অন্তর্বর্তী সরকার

ছবি: সংগৃহীত
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতের অর্থ সহায়তা তলানিতে নেমেছে

ভারত ২০১৪-২০২৫ অর্থবছরের মধ্যে বাংলাদেশকে প্রায় ১,৫৫৭ কোটি রুপি অর্থ সহায়তা দিয়েছে। তবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এই সহায়তা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এর আগে পাঁচ বছর আগে বছরে ২০০ কোটি রুপির বেশি অর্থ সহায়তা প্রদান করলেও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তা ২৫ কোটি রুপিতে নেমে আসে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।   গত শুক্রবার ভারতের লোকসভায় একটি প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং বাংলাদেশকে প্রদত্ত সহায়তার তথ্য প্রকাশ করেন। এতে বলা হয়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশকে প্রায় ১৯৮ কোটি রুপি দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ অর্থ সহায়তা আসে ২০২১-২২ অর্থবছরে, যখন ২১৯ কোটি ৫৩ লাখ রুপি প্রদান করা হয়। এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সহায়তা কমে আসে ৫৯ কোটি রুপিতে।   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক গভীর সম্পর্ক রয়েছে। একটি স্থিতিশীল ও প্রগতিশীল বাংলাদেশের প্রতি ভারত ধারাবাহিকভাবে সমর্থন প্রদান করছে।   তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের এলওসির আওতায় বাংলাদেশকে মোট ২১০ কোটি ডলার ছাড় করা হয়েছে। ২০১০, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে তিনটি এলওসির মাধ্যমে মোট ৭৩৬ কোটি ডলারের ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও কাঙ্ক্ষিত হারে অর্থ ছাড় হয়নি। অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ খাতের প্রকল্পে এই অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে।   ইআরডি কর্মকর্তা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতের ঋণের ছাড় কমে যাওয়ায় কিছু প্রকল্পে বিলম্ব দেখা দিয়েছে। নতুন সরকার আসার পর এই প্রকল্পগুলোর অর্থ ছাড় পুনরায় পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ড. মুহাম্মদ ইউনূস । ছবি: সংগৃহীত
নিজেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা: ড. ইউনূসের সিদ্ধান্তে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিভিআইপি) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে দায়িত্ব শেষ হওয়ার পরও তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন।   তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব (বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত) মো. সাইফুল্লা পান্নার সই করা প্রজ্ঞাপনটি গত ১০ ফেব্রুয়ারি জারি করা হয়। যদিও বিষয়টি জনসম্মুখে আসে সম্প্রতি।   প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইনের ক্ষমতাবলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।   সমালোচকদের দাবি, নিজেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করতে গিয়ে ড. ইউনূস অসততার আশ্রয় নিয়েছেন। তারা বলেন, যে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়েছে, তা ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবরের এসআরও নং ২৮৫ সংশোধনের মাধ্যমে করা হয়েছে। সেই আদেশে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে পদে কর্মবসানের তারিখ থেকে এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে সর্বোচ্চ তিন মাসের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করার কথা বলা হয়েছিল।   সমালোচকদের ভাষ্য, ড. ইউনূস ওই আদেশের আলোকে কেবল নিজের জন্য সময়সীমা এক বছর নির্ধারণ করেছেন, অন্যদের ক্ষেত্রে তা বাড়ানো হয়নি। আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য আইন পরিবর্তন বা প্রণয়ন করা সাংবিধানিক নীতির পরিপন্থী। তাদের দাবি, ১০ ফেব্রুয়ারি গোপনীয়ভাবে জারি করা অধ্যাদেশটি সংবিধানের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।   তারা আরও বলেন, যদি বিদায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ আগের আইনে বর্ণিত সবার জন্য সময়সীমা সমানভাবে বাড়ানো হতো, তবে এর যৌক্তিকতা নিয়ে ভিন্ন আলোচনা হতে পারত। কিন্তু কেবল নিজের জন্য এক বছরের সুবিধা নির্ধারণ করা নৈতিকতা ও আইনি ব্যাখ্যার প্রশ্ন তুলেছে।   সমালোচকরা আরও অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে ড. ইউনূস বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সুদ মওকুফ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।   তবে এ বিষয়ে ড. ইউনূস বা তার দপ্তরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিষয়টি এখন রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩, ২০২৬ 0
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ
১৭ বছরে দায়ের ১০০৬ রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার

