সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

অভিবাসন আইন

নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় আগের পরিচয় ও অভিবাসন-ইতিহাস গোপনের অভিযোগে শিকাগোর এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
১৫ বছর আগে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ, হতে পারে বহিষ্কারও

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার ১৫ বছর পর তা হারানো এবং দেশ থেকে বহিষ্কারের মুখে পড়েছেন শিকাগোর এক ব্যক্তি। নাইজেরিয়ায় জন্ম নেওয়া ইমানুয়েল তাইয়ো আকিনকুনমির বিরুদ্ধে অভিযোগ, আগের পরিচয় ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে তিনি নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন। এ অভিযোগে গত ৭ অক্টোবর ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের একটি আদালতে মামলা করেছে মার্কিন সরকার। তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নাগরিকত্ব বাতিলের কার্যক্রম জোরদার করেছে।   নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সরকারের করা মামলায় বলা হয়েছে, আকিনকুনমি ২০১১ সালের ৮ জুন নাগরিকত্বের শপথ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হন। কিন্তু তার অভিবাসন-ইতিহাসে এর আগে অন্য পরিচয় ব্যবহারের তথ্য রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সরকারের দাবি, তিনি আগে ‘ইজেকিয়েল আরেমু আদেতায়ো’ নাম ব্যবহার করেছিলেন এবং ওই পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের মর্যাদা ত্যাগ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছিল। এসব তথ্য পরবর্তী অভিবাসন আবেদন ও নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় গোপন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ সরকারের।   মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ১৯৯৩ সালে আগের পরিচয়ে আকিনকুনমির গ্রিন কার্ডের মর্যাদা পরিত্যক্ত হয়েছিল এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৭ সালে দেশটির অভিবাসন আপিল বোর্ড ওই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপর সরকারের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি আকিনকুনমি নাম ব্যবহার করে নতুন গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেন। আবেদনে অন্য কোনো নাম ব্যবহার করার কথা অস্বীকার করেন এবং এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা পাওয়ার বিষয়টিও জানাননি। ২০০০ সালে তার ওই আবেদন অনুমোদন করা হয়। পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্বের আবেদনেও একই ধরনের তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে।   ২০১০ সালে নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় আকিনকুনমি আগের পরিচয় ব্যবহার এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার বা প্রবেশে বাধার আদেশ পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন সরকারের ভাষ্য, এসব তথ্য সত্য হলে তিনি আইনসম্মতভাবে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্য ছিলেন না এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে অভিবাসন সুবিধা নিয়েছিলেন। এ কারণে তার নাগরিকত্ব আইনগতভাবে বাতিল করার আবেদন জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত মামলায় আকিনকুনমির পক্ষে কোনো আইনজীবীর নাম নথিভুক্ত ছিল না বলে নিউজউইক জানিয়েছে। তার পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।   আকিনকুনমির বিরুদ্ধে মামলাটি ট্রাম্প প্রশাসনের নাগরিকত্ব বাতিলের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ৫ অক্টোবর জানায়, ২১ আগস্ট থেকে ২ অক্টোবরের মধ্যে ৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য বিভিন্ন ফেডারেল আদালতে মামলা করা হয়েছে। বিভাগটির দাবি, এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ, প্রতারণা কিংবা নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এই উদ্যোগকে আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিলের প্রচেষ্টা বলে বর্ণনা করেছেন। তবে বিচার বিভাগও স্পষ্ট করেছে, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর অভিযোগ এখনো আদালতে নিষ্পত্তি হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ডিন্যাচারালাইজেশন’। দেশটির আইনে, কেউ বেআইনিভাবে নাগরিকত্ব পেলে অথবা নাগরিকত্বের আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিলে আদালতের মাধ্যমে তার নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে। তবে শুধু কোনো ভুল তথ্য পাওয়া গেলেই নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায় না। ২০১৭ সালে ‘মাসলেনজাক বনাম যুক্তরাষ্ট্র’ মামলায় দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বলেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বেআইনি কাজ বা মিথ্যা তথ্যের বাস্তব প্রভাব থাকতে হবে। অর্থাৎ, তথ্যটি এমন হতে হবে, যা নাগরিকত্ব পাওয়ার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত।   ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা তুলনামূলকভাবে বিরল ছিল। ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বছরে গড়ে প্রায় ১১টি এ ধরনের মামলা করেছিল ফেডারেল সরকার। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে সেই সংখ্যা বেড়ে বছরে গড়ে প্রায় ২৫টিতে পৌঁছায়। বর্তমান প্রশাসন আরও বেশি মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রতিটি মামলায় সরকারের অভিযোগ প্রমাণের দায়িত্ব রয়েছে এবং আদালতের সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নাগরিকত্ব হারানো ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করা যায় না। আকিনকুনমির ক্ষেত্রেও এখন পর্যন্ত নাগরিকত্ব বাতিলের চূড়ান্ত রায় হয়নি।   সূত্র: নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড ও বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব, সিনেটে নতুন বিল উত্থাপন

যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল। ‘আমেরিকানস ফার্স্ট ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট’ নামে প্রস্তাবিত বিলটিতে ডাইভারসিটি ভিসা লটারি বাতিল, নাগরিকদের বাবা-মায়ের জন্য গ্রিন কার্ডের পথ সীমিত করা এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের বর্তমান কাঠামো বদলে পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে।   আলাবামার সিনেটর টিউবারভিল ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিলটি সিনেটে উত্থাপন করেন। বিলটির নম্বর S. 5485। সিনেটে উত্থাপনের পর এটি দুইবার পাঠ করা হয়েছে এবং বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ, এটি এখনো প্রস্তাবিত আইন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভিবাসন আইনে কোনো পরিবর্তন আনেনি।   প্রস্তাবটি এর আগে প্রতিনিধি ব্যারি মুরের নেতৃত্বে ২৯ এপ্রিল প্রতিনিধি পরিষদে H.R. 8586 হিসেবে উত্থাপন করা হয়েছিল। ওই বিলের সহ-উদ্যোক্তা ছিলেন রিপাবলিকান প্রতিনিধি গ্লেন গ্রথম্যান, ওয়েসলি হান্ট ও ট্রয় নেহলস।   টিউবারভিলের প্রস্তাবিত আইনে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রে পরিবারের সম্পর্কের পাশাপাশি শিক্ষা, দক্ষতা, ইংরেজি ভাষাজ্ঞান, বেতন, বয়স, সামরিক সেবা এবং বিশেষ অর্জনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। বিলটির পক্ষে টিউবারভিল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের ক্ষেত্রে এমন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত যারা দেশটির আইন মেনে চলবেন এবং সমাজ ও অর্থনীতিতে অবদান রাখবেন।   প্রস্তাবটির অন্যতম বড় পরিবর্তন হবে ডাইভারসিটি ভিসা লটারি বাতিল। বর্তমানে এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতার দেশগুলোর নাগরিকদের মধ্যে লটারির ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। টিউবারভিলের বিলটি এ ব্যবস্থা বন্ধ করে দক্ষতা ও যোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে অভিবাসন ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় কর্মীদের জন্য বছরে ৩ হাজার অভিবাসী ভিসার একটি সীমিত ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।   পরিবারভিত্তিক অভিবাসনেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমান আইনে ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিন নাগরিকরা তাদের বাবা-মায়ের জন্য তাৎক্ষণিক আত্মীয় হিসেবে অভিবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। প্রস্তাবিত আইনে বাবা-মাকে এই শ্রেণি থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের সুযোগ মূলত স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের মধ্যে সীমিত করার কাঠামো তৈরি হবে।   শুধু নতুন আবেদনকারী নয়, বর্তমানে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যক্তিদের ওপরও প্রস্তাবিত পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে। যেসব পরিবারভিত্তিক আবেদনের শ্রেণি বিলটির আওতায় বাদ যাবে, সেগুলোর অপেক্ষমাণ আবেদন অনুমোদনের সুযোগ থাকবে না। আগে অনুমোদিত কিছু আবেদনের ক্ষেত্রেও নতুন পরিবর্তন অনুযায়ী ভিসা দেওয়ার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের কথা বলা হয়েছে।   কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড ব্যবস্থায়ও প্রস্তাবটি বড় পরিবর্তন আনতে চায়। বর্তমানে কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসী ভিসা বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় এসব শ্রেণির পরিবর্তে একটি প্রতিযোগিতামূলক পয়েন্টভিত্তিক পদ্ধতি চালুর কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বছরে বিশ্বব্যাপী ১ লাখ ৯২ হাজার ভিসা দিয়ে শুরু করার কথা বলা হয়েছে, যদিও বিলের নির্দিষ্ট সূত্র অনুযায়ী এই সংখ্যা কমতে পারে।   এই পদ্ধতিতে আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির প্রস্তাব থাকতে হবে। আবেদনকারীকে কমপক্ষে ১৬ পয়েন্ট অর্জন করতে হবে এবং ইংরেজি ভাষার দক্ষতার একটি নির্দিষ্ট ন্যূনতম মান পূরণ করতে হবে। পাশাপাশি আবেদন করার সময় বয়স ১৮ থেকে ৫১ বছরের মধ্যে হওয়ার শর্ত রাখা হয়েছে।   বেতনের বিষয়টিও নতুন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সাধারণভাবে আবেদনকারীর প্রস্তাবিত বেতন সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের মধ্যম বেতনের অন্তত ২০০ শতাংশ হতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নির্দিষ্ট ধরনের ডিগ্রি পাওয়া বা পাওয়ার কাছাকাছি থাকা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই সীমা ১৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।   পয়েন্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে উচ্চ বেতন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি, চিকিৎসাবিষয়ক ডিগ্রি, ইংরেজি ভাষাজ্ঞান, বয়স, যোগ্য সামরিক সেবা এবং অসাধারণ অর্জন বিবেচনা করা হবে। উচ্চ বেতন বা নির্দিষ্ট ধরনের উচ্চতর ডিগ্রির মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩৫ পয়েন্ট পর্যন্ত পাওয়ার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।   প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নিয়োগদাতাদের ওপরও নতুন দায়িত্ব আরোপ করা হবে। কোনো বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠানকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের নিয়োগের চেষ্টা করতে হবে। একই পদে সমান বা বেশি যোগ্য মার্কিন কর্মী থাকলে তাকে চাকরির প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।   কোনো প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে আইন ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ডলার জরিমানার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর এমন লঙ্ঘনের কারণে কোনো মার্কিন কর্মী চাকরি হারালে জরিমানা ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। নিয়ম না মানার ধারাবাহিক বা নিয়মিত চর্চা প্রমাণিত হলে অন্তত ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা এবং সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধানও প্রস্তাবটিতে রয়েছে।   পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থায় নির্বাচিত অভিবাসী এবং যোগ্য স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের প্রথমে শর্তসাপেক্ষ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই শর্তসাপেক্ষ সময় হবে দুই বছর। এ সময়ে নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা গ্রহণ, কিছু ধরনের অপরাধে দণ্ডিত হওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থানের মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে প্রধান আবেদনকারীর স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা হারানোর ঝুঁকি থাকবে। এর প্রভাব নির্ভরশীল স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের ওপরও পড়তে পারে।   বিলটিতে অভিবাসীদের কাছ থেকে একটি বিশেষ ঘোষণাপত্র নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ‘প্রটেকশন অব আমেরিকান ভ্যালুজ’ নামে ওই ঘোষণায় সংবিধানসম্মত নীতির প্রতি আনুগত্যের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গণহত্যা, নিপীড়ন, তথাকথিত সম্মান রক্ষার নামে হত্যা, যৌন সহিংসতা, পারিবারিক সহিংসতা এবং নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণের মতো নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার বিষয়েও ঘোষণা দিতে হবে।   সিনেটের প্রস্তাবটি প্রতিনিধি পরিষদের আগের বিলের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে মিল থাকলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। যেমন, নিয়োগদাতার ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘনের সর্বোচ্চ জরিমানা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়ম লঙ্ঘনের ধারাবাহিক চর্চার ক্ষেত্রে ফৌজদারি শাস্তির ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে। অসাধারণ সক্ষমতার জন্য পয়েন্ট দেওয়ার ক্ষেত্রেও দুই বিলের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।   