেসব দেশ থেকে পণ্য আনার খরচ বাড়লে খুচরা বিক্রেতারা দাম বাড়াতে পারেন।   ইলেকট্রনিকস খাতেও একই ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্মার্টফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন এবং বিভিন্ন গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি তৈরিতে ব্যবহৃত পণ্য ও যন্ত্রাংশের বড় অংশ চীন, মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থার একাধিক ধাপে শুল্ক যুক্ত হলে নতুন ডিভাইস কেনা কিংবা পুরোনো যন্ত্র মেরামতের খরচও বাড়তে পারে।   খাদ্য ও পানীয়ের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ব্রাজিল থেকে আমদানি করা কফি এবং কানাডাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রক্রিয়াজাত খাবার ও পানীয়ের দাম বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে জ্বালানি, সার এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য ও কৃষিপণ্য নতুন শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে সব পণ্যের দাম একই হারে বাড়বে না।   বাড়িঘর নির্মাণ ও সংস্কারের ব্যয়ও আরও বেড়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত কাঠ, ধাতব সামগ্রী, আসবাব, বৈদ্যুতিক উপকরণ এবং অন্যান্য নির্মাণপণ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ বিদেশ থেকে আসে। এসব পণ্যের দাম বাড়লে নতুন বাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি রান্নাঘর, বাথরুম কিংবা পুরোনো বাড়ি সংস্কারের খরচও বাড়তে পারে।   গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশের বাজারেও বাড়তি চাপের আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গাড়িশিল্প কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত। একটি গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সীমান্ত পেরিয়ে একাধিকবার যাতায়াত করতে পারে। প্রতিটি ধাপে বাড়তি ব্যয় যুক্ত হলে নতুন ও ব্যবহৃত গাড়ির দাম, যন্ত্রাংশ এবং মেরামতের খরচেও তার প্রভাব পড়তে পারে।   এর পাশাপাশি কানাডার নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর আলাদাভাবে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার হওয়ায় দেশটি থেকে আসা পণ্যের দাম বাড়লে মার্কিন বাজারের বেশ কয়েকটি খাতে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।   ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, নতুন শুল্ক বিদেশি দেশগুলোকে জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে উৎসাহিত করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকে শক্তিশালী করবে। তবে ব্যবসায়ী সংগঠন ও অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, দেশীয় উৎপাদন বাড়তে সময় লাগে; এর আগেই আমদানিকারকেরা বাড়তি ব্যয় পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন।   তবে শুল্ক কার্যকর হওয়া মানেই সব পণ্যের দাম তাৎক্ষণিকভাবে একই মাত্রায় বেড়ে যাবে, এমন নয়। কোনো প্রতিষ্ঠান বাড়তি খরচের কতটা নিজে বহন করবে, কতটা ক্রেতার ওপর চাপাবে এবং বিকল্প দেশ থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে পারবে কি না, তার ওপর প্রকৃত মূল্যবৃদ্ধি নির্ভর করবে। এরপরও এমন সময়ে নতুন শুল্ক কার্যকর হলো, যখন খাবার, জ্বালানি ও আবাসন ব্যয় নিয়ে আগে থেকেই চাপে রয়েছে বহু মার্কিন পরিবার।

সামিয়া আঁখি প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ২২:৪৯
৬০ দেশের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত

৬০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করছে ট্রাম্প প্রশাসন, আজ থেকেই কার্যকর

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বাড়ি কিনতে চাইছেন? নতুন হিসাব দেখে চোখ কপালে উঠবে

ছবি: সংগৃহীত

অর্থকষ্টে সবচেয়ে বেশি জর্জরিত যুক্তরাষ্ট্রের কোন অঙ্গরাজ্য? জানাল নতুন গবেষণা

পরিকল্পিত অর্থ ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত সময়ের আগেই হোম লোন পরিশোধ করা সম্ভব হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
৩০ বছরের হোম লোন ১০ বছরের মধ্যে পরিশোধ করবেন কীভাবে? জেনে নিন কার্যকর কৌশল