বিগত সরকারের শাসনামলে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক মামলাগুলোর পাহাড় সরতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক হয়রানি থেকে মুক্তি দিতে একযোগে ১০০৬টি মামলা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।   রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিশেষ বার্তায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, দীর্ঘ ১৭ বছরে দায়ের হওয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত মামলাগুলো পর্যালোচনার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বরাতে মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান জানান, এসব মামলা মূলত বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছিল। পর্যালোচনায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য স্পষ্ট হওয়ায় মামলাগুলো প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিচারিক জটিলতা ও হয়রানির মুখে থাকা কয়েক হাজার নেতাকর্মী স্বস্তি পাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ স্বাভাবিক করা এবং স্থিতিশীলতা ফেরানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।  

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
ড. ইউনূস
নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরলেন ড. ইউনূস: কোথায় আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, করছেন কী?

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করার পর পুনরায় নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরলেন নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে মিরপুরের টেলিকম ভবনে অবস্থিত ‘ইউনূস সেন্টার’ কার্যালয়ে পৌঁছালে দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। দায়িত্ব পাওয়ার প্রায় দেড় বছর পর প্রিয় কর্মস্থলে ফিরে তিনি কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপদেষ্টা এবং গ্রামীণ ব্যাংকসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই প্রত্যাবর্তনের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ড. ইউনূস রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’য় বসবাস করছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর বর্তমানে তিনি সেখানে কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটাচ্ছেন। নিয়ম অনুযায়ী আরও তিন মাস যমুনায় থাকার সুযোগ থাকলেও তিনি দ্রুত এটি ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এরই মধ্যে গণপূর্ত বিভাগের প্রতিনিধি দল যমুনা পরিদর্শন করেছেন। জানা গেছে, সব গুছিয়ে নিয়ে মাস খানেক পর বা ঈদের পরপরই তিনি গুলশানের নিজ বাসভবনে ফিরে যেতে পারেন।   অবসরকালীন এই সময়ে ড. ইউনূস নথিপত্র গোছানোর পাশাপাশি পরিবারকে বিশেষ সময় দিচ্ছেন। অসুস্থ স্ত্রীর সেবা এবং মেয়ের দুই পোষা বিড়ালের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি তরুণদের জন্য নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে ভাবছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তার বিখ্যাত ‘থ্রি জিরো’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ) ভিশনের আলোকেই নতুন কোনো কর্মসূচি আসতে পারে। এছাড়া বিদেশ থেকে আসা বিভিন্ন সফরের আমন্ত্রণ সামলাতে তাকে সহায়তা করছেন এসডিজি’র সাবেক প্রধান সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ। আগামী মাসে পাঁচ দিনের সফরে তার জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে।   সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানিয়েছে, ড. ইউনূস ইতিমধ্যে তার কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। তিনি এবং তার মন্ত্রিসভার প্রায় ২০ জন সদস্য ক্ষমতা হস্তান্তরের আগেই নিয়ম অনুযায়ী এই পাসপোর্ট জমা দেন। যমুনায় অবস্থানকালীন বর্তমানে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন, যারা তার সঙ্গে দেখা করতে চান তাদের যেন সুযোগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততা শেষে তিনি এখন সবার কথা শুনতে এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
আসিফ নজরুল।
হেয়ার রোডের সরকারি বাসা ছাড়ছেন আসিফ নজরুল

