আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪.২ শতাংশ, ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ২১:১৭
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে সৃষ্ট ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্রে মে মাসে মূল্যস্ফীতির গতি আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। দেশটির ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) বার্ষিক ৪.২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এপ্রিল মাসে ছিল ৩.৮ শতাংশ। এর মাধ্যমে মার্কিন মুলুকে মূল্যস্ফীতি ২০২৩ সালের এপ্রিলের পর গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাল।

 

আর্থিক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্টসেটের জরিপে অর্থনীতিবিদরা মে মাসে মূল্যস্ফীতি বার্ষিক ৪.২ শতাংশে পৌঁছানোর যে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, তা এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে মিলে গেল। মূলত জ্বালানির দাম বৃদ্ধিই মূল্যস্ফীতিকে এই পর্যায়ে নিয়ে গেছে। মে মাসের সিপিআই বৃদ্ধির ৬০ শতাংশেরও বেশি অবদান ছিল এই জ্বালানি খাতের।

 

চলতি বছরের জানুয়ারিতে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার ২.৪ শতাংশ থাকলেও ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটে তা এখন তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ চেইন ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে মার্কিন বাজারে পেট্রল থেকে শুরু করে বিমান ভাড়া পর্যন্ত সবকিছুর দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।

 

শ্রম বিভাগের মে মাসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগের বছরের তুলনায় পেট্রলের দাম ৪০.৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে জুন মাসে এসে জ্বালানির দাম কিছুটা কমেছে, যা মে মাসের এই উপাত্তে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এছাড়া খাদ্য ও জ্বালানির মতো উদ্বায়ী খাত বাদে মূল বা ‘কোর’ মূল্যস্ফীতি মে মাসে বার্ষিক ২.৯ শতাংশ হারে বেড়েছে, যা এপ্রিলে ছিল ২.৮ শতাংশ।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটাতে ভয়াবহ ঝড় ও উপড়ে পড়া গাছে বিদ্যুৎহীন হাজারো মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ওপর দিয়ে রাতারাতি একটি তীব্র কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রঝড় বয়ে গেছে। এই আকস্মিক ঝড়ে ঘণ্টায় ৮০ মাইলেরও বেশি বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যায়, যার ফলে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে এবং হাজার হাজার ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। স্থানীয় সময় আজ বুধবার খুব ভোরে সেন্ট পলের ক্যাথেড্রাল হিল এলাকায় ঝড়ের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি ছিল, যেখানে রাস্তার পাশে পার্ক করে রাখা বেশ কয়েকটি গাড়ির ওপর বিশাল গাছের ডাল ভেঙে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।   ঝড়ের প্রথম ধাপটি মূলত গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ডাকোটা এবং নেব্রাস্কা অঞ্চলে তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে এটি একটি শক্তিশালী ঝড়ের লাইনে রূপান্তরিত হয়ে বুধবার ভোররাত ৩টার দিকে টুইন সিটিস বা মিনিয়াপলিস ও সেন্ট পল এলাকায় আঘাত হানে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম মিনেসোটার মারিয়েটা শহরের কাছে একটি আবহাওয়া স্টেশনে রাত ১টার পরপরই সর্বোচ্চ ৮৩ মাইল বেগে ঝড়ের গতি রেকর্ড করা হয়। এছাড়া ম্যাডিসন এলাকায় ৭৮ মাইল এবং গ্লেনউডে ৭৪ মাইল বেগে তীব্র বাতাস বয়ে যায়।   উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কারণে গ্র্যান্ট কাউন্টির হফম্যান শহরের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া শহরের পার্কগুলোতে প্রবেশ না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে পার্কের বহু গাছ উপড়ে গেছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি জনসাধারণের জন্য মোটেও নিরাপদ নয়। ঝড়ের প্রভাবে বুধবার ভোর ৫টা পর্যন্ত মিনেসোটার বিভিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্রায় ৭০ হাজারেরও বেশি গ্রাহক সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন বলে রিপোর্ট করেছে।   বিদ্যুৎ বিপর্যয় সামাল দিতে স্থানীয় পাওয়ার ইউটিলিটি কোম্পানি এক্সেল এনার্জি জানিয়েছে, লাইন মেরামতের জন্য তাদের প্রায় ২৭৫টি জরুরি কর্মী দল বর্তমানে মাঠে কাজ করছে এবং দুপুরের পর আরও অতিরিক্ত দল তাদের সাথে যোগ দেবে। তারা সর্বসাধারণকে মাটিতে পড়ে থাকা বা ঝুলে থাকা বিদ্যুতের তার থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং যেকোনো তারকে সচল ও বিপজ্জনক মনে করার আহ্বান জানিয়েছে। একটি কোল্ড ফ্রন্টের সাথে অঞ্চলের অত্যন্ত উত্তপ্ত ও আর্দ্র বাতাসের সংঘর্ষের ফলেই মূলত এই তীব্র বজ্রঝড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ২১:৫৪
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪.২ শতাংশ, ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান কওয়ামে মামদানি

সেন্ট্রাল পার্কে বিশ্বকাপ ফাইনাল উন্মাদনা, বিনামূল্যে খেলা দেখার সুযোগ নিউইয়র্কবাসীর

ফাইল ছবি

যে স্বপ্নের টানে মানুষ ছুটে যায় আমেরিকায়, কতটা পূরণ হয় সেই স্বপ্ন?

