ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৩৮ বিলিয়ন ডলার, সামনে মাসে আরও ৩ বিলিয়ন
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের খরচ ইতোমধ্যে ৩৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। গত ১ আগস্ট পর্যন্ত এই ব্যয়ের হিসাব দিয়েছে নিরপেক্ষ কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, সংঘাতের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে প্রতি মাসে আরও ৩ বিলিয়ন ডলার বা তার বেশি খরচ হতে পারে।
সিবিওর হিসাব অনুযায়ী, এই সংঘাতের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতিতেও পড়ছে। ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি আগের পূর্বাভাসের তুলনায় প্রায় দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি থাকতে পারে। এর অন্যতম কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন কমে যাওয়া এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন।
প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট ব্রেন্ডন বয়েলের অনুরোধে এই মূল্যায়ন তৈরি করেছে সিবিও। তাদের হিসাব এর আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দেওয়া ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের হিসাবের কাছাকাছি।
সিবিও বলেছে, ব্যয়ের বড় অংশ যাচ্ছে যুদ্ধে ধ্বংস বা হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় কেনার পেছনে। তবে নিহত বা আহত মার্কিন সেনাদের সঙ্গে সম্পর্কিত খরচ এবং ভবিষ্যতে সাবেক সেনাসদস্যদের চিকিৎসা ও প্রতিবন্ধী ভাতার মতো দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় এই হিসাবের মধ্যে রাখা হয়নি।
সিবিওর প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন ইরান সংঘাতের আর্থিক প্রভাব ও মূল্যস্ফীতি যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতটি এখন সপ্তম মাসে পড়েছে এবং দ্রুত শেষ হওয়ার কোনো নিশ্চিত লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
এর আগে জুনে হোয়াইট হাউস কংগ্রেসের কাছে ৮৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত তহবিল চেয়েছিল। এর মধ্যে ৪২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সরাসরি ইরান সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে সিবিও মনে করছে। এই অঙ্ক সিবিওর হিসাব করা প্রতিরক্ষা ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি।
তবে এই হিসাব নিয়ে অনিশ্চয়তাও রয়েছে। প্রতিরক্ষা বিভাগ সিবিওর তথ্য চাওয়ার অনুরোধে সাড়া দেয়নি। ফলে বাজেট অফিসকে সরকারি তথ্যভান্ডার ও প্রকাশ্য প্রতিবেদনসহ অন্যান্য উৎসের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। সিবিও জানিয়েছে, এ কারণে তাদের হিসাবের ক্ষেত্রে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এদিকে পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্র ও সরঞ্জামের মজুতে “কৌশলগত ঘাটতি” তৈরি হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের এক পরিবারের আড়াই বছরের শিশুর ডাইনোসরের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ একসময় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শুরুতে খেলনা ডাইনোসর নিয়ে তার উচ্ছ্বাসকে স্বাভাবিক শিশুসুলভ আনন্দ হিসেবেই দেখেছিলেন বাবা-মা। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই আগ্রহ তার দৈনন্দিন আচরণে প্রভাব ফেলতে শুরু করে। ডাইনোসরের মতো গর্জন, পা দিয়ে মেঝেতে আঘাত করা এবং পরিবারের সদস্যদের মারার মতো আচরণ করতে থাকে সে। একপর্যায়ে খেলনা ডাইনোসর ছুড়ে মেরে তার দাদার গাল কেটে দেয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেন শিশুটির বাবা-মা। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটির নাম সাবার। তার মা এলিজা কারাজাহ জানান, বসন্তকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আনন্দ দিতে বাবা বালপ্রিত ১৫টি ছোট প্লাস্টিকের ডাইনোসর খেলনা কিনে আনেন। এরপর থেকেই ডাইনোসরের প্রতি তার গভীর আগ্রহ তৈরি হয়। খেলনাগুলো সব সময় সঙ্গে রাখত সে। ঘরের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার সময়ও ১৫টি ডাইনোসরই সঙ্গে নিয়ে যেত। পরে ডাইনোসরের ছবি আঁকা পোশাক পরা, এ ধরনের সিনেমা দেখা এবং ডাইনোসর নিয়ে তথ্যচিত্র দেখার প্রতিও তার আগ্রহ বাড়তে থাকে। শিশুটির মা বলেন, প্রথম দিকে বিষয়টি তাদের কাছে বেশ মজার মনে হয়েছিল। ডাইনোসর দেখলেই সাবার আনন্দে মেতে উঠত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার আগ্রহ এতটাই বেড়ে যায় যে টেলিভিশনে অন্য কিছু দেখতেই চাইত না। ডাইনোসরবিষয়ক সিনেমা, তথ্যচিত্র ও ইউটিউব ভিডিওই হয়ে ওঠে তার পছন্দের একমাত্র বিনোদন। ছোট ভাইয়ের জন্মের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হতে থাকে। মায়ের অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হওয়ার সময় বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা শিশুটির দেখাশোনা করছিলেন। এ সময় তার ডাইনোসরবিষয়ক ভিডিও দেখার সুযোগও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে সাবার শুধু ডাইনোসরের অভিনয় করেই ক্ষান্ত থাকত না, খেলনাগুলো পরিবারের সদস্যদের আঘাত করার জন্য ব্যবহার করতে শুরু করে। প্রথমে খেলনাগুলো একটির সঙ্গে আরেকটি আঘাত করত। পরে সেগুলো ছুড়ে মারতে থাকে এবং পরিবারের সদস্যদের গায়ে আঘাত করত। একবার একটি উড়ন্ত ডাইনোসরের খেলনা ছুড়ে তার দাদার গাল কেটে দেয়। ঘটনাটির পর পরিবারটি সিদ্ধান্ত নেয়, আপাতত ডাইনোসর নিয়ে সব ধরনের ভিডিও ও অনুষ্ঠান বন্ধ রাখা হবে। এরপর ধীরে ধীরে ধারালো খেলনা, বড় খেলনা এবং ছোট খেলনাগুলোও সরিয়ে ফেলা হয়। শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞ কেইটলিন ব্লাইথের মতে, ছোট শিশুদের কোনো নির্দিষ্ট খেলনা বা বিষয়ের প্রতি প্রবল আগ্রহ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এ বয়সে শিশুরা চারপাশের জগৎকে বুঝতে ও বিভিন্ন বিষয় শ্রেণিবদ্ধ করতে শেখে। ডাইনোসরের নাম, আকার ও ধরন সম্পর্কে জানার মধ্য দিয়ে তারা কোনো একটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের আনন্দ পেতে পারে। ২০০৭ সালে ‘ডেভেলপমেন্টাল সাইকোলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় ১৭৭ জন অভিভাবকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশুর কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের প্রতি অত্যন্ত তীব্র আগ্রহ তৈরি হয়। তবে এ ধরনের আগ্রহের বিষয়বস্তু ও স্থায়িত্ব শিশুভেদে ভিন্ন হতে পারে। ব্লাইথ বলেন, ডাইনোসর সেজে গর্জন করা বা পা দিয়ে মেঝেতে আঘাত করা স্বাভাবিক কল্পনাপ্রসূত খেলার অংশ হতে পারে। তবে খেলতে গিয়ে অন্যকে আঘাত করা গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, শুধু খেলনা সরিয়ে নিলেই সমস্যার সমাধান হয় না। শিশুটি কেন এমন আচরণ করছে, সেটিও বোঝা জরুরি। বড়দের উচিত শিশুর খেলায় অংশ নেওয়া এবং গল্পের মাধ্যমে তাকে অন্যের প্রতি যত্নশীল আচরণ শেখানো। যেমন, খেলায় কোনো ডাইনোসন আহত হলে অন্য ডাইনোসররা তাকে সাহায্য করছে, এমন গল্প তৈরি করা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞের ধারণা, ছোট ভাইয়ের জন্মের পর পরিবারের পরিবেশে বড় পরিবর্তন আসায় সাবারের মধ্যে তৈরি হওয়া অনুভূতি প্রকাশের একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছিল ডাইনোসরকেন্দ্রিক খেলা। নিজের আবেগ ভাষায় প্রকাশ করতে না পারায় সে হয়তো গর্জন বা আক্রমণাত্মক আচরণের মাধ্যমে তা প্রকাশ করছিল। তবে এটি বিশেষজ্ঞের সম্ভাব্য ব্যাখ্যা, শিশুটির আচরণের নিশ্চিত কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়। এলিজা জানান, ডাইনোসরবিষয়ক ভিডিও ও খেলনা থেকে দূরে রাখার পর সাবারের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এখন সে আগের তুলনায় বেশি কথা বলে এবং নিজের মন খারাপ, আনন্দ বা ভয় পাওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারে। ছবি আঁকা, নাচা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খেলাধুলাও করছে। মাঝেমধ্যে এখনো ডাইনোসরের মতো গর্জন বা পা দিয়ে আঘাত করার প্রবণতা দেখা যায়। তবে পরিবারটি তাকে কথার মাধ্যমে অনুভূতি প্রকাশে উৎসাহিত করছে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে আবার ডাইনোসরের খেলনা ফিরিয়ে আনার কথা ভাবছেন তারা। এলিজার মতে, ডাইনোসর নয়, বরং অতিরিক্ত পর্দানির্ভরতা এবং বাড়িতে নতুন শিশুর আগমনের পর পারিবারিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ছেলের আচরণে প্রভাব ফেলেছিল। তাই আপাতত ডাইনোসরবিষয়ক খেলনা ও ভিডিও থেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্তেই অনড় রয়েছেন তারা। সূত্র: নিউজউইক, ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন হিউম্যান নিউরোসায়েন্স’ সাময়িকী এবং ‘ডেভেলপমেন্টাল সাইকোলজি’ সাময়িকী।