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা হিসেবে রাজধানীর হেয়ার রোডের যে সরকারি বাসায় ছিলেন আসিফ নজরুল, নতুন সরকার দায়িত্বগ্রহণ করায় সেটি ছাড়ছেন তিনি। বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে বাসা ছাড়ার কথা জানিয়ে তিনি লেখেন, বাসাটির প্রতি মায়া জন্মে গেছে।   আসিফ নজরুল লিখেছেন, হেয়ার রোডের এই বাসায় ওঠার সময় জায়গাটি খুব বড় হওয়ায় আপন মনে হয়নি এবং শুরুতে সবার মন খারাপ ছিল। সরকারি বাসায় ওঠার কারণে সন্তানদেরও মন খারাপ হয়েছিল, কারণ ফুলার রোডের বন্ধুদের থেকে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।   তবে বাসা ছাড়ার সময় এই জায়গার প্রতি মায়া তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি লেখেন, দু-একদিনের মধ্যে তারা বাসাটি ছেড়ে যাবেন। ঝোপঝাড়, রোদ-ছায়া, চিলের ডানা আর বিশাল আকাশের জন্য এই বাসার প্রতি আলাদা মায়া অনুভব করছেন বলে জানান তিনি। পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, বিদায় হেয়ার রোড।   অন্তর্বর্তী সরকারে আইন উপদেষ্টার পাশাপাশি আসিফ নজরুল প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা এবং পরে ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেন। তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পদত্যাগ কার্যকর হলে তিনি ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্ব পান।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর করায় ড. ইউনূসকে ধন্যবাদ ইইউর
শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য ড. ইউনূসকে ধন্যবাদ দিয়েছে ইইউ, নতুন প্রধানমন্ত্রীরও অভিনন্দন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপি’র কাছে সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই সঙ্গে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফের অভিনন্দন জানিয়েছেন তারা।   ইইউ-এর বার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ আমাদের অবিচল অংশীদার, বৃহত্তম রপ্তানি বাজার এবং ২০২৫ সালে এফডিআইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। আমরা অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সম্পৃক্ততা আরও সম্প্রসারণের অপেক্ষায় রয়েছি।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর করলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস

সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। দায়িত্বে থাকাকালীনই তিনি পাসপোর্টটি জমা দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রায় এক সপ্তাহ আগে ক্ষমতায় থাকাকালীন এই পাসপোর্ট হস্তান্তর করা হয়।   সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রধান উপদেষ্টার পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও উপদেষ্টার পদমর্যাদার প্রায় ২০ জন ইতোমধ্যে কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। তবে এখনো কয়েকজন উপদেষ্টা পাসপোর্ট হস্তান্তর করেননি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।   স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণত সরকারের মেয়াদকাল অনুযায়ী কূটনৈতিক পাসপোর্ট ইস্যু করা হয় এবং অতিরিক্ত ছয় মাস পর্যন্ত এর মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। বিদায়ী সরকারের অধিকাংশ উপদেষ্টাই নিয়ম অনুযায়ী পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। যাঁরা এখনো জমা দেননি, মেয়াদ শেষ হলে তাঁদেরও তা জমা দিতে হবে।   পাসপোর্ট হস্তান্তরকারীদের তালিকায় প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ছাড়াও রয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিক্ষা উপদেষ্টা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরারসহ একাধিক উপদেষ্টা ও বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।   উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে পূর্ণমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা গঠন সম্পন্ন করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
আইনশৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থায় সংস্কার—অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রগতির হিসাব

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রায় ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধনী প্রণয়ন এবং প্রায় ৬০০টি নির্বাহী আদেশ জারি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া নয়টায় জাতির উদ্দেশে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)–এ প্রচারিত বিদায়ী ভাষণে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।   ভাষণে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় তরুণদের প্রত্যাশার কেন্দ্রে ছিল প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনে। তাঁর ভাষ্য, এই সংস্কার নাগরিক অধিকারকে সংহত করেছে, বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে এবং গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি যেন আর ফিরে না আসে তা নিশ্চিত করেছে।   আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় পরিস্থিতি ছিল ভঙ্গুর—অনেক থানায় পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি ছিল না, জনমনে আস্থার বদলে ভয় কাজ করছিল। ধাপে ধাপে সে অবস্থা পরিবর্তন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, এখন পুলিশ মারণাস্ত্র ব্যবহার করে না, বেআইনিভাবে কাউকে তুলে নেওয়া বা ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে হত্যার ঘটনা ঘটে না। জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক বাহিনী গড়ে তুলতে ‘পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে।   বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জোরদারে পৃথক সচিবালয় গঠন, বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছ কাঠামো প্রণয়ন এবং দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে সংস্কারের কথাও উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। সেপারেশন অব জুডিশিয়ারি কার্যকর করতে মাজদার হোসেন মামলার রায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।   এ ছাড়া গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন, রায় সরাসরি সম্প্রচার, বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ এবং অন্তর্বর্তী আপিলের বিধান যুক্ত করার কথা ভাষণে তুলে ধরা হয়। মানবাধিকার সুরক্ষায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ জারি করে কমিশন গঠন করা হয়েছে বলেও জানান প্রধান উপদেষ্টা।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শপথের দিন পতাকাবাহী গাড়িতে যাবেন উপদেষ্টারা, ফেরার সময় থাকবে না পতাকা: প্রেস সচিব

