বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
নিজেদের দল নেই, তবুও বাংলাদেশে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে কেন এত উন্মাদনা?

১৭ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। তবুও দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মতো ফুটবল পরাশক্তিদের এমন কিছু কট্টর সমর্থকের আবাসস্থল, যাদের উন্মাদনা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের ফুটবল ভক্তদের সহজেই হার মানাবে। ওয়ানডে বা টেস্টের মতো ফুটবলেও এদেশের মানুষের আবেগ জড়িয়ে আছে ওতপ্রোতভাবে।   বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার সাথে সাথেই বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলের রাস্তাঘাট রঙিন জাতীয় পতাকায় ছেয়ে গেছে। সাধারণ দৃষ্টিতে একে স্বাভাবিক মনে হলেও একটি বিষয় বেশ অদ্ভুত—এই পতাকাগুলোর সব কটিই ভিনদেশের। মে মাস থেকেই ফুটবল ভক্তরা একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় দুই চিরদ্বন্দী দেশের বিশাল সব পতাকা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। এটি এক বিরল সময়, যখন প্রচণ্ড দেশপ্রেমিক এই জাতি ভিনদেশের রঙকে সম্পূর্ণ নিজের করে নেয়। ঢাকার গুলশানের মতো অভিজাত এলাকার স্পোর্টস মার্কেটগুলোতে প্রায় ৫০০ টাকায় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের রেপ্লিকা জার্সি কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন অসংখ্য ভক্ত।   লাতিন আমেরিকার এই দুটি দেশের প্রতি বাংলাদেশের ভৌগোলিক বা রাজনৈতিক কোনো বিশেষ সম্পর্ক না থাকলেও তাদের প্রতি এদেশের মানুষের ভালোবাসা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে চলে আসছে। বিশ্বকাপের কয়েক সপ্তাহ চলাকালীন এই ভালোবাসাই মাঝেমধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদেরও বড় শত্রুতে পরিণত করে। চলতি মাসের শুরুর দিকে হবিগঞ্জে একটি স্থানীয় ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষে কয়েক ডজন মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। অন্য দিকে শরীয়তপুর এলাকায় একদল যুবক এক অভিনব ঘোষণা দিয়েছেন যে, ২০০২ সালের পর ব্রাজিলের ট্রফি জেতার দীর্ঘ অপেক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা কেউ বিয়ে করবেন না।   যদিও ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা এই উন্মাদনার মূল কেন্দ্রে থাকে, তবে মাঝেমধ্যে অন্যান্য দেশের প্রতিও মানুষের ভিন্ন রকম আগ্রহ দেখা যায়। ৭২ বছর বয়সী আমজাদ হোসেন এ সপ্তাহে গণমাধ্যমের শিরোনামে এসেছেন নিজের পৈতৃক জমির একটি অংশ বিক্রি করে সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির পতাকা তৈরি করার মাধ্যমে। দৈনিক প্রথম আলো জানিয়েছে, আমজাদ হোসেনের মূল স্বপ্ন হলো এই বিশাল আকৃতির পতাকাটি জার্মানির কোনো বড় জাদুঘরে স্থান পাবে।   এদিকে দীর্ঘ ২৮ বছর পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া নরওয়ে বাংলাদেশের এই ফুটবল উন্মাদনাকে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। দেশটি বাংলাদেশি সমর্থকদের তাদের দল 'ভাইকিং'দের সমর্থন দেওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়ভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। নরওয়েজিয়ান দূতাবাস সমর্থকদের কাছে করা আবেদনে দুই দেশের ঐতিহাসিক গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরে উল্লেখ করেছে যে, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর অন্যতম ছিল নরওয়ে।   এবারের বিশ্বকাপই হতে যাচ্ছে ইতিহাসের প্রথম আসর যেখানে মোট ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে এবং আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় রেকর্ড ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ফুটবলের প্রতি বাংলাদেশের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ২০২২ সালে ফিফা এবং আর্জেন্টিনার মূল খেলোয়াড়দের কাছ থেকেও মিলেছে। নিজ দেশ থেকে প্রায় ১৭ হাজার কিলোমিটার দূরের একটি জাতির কাছ থেকে পাওয়া এমন অবিশ্বাস্য সমর্থন তাদের ভীষণভাবে অভিভূত করেছিল।   