সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। দায়িত্বে থাকাকালীনই তিনি পাসপোর্টটি জমা দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রায় এক সপ্তাহ আগে ক্ষমতায় থাকাকালীন এই পাসপোর্ট হস্তান্তর করা হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রধান উপদেষ্টার পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও উপদেষ্টার পদমর্যাদার প্রায় ২০ জন ইতোমধ্যে কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। তবে এখনো কয়েকজন উপদেষ্টা পাসপোর্ট হস্তান্তর করেননি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণত সরকারের মেয়াদকাল অনুযায়ী কূটনৈতিক পাসপোর্ট ইস্যু করা হয় এবং অতিরিক্ত ছয় মাস পর্যন্ত এর মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। বিদায়ী সরকারের অধিকাংশ উপদেষ্টাই নিয়ম অনুযায়ী পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। যাঁরা এখনো জমা দেননি, মেয়াদ শেষ হলে তাঁদেরও তা জমা দিতে হবে।
পাসপোর্ট হস্তান্তরকারীদের তালিকায় প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ছাড়াও রয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিক্ষা উপদেষ্টা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরারসহ একাধিক উপদেষ্টা ও বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে পূর্ণমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা গঠন সম্পন্ন করেছেন।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। দায়িত্বে থাকাকালীনই তিনি পাসপোর্টটি জমা দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রায় এক সপ্তাহ আগে ক্ষমতায় থাকাকালীন এই পাসপোর্ট হস্তান্তর করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রধান উপদেষ্টার পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও উপদেষ্টার পদমর্যাদার প্রায় ২০ জন ইতোমধ্যে কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। তবে এখনো কয়েকজন উপদেষ্টা পাসপোর্ট হস্তান্তর করেননি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণত সরকারের মেয়াদকাল অনুযায়ী কূটনৈতিক পাসপোর্ট ইস্যু করা হয় এবং অতিরিক্ত ছয় মাস পর্যন্ত এর মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। বিদায়ী সরকারের অধিকাংশ উপদেষ্টাই নিয়ম অনুযায়ী পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। যাঁরা এখনো জমা দেননি, মেয়াদ শেষ হলে তাঁদেরও তা জমা দিতে হবে। পাসপোর্ট হস্তান্তরকারীদের তালিকায় প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ছাড়াও রয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিক্ষা উপদেষ্টা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরারসহ একাধিক উপদেষ্টা ও বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে পূর্ণমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা গঠন সম্পন্ন করেছেন।
প্রতিবেশিসহ যেকোনো দেশের সঙ্গে আলোচনায় জাতীয় স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পাই পাই করে আদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। খলিলুর রহমান বলেন, দেশের স্বার্থ সম্পূর্ণ রক্ষা করেই সরকার বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনা করবে। জিয়াউর রহমানের বৈদেশিক নীতির আলোকে সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্যেই কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ বিষয়ে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে এবং মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থেকে নির্বাচিত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়া নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, তিনি নিজের ইচ্ছায় মন্ত্রী হননি। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগকারীদের উদ্দেশে আবার ভোট গণনার পরামর্শ দেন তিনি। উল্লেখ্য, সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলায়—এ মন্তব্য করে খলিলুর রহমান বলেন, বিএনপি আগে তার পদত্যাগ চাইলেও বর্তমান বাস্তবতায় পরিস্থিতি ভিন্ন। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ উপস্থিত থেকে বলেন, দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেই পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হবে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বা বাসস থেকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরতরা বলছেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদত্যাগের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই কর্মসূচি পালন করছিল বাসস সাংবাদিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণ এবং একনায়কতান্ত্রিকভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগ এনেছেন বিক্ষুব্ধরা। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. মানিকুল আজাদ বলেন, কর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণের কারণে অনেকদিন ধরেই তার ওপর ক্ষোভ বিরাজ করছিল। “সব কন্ট্রোল ওনার হাতে রাখতেন, কাউকে সম্মান দিতেন না। কেউ কিছু বলতে গেলেই তাকে বদলি করে দিতেন। সব মিলিয়ে ক্ষোভের একটা বিস্ফোরণ হয়েছে।” যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে মাহবুব মোর্শেদ। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে তার বিরুদ্ধে এসব ঘটনার পেছনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপিকে দায়ি করেছেন তিনি। তিনি বলছেন, “আমাকে এই পদে না রাখতে চাইতেই পারেন। চুক্তি বাতিল ও অপসারণের নানা স্বীকৃত পদ্ধতি আছে। সেসব দিকে না গিয়ে অফিসে মব সৃষ্টি করে, হামলা করে, তালা দিয়ে সরাতে চাইছেন কেন?” উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ১৭ই অগাস্ট দুই বছরের চুক্তিতে মি. মোর্শেদকে বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।