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা শপথগ্রহণের দিন নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এবং পতাকাবাহী গাড়িতে করে শপথস্থলে যাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তবে শপথ অনুষ্ঠান শেষে তারা একই গাড়িতে নিজ নিজ বাসায় ফিরলেও, সে সময় গাড়িতে কোনো পতাকা থাকবে না।   রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি উপদেষ্টাদের শপথ-সংক্রান্ত প্রটোকল ও দায়িত্ব বিষয়ে এ তথ্য জানান।   প্রেস সচিব বলেন, উপদেষ্টারা সবাই বর্তমানে দেশে অবস্থান করছেন এবং তারা দেশের গর্বিত সন্তান। দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় তারা সর্বোচ্চ অবদান রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।   তিনি আরও জানান, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
উপরে বাঁ থেকে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ও খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার; নিচে বাঁ থেকে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও সমাজ
নির্বাচনের আগের দিন কেমন কাটালেন উপদেষ্টারা

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শেষের প্রাক্কালে নির্বাচনের আগের দিনটি ব্যস্ততা ও বিদায়ের আবহে কাটিয়েছেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত এই সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে।   প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের আগের দিনও কর্মব্যস্ত ছিলেন। তিনি বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং আগামীকাল রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার কথা রয়েছে।   অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব শেষে আবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা জানিয়েছেন। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় ফিরবেন এবং গবেষণা ও লেখালেখিতে মনোযোগ দেবেন।   পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন কিছুদিন বিশ্রাম নিয়ে পুনরায় লেখালেখিতে ফিরতে চান। খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার সামাজিক-সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও গণমাধ্যমে যুক্ত থাকবেন। বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান রমজান মাসে ইবাদতে মনোযোগ দিয়ে পরে লেখালেখি ও বই পড়ায় ফিরবেন।   পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান দায়িত্ব শেষে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-তে ফিরে যাবেন। সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ কিছুদিন বিরতি নিয়ে মানবাধিকার ও নারীদের নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।   দেড় বছরের দায়িত্ব শেষে বিদায়ের সুর বাজলেও, উপদেষ্টাদের অনেকেই নিজ নিজ পেশা ও আগ্রহের জায়গায় ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
অধিকাংশ উপদেষ্টা নির্বাচনের দিন ঢাকায় অবস্থান করবেন এবং নিজ নিজ এলাকার নির্ধারিত কেন্দ্রে ভোট দেবেন। ফাইল ছবি
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা কে কোথায় ভোট দিচ্ছেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ চলবে।     সচিবালয় ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ উপদেষ্টা নির্বাচনের দিন ঢাকায় অবস্থান করবেন এবং নিজ নিজ এলাকার নির্ধারিত কেন্দ্রে ভোট দেবেন।    আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসভুক্ত উদয়ন হাইস্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেবেন। একই এলাকার ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরী স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেবেন শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সিআর আবরার।   এছাড়া রাজধানীর মিরপুর ১২ নম্বর এলাকার ই ব্লকের একটি কেন্দ্রে ভোট দেবেন সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার শ্যামলী শিশু মেলার কাছের একটি কেন্দ্রে এবং নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন মহাখালী ডিওএসএইচ এলাকার একটি স্কুল কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।    ঢাকার অন্যান্য এলাকার মধ্যে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান গুলশান-২ এর গুলশান মডেল স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ধানমন্ডির একটি কেন্দ্রে ভোট দেবেন। তবে ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের মেহেদীবাগ এলাকায় ভোট দেবেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম।   ধর্ম উপদেষ্টা ড. খালিদ হোসেন জানিয়েছেন, জরুরি দাপ্তরিক কাজের কারণে তিনি সম্ভবত এবার চট্টগ্রামে নিজ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারছেন না। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছেন বলেও জানান।    উল্লেখ্য, একই দিনে সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
এই সরকারের আমলে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা চুক্তি হচ্ছে না: বিডা চেয়ারম্যান