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার পর অধিকাংশ ক্রেতাই ১৫ বা ৩০ বছরের মর্টগেজ বা হোম লোনের পথ বেছে নেন। দীর্ঘমেয়াদি এই ঋণের ফলে মাসিক কিস্তির চাপ তুলনামূলক কম থাকলেও বছরের পর বছর সুদ পরিশোধ করতে হয়। তবে ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনা, নিয়মিত অতিরিক্ত ঋণ পরিশোধ এবং সঠিক কৌশল অনুসরণ করলে অনেক ক্ষেত্রেই ৩০ বছরের হোম লোন নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই পরিশোধ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন অধিকাংশ মর্টগেজ ল্যান্ডেররা।   ব্যাংক অফ আমেরিকার মর্টগেজ ঋণ কর্মকর্তা রবার্ট মুলার জানিয়েছেন, দ্রুত ঋণমুক্ত হওয়ার অন্যতম কার্যকর উপায় হলো মাসিক কিস্তির পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ সরাসরি ঋণের মূল অংশ বা প্রিন্সিপাল ব্যালেন্সে পরিশোধ করা। মূল ঋণের পরিমাণ দ্রুত কমে গেলে ভবিষ্যতে সেই অর্থের ওপর সুদও কম ধার্য হয়। ফলে মোট সুদের খরচ কমার পাশাপাশি ঋণের মেয়াদও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।   তিনি আরও জানান বছরে এক বা একাধিকবার অতিরিক্ত অর্থ প্রিন্সিপাল হিসেবে জমা দেওয়া যেতে পারে। বোনাস, ট্যাক্স রিফান্ড বা অন্য কোনো অতিরিক্ত আয়ের একটি অংশ এ কাজে ব্যবহার করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।   আরেকটি জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো ‘বাই-উইকলি পেমেন্ট’। এতে মাসে একবার পুরো কিস্তি পরিশোধের পরিবর্তে প্রতি দুই সপ্তাহে অর্ধেক কিস্তি দেওয়া হয়। এর ফলে বছরে মোট ২৬টি অর্ধেক কিস্তি বা ১৩টি পূর্ণ মাসিক কিস্তির সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধ হয়। এতে প্রতি বছর একটি অতিরিক্ত কিস্তির সমপরিমাণ অর্থ ঋণের মূল অংশে চলে যায়, যা মর্টগেজের মেয়াদ কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে এই সুবিধা সব ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান বা মর্টগেজ সার্ভিসার একইভাবে পরিচালনা করে না। তাই এ ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা জেনে নেওয়া উচিত।   অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের সময় আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেই অর্থ যেন ‘প্রিন্সিপাল অনলি পেমেন্ট’ হিসেবে প্রয়োগ হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ ভবিষ্যতের মাসিক কিস্তি হিসেবে সমন্বয় করা হতে পারে, ফলে ঋণের মূল পরিমাণ প্রত্যাশিত হারে কমবে না। একই সঙ্গে মর্টগেজ চুক্তিতে আগাম ঋণ পরিশোধের জন্য কোনো ‘প্রিপেমেন্ট পেনাল্টি’ বা অতিরিক্ত ফি রয়েছে কি না, সেটিও আগে যাচাই করা উচিত। যদিও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ প্রচলিত আবাসিক মর্টগেজে এ ধরনের জরিমানা থাকে না, তবুও ঋণের ধরনভেদে ব্যতিক্রম থাকতে পারে।   রবার্ট মুলার আরও জানান আর্থিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে একক কোনো কৌশল সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। যাদের মর্টগেজের সুদের হার তুলনামূলক কম, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ ঋণ পরিশোধের পরিবর্তে অবসরকালীন সঞ্চয়, বিনিয়োগ বা উচ্চ সুদের অন্যান্য ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা আর্থিকভাবে বেশি লাভজনক হতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের আয়, ব্যয়, সঞ্চয় ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্য বিবেচনা করে প্রয়োজনে একজন আর্থিক পরামর্শকের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দেন তিনি।   পরিকল্পিত অর্থ ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত অতিরিক্ত প্রিন্সিপাল পরিশোধ এবং সঠিক আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারলে অনেক ক্ষেত্রেই ৩০ বছরের হোম লোন ১০ বছর বা তার কাছাকাছি সময়ের মধ্যেও পরিশোধ করা সম্ভব হতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা, ধারাবাহিকতা এবং সুপরিকল্পিত বাজেট ব্যবস্থাপনা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৫, ২০২৬ ২০:৪৯
ছবি: জোহরান মামদানি ও নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল। (সংগৃহীত)

