আমেরিকা

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

Unknown প্রকাশ: জুন ২, ২০২৬ ১৭:২৭
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে। ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’-এর অধীনে এই সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে মঙ্গলবার (২ জুন) এক বিবৃতিতে জানায় ইউএসটিআর। ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

ইউএসটিআর-এর তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি ঠেকাতে দেশগুলোর ব্যর্থতার কারণে মার্কিন বাজারে সস্তা পণ্য প্রবেশ করছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদকদের জন্য অসদুপায় ও অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে এবং বৈধভাবে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

তদন্ত প্রতিবেদনে দেশগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রথম ভাগে রয়েছে এমন দেশ, যারা আংশিক নিয়ম কার্যকর করেছে বা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে জোরপূর্বক শ্রমের পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই তালিকায় কানাডা, মেক্সিকো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ইকুয়েডর, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তান রয়েছে।

 

দ্বিতীয় ভাগে রয়েছে এমন দেশ, যারা সম্পূর্ণভাবে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও এই গ্রুপে যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, সুইজারল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়াসহ ৫৪টি দেশ রয়েছে।

 

ইউএসটিআর একটি ‘টেক্সটাইল মেকানিজম’-এর প্রস্তাব করেছে, যার আওতায় নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য হ্রাসকৃত শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য এই উদ্যোগ কোনো স্বস্তি আনতে পারে কি না, তা পরবর্তী শুনানির পর স্পষ্ট হবে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি অ্যাম্বাসেডর জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, প্রধান ব্যবসায়িক অংশীদাররা জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে তৈরি পণ্যের আমদানি ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে মার্কিন শ্রমিকরা বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, এই বৈষম্য আর সহ্য করা হবে না।

 

প্রস্তাবিত শুল্ক এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি বর্তমানে অংশীজনদের মতামত ও শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ২২ জুন গণশুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন এবং বক্তব্যের সারসংক্ষেপ জমা দেওয়ার শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর ৬ জুলাই প্রস্তাবিত শুল্ক নিয়ে লিখিত মতামত বা আপত্তি জমা দেওয়ার শেষ সময়। ৭ জুলাই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

 

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একক বৃহত্তম বাজার। প্রস্তাব কার্যকর হলে তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া সব পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক যুক্ত হতে পারে। এতে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে ৬ জুলাইয়ের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো, যেমন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ, শুনানিতে অংশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার এবং তৈরি পোশাক খাতের জন্য বিশেষ ছাড় আদায়ের সুযোগ পাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ফ্লোরিডার পাম বে শহরের একটি বাড়ির মূল দরজার সামনে দেখা যায় বিশাল অ্যালিগেটর। ছবি: সংগৃহীত
বাড়ির মূল দরজায় পৌনে ৮ ফুটের অ্যালিগেটর, গভীর রাতে ঘরবন্দি হয়ে পড়ে পুরো পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বে শহরে গভীর রাতে এক বিশাল অ্যালিগেটর একটি পরিবারের বাড়ির মূল দরজার সামনে এসে অবস্থান নেওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৭ ফুট ৬ ইঞ্চি লম্বা সরীসৃপটি দীর্ঘ সময় সেখানেই থাকায় পরিবারের সদস্যরা ঘরের বাইরে বের হতে পারেননি।   ফক্স ৩৫-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটে। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বুঝতেই পারেননি যে বাড়ির বাইরে কী আছে। পরে গ্যারেজে লাগানো গতিসংবেদনশীল নিরাপত্তা ক্যামেরা থেকে মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা আসার পর বিষয়টি জানতে পারেন তারা।   বাড়ির মালিক উইন জানান, সতর্কবার্তা পাওয়ার পর নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, কাছের ঘাসের ভেতর থেকে একটি বড় অ্যালিগেটর ধীরে ধীরে বেরিয়ে এসে সোজা তাদের মূল দরজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পরিবারের সবাই জানালার আড়াল থেকে পুরো ঘটনাটি দেখেন। তিনি বলেন, “এমন দৃশ্য দেখে আমরা সত্যিই হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল।”   পরিবারটির জন্য ঘটনাটি আরও উদ্বেগের কারণ ছিল তাদের ছোট পোষা কুকুর। রাতের দিকে নিয়মিত কুকুরটিকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হতো। উইনের ভাষায়, নিরাপত্তা ক্যামেরার সতর্কবার্তা না পেলে কী ঘটতে পারত, তা ভেবে এখনও তিনি আতঙ্কিত। তিনি বলেন, “আমি এখন সব সময় সতর্ক থাকি। বারবার চারপাশে তাকাই, যেন আমি বা আমার কুকুর কোনো হামলার শিকার না হই। ও আমার পরিবারেরই একজন সদস্য।”   ঘটনার পরপরই পরিবারটি জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করলে প্রথমে পাম বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশনের (এফডব্লিউসি) তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত একজন প্রাণী ধরার বিশেষজ্ঞ এসে অ্যালিগেটরটিকে নিরাপদে ধরে নিয়ে যান। সূর্য ওঠার আগেই সেটিকে এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরিমাপ করে দেখা যায়, অ্যালিগেটরটির দৈর্ঘ্য ছিল ঠিক ৭ ফুট ৬ ইঞ্চি।   ফ্লোরিডার বিভিন্ন জলাশয় ও সংরক্ষণ পুকুরের আশপাশে অ্যালিগেটর দেখা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে উইন বলেন, এত বড় একটি অ্যালিগেটরকে বাড়ির মূল প্রবেশপথ পর্যন্ত চলে আসতে তিনি আগে কখনও দেখেননি।   এ ঘটনার পর প্রতিবেশীদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার পরামর্শ, রাতে বাইরে বের হওয়ার আগে টর্চলাইট দিয়ে চারপাশ দেখে নেওয়া এবং সম্ভব হলে গতিসংবেদনশীল নিরাপত্তা ক্যামেরা ব্যবহার করা উচিত।   ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পুরো ফ্লোরিডায় প্রায় ১৩ লাখ অ্যালিগেটর রয়েছে। গরমের সময় এদের চলাচল ও সক্রিয়তা বেড়ে যায়। তাই বাসিন্দাদের জলাশয়ের ধারে সতর্ক থাকার, পোষা প্রাণীকে দড়িতে বেঁধে রাখার এবং কোনো অবস্থাতেই অ্যালিগেটরকে খাবার না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।   সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, কোনো অ্যালিগেটর মানুষের নিরাপত্তা, পোষা প্রাণী বা সম্পদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করলে দ্রুত তাদের নির্ধারিত হটলাইনে যোগাযোগ করতে হবে। প্রয়োজনে প্রশিক্ষিত কর্মীরা গিয়ে প্রাণীটিকে নিরাপদে সরিয়ে নেবেন।   সূত্র: ফক্স ৩৫