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেছেন, ‘এই সরকারের আমলে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা চুক্তি হচ্ছে না। তারা আমাদের কাছে একটু সময় চেয়েছেন। কিন্তু আমাদের হাতে মাত্র ২টি কার্যদিবস বাকি আছে। তাই এ সময়ের মধ্যে হচ্ছে না।’   রোববার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।   আশিক চৌধুরী বলেন, ‘প্রজেক্টটা ২০১৯ সালে শুরু হয়েছিল। গত এক মাসে ফাইনাল বোঝাপড়ার ধাপটা শুরু হয়েছিল। যা এখনো চলমান। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন তাদের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছে। যা চলমান থাকবে। এটা সম্পন্ন করতে আরও কিছু সময় লাগবে।’   এদিকে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা না দেওয়ার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। এতে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ডেলিভারির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। সীমিত পরিসরে সকালে জেটিতে কিছুক্ষণ পণ‍্য খালাসের কাজ চললেও এখন সেটিও বন্ধ আছে। বহির্নোঙরে পণ‍্য খালাসের কার্যক্রমও ব‍্যাহত হচ্ছে।   এবারের ধর্মঘটে জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল, প্রশাসনিক ভবনের পাশাপাশি বহির্নোঙরেও (আউটারে লাইটারিং) অপারেশনাল কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আগের ধর্মঘটে বন্দরের বহির্নোঙরে কার্যক্রম সচল ছিল।   এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় ২০০ সাধারণ কর্মচারী ও শ্রমিককে রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় বন্দর ভবনের সম্মেলন কক্ষে জরুরি সভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে আন্দোলনকারী শ্রমিক-কর্মচারীরা এটি প্রত্যাখান করায় সেখানেও উপস্থিতি কম ছিল।   চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে শনিবার এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন। বন্দর রক্ষা পরিষদের বাকি তিনটি দাবি হচ্ছে- বন্দরের বর্তমান চেয়ারম্যান এসএম মনিরুজ্জামানকে চেয়ারম্যান পদ থেকে প্রত্যাহার করা; বিগত আন্দোলনে যেসব কর্মচারীর বিরুদ্ধে বদলি, চার্জশিট, সাময়িক বরখাস্ত, পদাবনতিসহ নানাবিধ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে তা বাতিল করে প্রত্যেক কর্মচারীকে চট্টগ্রাম বন্দরের স্ব স্ব পদে পুনর্বহাল করা; এবং আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে মামলাসহ কোনোরূপ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬ 0
অন্তর্বর্তী সরকার কী করে গেল, জানতে চান গুমের ভুক্তভোগীরা