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এক বছরে ৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী কমেছে
নিউ ইয়র্কে সন্ধ্যায় জগিংয়ে বেরিয়ে হামলার শিকার নারী, হাসপাতালে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে
বাবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে না খেয়ে থাকতেন নিউ ইয়র্কের তরুণী, শেষ পরিণতি হাসপাতালে
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের (FBI) পরিচালক কাশ প্যাটেলকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) অ্যান্থনি ড্যানিয়েল পালাজোলো (৪২) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তঃরাজ্য যোগাযোগের মাধ্যমে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মিশিগানের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের কেন্দ্রীয় অ্যাটর্নির কার্যালয়। মামলার নথি অনুযায়ী, মিশিগানের চেস্টারফিল্ড টাউনশিপের বাসিন্দা পালাজোলো অক্টোবরের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কাশ প্যাটেল ও তাঁর এক সহযোগীকে লক্ষ্য করে প্রাণনাশের হুমকি দেন। ৮ অক্টোবর ওই সহযোগীকে পাঠানো একটি বার্তায় তিনি লেখেন, ওই ব্যক্তিকে হত্যার জন্য লোক ঠিক করেছেন এবং প্যাটেলও বাঁচবেন না। বার্তাটিতে তিনি নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন ‘বেবি বার্ড’ নামে। তবে প্যাটেলের ওই সহযোগীর পরিচয় প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। এফবিআইয়ের বিশেষ এজেন্ট ব্রায়ান ককজেনাশের দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পালাজোলোর ফেসবুক ও টিকটক অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা তাঁর অবস্থান শনাক্ত করেন। ৯ অক্টোবর এফবিআইয়ের কর্মকর্তারা চেস্টারফিল্ড টাউনশিপে তাঁর বাসায় গিয়ে কথা বলেন। এ সময় পালাজোলো জানান, সরকারি সংস্থাগুলো তাঁর সম্পত্তির অধিকার লঙ্ঘন করছে বলে তিনি মনে করেন। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তিনি ফেসবুকে হুমকিমূলক বার্তা পাঠানোর কথা স্বীকার করেন এবং ক্ষমা চেয়ে বলেন, কাউকে ক্ষতি করার ইচ্ছা তাঁর ছিল না। তবে এফবিআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের পরও তাঁর হুমকিমূলক যোগাযোগ বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর তিনি সংশ্লিষ্ট এক এফবিআই কর্মকর্তার সরকারি ইমেইল ঠিকানায় বার্তা পাঠান। একই সঙ্গে টেক্সাসের একটি কেন্দ্রীয় আদালত, যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস এবং সুপ্রিম কোর্টেও হুমকিমূলক বার্তা পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পরদিন ওই কর্মকর্তাকে ফোন করে দুটি ভয়েস মেসেজ দেন পালাজোলো। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের হুমকি দেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে। শুক্রবার মিশিগানের একটি কেন্দ্রীয় আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক ডেভিড আর গ্র্যান্ডের সামনে হাজির করা হয় পালাজোলোকে। শুনানি শেষে তাঁকে সাময়িকভাবে আটক রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। আদালতের নথি অনুযায়ী, আগামী সোমবার (২ নভেম্বর) তাঁর জামিন ও হেফাজতসংক্রান্ত শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। শুক্রবারের শুনানিতে তিনি কোনো দোষ স্বীকার বা অস্বীকার করে আবেদন করেননি। এদিকে এফবিআই এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য কেন্দ্রীয় অ্যাটর্নির কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে। পালাজোলোর পক্ষে আদালত নিযুক্ত আইনজীবীও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। এর