সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিনোদন

স্বামীর বকুনির মধ্যেও ইংরেজি শেখানোর ভিডিও, গ্রামের যশোদার প্রশংসায় প্রিয়াঙ্কা চোপড়া

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৫:৩৯
প্রিয়াঙ্কার নজরে গ্রামের ইংরেজি শিক্ষিকা যশোদা
প্রিয়াঙ্কার নজরে গ্রামের ইংরেজি শিক্ষিকা যশোদা

ভারতের উত্তর প্রদেশের একটি গ্রামের কৃষিজমিতে কাজ করার ফাঁকে ইংরেজি শেখানোর ভিডিও তৈরি করেছিলেন যশোদা লোধি। ভিডিও ধারণের সময় স্বামীর বকুনিও শুনতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু সেই ভিডিওই শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যায় বলিউড ও হলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাসের কাছে। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ভিডিওটি শেয়ার করেন প্রিয়াঙ্কা। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় আসেন গ্রামের এই ইংরেজি শিক্ষিকা।

 

বুধবার (৭ অক্টোবর) ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমে যশোদার এই অভিজ্ঞতার খবর প্রকাশিত হয়। উত্তর প্রদেশের কৌশাম্বী জেলার বাসিন্দা যশোদা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ইংলিশ উইথ দেহাতি ম্যাডাম’ নামে পরিচিত। গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ভাষায় ইংরেজি শেখানোর ভিডিও তৈরি করেন তিনি।

 

বিশেষ করে যারা ইংরেজিতে কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন কিংবা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ভাষাটি ভালোভাবে শেখার সুযোগ পাননি, তাঁদের জন্য সহজ ও ব্যবহারিক ইংরেজির পাঠ তুলে ধরেন যশোদা। তাঁর ভিডিওতে জটিল ব্যাকরণের পরিবর্তে দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত পরিস্থিতি এবং সাধারণ কথাবার্তার মাধ্যমে ইংরেজি শেখানোর চেষ্টা দেখা যায়।

 

সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে যশোদা জানান, আগের দিন তিনি কৃষিজমিতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। কাজের ফাঁকে সেখানেই একটি ইংরেজি শেখানোর ভিডিও রেকর্ড করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ভিডিও ধারণের সময় তাঁর স্বামী তাঁকে বকাঝকা করেন বলে জানান তিনি। এরপরও ভিডিওটি সম্পূর্ণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন যশোদা।

 

ভিডিও প্রকাশের পর সেটি যে এত দূর পৌঁছে যাবে, তা কল্পনাও করেননি তিনি। জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে যশোদার ভিডিওটি শেয়ার করেন। বিষয়টি জানার পর আনন্দে অভিভূত হয়ে পড়েন যশোদা। পরে অনুসারীদের উদ্দেশে প্রকাশ করা আরেকটি ভিডিওতে পুরো অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রিয়াঙ্কা তাঁর ভিডিও শেয়ার করেছেন—এটি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যশোদা। একজন গ্রামের সাধারণ নারী হিসেবে নিজের ছোট একটি প্রচেষ্টা যে এত দূর পৌঁছাতে পারে, তা তিনি আগে কখনো ভাবেননি। তাঁর কাছে বিষয়টি শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রীর স্বীকৃতি নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে নিজের কাজ চালিয়ে যাওয়ার একটি বড় প্রাপ্তি।

 

যশোদার জীবনযাত্রা অন্য অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কনটেন্ট নির্মাতার চেয়ে আলাদা। তিনি কোনো বড় শহরের নামকরা ইংরেজি মাধ্যম স্কুল কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেননি। তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত। এরপর নিজের আগ্রহ ও চেষ্টায় ইংরেজি শেখেন তিনি। একসময় সেই শেখার অভিজ্ঞতাই অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

 

প্রথম দিকে সাধারণ ইংরেজি শব্দ, দৈনন্দিন কথোপকথন এবং সহজ বাক্য ব্যবহারের ভিডিও তৈরি করতেন যশোদা। ধীরে ধীরে ইংরেজিতে কথা বলার আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর বিষয়টিও তাঁর কনটেন্টের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। নিজের পরিচিত গ্রামীণ পরিবেশ থেকেই তিনি এসব ভিডিও তৈরি করতে থাকেন।