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ৬:৫৭
ছবি : সংগৃহীত

নিউইয়র্কে আইস সদর দপ্তরে হামলার চেষ্টা, অগ্নিসংযোগকারী ডিভাইসসহ আটক সশস্ত্র ব্যক্তি

ছবি : সংগৃহীত

ম্যানহাটনের আইসিই কার্যালয়ের বাইরে আগুন, সাবেক মার্কিন সেনাসদস্য আটক

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবার মার্কিন পকেটে, গ্যাসের ছড়াল দাম ৪ ডলার

ছবি: সংগৃহীত
কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর নতুন সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের

কানাডার বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক বাণিজ্য নীতির অভিযোগ তুলে দেশটির নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী ১৯ আগস্ট থেকে নতুন এই শুল্ক কার্যকর হবে।  হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ১৯৩০ সালের ট্যারিফ আইনের ৩৩৮ ধারার ক্ষমতা ব্যবহার করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও মদজাত দ্রব্যের ক্ষেত্রে কানাডা এমন নীতি অনুসরণ করছে, যা মার্কিন রপ্তানিকারকদের জন্য বৈষম্যমূলক। নতুন শুল্কের মাধ্যমে সেই বৈষম্যের প্রভাব সমন্বয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।    মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের আগের বাণিজ্য পদক্ষেপের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মার্কিন পণ্যের ওপর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। তার অভিযোগ, কিছু প্রদেশে মার্কিন মদ বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুগ্ধজাত পণ্যকে বেশি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় গাড়ি রপ্তানির ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।  হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, নতুন শুল্ক কানাডা থেকে আমদানি হওয়া প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর প্রযোজ্য হবে। তবে জ্বালানি, পটাশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, মাছ এবং কিছু অন্যান্য পণ্য এই সিদ্ধান্তের আওতার বাইরে থাকবে।        অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, কানাডা উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় নিজেদের অধিকার অনুযায়ী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বাণিজ্য বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে তাদের সরকার প্রস্তুত রয়েছে।        নতুন এই সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার আরও একটি বড় ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে আলোচনার সুযোগ রাখতে শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগে ৩০ দিনের সময় রাখা হয়েছে।