এ ছাড়া শর্তসাপেক্ষ স্থায়ী বসবাসের বিধান তুলে নেওয়ার সময় কিছু সাক্ষাৎকার মওকুফের সুযোগ প্রতিনিধি পরিষদের প্রস্তাবে ছিল, যা সিনেটের সংস্করণে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিদ্যমান কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড ব্যবস্থা বাতিল করে নতুন পদ্ধতি চালুর সময়সীমাতেও দুই প্রস্তাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।   উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা নন এমন শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক অঙ্গরাজ্যের বাইরের শিক্ষার্থীদের সমপরিমাণ টিউশন, ফি ও অন্যান্য খরচ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান এ বিধান লঙ্ঘন করলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পাঁচ বছর পর্যন্ত বিদেশি শিক্ষার্থীদের পূর্ণকালীন পড়াশোনার জন্য অনুমোদন হারানোর ঝুঁকি থাকতে পারে।   বিলটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বিভিন্ন পরিবর্তন আনছে। তবে টিউবারভিলের প্রস্তাবিত আইন এবং প্রশাসনের নেওয়া নির্বাহী বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ এক বিষয় নয়। S. 5485 এখনো কংগ্রেসের বিচারবিষয়ক কমিটিতে রয়েছে এবং আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি।   প্রস্তাবটির ভবিষ্যৎ নিয়েও এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত নেই। সিনেটে বিলটি কমিটির পরবর্তী পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের সংশ্লিষ্ট বিল H.R. 8586-ও এপ্রিল মাসে কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল এবং এখনো আইনে পরিণত হয়নি। ফলে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন বা কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের নিয়ম এই প্রস্তাবের কারণে পরিবর্তিত হয়নি।   সূত্র: নিউজউইক

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ইতালির বোলোনিয়ায় পাকিস্তানি ইমাম জুলফিকার খানকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার অজুহাতে ডিপোর্ট করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
বিচার শেষ হওয়ার আগেই ইতালিতে ইমাম ডিপোর্ট! যে আইনে নড়ল আবাসনও, জানুন

ইতালির বোলোনিয়ায় পাকিস্তানি ইমাম জুলফিকার খানকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করে দেশ থেকে ডিপোর্টের নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। ৫৪ বছর বয়সী খান ১৯৯৫ সাল থেকে ইতালিতে বসবাস করছিলেন। ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ানতেদোসি তার বিরুদ্ধে ডিপোর্টের নির্দেশ জারি করেন। তবে বিষয়টি পুরোপুরি বিচারবহির্ভূত ছিল না। ইতালির আইনে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশি নাগরিককে প্রশাসনিকভাবে ডিপোর্টের নির্দেশ দিতে পারেন। পরদিন বোলোনিয়ার দেওয়ানি আদালত সেই ডিপোর্টের নির্দেশ অনুমোদনও করে।   ইতালির অভিবাসন আইনের ১৩ নম্বর ধারার প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, জনশৃঙ্খলা বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো বিদেশি নাগরিককে ডিপোর্টের নির্দেশ দিতে পারেন, এমনকি তিনি ইতালিতে বৈধভাবে বসবাস করলেও। এই ধারাটিই খানের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ সাধারণ কোনো ফৌজদারি মামলায় আদালতের রায় হওয়ার পর তাকে ডিপোর্ট করা হয়নি। বরং সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ডিপোর্টের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়, যার বৈধতা ও প্রক্রিয়াগত দিক পরে আদালতে যাচাই হয়।   সরকারের ডিপোর্টের নির্দেশে খানের বক্তব্য, ধর্মীয় বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শরৎ থেকে তার মধ্যে উগ্রপন্থী অবস্থানের প্রকাশ বাড়তে দেখা যায়। কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে পশ্চিমবিরোধী, ইহুদিবিদ্বেষী, সমকামিতাবিরোধী এবং নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের অভিযোগ তোলে। এছাড়া কিছু বক্তব্যে হামাসের প্রতি সমর্থন, জিহাদের একটি উগ্র ব্যাখ্যা এবং সংঘাতে নিহত যোদ্ধাদের শহীদ হিসেবে তুলে ধরার অভিযোগও নথিতে উল্লেখ করা হয়। এসব অভিযোগ অবশ্য খানের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি দণ্ডের সমান নয়।   