যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন শুরু করতে এসে অনেক বাংলাদেশিকেই প্রথম দিকে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি, পেশাগত অভিজ্ঞতা বা ভালো চাকরি থাকলেও নতুন দেশে এসে ভাষা, স্থানীয় অভিজ্ঞতা এবং চাকরির বাজার সম্পর্কে সীমিত ধারণার কারণে অনেকেই শুরুতে উবার বা লিফট চালানো, ফুড ডেলিভারি, গ্যাস স্টেশন, গ্রোসারি স্টোর কিংবা অন্যান্য খণ্ডকালীন কাজে যুক্ত হন।
তবে কর্মসংস্থান ও ক্যারিয়ার উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে এমন কিছু পেশা রয়েছে যেখানে দীর্ঘমেয়াদি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ছাড়াই কয়েক মাসের প্রশিক্ষণ বা সার্টিফিকেশন সম্পন্ন করে একটি পেশাদার কর্মজীবনে প্রবেশ করা সম্ভব। এসব পেশায় একবার প্রবেশ করতে পারলে ভবিষ্যতে আয় বৃদ্ধি, পদোন্নতি এবং আরও বড় সুযোগের পথ তৈরি হয়।
ক্যারিয়ার নিয়ে দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্র কাজ করেন আমিনুর রহমান বলেন, নতুন অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এমন একটি পেশা নির্বাচন করা, যেখানে প্রবেশের সময় কম, খরচ তুলনামূলক কম এবং ভবিষ্যতে উন্নতির সুযোগ বেশি।
বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রবেশের অন্যতম জনপ্রিয় পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে সফটওয়্যার কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স বা কিউএ টেস্টিং। সফটওয়্যার, ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন সঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা পরীক্ষা করাই এ পেশার মূল দায়িত্ব। সাধারণত তিন থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন নতুন কর্মী এ খাতে কাজ শুরু করতে পারেন। এই সেক্টরে যারা কর্মরত রয়েছেন তাদের মতে, এন্ট্রি-লেভেলে একজন কিউএ টেস্টারের বার্ষিক আয় ৬০ হাজার থেকে ৮৫ হাজার ডলারের মধ্যে হতে পারে।
অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিউএ অ্যানালিস্ট থেকে সিনিয়র কিউএ ইঞ্জিনিয়ার, কিউএ লিড, টেস্ট ম্যানেজার কিংবা সফটওয়্যার প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি এই পেশায় সফলভাবে কাজ করছেন।
স্বাস্থ্যসেবা খাতেও নতুন অভিবাসীদের জন্য রয়েছে বিস্তৃত সুযোগ। এর মধ্যে ফ্লেবোটোমিস্ট পেশা দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ফ্লেবোটোমিস্টদের কাজ হলো রোগীদের রক্ত সংগ্রহ করা এবং বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য নমুনা প্রস্তুত করা। হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক ল্যাব এবং ব্লাড ব্যাংকে এ পেশার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সাধারণত দুই থেকে তিন মাসের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেই একজন কর্মী এ খাতে কাজ শুরু করতে পারেন।
এন্ট্রি-লেভেলে বার্ষিক আয় ৩৬ হাজার থেকে ৫৫ হাজার ডলারের মধ্যে হয়ে থাকে। পরবর্তীতে মেডিকেল ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান, ল্যাব সুপারভাইজার বা অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা পেশায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সার্টিফাইড নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট বা সিএনএ পেশাটিও নতুন অভিবাসীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। হাসপাতাল, নার্সিং হোম এবং পুনর্বাসন কেন্দ্রে রোগীদের দৈনন্দিন পরিচর্যা, চলাফেরায় সহায়তা এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন তারা। সাধারণত এক থেকে তিন মাসের প্রশিক্ষণেই এই পেশায় প্রবেশ করা সম্ভব। একজন সিএনএর বার্ষিক আয় সাধারণত ৩৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে থাকে। তবে এ পেশার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি নার্সিং পেশায় প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সোপান।
অনেকেই সিএনএ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে পরবর্তীতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত নার্স বা নিবন্ধিত নার্স হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেন।