আর্জেন্টিনার প্রতি এই ভালোবাসার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রয়াত ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ফুটবল খেলাটি ১৯ শতকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকরা অবিভক্ত ভারতের তৎকালীন রাজধানী কলকাতায় প্রবর্তন করেছিল। ষাট ও সত্তরের দশকে যখন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছিল, তখন হতোদ্যম যুবসমাজ আশা ও নায়কদের খুঁজছিল। সেই সময়ে তরুণরা ব্রাজিলের মধ্যে সেই অনুপ্রেরণা খুঁজে পায়, যারা ছিল সেই প্রজন্মের সেরা দল। পেলে হয়ে ওঠেন এদেশের প্রিয় ব্যক্তিত্ব, যিনি বাংলাদেশে কয়েক প্রজন্মের ফুটবলারদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন।   আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে দেশে টেলিভিশনের মালিকানা বৃদ্ধির সাথে সাথে এই ক্রিকেট পাগল দেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক বাংলাদেশির কাছে ১৯৮৬ বিশ্বকাপ ছিল রঙিন পর্দায় দেখা বিশ্বকাপের প্রথম ঝলক। সেই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার আইকনিক গোলগুলো নিছক ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে এক সময়ের ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী বিজয় হিসেবে মানুষের হৃদয়ে গেঁথে যায়। তরুণ ভক্তদের কাছে ম্যারাডোনার রেখে যাওয়া সেই শূন্যস্থান পূরণ করেছেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি, আর ব্রাজিল সমর্থকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন নেইমার।   তবে এই উন্মাদনা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা আগেও বেশ কয়েকবার সহিংস রূপ নিয়েছে, এমনকি তা প্রাণঘাতীও প্রমাণিত হয়েছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২২ সালের বিশ্বকাপে সমর্থকদের পারস্পরিক সংঘর্ষে ২৩ জন মানুষ মারা গেছেন। ২০১৪ সালে বৈদ্যুতিক তারে পতাকা টানাতে গিয়ে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল বলে 'টাইম' ম্যাগাজিন জানিয়েছে। ২০১৮ সালে ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে ১২ বছর বয়সী এক কিশোর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায় এবং সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি মিছিলের সময় সংঘর্ষে এক ব্যক্তি ও তার ছেলে গুরুতর আহত হন।

তাবাস্সুম জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউ জার্সিতে বিশ্বকাপ ফুটবলের ট্রেন চলাচল নিয়ে যাত্রীদের চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম ম্যাচ শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে তীব্র উদ্বেগ ও সংশয় দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ব্যস্ততম সময়ে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ও একের পর এক ট্রেইল বাতিল হওয়ার ঘটনা এই উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এর ফলে কয়েক দিনের মধ্যে স্টেডিয়ামে ম্যাচ দেখতে আসা হাজার হাজার ফুটবল ভক্তের চাপ এই ভঙ্গুর পরিবহন ব্যবস্থা কীভাবে সামাল দেবে, তা নিয়ে সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীদের মনে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।   আঞ্চলিক ট্রেন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এনজে ট্রানজিটের নিয়মিত যাত্রীরা এই অব্যবস্থাপনা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে রেললাইনের ওপরের বৈদ্যুতিক তারের জটিলতার কারণে গত মঙ্গলবার বিকেলে যাত্রীদের প্রায় ৪৫ মিনিট পর্যন্ত স্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে মার্কিন রেল কর্তৃপক্ষ অ্যামট্র্যাক নিশ্চিত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিউ জার্সি এবং নিউ ইয়র্ক অঞ্চলের রেল যোগাযোগে ঘটে যাওয়া একের পর এক বড় ধরনের যান্ত্রিক ও কাঠামোগত সমস্যার এটি সর্বশেষ উদাহরণ, যা বিশ্বকাপের মতো বড় বৈশ্বিক আসরের প্রাক্কালে স্থানীয় প্রশাসনকে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে।   