 

তাঁর ভিডিওর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সহজ উপস্থাপনা। ইংরেজি শেখানোর জন্য কঠিন শব্দ বা জটিল ব্যাকরণ ব্যবহারের পরিবর্তে দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত পরিস্থিতি তুলে ধরেন তিনি। বাড়ির কাজ, কৃষিজমিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা কিংবা সাধারণ মানুষের কথাবার্তা থেকে উদাহরণ নিয়ে ইংরেজি বোঝানোর চেষ্টা করেন।

 

এই পদ্ধতির কারণে বিশেষ করে হিন্দিভাষী এবং গ্রামীণ এলাকার মানুষের কাছে তাঁর ভিডিও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যারা ইংরেজি বলতে চান, কিন্তু ভুল হওয়ার ভয়ে কথা বলতে সাহস পান না, তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর চেষ্টা করেন যশোদা।

 

প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার ভিডিও শেয়ার করার পর তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। ৭ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, যশোদার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে অনুসারীর সংখ্যা ৫ লাখ ৮৩ হাজার ছাড়িয়েছে। ইউটিউবেও তাঁর অনুসারী চার লাখের বেশি। আলোচিত ভিডিওটি এরই মধ্যে তিন কোটি ৪০ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছে এবং ১৮ লাখের বেশি লাইক সংগ্রহ করেছে।

 

যশোদার কাজ শুধু প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার নজরেই আসেনি। অভিনেত্রী মৃণাল ঠাকুর এবং অভিনেতা অভয় দেওল ও আর মাধবনও এর আগে তাঁর উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। পরিচিত অভিনয়শিল্পীদের কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি পাওয়ায় নিজের কাজের প্রতি আরও উৎসাহ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন যশোদা।

 

তবে যশোদার এই পথচলা শুরু হয়েছিল একেবারেই সাধারণ পরিবেশ থেকে। নিজে ইংরেজি শেখার পর তিনি উপলব্ধি করেন, তাঁর মতো আরও অনেক মানুষ ভাষাটি শিখতে আগ্রহী। কিন্তু অনেকের কাছে ব্যয়বহুল কোর্স কিংবা প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ নেই। তাঁদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহজভাবে শেখানোর উদ্যোগ নেন তিনি।

 

ইংরেজি শেখানোর পাশাপাশি তাঁর নিজের জীবনযাত্রাও ভিডিওতে উঠে আসে। কখনো বাড়িতে, কখনো কৃষিজমিতে, আবার কখনো দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে ইংরেজিতে কথা বলেন তিনি। এই স্বাভাবিক উপস্থাপনাই তাঁকে অন্য অনেক কনটেন্ট নির্মাতার থেকে আলাদা করেছে।

 

স্বামীর বকুনি খাওয়ার ঘটনাটি নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। তবে একটি ভিডিওর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তাঁদের ব্যক্তিগত বা দাম্পত্য সম্পর্ক সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। যশোদা নিজেই ঘটনাটি তুলে ধরেছেন তাঁর কাজের স্বীকৃতি পাওয়ার অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা বোঝাতে।

 

প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার স্বীকৃতি পাওয়ার পর যশোদার গল্প নতুন করে সামনে এনেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষামূলক কনটেন্টের সম্ভাবনা। নিজের শেখা জ্ঞান অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতে বড় প্রতিষ্ঠান কিংবা অত্যাধুনিক স্টুডিও সব সময় অপরিহার্য নয়। সাধারণ পরিবেশ থেকেও নিয়মিত শিক্ষামূলক ভিডিও তৈরি করে বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব—যশোদার অভিজ্ঞতা তার একটি উদাহরণ।

 

কৃষিজমিতে কাজের ফাঁকে তৈরি করা একটি সাধারণ ভিডিও থেকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত অভিনেত্রীর নজরে আসা পর্যন্ত যশোদা লোধির এই যাত্রা এখন আলোচনার বিষয়। নিজের চেষ্টায় ইংরেজি শেখা গ্রামের এই নারী আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো মানুষের কাছে ইংরেজি শেখাচ্ছেন। আর প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরি তাঁর দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টাকে নতুন করে পরিচিতি এনে দিয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিনোদন

View more
প্রিয়াঙ্কার নজরে গ্রামের ইংরেজি শিক্ষিকা যশোদা
স্বামীর বকুনির মধ্যেও ইংরেজি শেখানোর ভিডিও, গ্রামের যশোদার প্রশংসায় প্রিয়াঙ্কা চোপড়া

ভারতের উত্তর প্রদেশের একটি গ্রামের কৃষিজমিতে কাজ করার ফাঁকে ইংরেজি শেখানোর ভিডিও তৈরি করেছিলেন যশোদা লোধি। ভিডিও ধারণের সময় স্বামীর বকুনিও শুনতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু সেই ভিডিওই শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যায় বলিউড ও হলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাসের কাছে। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ভিডিওটি শেয়ার করেন প্রিয়াঙ্কা। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় আসেন গ্রামের এই ইংরেজি শিক্ষিকা।   বুধবার (৭ অক্টোবর) ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমে যশোদার এই অভিজ্ঞতার খবর প্রকাশিত হয়। উত্তর প্রদেশের কৌশাম্বী জেলার বাসিন্দা যশোদা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ইংলিশ উইথ দেহাতি ম্যাডাম’ নামে পরিচিত। গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ভাষায় ইংরেজি শেখানোর ভিডিও তৈরি করেন তিনি।   বিশেষ করে যারা ইংরেজিতে কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন কিংবা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ভাষাটি ভালোভাবে শেখার সুযোগ পাননি, তাঁদের জন্য সহজ ও ব্যবহারিক ইংরেজির পাঠ তুলে ধরেন যশোদা। তাঁর ভিডিওতে জটিল ব্যাকরণের পরিবর্তে দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত পরিস্থিতি এবং সাধারণ কথাবার্তার মাধ্যমে ইংরেজি শেখানোর চেষ্টা দেখা যায়।   সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে যশোদা জানান, আগের দিন তিনি কৃষিজমিতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। কাজের ফাঁকে সেখানেই একটি ইংরেজি শেখানোর ভিডিও রেকর্ড করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ভিডিও ধারণের সময় তাঁর স্বামী তাঁকে বকাঝকা করেন বলে জানান তিনি। এরপরও ভিডিওটি সম্পূর্ণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন যশোদা।   ভিডিও প্রকাশের পর সেটি যে এত দূর পৌঁছে যাবে, তা কল্পনাও করেননি তিনি। জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে যশোদার ভিডিওটি শেয়ার করেন। বিষয়টি জানার পর আনন্দে অভিভূত হয়ে পড়েন যশোদা। পরে অনুসারীদের উদ্দেশে প্রকাশ করা আরেকটি ভিডিওতে পুরো অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রিয়াঙ্কা তাঁর ভিডিও শেয়ার করেছেন—এটি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যশোদা। একজন গ্রামের সাধারণ নারী হিসেবে নিজের ছোট একটি প্রচেষ্টা যে এত দূর পৌঁছাতে পারে, তা তিনি আগে কখনো ভাবেননি। তাঁর কাছে বিষয়টি শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রীর স্বীকৃতি নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে নিজের কাজ চালিয়ে যাওয়ার একটি বড় প্রাপ্তি।   যশোদার জীবনযাত্রা অন্য অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কনটেন্ট নির্মাতার চেয়ে আলাদা। তিনি কোনো বড় শহরের নামকরা ইংরেজি মাধ্যম স্কুল কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেননি। তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত। এরপর নিজের আগ্রহ ও চেষ্টায় ইংরেজি শেখেন তিনি। একসময় সেই শেখার অভিজ্ঞতাই অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   প্রথম দিকে সাধারণ ইংরেজি শব্দ, দৈনন্দিন কথোপকথন এবং সহজ বাক্য ব্যবহারের ভিডিও তৈরি করতেন যশোদা। ধীরে ধীরে ইংরেজিতে কথা বলার আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর বিষয়টিও তাঁর কনটেন্টের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। নিজের পরিচিত গ্রামীণ পরিবেশ থেকেই তিনি এসব ভিডিও তৈরি করতে থাকেন।   