খেলাধুলা

২০১৪ বিশ্বকাপ

ব্রাজিলের ইতিহাসভাঙা পরাজয়, আর্জেন্টিনার বিদায় ও প্রেস অফিসারের লাল কার্ডে রঙিন ইতিহাস

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মে ৩০, ২০২৬ ১৮:৪৭
২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে পরাজয়ের পর ব্রাজিল দলের হতাশা । ছবি: ফিফা আর্কাইভ
২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে পরাজয়ের পর ব্রাজিল দলের হতাশা । ছবি: ফিফা আর্কাইভ

২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের ২০তম আসরকে ঘিরে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি একাধিক অপ্রত্যাশিত ও আলোচিত ঘটনা ইতিহাসে জায়গা করে নেয়। ১৯৩০ সালে মন্টেভিডিওতে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ মহাযাত্রার ধারাবাহিকতায় শতবর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এই টুর্নামেন্টে ফুটবল ইতিহাসের নানা স্মরণীয় অধ্যায় যুক্ত হয়। পেলে, গারিঞ্চা, দিয়েগো ম্যারাডোনা, জিনেদিন জিদান এবং লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তিদের ফুটবল-ঐতিহ্যের ধারায় ২০১৪ বিশ্বকাপ যোগ করে নতুন এক অধ্যায়।

 

এই আসরে সবচেয়ে আলোচিত ও বেদনাদায়ক ঘটনা ছিল স্বাগতিক ব্রাজিলের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বিধ্বংসী হার। এর মাধ্যমে ব্রাজিল শুধু ফাইনাল থেকেই ছিটকে যায়নি, নিজেদের মাটিতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরাজয়ের স্বাদও গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে জার্মানি তাদের চতুর্থ শিরোপা জয় করে।

 

এই টুর্নামেন্টে আরও একটি বড় মাইলফলক স্থাপিত হয়, জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা দুটি গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন এবং ব্রাজিলিয়ান রোনালদো নাজারিওর রেকর্ড ভেঙে দেন।

 

আর্জেন্টিনার ফাইনাল স্বপ্নভঙ্গ

জার্মানির বিপক্ষে ফাইনালে আর্জেন্টিনা ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়। অতিরিক্ত সময়ে মেসির দলকে হারিয়ে জার্মানি তাদের চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা নিশ্চিত করে। এই ফলাফলের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হয়।

 

২০১৪ বিশ্বকাপে ফিফা দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করে। প্রথমটি ছিল ভ্যানিশিং স্প্রে, যার মাধ্যমে ফ্রি কিকের সময় রক্ষণভাগের দেয়ালের অবস্থান নির্ধারণ করা হতো। দ্বিতীয়টি ছিল গোললাইন প্রযুক্তি, যেটি ক্যামেরা সিস্টেমের মাধ্যমে নিশ্চিত করত বল সম্পূর্ণভাবে গোললাইন অতিক্রম করেছে কি না।

 

বিশ্বকাপ আয়োজনের পথে ব্রাজিল বড় ধরনের অবকাঠামোগত সংকটে পড়ে। টুর্নামেন্ট শুরুর সময় পর্যন্ত ৩৫টি প্রকল্প অসমাপ্ত ছিল। কিছু কাজ বিলম্বিত হয়, কিছু কাজ বন্ধ থাকে এবং কিছু শুরুই হয়নি। নাটালের এস্তাদিও দাস দুনাস স্টেডিয়াম প্রথম ম্যাচ শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ফায়ার ব্রিগেডের নিরাপত্তা অনুমোদন পায়।

 

প্রস্তুতিপর্বে দুর্ঘটনাও ঘটে। বেলো হরিজন্তেতে একটি ওভারপাস ধসে পড়ে দুইজনের মৃত্যু হয়। এ সময় ফিফার তৎকালীন মহাসচিব জেরোম ভালকে ব্রাজিলের কাজের গতি নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেন, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে তিনি ফিফা থেকে বহিষ্কৃত হন।

 

বিশ্বকাপের মোট ব্যয়ও ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। স্টেডিয়াম নির্মাণ ও সংস্কারে প্রায় ৬.৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়। বিমানবন্দর, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো মিলিয়ে মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি, যা তখন পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্বকাপ হিসেবে রেকর্ড গড়ে। এ ব্যয়কে কেন্দ্র করে ব্রাজিলজুড়ে দুর্নীতি ও জনসেবায় অর্থের ঘাটতি নিয়ে বিক্ষোভও হয়।