স্বাস্থ্যসেবা খাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্থিতিশীল পেশা হলো মেডিকেল বিলিং ও কোডিং। রোগীদের চিকিৎসা তথ্য, স্বাস্থ্যবিমা দাবি এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত এই পেশায় সরাসরি রোগী সেবা দিতে হয় না। ফলে যারা অফিসভিত্তিক কাজ করতে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় ক্ষেত্র। সাধারণত তিন থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ খাতে প্রবেশ করা যায়। এন্ট্রি-লেভেলে বার্ষিক আয় ৪৫ হাজার থেকে ৭৫ হাজার ডলারের মধ্যে হতে পারে।
অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রেভিনিউ সাইকেল ম্যানেজমেন্ট, স্বাস্থ্যসেবা প্রশাসন কিংবা বীমা খাতেও কাজের সুযোগ তৈরি হয়।
অন্যদিকে প্রযুক্তি খাতে প্রবেশের আরেকটি কার্যকর পথ হলো আইটি হেল্প ডেস্ক সাপোর্ট স্পেশালিস্ট হিসেবে কাজ করা। কম্পিউটার, সফটওয়্যার, ইমেইল, নেটওয়ার্ক এবং প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানে ব্যবহারকারীদের সহায়তা করাই এ পেশার মূল কাজ। তিন থেকে চার মাসের প্রশিক্ষণ এবং কিছু আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন অর্জনের মাধ্যমে অনেকেই এ খাতে কর্মজীবন শুরু করতে পারেন। একজন আইটি হেল্প ডেস্ক কর্মীর বার্ষিক আয় সাধারণত ৪৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার ডলারের মধ্যে হয়ে থাকে।
পরবর্তীতে সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার, ক্লাউড বিশেষজ্ঞ কিংবা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে।
কর্মসংস্থান বিশেষজ্ঞ আমিনুর রহমান আরও মনে করেন, নতুন অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দীর্ঘদিন অস্থায়ী বা স্বল্প আয়ের কাজে আটকে থাকা। তিনি বলেন, সপ্তাহে কয়েক ঘণ্টা সময় ব্যয় করে নতুন দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই একজন ব্যক্তি একটি পেশাদার কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে পারেন।
বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেক সফল পেশাজীবীর অভিজ্ঞতাও একই বার্তা দেয়। তাদের অনেকেই কর্মজীবনের শুরুতে সাধারণ চাকরিতে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে প্রশিক্ষণ, সার্টিফিকেশন এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কর্পোরেট খাতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সফল ক্যারিয়ার গড়ার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি হলো দক্ষতা অর্জন। সঠিক পরিকল্পনা, সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ এবং অধ্যবসায় থাকলে নতুন অভিবাসীদের জন্য পেশাদার কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি উন্মুক্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ‘সোশ্যাল সিকিউরিটি’ আগামী মাত্র ছয় বছরের মধ্যে বড় ধরনের তহবিল সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, কম অভিবাসন এবং কর কাঠামোর পরিবর্তনের কারণে এই খাতের ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে অবসরে যাওয়া এবং প্রতিবন্ধী নাগরিকদের মাসিক সুবিধায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বড় ধরনের কাটছাঁটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব, যদি মার্কিন আইনপ্রণেতারা কিছু কঠিন অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে রাজি হন। সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের প্রধান অ্যাকচুয়ারি কারেন গ্লেন জানিয়েছেন, এটি মূলত একটি সাধারণ গাণিতিক সমস্যা হলেও এর রাজনৈতিক সমাধান বেশ জটিল। এই ঘাটতি পূরণ করতে হলে সরকারকে হয় করের হার বাড়াতে হবে, নয়তো নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা কমাতে হবে, অথবা দুইয়ের সংমিশ্রণ ঘটাতে হবে। সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, সোশ্যাল সিকিউরিটি দেউলিয়া হয়ে গেলে হয়তো সুবিধাভোগী প্রায় ৭ কোটি আমেরিকান আর কোনো অর্থই