তাঁর ভিডিওর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সহজ উপস্থাপনা। ইংরেজি শেখানোর জন্য কঠিন শব্দ বা জটিল ব্যাকরণ ব্যবহারের পরিবর্তে দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত পরিস্থিতি তুলে ধরেন তিনি। বাড়ির কাজ, কৃষিজমিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা কিংবা সাধারণ মানুষের কথাবার্তা থেকে উদাহরণ নিয়ে ইংরেজি বোঝানোর চেষ্টা করেন।   এই পদ্ধতির কারণে বিশেষ করে হিন্দিভাষী এবং গ্রামীণ এলাকার মানুষের কাছে তাঁর ভিডিও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যারা ইংরেজি বলতে চান, কিন্তু ভুল হওয়ার ভয়ে কথা বলতে সাহস পান না, তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর চেষ্টা করেন যশোদা।   প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার ভিডিও শেয়ার করার পর তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। ৭ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, যশোদার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে অনুসারীর সংখ্যা ৫ লাখ ৮৩ হাজার ছাড়িয়েছে। ইউটিউবেও তাঁর অনুসারী চার লাখের বেশি। আলোচিত ভিডিওটি এরই মধ্যে তিন কোটি ৪০ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছে এবং ১৮ লাখের বেশি লাইক সংগ্রহ করেছে।   যশোদার কাজ শুধু প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার নজরেই আসেনি। অভিনেত্রী মৃণাল ঠাকুর এবং অভিনেতা অভয় দেওল ও আর মাধবনও এর আগে তাঁর উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। পরিচিত অভিনয়শিল্পীদের কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি পাওয়ায় নিজের কাজের প্রতি আরও উৎসাহ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন যশোদা।   তবে যশোদার এই পথচলা শুরু হয়েছিল একেবারেই সাধারণ পরিবেশ থেকে। নিজে ইংরেজি শেখার পর তিনি উপলব্ধি করেন, তাঁর মতো আরও অনেক মানুষ ভাষাটি শিখতে আগ্রহী। কিন্তু অনেকের কাছে ব্যয়বহুল কোর্স কিংবা প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ নেই। তাঁদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহজভাবে শেখানোর উদ্যোগ নেন তিনি।   ইংরেজি শেখানোর পাশাপাশি তাঁর নিজের জীবনযাত্রাও ভিডিওতে উঠে আসে। কখনো বাড়িতে, কখনো কৃষিজমিতে, আবার কখনো দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে ইংরেজিতে কথা বলেন তিনি। এই স্বাভাবিক উপস্থাপনাই তাঁকে অন্য অনেক কনটেন্ট নির্মাতার থেকে আলাদা করেছে।   স্বামীর বকুনি খাওয়ার ঘটনাটি নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। তবে একটি ভিডিওর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তাঁদের ব্যক্তিগত বা দাম্পত্য সম্পর্ক সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। যশোদা নিজেই ঘটনাটি তুলে ধরেছেন তাঁর কাজের স্বীকৃতি পাওয়ার অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা বোঝাতে।   প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার স্বীকৃতি পাওয়ার পর যশোদার গল্প নতুন করে সামনে এনেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষামূলক কনটেন্টের সম্ভাবনা। নিজের শেখা জ্ঞান অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতে বড় প্রতিষ্ঠান কিংবা অত্যাধুনিক স্টুডিও সব সময় অপরিহার্য নয়। সাধারণ পরিবেশ থেকেও নিয়মিত শিক্ষামূলক ভিডিও তৈরি করে বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব—যশোদার অভিজ্ঞতা তার একটি উদাহরণ।   কৃষিজমিতে কাজের ফাঁকে তৈরি করা একটি সাধারণ ভিডিও থেকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত অভিনেত্রীর নজরে আসা পর্যন্ত যশোদা লোধির এই যাত্রা এখন আলোচনার বিষয়। নিজের চেষ্টায় ইংরেজি শেখা গ্রামের এই নারী আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো মানুষের কাছে ইংরেজি শেখাচ্ছেন। আর প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরি তাঁর দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টাকে নতুন করে পরিচিতি এনে দিয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৫:৩৯
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পাকিস্তানি অভিনেত্রী সানাম সাঈদ। ছবি: সংগৃহীত

