- প্রচ্ছদ
- Topic
#ইরানযুদ্ধ
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ও কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে দেশটির সঙ্গে চুক্তি না হলে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান নিয়ে সিদ্ধান্ত খুব শিগগিরই নেওয়া হবে এবং বিষয়টি ‘একভাবে না একভাবে’ শেষ হবে। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখন দুটি পথ—ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো অথবা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া। ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কীভাবে আলোচনা করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও কঠোর ভাষায় বলেন, চুক্তি না হলে তাদের ‘উড়িয়ে দেওয়া’ হতে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ শান্তি আলোচনা আবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে বুধবার ইরানি কর্মকর্তারা জানান, দুই দেশের মধ্যে মূল মতপার্থক্যের একটি বড় বিষয় হলো চুক্তি বাস্তবায়নের সময়সূচি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিক্রিয়া প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও মন্ত্রিসভার কাছে তুলে ধরেছেন বলে সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন। ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, চুক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে তার সরকার সব ধরনের চেষ্টা চালাবে এবং ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষায় দৃঢ় থাকবে। তার ভাষায়, সম্ভাব্য চুক্তি অবশ্যই দুই পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য বা ‘উইন-উইন’ ভিত্তির হতে হবে। ইরানের অর্থনীতিও দীর্ঘ যুদ্ধের চাপে আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর দেশটির মুদ্রা রিয়ালের দর এক ডলারের বিপরীতে ২৫ লাখেরও বেশি রিয়ালে নেমে যায়, যা নতুন রেকর্ড। এর মাত্র ২৭ দিন আগে, ২ সেপ্টেম্বর, প্রতি ডলারের বিপরীতে রিয়ালের দর প্রায় ২২ লাখে নেমেছিল। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন পক্ষ দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার পথ খুঁজছে। আলোচনায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন শর্ত উঠে আসছে। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার প্রভাব জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। সেপ্টেম্বরে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১৪ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছিল। তবে ১ অক্টোবর সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তেলের দাম কিছুটা কমেছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, কূটনৈতিক সমঝোতার পাশাপাশি সামরিক বিকল্পও আলোচনার কেন্দ্রেই রয়েছে। তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফল এখনো অনিশ্চিত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শেষ করার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, সংঘাতের অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানই একমাত্র পথ। তাঁর এই বক্তব্য এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর। ইরান সম্প্রতি প্রস্তাব দিয়েছিল, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে এবং সংঘাত বন্ধে আলোচনা আবার শুরু করা যাবে। প্রস্তাবটি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছানো হয়। তবে শনিবার হোয়াইট হাউস থেকে বের হওয়ার সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরান খুব কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে বলেই দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলতে চুক্তি করতে চাইছে। এর জবাবে আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পর্কে তেহরান অবগত হলেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো পায়নি। তাই আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। আরাঘচি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার শর্তগুলো আগের মতোই রয়েছে। জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতা স্মারকে যে শর্তগুলো ছিল, সেগুলোকেই আলোচনার ভিত্তি হিসেবে দেখছে তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পর তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া অবিশ্বাস দূর না হলে সফল আলোচনা কঠিন হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, জুনের সমঝোতা স্মারক ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়ে ইরান আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি বিষয় পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন—তেহরান চায় ওয়াশিংটন নিশ্চিত করুক যে ইরানের সরকার পরিবর্তনের কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক অভিযান শুরু করায় জুনের সমঝোতার ওপর আস্থা নষ্ট হয়েছে। হরমুজ প্রণালি এই সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস পরিবহনের একটি বড় অংশ সাধারণত এই জলপথ দিয়ে যায়। সংঘাতের কারণে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে ওমান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সব পক্ষকে আলোচনার পথ খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং কৌশলগত এই জলপথে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখতে সহযোগিতা করার কথা বলেছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ হুইটেকার ইরানের প্রস্তাবকে ‘অর্ধেক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করে ট্রাম্পের তা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও দাবি করেছেন, ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেশটির ওপর চাপ তৈরি করছে। তবে অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, এসব নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর হবে। কারণ ইরানের বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের প্রতিক্রিয়ার ওপর এর প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে। বিশেষ করে চীন ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা এবং আগের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে গেছে।
সৌদি আরবে একটি অ-যু দ্ধসংক্রান্ত ফ্লাইটে গত সপ্তাহে নি হ ত হয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী মার্কিন সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিয়াঙ্কা সি. উইলকারসন। ভার্জিনিয়ার নরফোকের বাসিন্দা উইলকারসন ১৮ সেপ্টেম্বর মৃ ত্যু বরণ করেন। মৃ ত্যুর পর তাকে মেজর পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ক্যাজুয়েলটি ডেটাবেস অনুযায়ী, তার মৃ ত্যুর পর অপারেশন এপিক ফিউরি এবং ওভারসিজ অপারেশনসের আওতায় মোট ১৯ জন মার্কিন সামরিক সদস্যের মৃ ত্যুর তথ্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। এসব হ তাহতকে দুটি পৃথক শ্রেণিতে নথিভুক্ত করা হচ্ছে। উইলকারসন কাতারের দোহায় ওভারসিজ অপারেশনসের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি সাউথ ক্যারোলাইনায় শ’ এয়ার ফোর্স বেসে অবস্থিত ইউএস আর্মি সেন্ট্রাল ও থার্ড আর্মির হেডকোয়ার্টার্সের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উইলকারসনের মৃ ত্যু কোনো যু দ্ধসংক্রান্ত ঘটনার কারণে হয়নি। সৌদি আরবের উদ্দেশে পরিচালিত একটি অ-যু দ্ধ ফ্লাইটের সময় ঘটনাটি ঘটে। তবে কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে বা তার মৃ ত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ কী ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে ত দন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। ত দন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃ ত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। উইলকারসনের মৃ ত্যুর তথ্য বিদেশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পরিচালিত কার্যক্রমে সাম্প্রতিক হ তাহতের হিসাবের অংশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে। পেন্টাগন অপারেশন এপিক ফিউরি এবং অন্যান্য ওভারসিজ অপারেশনের মৃ ত্যুর তথ্য আলাদাভাবে সংরক্ষণ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। সেখানে ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট, বিশ্ব বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয় উঠে আসতে পারে। একই দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও করার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। গত বছর জাতিসংঘের ভাষণে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কথা তুলে ধরে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে। এবার ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের প্রায় সাত মাসের মাথায় তিনি একই ধরনের বার্তা দিতে পারেন। সোমবার ট্রাম্পও বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না এবং দেশটি ভালো অবস্থায় নেই। ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও গ্যাস এখনো পরিবহন হচ্ছে। তবে যুদ্ধের আগের তুলনায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ কম থাকায় জ্বালানি বাজার ও বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ছে। জাতিসংঘে সমুদ্রপথের স্বাধীনতা ও নিরাপদ বাণিজ্য নিয়েও আলোচনা হতে পারে। ট্রাম্পের ভাষণে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেতে পারে। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই এখনো তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, যুদ্ধটি সমাধান করা কঠিন হলেও যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে অগ্রগতির চেষ্টা চালিয়ে যাবে। জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিসহ বিভিন্ন দেশের নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন ট্রাম্প। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের সূচি রয়েছে। এ ছাড়া ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গেও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং সমাজ ও মানবজীবনে এর প্রভাব নিয়েও ট্রাম্পের বক্তব্যে আলোচনা আসতে পারে। সব মিলিয়ে যুদ্ধ, জ্বালানি, বিশ্ব অর্থনীতি, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান জাতিসংঘের মঞ্চে উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাবে ইরানে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে পেট্রলের জন্য দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে, অনেক স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে এবং কোথাও কোথাও নিম্নমানের জ্বালানি ব্যবহারের পর গাড়িতে যান্ত্রিক ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে সরকার পেট্রলের দাম দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করছে। ইরানের পার্লামেন্টের অর্থনৈতিক কমিশনের সদস্য জাফর ঘাদেরি জানিয়েছেন, দেশটিতে প্রতিদিন ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি লিটার পেট্রলের ঘাটতি রয়েছে। আমদানি করা পেট্রলের জন্য প্রতি লিটারে প্রায় ১ ডলার খরচ হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধে আমদানি ব্যাহত হওয়ায় সংকট আরও গভীর হয়েছে। আগে আমদানির প্রায় ৮৩ শতাংশই দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্রপথে আসত। রাজধানী তেহরানের ভেলেনজাক, ফারমানিয়েহ ও পাসদারানসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রল স্টেশনে দীর্ঘ সারির খবর পাওয়া গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে মাশহাদ, রাশত, সারাভান ও চাবাহারেও। কোথাও কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত যানবাহনের সারি তৈরি হয়েছে, আবার অনেক স্টেশন জ্বালানি শেষ হয়ে বন্ধ রয়েছে। এক বাসিন্দা জানান, পেট্রল পেতে তাঁকে পাঁচটি স্টেশনে যেতে হয়েছে। সংকটের আরেকটি দিক হলো জ্বালানির মান। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পেট্রল নেওয়ার পর গাড়ির ইঞ্জিনে সমস্যা, সতর্কসংকেত জ্বলে ওঠা, গতি কমে যাওয়া ও ইঞ্জিনের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। শাহর-ই রে ও রাফসানজানেও জ্বালানি নেওয়ার পর একাধিক গাড়ি ও মোটরসাইকেল বিকল হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু স্থানীয় কর্মকর্তা জ্বালানি পরিবহনের সময় ট্যাংকে পানি ঢোকার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তবে বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের সমস্যার ঘটনায় জ্বালানির মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইরানের পেট্রল উৎপাদনে মিথানলের ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদিত মাত্রার বেশি মিথানল থাকলে গাড়ির জ্বালানি ব্যবস্থা ও ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে দেশটির তেল মন্ত্রণালয় বলছে, মিথানলের ব্যবহার সীমিত এবং নির্ধারিত মান মেনেই করা হচ্ছে। এর মধ্যে পেট্রলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে ইরান সরকার। প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, তৃতীয় স্তরের পেট্রলের দাম ৫ হাজার থেকে বেড়ে ১০ হাজার তোমানে উঠবে। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে উৎপাদন ও আমদানি ব্যয়ের তুলনায় পেট্রল অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে। দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন অনেক ইরানি। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর প্রভাব ইতোমধ্যে পড়তে শুরু করেছে বলেও বিভিন্ন বাসিন্দা জানিয়েছেন। পেট্রলের সংকটে যানবাহন কম চলাচল, গাড়ি মেরামতের ব্যয় বৃদ্ধি এবং নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার অভিযোগও রয়েছে। সরকার জ্বালানি সংকটের জন্য যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও আমদানির উচ্চ ব্যয়কে দায়ী করছে। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শোধনাগার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের ঘাটতি, পুরোনো পরিবহন ব্যবস্থা, জ্বালানি-অদক্ষ গাড়ি উৎপাদন এবং সামরিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচিতে রাষ্ট্রের ব্যাপক ব্যয়ের কারণেও বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে ইরানে পেট্রল সংকট এখন শুধু জ্বালানি পাওয়ার সমস্যা নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাড়তি দাম, জ্বালানির মান নিয়ে উদ্বেগ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের খরচ ইতোমধ্যে ৩৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। গত ১ আগস্ট পর্যন্ত এই ব্যয়ের হিসাব দিয়েছে নিরপেক্ষ কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, সংঘাতের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে প্রতি মাসে আরও ৩ বিলিয়ন ডলার বা তার বেশি খরচ হতে পারে। সিবিওর হিসাব অনুযায়ী, এই সংঘাতের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতিতেও পড়ছে। ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি আগের পূর্বাভাসের তুলনায় প্রায় দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি থাকতে পারে। এর অন্যতম কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন কমে যাওয়া এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন। প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট ব্রেন্ডন বয়েলের অনুরোধে এই মূল্যায়ন তৈরি করেছে সিবিও। তাদের হিসাব এর আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দেওয়া ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের হিসাবের কাছাকাছি। সিবিও বলেছে, ব্যয়ের বড় অংশ যাচ্ছে যুদ্ধে ধ্বংস বা হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় কেনার পেছনে। তবে নিহত বা আহত মার্কিন সেনাদের সঙ্গে সম্পর্কিত খরচ এবং ভবিষ্যতে সাবেক সেনাসদস্যদের চিকিৎসা ও প্রতিবন্ধী ভাতার মতো দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় এই হিসাবের মধ্যে রাখা হয়নি। সিবিওর প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন ইরান সংঘাতের আর্থিক প্রভাব ও মূল্যস্ফীতি যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতটি এখন সপ্তম মাসে পড়েছে এবং দ্রুত শেষ হওয়ার কোনো নিশ্চিত লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এর আগে জুনে হোয়াইট হাউস কংগ্রেসের কাছে ৮৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত তহবিল চেয়েছিল। এর মধ্যে ৪২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সরাসরি ইরান সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে সিবিও মনে করছে। এই অঙ্ক সিবিওর হিসাব করা প্রতিরক্ষা ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। তবে এই হিসাব নিয়ে অনিশ্চয়তাও রয়েছে। প্রতিরক্ষা বিভাগ সিবিওর তথ্য চাওয়ার অনুরোধে সাড়া দেয়নি। ফলে বাজেট অফিসকে সরকারি তথ্যভান্ডার ও প্রকাশ্য প্রতিবেদনসহ অন্যান্য উৎসের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। সিবিও জানিয়েছে, এ কারণে তাদের হিসাবের ক্ষেত্রে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। এদিকে পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্র ও সরঞ্জামের মজুতে “কৌশলগত ঘাটতি” তৈরি হয়েছে।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে অবশেষে ঐকমত্যে পৌঁছেছে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো। ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশের বিষয়ে কয়েক দিনের টানা আলোচনার পর সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে। শিগগিরই এই যৌথ ঘোষণা গ্রহণ করা হবে। পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ নিয়ে ব্রিকসের সদস্য ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে মতবিরোধ ছিল। বিশেষ করে যুদ্ধ নিয়ে যৌথ ঘোষণাপত্রের ভাষা কী হবে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়। চলতি বছরের মে মাসে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও এ বিষয়ে কোনো ঐকমত্য হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর মধ্যেই ব্রিকসের ১১ সদস্য দেশের শীর্ষ আলোচকরা যৌথ ঘোষণাপত্রে সম্মতি আনতে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে যান। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২৪ সালে ব্রিকসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দুই দেশকে নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা তৈরির চেষ্টা করছে ভারত। এবারও যুদ্ধ নিয়ে দুই দেশের ভিন্ন অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় করতে ভারতীয় কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়, যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘাঁটিও ছিল। এ নিয়ে গত ছয় মাস ধরে ইরান ও আমিরাতের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই মতপার্থক্য কাটিয়ে ব্রিকসের ১১ সদস্য দেশ যৌথ ঘোষণার বিষয়ে একমত হওয়ায় নয়াদিল্লি সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ একটি সমঝোতার পথ তৈরি হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কথা রয়েছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত কমে যাচ্ছে—এমন খবর প্রকাশের পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া দুটি পোস্টে তিনি এসব প্রতিবেদনকে ‘বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ’ বলে আখ্যা দেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ইরান যুদ্ধের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য গোলাবারুদের মজুত নিয়ে উদ্বেগের খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই এসব প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। বৃহস্পতিবার এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে গোলাবারুদ নেই—এমন দাবি করা সংবাদমাধ্যমগুলো ‘১০০ শতাংশ ভুল’। তার অভিযোগ, এসব সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রের জয় দেখতে চায় না। ট্রাম্প লেখেন, যারা বারবার যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদ শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে প্রচার করছে, তারা আসলে ‘বিশ্বাসঘাতক’। তার ভাষায়, এসব সংবাদমাধ্যম যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে হেরে যাক—এটাই যেন চায়। এর কিছুক্ষণ পর আরও কড়া ভাষায় আরেকটি পোস্ট দেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি সমালোচকদের ‘বিশ্বাসঘাতক আবর্জনা’ বলে মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ‘প্রায় সীমাহীন’ পরিমাণ মাঝারি থেকে উচ্চমানের গোলাবারুদ রয়েছে। ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন মাত্রায় গোলাবারুদ মজুত করছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবেই এই মজুত গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনেরও সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, বাইডেন প্রশাসন রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে থাকা ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারের চেয়েও বেশি পরিমাণ গোলাবারুদ বিনামূল্যে দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেন ও ন্যাটোকে শত শত বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে, যার মূল্য ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে নেওয়া যেত। ভবিষ্যতে মিত্রদের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টিও আবার শুরু হবে বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।