 

২০১০ বিশ্বকাপে প্রথমবার দুই দেশের হয়ে মুখোমুখি হওয়া দুই ভাই কেভিন প্রিন্স বোয়াটেং এবং জেরোম বোয়াটেং ২০১৪ বিশ্বকাপেও একই গ্রুপে মুখোমুখি হন। ঘানা ও জার্মানির এই ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র হয়।

 

২১ জুন কাস্তেলো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দুই ভাই প্রথমার্ধ পর্যন্ত একসঙ্গে মাঠে ছিলেন। বিরতিতে জেরোম বোয়াটেংকে বদলি করা হয়। ম্যাচ শেষে জার্মানি গ্রুপ সেরা হয়ে নকআউট পর্বে ওঠে, অন্যদিকে ঘানা গ্রুপের তলানিতে থেকে বিদায় নেয়।

 

ইতালি ও উরুগুয়ের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ঘটে বিশ্বকাপের অন্যতম বিতর্কিত ঘটনা। ম্যাচের শেষ দিকে জর্জিও কিয়েল্লিনির সঙ্গে সংঘর্ষের সময় উরুগুয়ের স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে কামড় দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

 

রেফারি ঘটনাটি দেখতে না পাওয়ায় খেলা চালু থাকে এবং কিছুক্ষণ পর ডিয়েগো গডিনের গোলে উরুগুয়ে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়ে নকআউট পর্বে পৌঁছে যায়, ইতালি বাদ পড়ে।

 

পরে ভিডিও বিশ্লেষণে ফিফা সুয়ারেজকে দোষী সাব্যস্ত করে ৯ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো কামড় সংক্রান্ত শাস্তি।

 

ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিভিন্ন দেশে তার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যঙ্গাত্মক পণ্য তৈরি হয়। সুইডেনের একটি দোকানে তার দাঁতের আদলে বোতল ওপেনার এবং একটি সেক্স টয় শপে ব্যঙ্গাত্মক পণ্য বাজারে আনার ঘটনাও আলোচিত হয়। বেটিং সংস্থাগুলোর মাধ্যমে এই ঘটনার ওপর বাজি ধরার ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে, যেখানে ১৬৭ জন ব্যক্তি অংশ নেয় এবং বিজয়ীরা ১৭৫ গুণ লাভ পান।

 

২০১৪ বিশ্বকাপে বিরল এক ঘটনা ঘটে ব্রাজিল ও চিলির ম্যাচে। সাধারণত খেলোয়াড় বা কোচ লাল কার্ড পেলেও এই ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের প্রেস অফিসার রদ্রিগো পাইভা। ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষে ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে ব্রাজিলের ফ্রেড ও চিলির গ্যারি মেদেলের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয়। তখন পাইভা ঘটনাস্থলে গিয়ে এক চিলিয়ান খেলোয়াড়কে ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ ওঠে।

 

ইংলিশ রেফারি হাওয়ার্ড ওয়েব তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। পরবর্তীতে ফিফা তাকে নিষিদ্ধ করে এবং জরিমানা আরোপ করে। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে।

 

১৯৫০ বিশ্বকাপে ব্রাজিল বনাম উরুগুয়ে ফাইনালের টিকিট কিনেও ম্যাচে যেতে পারেননি জোয়েদির বেলমন্তে, কারণ তিনি অসুস্থ মায়ের পাশে ছিলেন। সেই টিকিট তিনি ৬৪ বছর ধরে সংরক্ষণ করেন। ২০১৪ বিশ্বকাপের আগে তিনি সেই ঐতিহাসিক টিকিট ফিফাকে দান করার প্রস্তাব দেন এবং বিনিময়ে দুটি ফাইনাল টিকিট পান। তবে অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনি সেই দুইটি টিকিট হারিয়ে ফেলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

খেলাধুলা

View more
২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে পরাজয়ের পর ব্রাজিল দলের হতাশা । ছবি: ফিফা আর্কাইভ
ব্রাজিলের ইতিহাসভাঙা পরাজয়, আর্জেন্টিনার বিদায় ও প্রেস অফিসারের লাল কার্ডে রঙিন ইতিহাস

