বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে। ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’-এর অধীনে এই সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে মঙ্গলবার (২ জুন) এক বিবৃতিতে জানায় ইউএসটিআর। ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইউএসটিআর-এর তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি ঠেকাতে দেশগুলোর ব্যর্থতার কারণে মার্কিন বাজারে সস্তা পণ্য প্রবেশ করছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদকদের জন্য অসদুপায় ও অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে এবং বৈধভাবে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে দেশগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রথম ভাগে রয়েছে এমন দেশ, যারা আংশিক নিয়ম কার্যকর করেছে বা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে জোরপূর্বক শ্রমের পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই তালিকায় কানাডা, মেক্সিকো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ইকুয়েডর, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তান রয়েছে।
দ্বিতীয় ভাগে রয়েছে এমন দেশ, যারা সম্পূর্ণভাবে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও এই গ্রুপে যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, সুইজারল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়াসহ ৫৪টি দেশ রয়েছে।
ইউএসটিআর একটি ‘টেক্সটাইল মেকানিজম’-এর প্রস্তাব করেছে, যার আওতায় নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য হ্রাসকৃত শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য এই উদ্যোগ কোনো স্বস্তি আনতে পারে কি না, তা পরবর্তী শুনানির পর স্পষ্ট হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি অ্যাম্বাসেডর জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, প্রধান ব্যবসায়িক অংশীদাররা জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে তৈরি পণ্যের আমদানি ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে মার্কিন শ্রমিকরা বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, এই বৈষম্য আর সহ্য করা হবে না।
প্রস্তাবিত শুল্ক এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি বর্তমানে অংশীজনদের মতামত ও শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ২২ জুন গণশুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন এবং বক্তব্যের সারসংক্ষেপ জমা দেওয়ার শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর ৬ জুলাই প্রস্তাবিত শুল্ক নিয়ে লিখিত মতামত বা আপত্তি জমা দেওয়ার শেষ সময়। ৭ জুলাই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একক বৃহত্তম বাজার। প্রস্তাব কার্যকর হলে তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া সব পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক যুক্ত হতে পারে। এতে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে ৬ জুলাইয়ের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো, যেমন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ, শুনানিতে অংশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার এবং তৈরি পোশাক খাতের জন্য বিশেষ ছাড় আদায়ের সুযোগ পাবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreকানাডার সঙ্গে চলমান বাণিজ্য বিরোধ আরও জোরালো করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার মুদ্রা বিনিময়ের ভারসাম্যকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এ পরিস্থিতি আর চলতে দেওয়া হবে না। ট্রুথ সোশ্যাল-এ করা ট্রাম্পের এই পোস্টটি দু’দেশের মধ্যে প্রসারিত হতে থাকা অর্থনৈতিক সংঘাতের সর্বশেষ বার্তা। এই বিরোধের কারণে ইতিমধ্যে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ভেস্তে গেছে এবং গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও দুগ্ধজাত পণ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে লক্ষ্য করে শত শত কোটি ডলারের সীমান্তে উভয় দেশই ভারী শুল্ক আরোপ করেছে। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার ডলারের ভারসাম্যহীনতা অগ্রহণযোগ্য। বছরের পর বছর ধরে এমনটি হয়ে আসছে কিন্তু আর নয়।’ কয়েক দশক ধরে গড়ে ওঠা যে অংশীদারত্বের ওপর ভিত্তি করে বছরে শত শত কোটি ডলারের বাণিজ্য আবর্তিত হয়, তা এখন তীব্র চাপে পড়েছে। ফলে শক্তি (জ্বালানি), অটোমোবাইল, কৃষি এবং উৎপাদন খাতের মতো সমন্বিত সরবরাহ শৃঙ্খলগুলো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। ট্রাম্পের দাবি, এই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থা চরমভাবে অটোয়ার (কানাডা) পক্ষে যাচ্ছে, যা মার্কিন শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিকর। তবে কানাডীয় কর্মকর্তারা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের নীতি কানাডার অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ণ করছে। এই বিরোধ এখন সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন লেক অন্টারিও এর নাম পরিবর্তন করে লেক আমেরিকা রাখার একটি প্রস্তাব সমর্থন করে। পরবর্তীতে গুগল ম্যাপস এবং অ্যাপল ম্যাপসের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো মার্কিন ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপে নাম পরিবর্তনের বিষয়টি আপডেট করলে প্রতীকী এই সিদ্ধান্তটি আরও বড় আকার ধারণ করে। তবে কানাডীয় কর্মকর্তারা এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। রোববারের পোস্টে ট্রাম্প নির্দিষ্ট কোনো নতুন নীতিগত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেননি। তবে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য যুদ্ধ এড়াতে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার এবং গত কয়েক সপ্তাহের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পরেই এই হুঁশিয়ারি এলো। ট্রাম্পের সর্বশেষ পোস্টের পর হোয়াইট হাউস বা কানাডীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক নতুন পদক্ষেপের বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে ট্রাম্পের এই বার্তা থেকে স্পষ্ট যে, প্রশাসন এখনো কানাডার বাণিজ্য অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছে এবং আলোচনা স্থবির থাকলে অতিরিক্ত শুল্ক বৃদ্ধি বা অন্যান্য বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। এদিকে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া কানাডার পাল্টা শুল্ক ব্যবস্থায় তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, মার্কিন বাণিজ্য পদক্ষেপের সমপরিমাণ জবাব দেওয়া হবে । ওয়াশিংটন নতুন কোনো শাস্তি আরোপ করলে কানাডাও যে আরও কড়া পাল্টা ব্যবস্থা নেবে এই ঘটনা সেই আশঙ্কাকেই বাড়িয়ে দিচ্ছে।
কেপ ভার্দেতে বাস খাদে পড়ে নিহত ২৫, বেশিরভাগই স্কুলশিক্ষার্থী
যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হা/ম/লায় আল-কায়েদার ব্যয়ের হিসাব জানাল তদন্ত কমিশন
যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের অনুষ্ঠানে মেহেদি দিয়ে ঘণ্টায় ১০০ ডলার আয় ভারতীয় সফটওয়্যার প্রকৌশলীর
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মেইল ভোটে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নিম্ন আদালতের নিষেধাজ্ঞার পর রোববার আবারও জরুরি আবেদন করেছে প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্চে জারি করা নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতে তৈরি নতুন নিয়মে মেইল ব্যালট পাঠানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শর্ত আরোপের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রাজ্যগুলোকে মেইল ব্যালট পাওয়ার যোগ্য ভোটারদের তালিকা ইউএস পোস্টাল সার্ভিসকে দেওয়ার পাশাপাশি ব্যালটের খামে ইউনিক বারকোড ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে। নিয়ম না মানা হলে কিছু ব্যালট সরবরাহ না করার সুযোগও থাকবে পোস্টাল সার্ভিসের। তবে ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল বিচারক ইন্দিরা তালওয়ানি নতুন নিয়ম কার্যকরের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে দেওয়ার পর বিষয়টি আবার সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে গেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রশাসনের সলিসিটর জেনারেল জন সাওয়ার