খেলাধুলা

নিউ জার্সিতে বিশ্বকাপ ফুটবলের ট্রেন চলাচল নিয়ে যাত্রীদের চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ২১:২৭
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম ম্যাচ শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে তীব্র উদ্বেগ ও সংশয় দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ব্যস্ততম সময়ে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ও একের পর এক ট্রেইল বাতিল হওয়ার ঘটনা এই উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এর ফলে কয়েক দিনের মধ্যে স্টেডিয়ামে ম্যাচ দেখতে আসা হাজার হাজার ফুটবল ভক্তের চাপ এই ভঙ্গুর পরিবহন ব্যবস্থা কীভাবে সামাল দেবে, তা নিয়ে সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীদের মনে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

 

আঞ্চলিক ট্রেন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এনজে ট্রানজিটের নিয়মিত যাত্রীরা এই অব্যবস্থাপনা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে রেললাইনের ওপরের বৈদ্যুতিক তারের জটিলতার কারণে গত মঙ্গলবার বিকেলে যাত্রীদের প্রায় ৪৫ মিনিট পর্যন্ত স্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে মার্কিন রেল কর্তৃপক্ষ অ্যামট্র্যাক নিশ্চিত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিউ জার্সি এবং নিউ ইয়র্ক অঞ্চলের রেল যোগাযোগে ঘটে যাওয়া একের পর এক বড় ধরনের যান্ত্রিক ও কাঠামোগত সমস্যার এটি সর্বশেষ উদাহরণ, যা বিশ্বকাপের মতো বড় বৈশ্বিক আসরের প্রাক্কালে স্থানীয় প্রশাসনকে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে।

 

রেলওয়ের এই ধারাবাহিক বিপর্যয় কেবল সাম্প্রতিক কোনো ঘটনা নয়, বরং মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই পেন স্টেশনের ভেতরে একটি অ্যামট্র্যাক ওয়ার্ক ট্রেনের ইঞ্জিন বা বগিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সেই অগ্নিকাণ্ডের জের ধরে নিউ ইয়র্ক এবং নিউ জার্সির মধ্যকার পুরো রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ থমকে গিয়েছিল এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দা মরিন হ্যাগানের মতো সাধারণ যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, বিশ্বকাপের সময় এই যাতায়াত ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের জন্য একটি দুঃস্বপ্ন হতে চলেছে এবং যারা খেলা দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন তাদের জন্য তিনি এখনই বেশ সমবেদনা বোধ করছেন।

 

পরিবহন ব্যবস্থার এই চরম অনিশ্চয়তার কারণে অনেক অভিজ্ঞ নিত্যযাত্রী ফুটবল দর্শকদের ট্রেনের ওপর ভরসা না করার পরামর্শ দিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় গণমাধ্যমে অনেকেই বলছেন যে, যারা ট্রেনকে বিশ্বকাপের একমাত্র যাতায়াত মাধ্যম হিসেবে ধরে রেখেছেন, তাদের বিকল্প ভাবা উচিত। খেলা মিস করতে না চাইলে দর্শকদের ট্রেন বাদ দিয়ে নিজস্ব গাড়ি ড্রাইভ করে, বাসে চড়ে কিংবা প্রয়োজনে সাইকেল চালিয়ে হলেও স্টেডিয়ামে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখা দরকার। কারণ মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ম্যাচগুলোর দিন ট্রেন সময়মতো প্ল্যাটফর্মে আসবে কিংবা বগিতে জায়গা পাওয়া যাবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা এই মুহূর্তে এনজে ট্রানজিট দিতে পারছে না।

 