নিউইয়র্ক ছেড়েছে ৮৯২ কোম্পানি, স্থানান্তরিত হয়েছে ৪৭ বিলিয়ন ডলারের আয়; শীর্ষ লাভবান ফ্লোরিডা

পরিকল্পিত ব্যয় ও নিয়মিত সঞ্চয় জার্মানদের আর্থিক সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছবি: সংগৃহীত

কিপটেমি নয়, আর্থিক শৃঙ্খলা: জার্মানদের ৫ অভ্যাস যেভাবে বাড়ায় সঞ্চয়

প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত

জুনে ৮ মাসের সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স, তবু অর্থবছরজুড়ে প্রবৃদ্ধি ১৭.৩ শতাংশ

তেলের দাম বাড়ার মাঝেই স্বর্ণ-রুপায় দরপতন
তেলের দাম বাড়ার মাঝেই স্বর্ণ-রুপায় দরপতন

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হলেও উল্টো চিত্র দেখা গেছে মূল্যবান ধাতুর বাজারে। স্বর্ণ ও রুপার দামে উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদহার বৃদ্ধির আশঙ্কা স্বর্ণের বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে। এর ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত এই ধাতুটির চাহিদা কিছুটা কমে গেছে।   সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,০৬১ দশমিক ৩৫ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে আগস্ট মাসের ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার্সের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪,০৭৬ দশমিক ৪০ ডলারে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, টানা চতুর্থ মাসের মতো স্বর্ণের দরপতনের পথে রয়েছে, যেখানে মোট পতন প্রায় ১০ দশমিক ৪ শতাংশ।   বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এই প্রবণতাকে আরও জটিল করে তুলেছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানিয়েছেন, সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক হামলার ঘটনায় তেলের দাম আবারও বেড়েছে। এতে করে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং সুদহার নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।   রোববার কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে ইরান। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘিত হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যদিও একই দিনে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তেহরান ও ওয়াশিংটন আবারও আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে তা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেয়। এর প্রভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদহার বাড়ানোর পথে হাঁটে। আর সুদহার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়, যা বাজারে এর দামে প্রভাব ফেলে।   স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমেছে। স্পট সিলভারের মূল্য ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ৫১ ডলারে নেমেছে। তবে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন প্রবণতা দেখা গেছে। প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ১,৬৩০ দশমিক ১৩ ডলারে পৌঁছেছে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,২১৮ দশমিক ৯২ ডলারে।   বিশ্ববাজারে এই ওঠানামা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও আর্থিক নীতির অনিশ্চয়তা মিলিয়ে আগামী দিনগুলোতে বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ১:৫৩
ছবি: সংগৃহীত

১১৮ বিলিয়ন ডলার হারিয়ে ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ মর্যাদা হারালেন ইলন মাস্ক?

ছবি: সংগৃহীত

শেয়ারবাজারে এক সপ্তাহে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার হারালেন ইলন মাস্ক

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

বাজেটের প্রতি ১০০ টাকায় কোন খাতে কত ব্যয়, এক নজরে দেখুন বরাদ্দের হিসাব

0 Comments