ছবি: সংগৃহীত
এইচ-১বি ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিইওর নাগরিকত্ব বাতিলে মার্কিন সরকারের মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক প্রযুক্তি উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।   অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম নীরজ শর্মা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে পরিচিত। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তিনি এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির আওতায় এমন কিছু চাকরির আবেদন জমা দিয়েছিলেন, যেগুলোর বাস্তব অস্তিত্ব ছিল না। পাশাপাশি অভিবাসন ও নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।   মার্কিন বিচার বিভাগের দাবি, ভুয়া তথ্য ও প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করা হয়ে থাকলে আইনের আওতায় সেই নাগরিকত্ব বাতিলের সুযোগ রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় নীরজ শর্মার বিরুদ্ধে ‘ডিন্যাচারালাইজেশন’ বা নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।   তবে এখনো তার নাগরিকত্ব বাতিল হয়নি। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে। মার্কিন আইনে নাগরিকত্ব বাতিল হলে ভবিষ্যতে বহিষ্কারের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই বহুল ব্যবহৃত। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও আইটি খাতে ভারতীয় পেশাজীবীদের বড় একটি অংশ এই ভিসার মাধ্যমে কাজ করে থাকেন। তবে অতীতে এই কর্মসূচিকে ঘিরে জালিয়াতি, ভুয়া চাকরির অফার এবং ভিসা অপব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে। এ কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন কর্তৃপক্ষ নজরদারি ও তদন্ত জোরদার করেছে।   এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন, আবার কেউ কেউ আদালতের রায়ের আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করার আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসসহ একাধিক সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: জুন ১০, ২০২৬ ০:১০
অর্থ সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি!

অর্থ সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি, ২০৩২ সালের পর পূর্ণ ভাতা অনিশ্চিত

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে রক্ষণশীল সামাজিক মূল্যবোধের পুনরুত্থান? বিয়ের বাইরে সন্তান জন্মকে গ্রহণযোগ্য মনে করছেন কম মানুষ

ছবি: সংগৃহীত

অভিবাসন দমন ও সীমান্ত নিরাপত্তায় ৭০ বিলিয়ন ডলারের বিল পাস, ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায়

কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিলেন এপস্টেইনের সাবেক সহকারী (ছবি: সংগৃহীত)
কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিলেন এপস্টেইনের সাবেক সহকারী, ট্রাম্প-এপস্টেইন যোগাযোগ নিয়ে নতুন তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে চলমান জেফ্রি এপস্টেইন-সংক্রান্ত তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সহকারী লেসলি গ্রফ কংগ্রেসের একটি কমিটির কাছে সাক্ষ্য দিয়ে জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি একাধিকবার ট্রাম্প ও এপস্টেইনের মধ্যে ফোনালাপের ব্যবস্থা করেছিলেন।   মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের তদারকি ও সরকারি সংস্কারবিষয়ক কমিটির (হাউস ওভারসাইট কমিটি) এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে গ্রফ সাক্ষ্য দেন। শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কমিটির জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট সদস্য প্রতিনিধি রবার্ট গার্সিয়া।   গার্সিয়া জানান, প্রায় দুই দশক এপস্টেইনের সঙ্গে কাজ করা গ্রফ তদন্তকারীদের বিভিন্ন ব্যক্তি, কর্মচারী ও এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ পরিমণ্ডলের সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন।   তিনি বলেন, “গ্রফ বহু বছর এপস্টেইনের সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি কার কার সঙ্গে বৈঠকের সময় নির্ধারণ করতেন, কী ধরনের দায়িত্ব পালন করতেন এবং কী জানতেন, সে বিষয়ে তাকে কঠিন প্রশ্ন করা হচ্ছে। তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ নামও উল্লেখ করেছেন।”   বর্তমানে ৫৯ বছর বয়সী লেসলি গ্রফ ২০০১ সালে এপস্টেইনের প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন এবং প্রায় ১৮ বছর তার হয়ে কাজ করেন। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাক্ষ্যে গ্রফ দাবি করেছেন যে তিনি এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এপস্টেইন ছিলেন অত্যন্ত কৌশলী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি, যিনি নিজের গোপন কর্মকাণ্ড কাছের মানুষদের কাছ থেকেও আড়াল করে রাখতেন।   গ্রফ আরও বলেন, যেসব তরুণী ও কিশোরীকে তিনি এপস্টেইনের জন্য ‘ম্যাসাজ’ সেশনের উদ্দেশ্যে সময় নির্ধারণ করে দিতেন, তাদের তিনি পেশাদার ম্যাসাজ থেরাপিস্ট বলেই মনে করতেন।   তবে তার এই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন আইনপ্রণেতা। প্রতিনিধি স্টিফেন লিঞ্চ সাংবাদিকদের বলেন, “১৮ বছর একজন ব্যক্তির হয়ে কাজ করে তাকে না চেনার দাবি করা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয় না।”   সাক্ষ্যে গ্রফ আরও জানান, ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে তিনি একাধিকবার ট্রাম্প ও এপস্টেইনের মধ্যে টেলিফোন যোগাযোগের ব্যবস্থা করেছিলেন। তবে ঠিক কোন সময়ে বা কী প্রসঙ্গে এসব কথা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতারা।   ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি মেলানি স্ট্যান্সবেরিও নিশ্চিত করেছেন যে গ্রফ কমিটিকে বলেছেন, তিনি ট্রাম্প ও এপস্টেইনের মধ্যে যোগাযোগের ব্যবস্থা করেছিলেন। তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেছেন যে এমন ঘটনা খুব ঘন ঘন ঘটেনি।   ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে একাধিকবার বলেছেন যে তিনি এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে কিছু জানতেন না এবং দুইজনের সম্পর্ক দুই হাজার সালের শুরুর দিকেই শেষ হয়ে যায়।   এদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন এক বিবৃতিতে বলেন, “এপস্টেইন-সংক্রান্ত বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া যায়নি। তিনি নথিপত্র প্রকাশ, কংগ্রেসের তদন্তে সহযোগিতা এবং আরও তদন্তের আহ্বানের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের জন্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি কাজ করেছেন।”   জেফ্রি এপস্টেইন ছিলেন একসময়ের প্রভাবশালী অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী। অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণীদের যৌন শোষণ ও মানবপাচারের অভিযোগে তিনি দীর্ঘদিন তদন্তের মুখে ছিলেন। ২০১৯ সালে ফেডারেল হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সরকারি তদন্তে মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হলেও বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে।   গ্রফের বিরুদ্ধে কখনও ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। তবে অতীতে এপস্টেইনের সম্পত্তি পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি সমষ্টিগত মামলায় তাকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যিনি তরুণীদের ভ্রমণ ও সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতেন। এছাড়া ২০০৮ সালের বিতর্কিত ‘নন-প্রসিকিউশন’ চুক্তির নথিতেও তার নাম উঠে এসেছিল।   এফবিআইয়ের তদন্ত নথি অনুযায়ী, এপস্টেইনের একাধিক ভুক্তভোগী গ্রফকে এমন একজন সমন্বয়কারী হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন, যার মাধ্যমে এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো এবং বিভিন্ন সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করা হতো। ২০০১ সালে এক এফবিআই এজেন্টকে গ্রফ বলেছিলেন, এ ধরনের সময়সূচি নির্ধারণ তার কাছে ছিল “আরেকটি সাধারণ দাপ্তরিক কাজের মতো।”   তবে তার আইনজীবীরা ২০২১ সালে এক বিবৃতিতে বলেন, গ্রফ তার চাকরিকালে কখনও কোনো বেআইনি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেননি। তারা দাবি করেন, তার প্রধান দায়িত্ব ছিল বার্তা আদান-প্রদান, বৈঠকের সময় নির্ধারণ এবং ব্যবসায়ী, বিজ্ঞানী, রাজনীতিবিদ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা।   এদিকে এপস্টেইন তদন্ত এখন শুধু কংগ্রেসেই সীমাবদ্ধ নেই। নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে গঠিত ‘সারভাইভার্স ট্রুথ কমিশন’ও এপস্টেইনের মালিকানাধীন জোরো র‍্যাঞ্চকে ঘিরে অভিযোগগুলোর একটি জনসম্মুখে গ্রহণযোগ্য নথি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।   কমিশনের চেয়ারপারসন ও নিউ মেক্সিকোর ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা আন্দ্রেয়া রোমেরো জানিয়েছেন, তদন্তের অংশ হিসেবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ফেডারেল সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হবে। এর মধ্যে এফবিআই, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেস ও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সমান্তরাল তদন্ত চলতে থাকায় এপস্টেইন কেলেঙ্কারি নিয়ে আগামী মাসগুলোতে আরও নতুন তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে। বিশেষ করে তার প্রভাবশালী যোগাযোগ নেটওয়ার্ক, সহযোগীদের ভূমিকা এবং অভিযোগগুলোর ব্যাপ্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ২১:৪৭
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে তিন শিশুকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মা গ্রেপ্তার, তদন্তে উঠে এলো নতুন তথ্য

নিউইয়র্কে আইস এর বড় অভিযান চালানোর হুমকি! ছবি: (সংগৃহীত)

নিউইয়র্কে আইস এর বড় অভিযান চালানোর হুমকি, ‘আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি এজেন্ট পাঠানো হবে

ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট

লং আইল্যান্ডে ইতিহাস, ভ্যালিডিক্টোরিয়ান ও স্যালুট্যাটোরিয়ান হয়ে আইভি লিগে দুই যমজ ভাই

0 Comments