উদ্ভূত পরিস্থিতি সত্ত্বেও এনজে ট্রানজিট কর্তৃপক্ষ ম্যাচ টিকিটধারীদের জন্য বিশেষ ট্রেন টিকিটের ব্যবস্থা করেছে, যার অধীনে নিউ ইয়র্ক সিটি থেকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত যাওয়া-আসার একটি রাউন্ড-ট্রিপ টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৮ ডলার। প্রতি ম্যাচের জন্য এমন ৪০ হাজার বিশেষ টিকিট এনজে ট্রানজিট অ্যাপের মাধ্যমে শুধুমাত্র ভেরিফাইড ফুটবল টিকিটধারীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। নিউ ইয়র্ক থেকে পেন স্টেশনের মাধ্যমে সরাসরি মেটলাইফ এবং গার্ডেন স্টেট থেকে আসা যাত্রীরা সিকাকাস জংশনে সংযুক্ত হয়ে ম্যাডোল্যান্ডস লাইনের মাধ্যমে সরাসরি মূল ভেন্যুতে পৌঁছাতে পারবেন। পাশাপাশি গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল টার্মিনালে একটি ডিজিটাল কনসিয়ার্জ প্ল্যাটফর্ম চালু করা হচ্ছে, যা দর্শকদের রিয়েল-টাইম তথ্য ও আঞ্চলিক নানা কার্যক্রমের খোঁজ দেবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

খেলাধুলা

View more
লিওনেল মেসি | ছবি: সংগৃহীত
আট বছরের দীর্ঘ আক্ষেপ ঘুচিয়ে অবশেষে স্বপ্নের বিশ্বকাপ ট্রফিতে মেসির চুমু

কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামের আলো ঝলমলে মঞ্চে গোল্ডেন বল হাতে নিয়ে যখন লিওনেল মেসি দাঁড়ালেন, তখন ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের চোখ ছিল তাঁর দিকে। সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার হিসেবে এই গোল্ডেন বল তিনি ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপেও পেয়েছিলেন, কিন্তু সেই নেওয়ার সাথে ২০২২ সালের এই প্রাপ্তির আকাশ-পাতাল পার্থক্য ছিল। পুরস্কারটি হাতে নিয়ে ঘোরার সময়ই তাঁর চোখ পড়ে সামনে রাখা ঝকঝকে সোনার বিশ্বকাপ ট্রফিটির দিকে, যা এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি বস্তু। আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রফিটি হাতে তুলে দেওয়ার জন্য মাত্র কয়েক মিনিটের অপেক্ষা থাকলেও সেই সংযম আর সইল না; মেসি ঝুঁকে পড়ে পরম মমতায় আলতো করে ট্রফিটিতে একটি এবং পরপর দুটি চুমু খেলেন।   মেসির এই দুটি চুমুর গভীরতা ও তীব্রতা বুঝতে হলে ফুটবলপ্রেমীদের ঠিক আট বছর পেছনে অর্থাৎ ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালের সেই কালরাত্রিতে ফিরে যেতে হবে। সেবার জার্মানির কাছে ফাইনালে হেরে যাওয়ার পর শূন্য চোখে, ভাঙা হৃদয়ে পুরস্কার মঞ্চে দাঁড়িয়ে গোল্ডেন বল নিতে হয়েছিল মেসিকে, যার ঠিক সামনেই রাখা ছিল অধরা সেই বিশ্বকাপ ট্রফি। নিয়ম অনুযায়ী বিজয়ী দল ছাড়া কেউ ট্রফি স্পর্শ করতে পারে না বলে মেসি সেবার শুধু অপলক চোখে তাকিয়েই ছিলেন, হাত বাড়ানোর অধিকার তাঁর ছিল না। সেই রাতের শূন্য চোখের মেসির ছবি আজও অনেকের মনে দাগ কেটে আছে, যেখানে গোল্ডেন বলটি তাঁর কাছে কেবলই একটি মূল্যহীন ধাতব বস্তু মনে হয়েছিল।   আট বছর পর লুসাইলের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ট্রফিটির দিকে তাকানোর পর মেসির হয়তো সেই যন্ত্রণাদায়ক রাতের কথাই মনে পড়েছিল, যা তাঁর সংযমের বাঁধ ভেঙে দেয়। তাঁর আগে আর্জেন্টিনার সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার নিতে আসা একুশ বছর বয়সী এঞ্জো ফার্নান্দেজ কিংবা সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পাওয়া এমিলিয়ানো মার্তিনেজ কেউই ট্রফিটি ছোঁয়ার সাহস করেননি। পুরো টুর্নামেন্টে পোস্টের নিচে দেয়াল হয়ে দাঁড়ানো মার্তিনেজ কিংবা তরুণ এঞ্জো হয়তো মনে মনে জানতেন, এই ট্রফির ওপর প্রথম স্পর্শের অধিকার কেবল তাঁরই, যার এক জীবনের সাধনা জড়িয়ে আছে এর সাথে। এরপর মেসি যখন এলেন, তখন আর কোনো নিয়ম বা সংযম কাজ করেনি, তিনি ট্রফিটি নিজের করে নিলেন।   আসলে এই দুটি চুমু শুধু একটা আবেগের মুহূর্ত নয়, এর পেছনে জড়িয়ে আছে রোজারিওর মাটি, বার্সেলোনার করিডোর, চারটি বিশ্বকাপের ভাঙা স্বপ্ন, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর এবং পুনরায় ফিরে আসার এক মহাকাব্যিক গল্প। ১৯৮৭ সালে রোজারিওর পারানা নদীর পাড়ে জন্ম নেওয়া এই ফুটবল জাদুকরের ১১ বছর বয়সে গ্রোথ হরমোন ডেফিশিয়েন্সি ধরা পড়েছিল, যার চিকিৎসার খরচ জোগাতে আর্জেন্টিনার কোনো ক্লাব রাজি হয়নি। পরবর্তীতে স্পেনের ক্লাব বার্সেলোনা একটি ন্যাপকিন পেপারে চুক্তির মাধ্যমে তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নেয় এবং সেখানে বড় হতে হতে মেসি ফুটবল মাঠে যা ছুঁয়েছেন, তাই সোনায় পরিণত করেছেন। লা লিগা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আর একের পর এক ব্যালন ডি'অর জিতলেও দেশের জার্সিতে বারবার ট্র্যাজেডির শিকার হতে হয়েছে তাঁকে।   ২০০৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত টানা চারটি বিশ্বকাপে নীল-সাদা জার্সি গায়ে দিলেই এক অদৃশ্য চাপ এসে ভর করত মেসির কাঁধে, শুনতে হতো দেশের হয়ে বড় মঞ্চে ব্যর্থতার অপবাদ। তবে ২০২২ সালের ১৮ই ডিসেম্বর ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে নাটক, ভয়, বিস্ময় আর স্নায়ুযুদ্ধের পেনাল্টি শুটআউট শেষে যখন শেষ বাঁশি বাজল, তখন ৩৬ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে ইতিহাস এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলল। মেসি হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন, চোখ ভিজে উঠল এবং দুই হাতে তুলে ধরলেন তাঁর সারাজীবনের আরাধ্য সেই সোনালি ট্রফি। বুয়েনোস আইরেস থেকে শুরু করে ঢাকার রাস্তা—যেখানেই নীল-সাদা পতাকা উড়েছে, সেখানেই রাতটি উৎসবে পরিণত হয়েছিল, কারণ এই বিজয় ছিল প্রতিটি মানুষের স্বপ্ন ও দীর্ঘ অপেক্ষার এক পরম পূর্ণতা।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ২২:৪৪
ছবি: সংগৃহীত

নিউ জার্সিতে বিশ্বকাপ ফুটবলের ট্রেন চলাচল নিয়ে যাত্রীদের চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ

ফাইল ছবি

বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ সময় থাকতে পারবে না ইরান, ম্যাচের আগের দিন প্রবেশের অনুমতি

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইরানি সমর্থকদের ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিট বরাদ্দ বাতিলের অভিযোগ, কাঠগড়ায় যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিরা কীভাবে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখবেন? ফ্রিতে দেখার উপায়ও আছে