যুক্তি দিয়েছেন, রাজ্যগুলোতে ইতোমধ্যে মেইল ব্যালট পাঠানো শুরু হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে ভোটার ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। প্রশাসনের দাবি, নিয়ম কার্যকর না হলে প্রতিটি দিন নির্বাচনী প্রস্তুতিতে অনিশ্চয়তা বাড়াবে। বিশেষ করে নর্থ ক্যারোলাইনায় ইতোমধ্যে ব্যালট পাঠানো শুরু হয়েছে। আলাবামা ৯ সেপ্টেম্বর থেকে এবং আরও কয়েকটি রাজ্য সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে মেইল ব্যালট পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত রাজ্য ও ভোটাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, নির্বাচনের এত কাছাকাছি সময়ে নিয়ম পরিবর্তন করলে বৈধ ভোটারদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। নির্বাচন কর্মকর্তারাও বলছেন, অল্প সময়ের মধ্যে পুরো ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা কঠিন। মেইল ভোট নিয়ে এই আইনি লড়াই নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটার কোনো না কোনোভাবে মেইল ব্যালট ব্যবহার করেন। এর আগে আগস্টে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আদেশ বাস্তবায়নের সম্ভাব্য পথ খুলে দিলেও আদেশটি আইনসঙ্গত কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। ফলে নতুন করে আদালতে লড়াই শুরু হয়েছে। এবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কেটানজি ব্রাউন জ্যাকসন বুধবারের মধ্যে জবাব দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন।
ক্যালিফোর্নিয়ায় মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল দুই শিশুর
ভালো রেজাল্ট করলেই ১০০ ডলার, শিক্ষার্থীদের জন্য দোকানির অভিনব উদ্যোগ
‘টিকিট ছাড়াই বিমানবন্দরের টার্মিনালে প্রবেশ!’ যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ বিমানবন্দরে নতুন সুবিধা
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি চারজন বাড়ির মালিকের প্রায় একজন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দ্রুত গৃহঋণ পরিশোধ করছেন। তবে চমকপ্রদ বিষয় হলো, ২০২০ ও ২০২১ সালে যখন গৃহঋণের সুদের হার খুব কম ছিল, তখন ঋণ নেওয়া ব্যক্তিরাই বর্তমানে বেশি সুদের হারে ঋণ নেওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় বেশি হারে অতিরিক্ত কিস্তি দিচ্ছেন। বড় ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান রকেট মর্টগেজের প্রায় ৩০ লাখ ঋণের তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে। রকেট মর্টগেজ গত পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যে তাদের প্রায় ৩০ লাখ ঋণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের আগে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ ও ২০২১ সালের কম সুদের ঋণগ্রহীতারা বর্তমান সময়ের তুলনামূলক বেশি সুদের হারে ঋণ নেওয়া ব্যক্তিদের চেয়ে দ্রুত ঋণ পরিশোধের প্রবণতা বেশি দেখিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, অতিরিক্ত পরিশোধের গড় পরিমাণ বছরে আরও একটি পূর্ণ মাসিক কিস্তি দেওয়ার সমান। ৩০ বছরের গৃহঋণের ক্ষেত্রে এই হারে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করা হলে ঋণের মেয়াদ পাঁচ বছরেরও বেশি কমে যেতে পারে। অতিরিক্ত অর্থ সরাসরি ঋণের মূল অর্থ কমাতে ব্যবহৃত হওয়ায় ভবিষ্যতে ওই অর্থের ওপর সুদ জমা হয় না। ফলে পুরো ঋণের মেয়াদে মোট সুদের খরচও কমে যায়। গৃহঋণের প্রতিটি মাসিক কিস্তিতে ঋণের মূল অর্থ এবং সুদের একটি অংশ থাকে। ঋণগ্রহীতা নির্ধারিত কিস্তির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিলে সেই অর্থ পুরোপুরি মূল ঋণ কমাতে যায়। এর ফলে পরবর্তী সময়ে কম মূল অর্থের ওপর সুদ দিতে হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ মেয়াদে এভাবে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করলে মোট সুদের খরচ কয়েক দশ হাজার ডলার পর্যন্ত কমতে পারে। তবে অতিরিক্ত কিস্তি দেওয়া সব ক্ষেত্রেই সবচেয়ে ভালো আর্থিক সিদ্ধান্ত কি না, তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কারণ ঋণগ্রহীতাকে বিবেচনা করতে হয়, ওই অতিরিক্ত অর্থ অন্য কোথাও বিনিয়োগ করলে কতটা আয় হতে পারে। বর্তমানে গৃহঋণের সুদের হার