পাবেন না। কিন্তু অর্থনীতিবিদরা স্পষ্ট করেছেন যে, তহবিল শেষ হলেও মাসিক চেক দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ হবে না, তবে বর্তমানে চলমান গড় মাসিক পেমেন্ট ২,০৭১ ডলার থেকে প্রায় ৫০০ ডলার পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা মূলত কয়েকটি সম্ভাব্য সমাধানের কথা বলছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স ক্যাপ বা করের সর্বোচ্চ সীমা বাতিল করা। বর্তমানে ২০২৬ সালে ১,৮৪,৫০০ ডলারের বেশি আয়ের ওপর কোনো পে-রোল কর দিতে হয় না। এই সীমা তুলে দিলে বা উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর কর পুনর্বহাল করলে তহবিলের ঘাটতি অনেকটাই দূর করা সম্ভব। এছাড়া পে-রোল ট্যাক্সের বর্তমান হার ৬.২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়ের জন্যই ৮.৫ শতাংশ করার প্রস্তাবও রয়েছে, যা এই সংকট সম্পূর্ণ দূর করতে পারে। অন্যান্য বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে পূর্ণ অবসরের বয়সসীমা ৬৭ থেকে বাড়িয়ে ৬৯ বছর করা, যার ফলে নাগরিকদের আয়ু বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রাখা সম্ভব হলেও বার্ষিক সুবিধা গড়ে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসবে। পাশাপাশি উচ্চ আয়ের চাকরিজীবীদের জন্য সোশ্যাল সিকিউরিটির সুবিধা কমিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন কিছু রিপাবলিকান নীতিনির্ধারক। অন্যদিকে, দেশের শীর্ষ ধনীদের বিনিয়োগ খাত, যেমন ক্যাপিটাল গেইন্স বা লভ্যাংশের ওপর নতুন করে কর আরোপের দাবি তুলেছেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। সম্প্রতি স্পেসএক্স-এর আইপিও-র মাধ্যমে ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার ঘটনার পর এই আলোচনা আরও গতি পেয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ধনকুবেরদের বিনিয়োগের ওপর ১২.৪ শতাংশ কর আরোপ করা গেলে সোশ্যাল সিকিউরিটির এই দীর্ঘমেয়াদি সংকট পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব। তবে শেষ পর্যন্ত কোন গোষ্ঠী এই সংস্কারের খরচ বহন করবে, তা নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে বিতর্ক এখনও তুঙ্গে।
ক্যালিফোর্নিয়ার ভাড়াটিয়া-বান্ধব আইনের অপব্যবহার করে মালিবুর বাসিন্দাদের দিনের পর দিন আতঙ্কে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক কথিত ‘সিরিয়াল স্কোয়াটার’ বা অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে। বছরের পর বছর ধরে আসা অসংখ্য অভিযোগের ভিত্তিতে এবার তাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে একটি ডকুসিরিজ। জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম হুলু-এর নতুন ডকুসিরিজ ‘স্কোয়াটার্স: গেট দ্য ফ*** আউট অব মাই হাউস’-এর দ্বিতীয় পর্ব ‘দ্য প্যারাডাইস অব মালিবু’-তে তুলে ধরা হয়েছে এলি মে ম্যাকনাল্টি নামের এই নারীর চাঞ্চল্যকর সব কাণ্ড। পেশায় ব্রিটিশ অভিনেত্রী ও চিত্রনাট্যকার ম্যাকনাল্টি কীভাবে মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে মানুষের বাড়িতে আশ্রয় নিতেন এবং পরে আর বের হতে চাইতেন না, ডকুসিরিজটিতে সেই বিবরণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তার এই দখলের শিকার হয়েছিলেন অ্যালডেন মারিন নামের এক শিল্পী, যিনি স্টেজ ফোর ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। ২০২১ সালের শরতে ম্যাকনাল্টি তাকে বলেছিলেন যে নিজের বাড়ির কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাত্র কয়েকদিনের জন্য তিনি তার বাড়িতে থাকতে চান। কিন্তু সেই কয়েকদিনের অবস্থান এক মাসে গড়ায়। ভ্যানিটি ফেয়ারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একসময়ের ভদ্র এই অতিথি ধীরে ধীরে রূঢ়, জেদি ও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মারিনের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন, মারিন হাসপাতালে থাকার সময় বাড়ির তালা বদলে ফেলেন এবং কমোডে কাপড়ের ন্যাপকিন ফেলে পাইপ জ্যাম করে দেন। এমনকি বাড়ি ছাড়ার শর্ত হিসেবে তিনি ২০ হাজার ডলারও দাবি