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী দর্শকদের মধ্যে বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে বাড়ছে ব্যাপক উন্মাদনা। নিউইয়র্ক, আটলান্টা, ডালাস, মিশিগানসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ইতোমধ্যেই খেলা দেখার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। তবে অনেকের মধ্যেই একটি সাধারণ প্রশ্ন দেখা যাচ্ছে—আমেরিকায় বসে কীভাবে সহজে, কম খরচে কিংবা ফ্রিতে বিশ্বকাপের খেলা দেখা যাবে?   বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্প্রচার স্বত্ব সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে বড় ক্রীড়া সম্প্রচার মাধ্যমগুলোর হাতে থাকে। এর মধ্যে ইংরেজি ভাষায় সবচেয়ে বড় সম্প্রচারক প্রতিষ্ঠান হলো ফক্স স্পোর্টস। প্রতিষ্ঠানটির টেলিভিশন চ্যানেল FOX এবং FS1-এ বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সরাসরি দেখানো হয়। অনেক এলাকায় সাধারণ ডিজিটাল অ্যান্টেনা ব্যবহার করেই স্থানীয় FOX চ্যানেল ফ্রিতে দেখা সম্ভব। ফলে যাদের বাসায় স্মার্ট অ্যান্টেনা বা ওভার-দ্য-এয়ার টিভি সুবিধা রয়েছে, তারা কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই কিছু ম্যাচ উপভোগ করতে পারেন।   এছাড়া বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কয়েকটি অনলাইন টিভি প্ল্যাটফর্ম নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য সীমিত সময়ের ফ্রি ট্রায়াল সুবিধা দিচ্ছে। এর মধ্যে ইউটিউব টিভি, ফুবো টিভি এবং হুলু লাইভ টিভি উল্লেখযোগ্য। এসব প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলে অনেকেই কয়েকদিন বিনামূল্যে খেলা দেখতে পারবেন। তবে ট্রায়াল মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সাবস্ক্রিপশন বাতিল না করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ কেটে নেওয়ার বিষয়টি মাথায় রাখতে বলছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।   বাংলাদেশি প্রবাসীদের একটি বড় অংশ আবার বাংলা ভাষায় খেলার আলোচনা, বিশ্লেষণ বা দক্ষিণ এশীয় সম্প্রচার দেখতে আগ্রহী। সে কারণে অনেকেই টফি, টি স্পোর্টস লাইভ কিংবা সনি লিভের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন। তবে এসব সেবার কিছু কনটেন্ট যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি নাও পাওয়া যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ভিপিএন ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা নিজ দেশের সম্প্রচার দেখতে চেষ্টা করেন। যদিও প্রযুক্তিগত ও নীতিগত কারণে এটি ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের নিয়ম জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।   কম  খরচে পুরো বিশ্বকাপ উপভোগ করতে চাইলে মাসিক সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক কিছু সেবা প্রবাসীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে স্লিং টিভি তুলনামূলক কম খরচে ক্রীড়া চ্যানেল দেখার সুযোগ দেয়। অন্যদিকে ইউটিউব টিভি ও ফুবো টিভিতে উচ্চমানের সম্প্রচার, মোবাইল ও স্মার্ট টিভি সাপোর্ট এবং ম্যাচ রেকর্ড করার সুবিধাও রয়েছে।   প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে অধিকাংশ দর্শক মোবাইল ফোন, স্মার্ট টিভি বা ট্যাব ব্যবহার করে খেলা দেখছেন। এজন্য প্রথমে নির্দিষ্ট অ্যাপ ডাউনলোড করে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী সাবস্ক্রিপশন নিয়ে সহজেই লাইভ ম্যাচ উপভোগ করা যায়।   যারা পুরো ম্যাচ দেখার সময় পান না, তাদের জন্যও রয়েছে হাইলাইটস দেখার সুযোগ। ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে ম্যাচ শেষে গোল, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং বিশ্লেষণ প্রকাশ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্ল্যাটফর্মেও সংক্ষিপ্ত হাইলাইটস পাওয়া যায়।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে বিশ্বকাপ ঘিরে সামাজিক আয়োজনও বাড়ছে। বিভিন্ন শহরে বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সদস্যরা একত্রে খেলা দেখার পরিকল্পনা করছেন। অনেক রেস্টুরেন্ট ও কমিউনিটি সেন্টারেও বড় পর্দায় ম্যাচ দেখানোর প্রস্তুতি চলছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসেও বিশ্বকাপের আবহ এখন অনেকটাই বাংলাদেশের মতো প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ২৩:৩২
ছবি: সংগৃহীত