ইতালীয় কর্তৃপক্ষ আরও দাবি করে, খানের সঙ্গে এমন কিছু ব্যক্তির যোগাযোগ ছিল, যাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতি উগ্র ইসলামপন্থী পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত বলে বিবেচনা করেছিল। বোলোনিয়ার একটি মসজিদে তার ধর্মীয় বক্তব্য এবং ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওও তদন্তের আওতায় আসে। ইতালির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার কিছু বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উসকানির অভিযোগে আলাদা তদন্তও চলছিল।   তবে খানের আইনজীবী ফ্রান্সেস্কো মুরু সরকারের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন। তার ভাষ্য ছিল, খানকে তার মতামতের জন্য শাস্তি দেওয়া হচ্ছে এবং এই পদক্ষেপকে তিনি পুলিশি রাষ্ট্রের দিকে ফিরে যাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেন। প্রতিরক্ষা পক্ষ ডিপোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা দেয় এবং জানায়, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মূল কারণগুলো নিয়ে তারা আঞ্চলিক প্রশাসনিক আদালত বা টার লাৎসিওতে আপিল করবে।   ৯ অক্টোবর ২০২৪ বোলোনিয়ার দেওয়ানি আদালতের অভিবাসন বিষয়ক শাখা ডিপোর্টের নির্দেশটি অনুমোদন করে। আদালতের ওই পর্যায়ের পর্যালোচনার পর খানকে পাকিস্তানে পাঠানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়। তার আইনজীবী তখন টার লাৎসিওতে আপিল করার কথা জানান। ফলে ‘বিচার ছাড়াই ডিপোর্ট’ কথাটি সরলীকৃতভাবে বলা হলেও, বাস্তবে প্রক্রিয়াটিতে প্রশাসনিক ডিপোর্টের নির্দেশের পর বিচারিক অনুমোদন এবং পরবর্তী প্রশাসনিক আদালতে আপিলের সুযোগ ছিল।   খানের ঘটনাটি ইতালিতে জাতীয় নিরাপত্তা, অভিবাসন আইন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করে। একদিকে সরকার বলেছে, কোনো বিদেশি নাগরিকের বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করলে প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। অন্যদিকে তার আইনজীবী ও সমর্থকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, অপরাধে দণ্ডিত না হয়েও বক্তব্য ও রাজনৈতিক বা ধর্মীয় অবস্থানের ভিত্তিতে একজন দীর্ঘদিনের বাসিন্দাকে ডিপোর্ট করা কতটা যুক্তিসংগত। এই দুই অবস্থানের মধ্যেই মামলাটি ইতালিতে নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের অধিকারের ভারসাম্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিতর্কের উদাহরণ হয়ে ওঠে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তার ফেডারেল চুক্তি ফিরিয়ে দিল টেক্সাসের একটি আইন প্রতিষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তার ১৫ কোটি ডলারের চুক্তি ফিরিয়ে দিল ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ আইন প্রতিষ্ঠান

যুক্তরাষ্ট্রে বাবা-মা বা অভিভাবক ছাড়া সীমান্ত পেরিয়ে আসা অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য ১৫ কোটি ডলারের একটি ফেডারেল চুক্তির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি আইন প্রতিষ্ঠান। ফলে হাজারো অভিবাসী শিশুর ভবিষ্যৎ আইনি প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, টেক্সাসের হিউস্টনভিত্তিক বার্ক ল' গ্রুপকে এই চুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। প্রতিষ্ঠানটির অভিবাসন আইন নিয়ে অভিজ্ঞতা খুবই সীমিত হলেও গত সপ্তাহে তাদের কাছে প্রায় ১৫ কোটি ডলারের চুক্তির প্রস্তাব পাঠানো হয়। তবে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের অধীন শরণার্থী পুনর্বাসন দপ্তর (অফিস অব রিফিউজি রিসেটেলমেন্ট) জানায়, বার্ক ল' গ্রুপ চুক্তির জন্য আবেদন করতেই রাজি হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে কোনো অনুদান বা চুক্তিও দেওয়া হয়নি।   এর আগে মঙ্গলবার রাতে বার্ক ল' গ্রুপ সামাজিক মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতিতে জানায়, তারা চুক্তির একটি "ছোট অংশ" নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কেন তারা সরে দাঁড়িয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। বার্ক ল' গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মার্সেলা বার্ক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসনে পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইপিএ) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের আরও কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা ও রক্ষণশীল আইন বিশেষজ্ঞ যুক্ত রয়েছেন।   এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন দেশজুড়ে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক বহিষ্কার অভিযান জোরদার করছে। একই সঙ্গে জুলাইয়ের শেষ দিকে অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তা দেওয়া প্রায় ১০০টি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিনের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। নতুন কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় শিশুদের আইনি সহায়তা ব্যবস্থা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।   বর্তমানে একটি অস্থায়ী সংস্থা সীমিত সময়ের জন্য এসব শিশুর পক্ষে আদালতে আইনি প্রতিনিধিত্ব করছে। তবে তাদের চুক্তির মেয়াদও চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এরপর কী হবে, সে বিষয়ে সরকার এখনো স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বাবা-মা ছাড়া দেশে প্রবেশ করা শিশুদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা রয়েছে। ২০০৮ সালের 'ট্র্যাফিকিং ভিকটিমস প্রোটেকশন রিঅথরাইজেশন অ্যাক্ট' অনুযায়ী, বহিষ্কার-সংক্রান্ত মামলায় এসব শিশুর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আইনি প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করতে হয়।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শিশু ফেডারেল আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। এছাড়া প্রায় ২২ হাজার শিশু, যারা বহিষ্কারের ঝুঁকিতে রয়েছে, তারা আত্মীয়স্বজন বা অন্যান্য স্পনসরের কাছে অবস্থান করছে এবং তাদেরও আইনি সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। বার্ক ল' গ্রুপে ৩০ জনেরও কম আইনজীবী রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তাদের মধ্যে মাত্র দুজনের অভিবাসন আইন বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে এত বড় দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে শুরু থেকেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল।   এদিকে বছরের শেষ পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে ২ কোটি ডলারের একটি চুক্তি পেয়েছে 'ইউএস কমিটি ফর রিফিউজিস অ্যান্ড ইমিগ্র্যান্টস' (ইউএসসিআরআই)। তবে গত সপ্তাহে এই সংস্থার আইনজীবীরা অনেক ক্ষেত্রে যেসব শিশুর সঙ্গে এখনো দেখা করেননি, তাদের প্রতিনিধিত্বের দাবি নিয়ে আদালতে হাজির হলে বিচারক ও আইনজীবীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।   অন্যদিকে, যেসব আইনি সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে, তারা সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে। তাদের অভিযোগ, গত বছর থেকে কয়েক মাসের বিল সরকার পরিশোধ করেনি। গত ৬ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত সরকারকে বকেয়া অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেয়।   আকাসিয়া সেন্টার ফর জাস্টিসের যোগাযোগ পরিচালক বিলাল আসকারইয়ার জানিয়েছেন, সরকার ইতোমধ্যে বকেয়া নয় মাসের মধ্যে ছয় মাসের অর্থ পরিশোধ শুরু করেছে এবং বাকি অর্থও পরিশোধের প্রক্রিয়া চলছে।   আইনজীবীদের দাবি, একটি শিশু যাকে দীর্ঘদিন ধরে একজন আইনজীবী প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাকে হঠাৎ করে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা নৈতিক ও বাস্তবিক উভয় দিক থেকেই জটিল। তাই স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত হাজারো অভিবাসী শিশুর আইনি সুরক্ষা অনিশ্চিতই থেকে যাচ্ছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা |সংগৃহীত
অভিবাসন আইন আরও কঠোর করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

অবৈধ অভিবাসীদের আটক ও বহিষ্কারের ক্ষমতা বাড়াতে নতুন ও কঠোর অভিবাসননীতির চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে যাচ্ছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। বুধবার স্ট্রাসবুর্গে অনুষ্ঠিত ভোটে অনুমোদন পেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে ‘ডিপোর্টেশন সেন্টার’ বা নির্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের পথও উন্মুক্ত হবে।   দীর্ঘ আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া শেষে এই সংস্কার এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি এবং ইউরোপজুড়ে জনমতের পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।   ইইউর অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বলেন, “এই আইন স্পষ্টভাবে বার্তা দিচ্ছে যে পাচারকারীরা নয়, বরং আমরাই সিদ্ধান্ত নেব ইউরোপীয় ইউনিয়নে কে থাকতে পারবে এবং কাকে চলে যেতে হবে।”   নতুন আইনে এমন বিধান রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ বা বহিষ্কার কেন্দ্র স্থাপন করা যাবে। যেসব অভিবাসীর ইউরোপে থাকার বৈধ অধিকার নেই, তাদের এসব কেন্দ্রে পাঠানোর সুযোগ থাকবে।   মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে। তবে ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া, গ্রিস, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসসহ বেশ কয়েকটি দেশ এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপনের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।   সম্প্রতি ইইউভুক্ত দেশগুলোর একটি বড় অংশ এসব কেন্দ্র পরিচালনায় ইউরোপীয় অর্থায়নের উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে। যদিও ফ্রান্স ও স্পেন এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে।   গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোটাকিস বলেছেন, “আমাদের লক্ষ্য ২০২৬ সালের মধ্যে এসব কেন্দ্র স্থাপনের প্রথম চুক্তি সম্পন্ন করা, যাতে ২০২৭ সাল থেকে এগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়।”   ইউরোপীয় দেশগুলোতে অভিবাসন ইস্যুতে জনমত ক্রমেই কঠোর হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে ডানপন্থি রাজনৈতিক দলের উত্থানের ফলে সরকারগুলোও অভিবাসন নীতিতে আরও কড়াকড়ি আরোপের পথে হাঁটছে।   ২০২৫ সালে ইউরোপে অভিবাসীর আগমন কিছুটা কমে এলেও ব্রাসেলস এখন মূলত প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। বর্তমানে ইউরোপ থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ পাওয়া অভিবাসীদের মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ নিজ দেশে ফিরে গেছে।   ইইউ কর্মকর্তাদের মতে, নতুন আইন কার্যকর হলে অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত প্রত্যাবাসন এবং বহিষ্কার প্রক্রিয়া আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

Unknown জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
এইচ-১বি ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিইওর নাগরিকত্ব বাতিলে মার্কিন সরকারের মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক প্রযুক্তি উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।   অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম নীরজ শর্মা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে পরিচিত। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তিনি এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির আওতায় এমন কিছু চাকরির আবেদন জমা দিয়েছিলেন, যেগুলোর বাস্তব অস্তিত্ব ছিল না। পাশাপাশি অভিবাসন ও নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।   মার্কিন বিচার বিভাগের দাবি, ভুয়া তথ্য ও প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করা হয়ে থাকলে আইনের আওতায় সেই নাগরিকত্ব বাতিলের সুযোগ রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় নীরজ শর্মার বিরুদ্ধে ‘ডিন্যাচারালাইজেশন’ বা নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।   তবে এখনো তার নাগরিকত্ব বাতিল হয়নি। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে। মার্কিন আইনে নাগরিকত্ব বাতিল হলে ভবিষ্যতে বহিষ্কারের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই বহুল ব্যবহৃত। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও আইটি খাতে ভারতীয় পেশাজীবীদের বড় একটি অংশ এই ভিসার মাধ্যমে কাজ করে থাকেন। তবে অতীতে এই কর্মসূচিকে ঘিরে জালিয়াতি, ভুয়া চাকরির অফার এবং ভিসা অপব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে। এ কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন কর্তৃপক্ষ নজরদারি ও তদন্ত জোরদার করেছে।   এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন, আবার কেউ কেউ আদালতের রায়ের আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করার আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসসহ একাধিক সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।

Unknown জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশের ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস | ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন ইমিগ্রান্ট ভিসা স্থগিতাদেশ বহাল, ঢাকায় দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ শুরু হলেও মিলছে না ভিসা