করেছিলেন। অ্যালডেনের বোন মিন্ডি মারিন ভ্যানিটি ফেয়ারকে জানান, ম্যাকনাল্টি তার ভাইয়ের সরলতার সুযোগ নিয়েছিলেন। তার মধ্যে ব্রিটিশ অভিনেত্রীদের মতো এক ধরনের আকর্ষণীয় ব্যাপার ছিল, যা দিয়ে তিনি সহজেই মানুষকে (বিশেষ করে পুরুষদের) প্রভাবিত করতে পারতেন। তবে ম্যাকনাল্টি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তার জিনিসপত্র ভেতরে থাকা অবস্থাতেই উল্টো মারিন বাড়ির তালা বদলে ফেলেছিলেন। এই পুরো ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বিতর্কিত আইন। এই আইন অনুযায়ী, কোনো অতিথি ভাড়া না দিলেও নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর তাকে আইনত ভাড়াটিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে বাড়ির মালিকদের পক্ষে অনাকাঙ্ক্ষিত অতিথিদের তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে মারিন বিষয়টি আদালতে নিয়ে যান এবং বিচারক ম্যাকনাল্টিকে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে মিন্ডি মারিন অনুসন্ধান করে ম্যাকনাল্টির বিরুদ্ধে গত দুই দশকের প্রায় ১০টিরও বেশি আইনি মামলার খোঁজ পান, যার সাম্প্রতিকতমগুলো পয়েন্ট ডুম এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে সম্পর্কিত। ভ্যানিটি ফেয়ার জানিয়েছে, তার অতীতের ভুক্তভোগীদের মধ্যে ৮০ বছর বয়সী সান্তা মনিকার এক বিধবা নারী এবং একজন যোগব্যায়াম শিক্ষকও রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার ভাড়াটিয়া সুরক্ষা আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়েই ম্যাকনাল্টি দিনের পর দিন অন্যের বাড়িতে নিজের অবস্থান দীর্ঘায়িত করতেন।
নিউইয়র্কের কুইন্স বরোর জ্যামাইকা এলাকায় আগামী ১৯ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুসাংস্কৃতিক কমিউনিটি উৎসব ‘ভালো মেলা ২০২৬’। স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ভালো (বিএইচএএলও)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলা বিকেল ৩টা থেকে শুরু হবে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, গত বছরও একই মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। এবারের আয়োজনকে আরও বিস্তৃত ও অংশগ্রহণমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেলার মূল লক্ষ্য বিভিন্ন বয়স ও সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য একসঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনোদন ও সামাজিক সম্পৃক্ততার সুযোগ তৈরি করা। আয়োজনস্থল হিসেবে কুইন্সের হিলসাইড অ্যাভিনিউ এবং ১৭৩ স্ট্রিট থেকে ১৭৫ স্ট্রিট পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দিনব্যাপী এই উৎসবে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী খাবার, হস্তশিল্প, কমিউনিটি সেবা এবং পারিবারিক বিনোদনের নানা আয়োজন থাকবে। মেলার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্টল, স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং শিশু-কিশোরদের জন্য বিশেষ কার্যক্রম। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে। এবারের মেলায় কমিউনিটি পার্টনার হিসেবে যুক্ত রয়েছে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটি, এলহাম একাডেমি, সাপ্তাহিক ঠিকানা এবং বেঙ্গলিস অব নিউইয়র্ক (বনি)। পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি স্পিকার ড. নানতাশা উইলিয়ামসও অনুষ্ঠানের সহযোগী অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, মেলায় অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী বিক্রেতা ও স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য অনলাইন নিবন্ধনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কিউআর কোডের মাধ্যমে নিবন্ধনের সুযোগ থাকছে। আয়োজক সংগঠন ভালো (বিএইচএএলও)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই আয়োজন কেবল একটি মেলা নয়, বরং এটি বিভিন্ন সংস্কৃতি ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির একটি প্রয়াস। নিউইয়র্কের বৈচিত্র্যময় সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।