যুক্তরাষ্ট্রে নবজাতকদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা গড়ে তুলতে নতুন একটি কর্মসূচি চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির ট্রেজারি বিভাগ। “ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট” নামে পরিচিত এই পরিকল্পনার আওতায় যোগ্য শিশুদের নামে সরকারিভাবে এক হাজার ডলার জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মার্কিন গণমাধ্যম রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো শিশুদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও বিনিয়োগের একটি ভিত্তি তৈরি করা। সরকারের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া অর্থ সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে পরিবারকে দেওয়া হবে না। বরং শিশুর নামে খোলা বিশেষ বিনিয়োগ হিসাবে এটি সংরক্ষণ করা হবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জন্ম নেওয়া নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন শিশুদের এই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। শিশুর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষা, ব্যবসা শুরু বা নির্ধারিত অন্যান্য কাজে তা ব্যবহার করার সুযোগ থাকবে।
তবে এই সুবিধা পেতে অভিভাবকদের কিছু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। শিশুর বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকতে হবে এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিবন্ধন করতে হবে। ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পোর্টাল ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে হিসাব সক্রিয় করার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক পোস্টে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সব শিশুকেই সরাসরি এক হাজার ডলার করে দেওয়া হচ্ছে। তবে তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, এটি সরাসরি নগদ অর্থ প্রদান নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগভিত্তিক একটি সঞ্চয় কর্মসূচি।
অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর শিশুদের আর্থিক নিরাপত্তা তৈরিতেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে এবং ধাপে ধাপে নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু করা হবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
উত্তর আমেরিকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন্স ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা) এর ৪০তম কনভেনশন আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সাল সিটির হিলটন লস অ্যাঞ্জেলেস/ইউনিভার্সাল সিটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের দাবি, ফোবানার সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অনুসারে এটিই একমাত্র মূল ও বৈধ ৪০তম ফোবানা কনভেনশন। একই সময়ে ‘ফোবানা’ নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত পৃথক অনুষ্ঠানের প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে মূল কনভেনশনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ফোবানার বর্তমান নেতৃত্ব। ফোবানার নির্বাহী কমিটির চেয়ারপারসন রবিউল করিম বেলাল এবং নির্বাহী সচিব খালেদ আহমেদ রউফ এক যৌথ বক্তব্যে বলেন, ফোবানার সংবিধান অনুযায়ী সদস্য সংগঠনগুলোর ভোটের মাধ্যমে দুই বছর আগেই কনভেনশনের আয়োজক শহর নির্ধারণ করা হয়। সেই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় এবারের ৪০তম কনভেনশনের আয়োজক ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সাল সিটি। তারা জানান, কনভেনশনকে সফল করতে ক্যালিফোর্নিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় সভা, সমন্বয় বৈঠক ও প্রস্তুতিমূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারাও এসব আয়োজনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। ফোবানা নেতাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েকটি পৃথক গোষ্ঠী ‘ফোবানা’ নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন শহরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। তবে এসব আয়োজনের সঙ্গে ফোবানার সাংবিধানিক কাঠামো কিংবা নিবন্ধিত সদস্য সংগঠনগুলোর কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। তাই বিভিন্ন প্রচারণা বা বিজ্ঞাপন দেখে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রবাসীদের তথ্য যাচাই করে মূল কনভেনশনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। রবিউল করিম বেলাল বলেন, “ফোবানা শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়; এটি উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি সংগঠনগুলোর ঐক্যের প্রতীক। নিবন্ধিত সদস্য সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ, সংবিধান এবং সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই ফোবানা কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়।” খালেদ আহমেদ রউফ বলেন, “কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতেই পারেন। কিন্তু সেটিকে ফোবানা কনভেনশন হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়। প্রবাসীদের বিভ্রান্ত না হয়ে মূল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার আহ্বান জানাই।” আয়োজকদের উদ্যোগে সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার হলিউডে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় কমিউনিটির নেতারা বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৃহত্তর স্বার্থে বিভেদ নয়, ঐক্যই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কনভেনশনকে ঘিরে ক্যালিফোর্নিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি এবং সবাইকে একই প্ল্যাটফর্মে সম্পৃক্ত করাই তাদের লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে শিগগিরই একটি বৃহৎ টাউন হল সভার আয়োজন করা হবে, যেখানে কনভেনশনের প্রস্তুতি, পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের কনভেনশনে আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও কানাডা থেকে শত শত শিল্পী, সাহিত্যিক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, কমিউনিটি নেতা ও দর্শনার্থী অংশ নেবেন। তিন দিনের এই আয়োজনে থাকবে আন্তর্জাতিক মানের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সাহিত্যসভা, সেমিনার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক আলোচনা, নারীর ক্ষমতায়ন, যুব নেতৃত্ব, বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ফোরাম, গ্রন্থমেলা, ফ্যাশন শো, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা। এছাড়া কনভেনশনের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য ‘সিলভার প্যাকেজ’-এর বিশেষ মূল্যছাড়ের সময়সীমা আগামী ২৫ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কনভেনশনের আহ্বায়ক ডা. জয়নুল আবেদীন ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ এম. ইকবাল। তারা জানান, সীমিতসংখ্যক এ প্যাকেজে ভিআইপি পাস, বিশেষ নেটওয়ার্কিং সেশনে অংশগ্রহণের সুযোগ এবং সংরক্ষিত আসনের সুবিধা থাকবে। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে ফোবানা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য ৪০তম কনভেনশন প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্য, সংস্কৃতি এবং নতুন প্রজন্মের সম্পৃক্ততাকে আরও শক্তিশালী করবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচলিত ভিসা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এফ ভিসা আগের মতো অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য কার্যকর থাকবে না; বরং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হবে। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, বেশিরভাগ শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পেতে পারেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১ ভিসায় থাকা শিক্ষার্থীরা সাধারণত “ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস” নীতির আওতায় থাকেন। অর্থাৎ, তারা নির্ধারিত শিক্ষা কার্যক্রমে নিয়ম মেনে যুক্ত থাকলে পড়াশোনা শেষ হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পান। নতুন নীতিতে এই ব্যবস্থার পরিবর্তন এনে নির্দিষ্ট মেয়াদ নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় যারা চার বছরের মধ্যে পড়াশোনা শেষ করতে পারবেন না, তাদের অতিরিক্ত সময়ের জন্য আলাদাভাবে অনুমতি বা ভিসা সম্প্রসারণের আবেদন করতে হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা, ডক্টরাল প্রোগ্রাম বা জটিল একাডেমিক কার্যক্রমে থাকা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নতুন নীতিতে শুধু শিক্ষার্থী ভিসা নয়, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির জে ভিসা এবং বিদেশি সাংবাদিকদের আই ভিসার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। জে ভিসাধারীদের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ চার বছরের সীমা এবং সাংবাদিকদের ভিসার ক্ষেত্রে আরও কম সময়ের সীমা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, ভিসা ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যক্তিদের তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভাগের মতে, বর্তমান ব্যবস্থায় কিছু ক্ষেত্রে অবস্থানের সময়সীমা নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ঐচ্ছিক কর্মসংস্থানের সুযোগ, বিশেষ করে পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতি বা ওপিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে অনেক বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষে নির্দিষ্ট শর্তে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান। এছাড়া প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য দেওয়া সময়সীমা কমানোর বিষয়টিও রয়েছে। বর্তমান ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড কমিয়ে ৩০ দিন করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য আসেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। প্রস্তাবিত নিয়মটি কার্যকর হওয়ার আগে সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের পরই নতুন নিয়মের চূড়ান্ত রূপ পরিষ্কার হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বর্তমানে প্রচলিত অনির্দিষ্ট মেয়াদে অবস্থানের সুযোগের পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের একটি নোটিশের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভিসা ব্যবস্থায় এই পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে ভিসাধারীরা তাদের নির্ধারিত শিক্ষা কার্যক্রম, কর্মসূচি বা চাকরির মেয়াদ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারেন। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত এফ ভিসা, সাংস্কৃতিক ও বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীদের জন্য জে ভিসা এবং বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য আই ভিসার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। বর্তমান ব্যবস্থায় এসব ভিসার ক্ষেত্রে অনেক সময় আলাদা করে নির্দিষ্ট শেষ তারিখ উল্লেখ থাকে না। বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার অনুমোদিত শিক্ষা কার্যক্রম, গবেষণা, কর্মসূচি বা সাংবাদিকতার দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার সময় পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পান। জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের নোটিশ অনুযায়ী, নতুন নিয়ম কার্যকর করার আগে বিষয়টি কংগ্রেসের পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হবে। এরপর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে পরিবর্তন কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে লাখো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এফ ভিসার মাধ্যমে পড়াশোনা করছেন। পাশাপাশি জে ভিসার আওতায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, গবেষণা ও বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নেন অনেক বিদেশি নাগরিক। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এসব ভিসাধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের মেয়াদ ও নবায়ন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে প্রস্তাবিত নীতিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কংগ্রেসের পর্যালোচনা এবং পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পরই এর বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।