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডেতে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

ছবি: সংগৃহীত

আয়ারল্যান্ডের কাছে ১১ রানে হারলো বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল

বিশ্বকাপ সামনে রেখে বাংলাদেশিদের সমর্থন চাইল ঢাকাস্থ নরওয়ে দূতাবাস

বিশ্বকাপ সামনে রেখে বাংলাদেশিদের সমর্থন চাইল ঢাকাস্থ নরওয়ে দূতাবাস

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতীকী দৃশ্য । গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা করলো যুক্তরাষ্ট্রের আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য নির্ধারিত এইচ-১বি ভিসায় অতিরিক্ত ১ লাখ ডলারের ফি আরোপের সিদ্ধান্ত অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। সোমবার ম্যাসাচুসেটসের বস্টনে দেওয়া এক রায়ে আদালত জানায়, ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা বাতিল করতে হবে।   মার্কিন জেলা বিচারক লিও সোরোকিন তার রায়ে বলেন, কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া প্রশাসন এ ধরনের অস্বাভাবিক ও উচ্চ অঙ্কের ফি আরোপ করতে পারে না। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত কার্যত বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানের পথ কঠিন করে তুলছিল।   এই মামলাটি দায়ের করেছিল ২০টি ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরা। মামলায় বলা হয়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি বাড়িয়ে ১ লাখ ডলারে উন্নীত করে। আগে যেখানে আবেদন প্রক্রিয়ার খরচ তুলনামূলক সীমিত ছিল, সেখানে নতুন এই ফি প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল ও গবেষণা খাতের আন্তর্জাতিক কর্মীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক বাধা তৈরি করে।   আদালতে অঙ্গরাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, এত উচ্চ ফি শুধু বিদেশি কর্মীদের নিরুৎসাহিতই করেনি, বরং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনেক প্রতিষ্ঠানকেও দক্ষ জনবল নিয়োগ থেকে পিছিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই ব্যয় বহনে হিমশিম খাচ্ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।   এইচ-১বি ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মভিত্তিক ভিসা কর্মসূচি। প্রতিবছর হাজার হাজার বিদেশি প্রকৌশলী, সফটওয়্যার বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, গবেষক ও প্রযুক্তিকর্মী এই ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো, বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক দক্ষ পেশাজীবী এই ভিসার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত আছেন।   ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। এর অংশ হিসেবে কর্মভিত্তিক ভিসা প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত শর্ত, ফি বৃদ্ধি এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সমালোচকদের মতে, এসব পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশ্লেষকরা বলছেন, আদালতের এই রায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক দক্ষ কর্মী এবং প্রযুক্তি খাতের কোম্পানিগুলোর জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে এসেছে। একই সঙ্গে এটি প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমা ও আদালতের নজরদারির বিষয়টিকেও নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।   তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন উচ্চ আদালতে আপিল করবে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ০:২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে ফাউলের অভিনয় কিংবা জার্সি খুললে দেখতে হবে হলুদ কার্ড

ছবি: এএফপি

বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা জটিলতা নিয়ে ক্ষোভ ইরানের, মেক্সিকোতে পৌঁছেছে জাতীয় দল

কানসাস সিটিতে ভোররাতের গোলাগুলি ঘিরে উদ্বেগ । ছবি: সংগৃহীত

ইংল্যান্ড দলের বিশ্বকাপ বেস ক্যাম্পের কাছেই গোলাগুলি, আহত অন্তত ৯ জন

0 Comments