২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের ২০তম আসরকে ঘিরে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি একাধিক অপ্রত্যাশিত ও আলোচিত ঘটনা ইতিহাসে জায়গা করে নেয়। ১৯৩০ সালে মন্টেভিডিওতে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ মহাযাত্রার ধারাবাহিকতায় শতবর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এই টুর্নামেন্টে ফুটবল ইতিহাসের নানা স্মরণীয় অধ্যায় যুক্ত হয়। পেলে, গারিঞ্চা, দিয়েগো ম্যারাডোনা, জিনেদিন জিদান এবং লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তিদের ফুটবল-ঐতিহ্যের ধারায় ২০১৪ বিশ্বকাপ যোগ করে নতুন এক অধ্যায়।   এই আসরে সবচেয়ে আলোচিত ও বেদনাদায়ক ঘটনা ছিল স্বাগতিক ব্রাজিলের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বিধ্বংসী হার। এর মাধ্যমে ব্রাজিল শুধু ফাইনাল থেকেই ছিটকে যায়নি, নিজেদের মাটিতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরাজয়ের স্বাদও গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে জার্মানি তাদের চতুর্থ শিরোপা জয় করে।   এই টুর্নামেন্টে আরও একটি বড় মাইলফলক স্থাপিত হয়, জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা দুটি গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন এবং ব্রাজিলিয়ান রোনালদো নাজারিওর রেকর্ড ভেঙে দেন।   আর্জেন্টিনার ফাইনাল স্বপ্নভঙ্গ জার্মানির বিপক্ষে ফাইনালে আর্জেন্টিনা ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়। অতিরিক্ত সময়ে মেসির দলকে হারিয়ে জার্মানি তাদের চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা নিশ্চিত করে। এই ফলাফলের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হয়।   ২০১৪ বিশ্বকাপে ফিফা দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করে। প্রথমটি ছিল ভ্যানিশিং স্প্রে, যার মাধ্যমে ফ্রি কিকের সময় রক্ষণভাগের দেয়ালের অবস্থান নির্ধারণ করা হতো। দ্বিতীয়টি ছিল গোললাইন প্রযুক্তি, যেটি ক্যামেরা সিস্টেমের মাধ্যমে নিশ্চিত করত বল সম্পূর্ণভাবে গোললাইন অতিক্রম করেছে কি না।   বিশ্বকাপ আয়োজনের পথে ব্রাজিল বড় ধরনের অবকাঠামোগত সংকটে পড়ে। টুর্নামেন্ট শুরুর সময় পর্যন্ত ৩৫টি প্রকল্প অসমাপ্ত ছিল। কিছু কাজ বিলম্বিত হয়, কিছু কাজ বন্ধ থাকে এবং কিছু শুরুই হয়নি। নাটালের এস্তাদিও দাস দুনাস স্টেডিয়াম প্রথম ম্যাচ শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ফায়ার ব্রিগেডের নিরাপত্তা অনুমোদন পায়।   প্রস্তুতিপর্বে দুর্ঘটনাও ঘটে। বেলো হরিজন্তেতে একটি ওভারপাস ধসে পড়ে দুইজনের মৃত্যু হয়। এ সময় ফিফার তৎকালীন মহাসচিব জেরোম ভালকে ব্রাজিলের কাজের গতি নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেন, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে তিনি ফিফা থেকে বহিষ্কৃত হন।   বিশ্বকাপের মোট ব্যয়ও ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। স্টেডিয়াম নির্মাণ ও সংস্কারে প্রায় ৬.৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়। বিমানবন্দর, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো মিলিয়ে মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি, যা তখন পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্বকাপ হিসেবে রেকর্ড গড়ে। এ ব্যয়কে কেন্দ্র করে ব্রাজিলজুড়ে দুর্নীতি ও জনসেবায় অর্থের ঘাটতি নিয়ে বিক্ষোভও হয়।   ২০১০ বিশ্বকাপে প্রথমবার দুই দেশের হয়ে মুখোমুখি হওয়া দুই ভাই কেভিন প্রিন্স বোয়াটেং এবং জেরোম বোয়াটেং ২০১৪ বিশ্বকাপেও একই গ্রুপে মুখোমুখি হন। ঘানা ও জার্মানির এই ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র হয়।   ২১ জুন কাস্তেলো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দুই ভাই প্রথমার্ধ পর্যন্ত একসঙ্গে মাঠে ছিলেন। বিরতিতে জেরোম বোয়াটেংকে বদলি করা হয়। ম্যাচ শেষে জার্মানি গ্রুপ সেরা হয়ে নকআউট পর্বে ওঠে, অন্যদিকে ঘানা গ্রুপের তলানিতে থেকে বিদায় নেয়।   ইতালি ও উরুগুয়ের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ঘটে বিশ্বকাপের অন্যতম বিতর্কিত ঘটনা। ম্যাচের শেষ দিকে জর্জিও কিয়েল্লিনির সঙ্গে সংঘর্ষের সময় উরুগুয়ের স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে কামড় দেন বলে অভিযোগ ওঠে।   রেফারি ঘটনাটি দেখতে না পাওয়ায় খেলা চালু থাকে এবং কিছুক্ষণ পর ডিয়েগো গডিনের গোলে উরুগুয়ে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়ে নকআউট পর্বে পৌঁছে যায়, ইতালি বাদ পড়ে।   পরে ভিডিও বিশ্লেষণে ফিফা সুয়ারেজকে দোষী সাব্যস্ত করে ৯ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো কামড় সংক্রান্ত শাস্তি।   ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিভিন্ন দেশে তার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যঙ্গাত্মক পণ্য তৈরি হয়। সুইডেনের একটি দোকানে তার দাঁতের আদলে বোতল ওপেনার এবং একটি সেক্স টয় শপে ব্যঙ্গাত্মক পণ্য বাজারে আনার ঘটনাও আলোচিত হয়। বেটিং সংস্থাগুলোর মাধ্যমে এই ঘটনার ওপর বাজি ধরার ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে, যেখানে ১৬৭ জন ব্যক্তি অংশ নেয় এবং বিজয়ীরা ১৭৫ গুণ লাভ পান।   ২০১৪ বিশ্বকাপে বিরল এক ঘটনা ঘটে ব্রাজিল ও চিলির ম্যাচে। সাধারণত খেলোয়াড় বা কোচ লাল কার্ড পেলেও এই ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের প্রেস অফিসার রদ্রিগো পাইভা। ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষে ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে ব্রাজিলের ফ্রেড ও চিলির গ্যারি মেদেলের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয়। তখন পাইভা ঘটনাস্থলে গিয়ে এক চিলিয়ান খেলোয়াড়কে ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ ওঠে।   ইংলিশ রেফারি হাওয়ার্ড ওয়েব তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। পরবর্তীতে ফিফা তাকে নিষিদ্ধ করে এবং জরিমানা আরোপ করে। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে।   ১৯৫০ বিশ্বকাপে ব্রাজিল বনাম উরুগুয়ে ফাইনালের টিকিট কিনেও ম্যাচে যেতে পারেননি জোয়েদির বেলমন্তে, কারণ তিনি অসুস্থ মায়ের পাশে ছিলেন। সেই টিকিট তিনি ৬৪ বছর ধরে সংরক্ষণ করেন। ২০১৪ বিশ্বকাপের আগে তিনি সেই ঐতিহাসিক টিকিট ফিফাকে দান করার প্রস্তাব দেন এবং বিনিময়ে দুটি ফাইনাল টিকিট পান। তবে অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনি সেই দুইটি টিকিট হারিয়ে ফেলেন।