রেলওয়ের এই ধারাবাহিক বিপর্যয় কেবল সাম্প্রতিক কোনো ঘটনা নয়, বরং মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই পেন স্টেশনের ভেতরে একটি অ্যামট্র্যাক ওয়ার্ক ট্রেনের ইঞ্জিন বা বগিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সেই অগ্নিকাণ্ডের জের ধরে নিউ ইয়র্ক এবং নিউ জার্সির মধ্যকার পুরো রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ থমকে গিয়েছিল এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দা মরিন হ্যাগানের মতো সাধারণ যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, বিশ্বকাপের সময় এই যাতায়াত ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের জন্য একটি দুঃস্বপ্ন হতে চলেছে এবং যারা খেলা দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন তাদের জন্য তিনি এখনই বেশ সমবেদনা বোধ করছেন।   পরিবহন ব্যবস্থার এই চরম অনিশ্চয়তার কারণে অনেক অভিজ্ঞ নিত্যযাত্রী ফুটবল দর্শকদের ট্রেনের ওপর ভরসা না করার পরামর্শ দিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় গণমাধ্যমে অনেকেই বলছেন যে, যারা ট্রেনকে বিশ্বকাপের একমাত্র যাতায়াত মাধ্যম হিসেবে ধরে রেখেছেন, তাদের বিকল্প ভাবা উচিত। খেলা মিস করতে না চাইলে দর্শকদের ট্রেন বাদ দিয়ে নিজস্ব গাড়ি ড্রাইভ করে, বাসে চড়ে কিংবা প্রয়োজনে সাইকেল চালিয়ে হলেও স্টেডিয়ামে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখা দরকার। কারণ মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ম্যাচগুলোর দিন ট্রেন সময়মতো প্ল্যাটফর্মে আসবে কিংবা বগিতে জায়গা পাওয়া যাবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা এই মুহূর্তে এনজে ট্রানজিট দিতে পারছে না।   উদ্ভূত পরিস্থিতি সত্ত্বেও এনজে ট্রানজিট কর্তৃপক্ষ ম্যাচ টিকিটধারীদের জন্য বিশেষ ট্রেন টিকিটের ব্যবস্থা করেছে, যার অধীনে নিউ ইয়র্ক সিটি থেকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত যাওয়া-আসার একটি রাউন্ড-ট্রিপ টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৮ ডলার। প্রতি ম্যাচের জন্য এমন ৪০ হাজার বিশেষ টিকিট এনজে ট্রানজিট অ্যাপের মাধ্যমে শুধুমাত্র ভেরিফাইড ফুটবল টিকিটধারীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। নিউ ইয়র্ক থেকে পেন স্টেশনের মাধ্যমে সরাসরি মেটলাইফ এবং গার্ডেন স্টেট থেকে আসা যাত্রীরা সিকাকাস জংশনে সংযুক্ত হয়ে ম্যাডোল্যান্ডস লাইনের মাধ্যমে সরাসরি মূল ভেন্যুতে পৌঁছাতে পারবেন। পাশাপাশি গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল টার্মিনালে একটি ডিজিটাল কনসিয়ার্জ প্ল্যাটফর্ম চালু করা হচ্ছে, যা দর্শকদের রিয়েল-টাইম তথ্য ও আঞ্চলিক নানা কার্যক্রমের খোঁজ দেবে।

তাবাস্সুম জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিরা কীভাবে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখবেন? ফ্রিতে দেখার উপায়ও আছে

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী দর্শকদের মধ্যে বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে বাড়ছে ব্যাপক উন্মাদনা। নিউইয়র্ক, আটলান্টা, ডালাস, মিশিগানসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ইতোমধ্যেই খেলা দেখার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। তবে অনেকের মধ্যেই একটি সাধারণ প্রশ্ন দেখা যাচ্ছে—আমেরিকায় বসে কীভাবে সহজে, কম খরচে কিংবা ফ্রিতে বিশ্বকাপের খেলা দেখা যাবে?   বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্প্রচার স্বত্ব সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে বড় ক্রীড়া সম্প্রচার মাধ্যমগুলোর হাতে থাকে। এর মধ্যে ইংরেজি ভাষায় সবচেয়ে বড় সম্প্রচারক প্রতিষ্ঠান হলো ফক্স স্পোর্টস। প্রতিষ্ঠানটির টেলিভিশন চ্যানেল FOX এবং FS1-এ বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সরাসরি দেখানো হয়। অনেক এলাকায় সাধারণ ডিজিটাল অ্যান্টেনা ব্যবহার করেই স্থানীয় FOX চ্যানেল ফ্রিতে দেখা সম্ভব। ফলে যাদের বাসায় স্মার্ট অ্যান্টেনা বা ওভার-দ্য-এয়ার টিভি সুবিধা রয়েছে, তারা কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই কিছু ম্যাচ উপভোগ করতে পারেন।   এছাড়া বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কয়েকটি অনলাইন টিভি প্ল্যাটফর্ম নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য সীমিত সময়ের ফ্রি ট্রায়াল সুবিধা দিচ্ছে। এর মধ্যে ইউটিউব টিভি, ফুবো টিভি এবং হুলু লাইভ টিভি উল্লেখযোগ্য। এসব প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলে অনেকেই কয়েকদিন বিনামূল্যে খেলা দেখতে পারবেন। তবে ট্রায়াল মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সাবস্ক্রিপশন বাতিল না করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ কেটে নেওয়ার বিষয়টি মাথায় রাখতে বলছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।   বাংলাদেশি প্রবাসীদের একটি বড় অংশ আবার বাংলা ভাষায় খেলার আলোচনা, বিশ্লেষণ বা দক্ষিণ এশীয় সম্প্রচার দেখতে আগ্রহী। সে কারণে অনেকেই টফি, টি স্পোর্টস লাইভ কিংবা সনি লিভের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন। তবে এসব সেবার কিছু কনটেন্ট যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি নাও পাওয়া যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ভিপিএন ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা নিজ দেশের সম্প্রচার দেখতে চেষ্টা করেন। যদিও প্রযুক্তিগত ও নীতিগত কারণে এটি ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের নিয়ম জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।   কম  খরচে পুরো বিশ্বকাপ উপভোগ করতে চাইলে মাসিক সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক কিছু সেবা প্রবাসীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে স্লিং টিভি তুলনামূলক কম খরচে ক্রীড়া চ্যানেল দেখার সুযোগ দেয়। অন্যদিকে ইউটিউব টিভি ও ফুবো টিভিতে উচ্চমানের সম্প্রচার, মোবাইল ও স্মার্ট টিভি সাপোর্ট এবং ম্যাচ রেকর্ড করার সুবিধাও রয়েছে।   প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে অধিকাংশ দর্শক মোবাইল ফোন, স্মার্ট টিভি বা ট্যাব ব্যবহার করে খেলা দেখছেন। এজন্য প্রথমে নির্দিষ্ট অ্যাপ ডাউনলোড করে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী সাবস্ক্রিপশন নিয়ে সহজেই লাইভ ম্যাচ উপভোগ করা যায়।   যারা পুরো ম্যাচ দেখার সময় পান না, তাদের জন্যও রয়েছে হাইলাইটস দেখার সুযোগ। ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে ম্যাচ শেষে গোল, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং বিশ্লেষণ প্রকাশ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্ল্যাটফর্মেও সংক্ষিপ্ত হাইলাইটস পাওয়া যায়।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে বিশ্বকাপ ঘিরে সামাজিক আয়োজনও বাড়ছে। বিভিন্ন শহরে বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সদস্যরা একত্রে খেলা দেখার পরিকল্পনা করছেন। অনেক রেস্টুরেন্ট ও কমিউনিটি সেন্টারেও বড় পর্দায় ম্যাচ দেখানোর প্রস্তুতি চলছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসেও বিশ্বকাপের আবহ এখন অনেকটাই বাংলাদেশের মতো প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে।

তাবাস্সুম জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০