রোবট খনি, বিষাক্ত রাসায়নিক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ না করে ইমেইল লিখছে কেন! প্রশ্ন পাকিস্তানি অভিনেত্রীর

কেফিয়েহ পোশাকে ফিলিস্তিনি শিকড়ের প্রতি শ্রদ্ধা বেলার

কান উৎসবে ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিনি কেফিয়েহ কাপড়ের পোশাকে মার্কিন সুপারমডেল বেলা হাদিদ

৯০ কোটি রুপির ঋণ থেকে ৪ হাজার কোটির সম্পদ! যে কৌশলে ঘুরে দাঁড়ালেন অমিতাভ বচ্চন

৯০ কোটি রুপির ঋণ থেকে ৪ হাজার কোটির সম্পদ! যে কৌশলে ঘুরে দাঁড়ালেন অমিতাভ বচ্চন, জানুন

ভারতের মধ্যপ্রদেশের সিংরৌলি জেলায় জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সার নিধি তিওয়ারির মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
জনপ্রিয় টিকটকার নিধির মৃত্যু, শেষ ফোনালাপের এক তরুণের তথ্য যাচাই করছে পুলিশ

ভারতের মধ্যপ্রদেশের সিংরৌলি জেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সার নিধি তিওয়ারির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মোরওয়া এলাকার বাড়িতে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে নেন। সেখানে চিকিৎসকেরা ৩০ বছর বয়সী নিধিকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে করলেও মৃত্যুর কারণ তদন্ত করছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেসবুকে নিধির প্রায় ৯ লাখ এবং ইনস্টাগ্রামে প্রায় ৭ লাখ অনুসারী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে শোক প্রকাশ করেছেন।   পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে নিধি অন্য রাজ্যে বসবাসকারী এক তরুণের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। সিংরৌলির পুলিশ সুপার শিয়াজ কে এম জানিয়েছেন, পরিবারের দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। ওই কথোপকথনের সঙ্গে মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১১:৭
মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬ খেতাব জয়ের পর শৈশবের শহর আবুধাবিতে ফিরেছেন কাজিয়াহ লিজ মেজো। ছবি: সংগৃহীত

বন্ধু ও শিক্ষকদের ওয়াদা রাখতেই মুকুট নিয়ে আবুধাবিতে ফিরলেন মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হা ম লা ও ভা ঙ চু রের ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন সাদিয়া আয়মান

অশি ক্ষি ত, চাঁ দা বা জ দিয়ে দেশটা ভরে গেছে, ক্ষুব্ধ সাদিয়া আয়মান

লিপস্টিক পরীক্ষার সময় চু মু র দাগে ভরে গিয়েছিল রিচার্ড র‍্যামসির মুখ

লিপস্টিকের মান পরীক্ষায় চু মু র দাগে ভরে যায় লোকটির মুখ, তার একমাত্র কাজই ছিল চু মু খাওয়া

অস্ট্রেলিয়ার চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হচ্ছে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের ‘মাস্টার’
অস্ট্রেলিয়ার পর্দায় বাংলাদেশের ‘মাস্টার’, এবার হাইকমিশনের পোস্টেও প্রশংসা