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মে ৩০, ২০২৬ ১৮:৪৭
ছবি: সংগৃহীত

ইউটিউবে বিনামূল্যে সরাসরি দেখা যাবে বিশ্বকাপের সব ম্যাচ, যেভাবে দেখবেন

বিশ্বকাপ ম্যাচ ঘিরে নিউইয়র্কে ‘গ্রিডলক অ্যালার্ট’, বন্ধ

বিশ্বকাপ ম্যাচ ঘিরে নিউইয়র্কে ‘গ্রিডলক অ্যালার্ট’, বন্ধ থাকবে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক

ছবিঃ সংগৃহীত

মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দল ঘোষণা, দলে জায়গা হয়নি দুই আলোচিত তারকার

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সি কে পরবে স্পষ্ট জানালেন ভিনিসিয়ুস

ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সি বিশ্বকাপে কে পরবেন, তা নিয়ে তৈরি হওয়া আলোচনা নতুন মোড় নিয়েছে। নেইমারের চোট কাটিয়ে দলে ফেরার সম্ভাবনার মধ্যে এই জার্সি নিয়ে গুঞ্জন ছড়ালেও, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বক্তব্যে বিষয়টি অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে।   ব্রাজিল দলের ইতিহাসে ১০ নম্বর জার্সি বিশেষ মর্যাদার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। পেলে, জিকো এবং রোনালদিনিওর মতো কিংবদন্তিরা এই জার্সি গায়ে তুলে নিজেদের সাফল্যের ছাপ রেখেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এই জার্সি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছেন নেইমার।   তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে গুরুতর চোট পাওয়ার পর নেইমার মাঠের বাইরে চলে গেলে ১০ নম্বর জার্সিটি অন্য খেলোয়াড়দের মধ্যে ঘুরে ফিরে ব্যবহৃত হয়। এই সময়ে রাফিনিয়া ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে একাধিক ম্যাচে এই জার্সি পরতে দেখা যায়।   নেইমারের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের প্রেক্ষাপটে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে, বিশ্বকাপে এই জার্সি কে পরবেন। বিভিন্ন মহলে ধারণা তৈরি হয়, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র হয়তো এই জার্সি ধরে রাখবেন।   তবে ভিনিসিয়ুস নিজেই এ বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, নেইমার দলে ফিরলে ১০ নম্বর জার্সি তারই প্রাপ্য। এতে করে জার্সি নিয়ে চলমান আলোচনা অনেকটাই থেমে গেছে।   ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ২০২২-২৩ মৌসুমে নেইমারের অনুপস্থিতিতে ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তবে নেইমার ফিরলে তিনি নিজের পরিচিত ৭ নম্বর জার্সিতে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ১৬:১৪
ছবি: সংগৃহীত

মাঠে নামার আগেই আলোচনায় ২০২৬ বিশ্বকাপের স্মার্ট বল ‘ট্রাইওন্ডা’

ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করল স্পেন, জায়গা পেল না রিয়াল মাদ্রিদের কেউ

পর্তুগালের তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো | ছবি: সংগৃহীত

আয়ের দিক থেকে ফোর্বসের শীর্ষে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

চোট কাটিয়ে দ্রুত মাঠে ফেরার প্রস্তুতিতে নেইমার | ছবি: সংগৃহীত
নেইমারকে ঘিরে দুশ্চিন্তা কাটল, বিশ্বকাপের আগে চোট গুরুতর নয়

আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমারকে ঘিরে তৈরি হওয়া শঙ্কা কিছুটা কেটে গেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তার চোট গুরুতর নয় এবং বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন বলে জানা গেছে।   বিশ্বকাপের দলে নেইমারের নাম ঘোষণার পর ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছিল। তবে এর কিছুদিনের মধ্যেই চোটের খবর সামনে আসায় উদ্বেগ দেখা দেয়। সান্তোসের হয়ে খেলতে গিয়ে মাংসপেশিতে অস্বস্তি অনুভব করেন তিনি। পরে ক্লাব কর্তৃপক্ষ চোটের বিষয়টি নিশ্চিত করে এবং বিশ্রাম ও পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানায়।   দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক চোটে ভোগার কারণে নেইমারকে নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি হয় সমর্থকদের মধ্যে। অতীতেও বড় ধরনের চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। ফলে বিশ্বকাপে তার ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।   এমন পরিস্থিতিতে টিএনটি স্পোর্টস ব্রাজিল জানায়, বর্তমান চোট গুরুতর নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেইমারকে প্রায় ৫ থেকে ১০ দিন মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে। তবে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তার সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।   দলীয় মেডিকেল স্টাফও তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিয়ে আশাবাদী। বর্তমানে তাকে পর্যবেক্ষণে রেখে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে চোটের ঝুঁকি এড়াতে বিশ্বকাপের আগে সান্তোসের হয়ে আর কোনো ম্যাচে না খেলার বিষয়েও ভাবছেন নেইমার বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: মে ২১, ২০২৬ ২৩:৩৩
ছবি: সংগৃহীত

ট্রফি জয়ে শীর্ষস্থানে মেসি, রোনালদোর অবস্থান কত?

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে অধিনায়ক করে পর্তুগালের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

0 Comments