বাংলাদেশ থেকে ‘গুম’ নামক মানবাধিকারবিরোধী ঘৃণ্য অপরাধকে চিরতরে বিলুপ্ত করার অঙ্গীকার করেছেন আইন ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গুমের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ এবং এই লক্ষ্য অর্জনে যে আইনি ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে, তা আগামী সরকারগুলোকেও অনুসরণ করতে হবে।   বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সে (বিলিয়া) মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার এবং গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিরা তাদের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা ও সরকারের কাছে তাদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।   অনুষ্ঠানে সশরীর উপস্থিত ছিলেন শিল্প এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান Khan। সভায় ২০১২ সালে গুমের শিকার হওয়া বিএনপি নেতা ফিরোজ খানের স্ত্রী আমেনা আক্তার বৃষ্টি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, "অন্তর্বর্তী সরকার আমাদের গুম হওয়া পরিবারগুলোর জন্য কী করে গেল? আমরা চাই এই সরকার এমন কিছু করে যাক যাতে আগামী সরকার আমাদের পাশে থাকতে বাধ্য হয়।"   ভুক্তভোগীদের এই আর্তনাদের জবাবে আসিফ নজরুল সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে গুমসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন করতে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে।   মতবিনিময় সভায় গুম থেকে ফিরে আসা সাবেক রাষ্ট্রদূত এম মারুফ জামান, শিক্ষক ইকবাল চৌধুরী, রহমত উল্লাহ এবং কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান তাদের নিখোঁজ থাকাকালীন শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কথা বর্ণনা করেন। তারা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর যথাযথ পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।   উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আশ্বস্ত করেন যে, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ প্রণয়ন এবং নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন এক নতুন আইনি যুগে প্রবেশ করেছে, যেখানে কোনো অপরাধীই পার পাবে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ 0
শহিদ শরিফ ওসমান হাদি। ছবি: সংগৃহীত
হাদি হত্যার তদন্তে জাতিসংঘের হাইকমিশনারের কাছে প্রস্তাব দেবে অন্তর্বর্তী সরকার

শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার প্রস্তাব দেবে অন্তর্বর্তী সরকার। হাদির হত্যার বিচার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ ও নিহতের পরিবারের আন্দোলনের মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।   প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে সাংবাদিকদের বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, যত দ্রুত সম্ভব এই মামলার তদন্তের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরকে প্রস্তাব দেওয়া হবে। সরকার এ মামলায় পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অটল এবং এ ধরনের যেকোনো তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”   এর আগে একই দিনে বিকেল ৫টায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে শহিদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে অবস্থান নেয় ইনকিলাব মঞ্চ ও হাদির পরিবার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, “সরকার, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। তবে ইনকিলাব মঞ্চকে সহযোগিতায় বারবার সবাই হাত গুটিয়ে নিয়েছে। তাই আমরা জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্তের দাবিতে যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছি।”   প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। মাথা এবং ডান কানের নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে জখম হন হাদি। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এবং এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও এক সপ্তাহ পর ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ 0
গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য এবং গুম হয়ে ফেরত আসা ব্যক্তিদের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টার বৈঠক। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিলিয়া মিলনায়তনে। ছবি: সংগৃহীত
গুমের বিচার ও পুনর্বাসন কতদূর? সরকারের কাছে জবাব চান ভুক্তভোগী পরিবার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিদায় নিতে যাওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে নিজেদের জন্য কী করা হয়েছে—এ প্রশ্ন তুলেছেন গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা। জবাবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুমের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া) মিলনায়তনে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ আয়োজিত এক বৈঠকে গুমের ভুক্তভোগী পরিবার, গুম হয়ে ফিরে আসা ব্যক্তিরা এবং সরকারের উপদেষ্টারা অংশ নেন। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ভার্চুয়ালি যুক্ত হন এবং শিল্প, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।   বৈঠকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা অভিযোগ করেন, তাঁদের দুর্দশা ও বাস্তব পরিস্থিতি পর্যাপ্তভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। তাঁরা গুমের বিচার, অপরাধীদের শাস্তি, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের সুস্পষ্ট অগ্রগতি জানতে চান। জবাবে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, সরকার গুমসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনে যোগ দিয়েছে এবং বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের বিচার শুরু হয়েছে। তিনি জানান, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ প্রণয়ন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করা এবং নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষরের মাধ্যমে গুমের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।   বৈঠকে অংশ নিয়ে গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিরা তাঁদের শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা তুলে ধরেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার দাবি জানান।   সমাপনী বক্তব্যে উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, গুমের বিচারে নানা বাধা ও চ্যালেঞ্জ থাকলেও আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে এবং এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।   প্রসিকিউটর এস এম তাসমিরুল ইসলাম জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে গুমবিষয়ক তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এবং ইতিমধ্যে তিনটি মামলা সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপনের পর্যায়ে রয়েছে।   বৈঠকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুমের বিরুদ্ধে গড়ে তোলা আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি ভবিষ্যৎ সরকারগুলোও অব্যাহত রাখবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?
আমেরিকা

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0