বাংলাদেশের গল্প ও চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক যাত্রা তুলে ধরে পরিচালক রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের ‘মাস্টার’ নিয়ে পোস্ট করেছে ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন। শুক্রবার নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ছবিটির সিডনি ও মেলবোর্নের দুই গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের কথা তুলে ধরে হাইকমিশন লিখেছে—“Bangladeshi voices. Australian screens”, অর্থাৎ ‘বাংলাদেশের কণ্ঠ, অস্ট্রেলিয়ার পর্দায়’।   পোস্টে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন জানায়, সুমিতের ‘মাস্টার’ সম্প্রতি সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও মেলবোর্ন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হয়েছে। একই সঙ্গে তারা দর্শকদের কাছে জানতে চেয়েছে—চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার মানুষ বাংলাদেশের কোন বিষয়টি জানুক, সেটি তারা দেখতে চান?   অস্ট্রেলিয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবের অফিসিয়াল তথ্যেও ‘মাস্টার’-এর প্রদর্শনী নিশ্চিত করা হয়েছে। ১২৬ মিনিটের বাংলা ভাষার ছবিটি ৭৩তম সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অস্ট্রেলিয়ান প্রিমিয়ার করে। উৎসব কর্তৃপক্ষ ছবিটিকে বাংলাদেশের ছোট একটি শহরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ক্ষমতা ও ব্যক্তিগত মূল্যবোধের সংঘাত নিয়ে নির্মিত রাজনৈতিক ড্রামা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়।   সিডনির পর আগস্টে ছবিটি জায়গা করে নেয় মেলবোর্ন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। সেখানে এশিয়া প্যাসিফিক বিভাগে ছবিটি প্রদর্শিত হয় এবং এটি ছিল ছবিটির ভিক্টোরিয়ান প্রিমিয়ার। মেলবোর্ন উৎসবের বর্ণনায় ‘মাস্টার’-কে একজন আদর্শবাদী গ্রামীণ শিক্ষক রাজনীতিতে প্রবেশের পর ক্ষমতা, প্রভাব ও দুর্নীতির চাপে কীভাবে বদলে যান—সেই গল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহির। তিনি একজন শিক্ষক, যিনি স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনপ্রতিনিধি হন। কিন্তু রাজনীতিতে প্রবেশের পর ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক প্রভাবশালী, স্থানীয় সন্ত্রাসী, পুলিশ ও আমলাতন্ত্রের বিভিন্ন চাপের মুখোমুখি হতে থাকেন। জাহির চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসির উদ্দিন খান। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আরও রয়েছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবুসহ অন্যরা।   অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর আগেই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে বড় স্বীকৃতি পেয়েছে ‘মাস্টার’। চলতি বছরের ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারডামের বিগ স্ক্রিন কম্পিটিশনে ‘বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড’ জেতে ছবিটি। রটারডাম উৎসবের অফিসিয়াল তথ্যেও ২০২৬ সালের বিজয়ী হিসেবে ‘মাস্টার’-এর নাম রয়েছে।   সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ছবিটির নির্বাচনের সময় সুমিত বলেছিলেন, বাংলাদেশের স্থানীয় রাজনীতির গভীরে থাকা একটি ছোট গল্প আন্তর্জাতিক দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারা তার জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকা হোক কিংবা বড় আন্তর্জাতিক শহর—ক্ষমতার প্রভাব, নৈতিকতা ধরে রাখার সংগ্রাম এবং এর মানবিক মূল্য সর্বজনীন বিষয়।   অস্ট্রেলিয়ার এসবিএস বাংলাও সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সময় সুমিত ও ‘মাস্টার’ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্থানীয় রাজনীতির মধ্য দিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতা, ক্ষমতা, প্রভাব ও সামাজিক পরিবর্তনের বিষয়গুলো ছবিটিতে উঠে আসার কথা বলা হয়।   এবার অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে ছবিটির আন্তর্জাতিক যাত্রা তুলে ধরায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে হাইকমিশনের ‘বাংলাদেশের কণ্ঠ, অস্ট্রেলিয়ার পর্দায়’ বার্তাটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক পরিচিতি বাড়ানোর দিকটিও সামনে এনেছে।   সূত্র: অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন, বাংলাদেশ; সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল; মেলবোর্ন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল; ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারডাম; এসবিএস অস্ট্রেলিয়া

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৮:১২
মুম্বাইয়ে আম্বানি পরিবারের গণেশোৎসবের আয়োজনে ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় সাজে নজর কেড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে টিফানি ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

আম্বানিদের গণেশোৎসবের আয়োজনে ট্রাম্পকন্যা টিফানি, ভারতীয় লেহেঙ্গায় নজর কাড়লেন

ক্যালিফোর্নিয়ার মালিবুর বিলাসবহুল বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জেমস বন্ড তারকা পিয়ার্স ব্রসনান। ছবি: সংগৃহীত

আগুন-ভূমিকম্পের ভয়, ১০০ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি ছাড়ছেন হলিউড অভিনেতা পিয়ার্স ব্রসনান

বাগদত্তা মাইকেল পোলানস্কির সঙ্গে প্রথম সন্তানের আগমন

মা হলেন লেডি গাগা, বাগদত্তা মাইকেল পোলানস্কির সঙ্গে প্রথম সন্তানের আগমন

0 Comments