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রান্ট ভিসা কার্যক্রমের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ এখনো বহাল রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্রান্ট ভিসা প্রদান ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত এখনো কার্যকর রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে আইনি লড়াই চলমান।   এদিকে স্থগিতাদেশ বহাল থাকলেও ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ১ জুন থেকে ইমিগ্রান্ট ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় নতুন একটি ব্যবস্থা চালু করেছে। দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখন থেকে সব ধরনের ইমিগ্রান্ট ভিসা আবেদন দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। আবেদনকারীরা আগের মতোই আবেদন জমা দিতে এবং সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারবেন। তবে বর্তমান স্থগিতাদেশ বহাল থাকায় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও ভিসা ইস্যু করা হবে না এবং আবেদনকারীরা পাসপোর্টে ভিসা পাবেন না।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর কিছু অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বহন করেন, যা ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে অভিবাসন অধিকারকর্মী, আইনজীবী এবং বিভিন্ন নাগরিক অধিকার সংগঠন এই ব্যাখ্যার বিরোধিতা করেছে।   তাদের দাবি, জাতীয়তার ভিত্তিতে কোনো দেশের নাগরিকদের জন্য সামগ্রিকভাবে ইমিগ্রান্ট ভিসা বন্ধ করে দেওয়া মার্কিন অভিবাসন আইনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। এ বিষয়ে নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে চলমান CLINIC v. Rubio মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন যে, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট জাতীয়তার ভিত্তিতে ইমিগ্রান্ট ভিসা প্রদানে বৈষম্য নিষিদ্ধ করেছে এবং ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর একযোগে নিষেধাজ্ঞা সেই আইনের লঙ্ঘন হতে পারে।   মামলাটি ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট ফেডারেল আদালতে দায়ের করা হয়। বাদীপক্ষের মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ল সেন্টার, ডেমোক্র্যাসি ফরওয়ার্ড, লিগাল এইড সোসাইটি অব নিউইয়র্ক, সেন্টার ফর কনস্টিটিউশনাল রাইটসসহ একাধিক অধিকারভিত্তিক সংগঠন। এছাড়া এমন কয়েকজন মার্কিন নাগরিকও মামলায় যুক্ত আছেন, যারা এই নীতির কারণে তাদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনতে পারছেন না।   বাদীপক্ষ আদালতের কাছে চারটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেছে। তারা চায় আদালত এই নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করুক, স্থগিতাদেশ স্থায়ীভাবে বাতিল করুক, স্টেট ডিপার্টমেন্টকে আগের নিয়মে প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে মূল্যায়নের নির্দেশ দিক এবং যেসব আবেদনকারী এই নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের নতুন করে সুযোগ দেওয়া হোক।   বর্তমানে মামলাটি ‘ক্রস-মোশন ফর পার্শিয়াল সামারি জাজমেন্ট’ পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে।   আদালত বা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা সীমিত। ইমিগ্রান্ট ভিসা প্রদান পুনরায় শুরু হতে পারে মূলত দুটি উপায়ে। প্রথমত, ফেডারেল আদালত স্থগিতাদেশ বাতিলের নির্দেশ দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, প্রশাসন নিজ উদ্যোগে নীতিটি প্রত্যাহার করতে পারে।   উল্লেখযোগ্য যে, এই স্থগিতাদেশ কেবল ইমিগ্রান্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ফলে গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা অর্জনের জন্য আবেদনকারীরাই এর সরাসরি প্রভাবের মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে পর্যটন, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত অ-অভিবাসী ভিসা, যেমন বি-১/বি-২, এফ-১ এবং এইচ-১বি, এই স্থগিতাদেশের আওতাভুক্ত নয়।   তবে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য বি-১/বি-২ ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দেওয়ার একটি নতুন শর্ত যুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।   ফলে বর্তমানে ঢাকায় ইমিগ্রান্ট ভিসা আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের সুযোগ চালু হলেও, স্থগিতাদেশ বহাল থাকায় আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। কবে আবার ইমিগ্রান্ট ভিসা প্রদান স্বাভাবিক হবে, তার উত্তর নির্ভর করছে আদালতের রায় এবং মার্কিন প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

তাবাস্সুম জুন ১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সামিয়া মালিক

অস্ট্রেলিয়ায় সড়কে নামাজ পড়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু, চালকের সাজা স্থগিত

অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০