পাঁচ বছর আগের তুলনায় বেশি হলেও ব্যাংক হিসাব ও বিনিয়োগ থেকেও তুলনামূলক বেশি আয় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আর্থিক পরিকল্পনাবিদ ক্রিস্টোফার প্রাইসের মতে, কারও গৃহঋণের সুদের হার যদি ২ দশমিক ৫ শতাংশের মতো কম হয়, তাহলে আর্থিক দিক থেকে ঋণটি যত ধীরে এবং দীর্ঘ সময় ধরে পরিশোধ করা যায়, তত ভালো হতে পারে। তার যুক্তি, ওই অর্থ অন্যত্র বিনিয়োগ করে ঋণের সুদের হারের চেয়ে বেশি আয় করার সুযোগ থাকতে পারে। কিন্তু রকেট মর্টগেজের তথ্য বলছে, বাস্তবে অনেক ঋণগ্রহীতা উল্টোভাবে ঋণ পরিশোধ করছেন। ২০২০ সালে গৃহঋণ নেওয়া ব্যক্তিদের চারজনের মধ্যে একজনেরও বেশি প্রায় পুরো ঋণের সময়জুড়েই অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করে আসছেন। ২০২১ সালে ঋণ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যেও প্রায় একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ঋণ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের হার প্রায় পাঁচজনের একজন। প্রাইসের মতে, মানুষ কেন কম সুদের ঋণও দ্রুত পরিশোধ করতে চান, তার কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। কেউ কেউ মনে করেন, ঋণ থাকা মানেই খারাপ এবং অবসরে যাওয়ার সময় কোনো ঋণ থাকা উচিত নয়। এমনকি সুদের হার কম হলেও তারা ঋণকে বোঝা হিসেবে দেখেন। আবার অনেকের বিনিয়োগ সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকায় অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগের পরিবর্তে গৃহঋণের কিস্তি হিসেবে পরিশোধ করার প্রবণতা রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের আর্থিক কলাম লেখক মিশেল সিঙ্গেলটারি এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি নিজেই ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ সুদের গৃহঋণ নির্ধারিত সময়ের আট বছর আগে পরিশোধ করেছিলেন। তার মতে, ঋণ পরিশোধ করে দেওয়ার ফলে মাসিক নগদ অর্থের প্রবাহ বাড়ে এবং ভবিষ্যতে যে সুদ আর দিতে হবে না, সেই সাশ্রয় নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়। এর বিপরীতে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ আয় নিশ্চিত নয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কম সুদের ঋণ থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে অতিরিক্ত কিস্তি দেওয়ার হার বেশি হওয়ার অর্থ এই নয় যে বেশি সুদের ঋণ নেওয়া ব্যক্তিরা দ্রুত ঋণ পরিশোধ করতে চান না। বরং সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ি কেনা ব্যক্তিদের মাসিক গৃহঋণের কিস্তিই তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। একই সময়ে সুদের হার প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার পাশাপাশি বাড়ির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ি কেনা অনেক মানুষের হাতে গৃহঋণের নির্ধারিত কিস্তির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ থাকে না। এমনকি বেশি সুদের কারণে দ্রুত ঋণ পরিশোধের আগ্রহ থাকলেও অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার সামর্থ্য অনেকের নেই। অন্যদিকে ২০২০ ও ২০২১ সালের কম সুদের ঋণগ্রহীতাদের তুলনামূলক কম মাসিক ব্যয়ের কারণে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের সুযোগ বেশি রয়েছে। রকেট মর্টগেজের তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের গৃহঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে একটি অপ্রত্যাশিত প্রবণতা দেখাচ্ছে। কম সুদের ঋণ নেওয়া ব্যক্তিরাই তুলনামূলক বেশি হারে নির্ধারিত কিস্তির বাইরে অর্থ পরিশোধ করছেন। তবে এ সিদ্ধান্ত আর্থিকভাবে কতটা উপযোগী, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যেই মতভেদ রয়েছে। কেউ কম সুদের ঋণ ধরে রেখে অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগের পক্ষে, আবার কেউ ঋণমুক্ত হওয়ার নিশ্চয়তাকে বেশি গুরুত্ব দেন। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট
কর্মজীবী বাবা-মায়ের তহবিল থেকে ঘরে থাকা অভিভাবকদের ভর্তুকি দিতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন
ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন কমে রেকর্ড ৩৩ শতাংশে, চাপে রিপাবলিকানরা