সামিয়া আঁখি প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ০:১৭
মিনেসোটায় সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্তদের আইনি সহায়তা নিয়ে নতুন বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত

মিনেসোটা যাদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ লুটের অভিযোগ, তাদেরই আইনজীবীর খরচ দিচ্ছেন করদাতারা

মেক্সিকো উপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ট্রপিক্যাল স্টর্ম ‘বার্থা’র সর্বশেষ অবস্থান। ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসের দিকে ধেয়ে আসছে মৌসুমের দ্বিতীয় ঝড় ‘বার্থা’, ভারী বৃষ্টি ও বন্যার সতর্কতা

গ্রিন কার্ডের সাক্ষাৎকারের পর আইসের হেফাজতে নেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

গ্রিন কার্ডের সাক্ষাৎকারে গিয়ে আটক নারী, যেকোনো মুহূর্তে হতে পারেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত

১৪ বছর পর ইরাসেমা চাভেজ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক নারীকে। ছবি: সংগৃহীত
১৪ বছর পর ধরা পড়লো, ১০০ ছুরিকাঘাতে হত্যা মামলার রহস্য

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আর্লিংটনে ২০১২ সালে ৩২ বছর বয়সী ইরাসেমা চাভেজকে নৃশংসভাবে হত্যার ১৪ বছর পর অবশেষে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আর্লিংটন পুলিশ বিভাগ ও এফবিআইয়ের ডালাস ফিল্ড অফিসের যৌথ তদন্তে মামলাটির অগ্রগতি আসে। গ্রেপ্তার হওয়া মাইরা ভেলাসকেজের বিরুদ্ধে মূলধনী হত্যা (ক্যাপিটাল মার্ডার) অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তাকে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ২০ জানুয়ারি আর্লিংটনের সাউথ কলিন্স স্ট্রিটের একটি অ্যাপার্টমেন্টে ইরাসেমা চাভেজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, তাকে প্রায় ১০০ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করলেও দীর্ঘ সময় ধরে হত্যাকারীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তদন্তের শুরুতে পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে হত্যার আগের রাতে এক ব্যক্তিকে অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করতে দেখা গেলেও তার পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। পরবর্তী সময়ে একাধিক সূত্র ধরে তদন্ত চালানো হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি আসেনি।   পরে ভার্জিনিয়াভিত্তিক পারাবন ন্যানোল্যাবসের সহায়তায় সন্দেহভাজনের জিনগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে একটি কম্পোজিট প্রোফাইল তৈরি করা হয়। কিন্তু সেখান থেকেও নতুন কোনো সূত্র মেলেনি। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আর্লিংটন পুলিশ এফবিআইয়ের ইনভেস্টিগেটিভ জেনেটিক জিনিয়োলজি কর্মসূচির সহায়তা নেয়। এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২০২৬ সালের শুরুতে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে এবং শেষ পর্যন্ত মাইরা ভেলাসকেজকে গ্রেপ্তার করা হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে কী ধরনের প্রমাণ বা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তে এই অগ্রগতি এসেছে, তা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। এছাড়া হত্যার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কেও বিস্তারিত জানানো হয়নি। সরকারি নথি অনুযায়ী, মাইরা ভেলাসকেজ একজন লাইসেন্সধারী রিয়েল এস্টেট এজেন্ট। তার লাইসেন্স এখনো সক্রিয় রয়েছে। তিনি যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত, সেই প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।   মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি নিয়ে আর্লিংটন পুলিশ বিভাগ ও এফবিআইয়ের ডালাস ফিল্ড অফিস যৌথভাবে বুধবার সংবাদ সম্মেলন করবে। সেখানে তদন্ত, গ্রেপ্তার এবং মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।   মামলাটি এখন বিচারাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ২২:৫৪
ভুয়া পাসপোর্ট নিয়ে ইতালিতে প্রবেশের সময় আটক হন টেক্সাসের এই হত্যা মামলার আসামি। ছবি: সংগৃহীত

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হত্যা মামলার আসামিকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরাতে আপাতত বাধা ইতালির আদালতের

অ্যান্টিট্রাস্ট মামলার সমঝোতার আওতায় ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ বিতরণ শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ১০ অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্টে আজ থেকে জমা হচ্ছে গড়ে ২ হাজার ডলার

অনলাইন ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করে নারীদের সঙ্গে পরিচয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার স্টিফেন হাকিম। ছবি: সংগৃহীত

ডেটিং অ্যাপে পরিচয়ের পর ধর্ষণের অভিযোগ, ফ্লোরিডার যুবকের আরও ভুক্তভোগী থাকতে পারে

0 Comments