আগে চলতি বছরের মার্চে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের অ্যালডেন ওয়েলচ রামল নামের আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কাশ প্যাটেলের বাগ্দত্তা অ্যালেক্সিস উইলকিনসকে হুমকিমূলক ইমেইল পাঠানোর অভিযোগে মামলা করা হয়। ওই মামলায় রামল নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং তাঁর বিচার আগামী ফেব্রুয়ারিতে হওয়ার কথা রয়েছে। পালাজোলোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আইন অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব মিশিগানের অ্যাটর্নির কার্যালয় এবং সিএনএন।
ছুটিতে থেকেও রোগী দেখানোর বিল! কোটি ডলার জালিয়াতিতে চিকিৎসকের ১৫ বছরের কারাদণ্ড
খুলনার শেখ আল আমিন এখন মার্কিন সেনাবাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার
আজীবন সমুদ্রভ্রমণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বন্ধ ক্রুজ, বিপুল অর্থ হারিয়েও অভিজ্ঞতা নিয়ে সন্তুষ্ট দুই বোন
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কোনো সদস্যের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করার পর পিটিশনকারী মারা গেলে আবেদনটি কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায়? সাধারণ নিয়মে পিটিশনকারীর মৃত্যু হলে মুলতবি আই-১৩০ পিটিশন অনুমোদনে বাধা তৈরি হয় এবং আগে অনুমোদিত পিটিশনও বাতিল হতে পারে। তবে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, বিশেষ তিনটি পরিস্থিতিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর বিধবা বা বিপত্নীক হিসেবে আবেদন, অভিবাসন আইনের ২০৪(এল) ধারায় সুরক্ষা এবং মানবিক কারণে অনুমোদিত পিটিশন পুনর্বহালের আবেদন। পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ডের আবেদনে সাধারণত মার্কিন নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা স্বজন আই-১৩০ ফরম জমা দেন। এই আবেদনকে ফ্যামিলি পিটিশন বলা হয়। এর মাধ্যমে আবেদনকারী ও বিদেশি স্বজনের মধ্যে যোগ্য পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হয়। তবে আই-১৩০ পিটিশন অনুমোদন হলেই গ্রিন কার্ড পাওয়া নিশ্চিত হয় না। ভিসার প্রাপ্যতা, আর্থিক স্পনসরশিপ, অভিবাসনসংক্রান্ত যোগ্যতা এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। আবেদন চলাকালে পিটিশনকারীর মৃত্যু হলে সেই প্রক্রিয়ায় নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। প্রথম সুযোগটি রয়েছে মার্কিন নাগরিকের বিধবা বা বিপত্নীকের জন্য। কোনো মার্কিন নাগরিক তাঁর বিদেশি স্বামী বা স্ত্রীর জন্য আই-১৩০ পিটিশন জমা দিয়ে মারা গেলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের ভিত্তিতে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আই-৩৬০ বিধবা বা বিপত্নীক পিটিশনে রূপান্তরিত হয়। পিটিশনটি মৃত্যুর সময় মুলতবি ছিল কিংবা আগেই অনুমোদিত হয়েছিল, উভয় পরিস্থিতিতেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। ফলে শুধু পিটিশনকারী স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে নতুন করে পুরো পরিবারভিত্তিক আবেদন শুরু করতে হয় না। তবে আই-৩৬০-এর এই সুবিধা পাওয়ার জন্য বৈবাহিক সম্পর্কের বৈধতা এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে মৃত ব্যক্তিকে মৃত্যুর সময় মার্কিন নাগরিক হতে হবে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আইনগত বিচ্ছেদ থাকা যাবে না এবং জীবিত সঙ্গীর পুনর্বিবাহসংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে। মৃত মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রী আগে আই-১৩০ পিটিশন জমা না দিয়ে থাকলেও যোগ্য বিধবা বা বিপত্নীক সাধারণত মৃত্যুর দুই বছরের মধ্যে নিজে আই-৩৬০ জমা দিতে পারেন। তবে এই সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব গ্রিন কার্ডধারী পিটিশনকারীর স্বামী বা স্ত্রীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। দ্বিতীয় সুযোগটি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ২০৪(এল) ধারায়। এই বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিবারভিত্তিক পিটিশনের সুবিধাভোগী পিটিশনকারীর মৃত্যুর সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে থাকলে এবং মৃত্যুর পরও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস অব্যাহত রাখলে আবেদন এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করতে পারেন। আই-১৩০ পিটিশন মৃত্যুর সময় মুলতবি থাকলেও এই সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব হতে পারে। একইভাবে আগেই অনুমোদিত পিটিশন থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি অনুযায়ী ধারাটি ব্যবহার করা যায়। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর একটি হলো আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের তথ্য। শুধু মৃত্যুর সময় যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে উপস্থিত থাকা এবং সেখানে নিয়মিত বসবাস করা এক বিষয় নয়। ইউএসসিআইএস আবেদনকারীর প্রকৃত বসবাসের পরিস্থিতি বিবেচনা করতে পারে। পাশাপাশি মূল আবেদনকারীর মৃত্যু, পারিবারিক সম্পর্ক ও আবেদনসংক্রান্ত নথি জমা দিতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে প্রধান সুবিধাভোগীর পরিবর্তে তাঁর যোগ্য পরিবারের অন্য সদস্যও ২০৪(এল) ধারার সুরক্ষার আওতায় আসতে পারেন। ২০৪(এল) ধারার আওতায় আবেদন চালিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলেই অনুমোদন নিশ্চিত হয় না। ইউএসসিআইএসকে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাই করতে হয়। আইনের বিধান অনুযায়ী, অনুমোদন জনস্বার্থের পরিপন্থী হওয়ার বিশেষ কারণ থাকলে সংস্থা আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারে। আবার পিটিশন অনুমোদনের পরও গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য অন্যান্য প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করতে হবে। ফলে এই ধারাটি মৃত পিটিশনকারীর কারণে তৈরি হওয়া নির্দিষ্ট বাধা দূর করার সুযোগ দেয়, কিন্তু অন্য সব অভিবাসনসংক্রান্ত যোগ্যতার বিকল্প নয়। তৃতীয় সুযোগটি হলো মানবিক কারণে পিটিশন পুনর্বহাল বা হিউম্যানিটারিয়ান রিইনস্টেটমেন্ট। কোনো পরিবারের সদস্য বিদেশি স্বজনের জন্য আই-১৩০ পিটিশন জমা দিয়েছিলেন এবং তাঁর জীবদ্দশায় সেটি অনুমোদিত হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি মারা গেছেন—এমন পরিস্থিতিতে এই সুবিধার আবেদন করা যায়। সাধারণ নিয়মে পিটিশনকারীর মৃত্যুর কারণে অনুমোদিত পিটিশন বাতিল হলেও মানবিক বিবেচনায় ইউএসসিআইএস সেটির অনুমোদন পুনর্বহাল করতে পারে। তবে হিউম্যানিটারিয়ান রিইনস্টেটমেন্ট সবার জন্য স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়। ইউএসসিআইএস প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে বিবেচনা করে। আবেদনকারীর পারিবারিক পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা স্বজনদের সঙ্গে সম্পর্ক, আবেদনের বিলম্বের প্রভাব এবং অন্যান্য মানবিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে মৃত্যুর আগে পিটিশনটি অনুমোদিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। পিটিশন মুলতবি থাকা অবস্থায় পিটিশনকারীর মৃত্যু হলে সাধারণভাবে শুধু মানবিক পুনর্বহালের এই পথ ব্যবহার করা যায় না। মানবিক পুনর্বহালের ক্ষেত্রে সুবিধাভোগী ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাস করলেও আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। এখানেই এটি ২০৪(এল) ধারার সুরক্ষা থেকে আলাদা। উদাহরণ হিসেবে, একজন মার্কিন নাগরিক বাংলাদেশে থাকা ভাই বা বোনের জন্য আই-১৩০ পিটিশন করেছিলেন এবং পিটিশনটি অনুমোদিত হয়েছিল। কিন্তু ভিসার অপেক্ষায় থাকার সময় ওই মার্কিন নাগরিক মারা যান। এমন পরিস্থিতিতে যোগ্য সুবিধাভোগী মানবিক কারণে পিটিশন পুনর্বহালের আবেদন করতে পারেন। তবে আবেদন অনুমোদিত হবে কি না, তা ইউএসসিআইএস সিদ্ধান্ত নেবে। এই দুটি প্রক্রিয়ায় আর্থিক স্পনসরশিপের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ডের অনেক আবেদনে আই-৮৬৪ অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট প্রয়োজন হয়। মূল পিটিশনকারী মারা গেলে তাঁর পরিবর্তে নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন বিকল্প আর্থিক স্পনসর প্রয়োজন হতে পারে। সাধারণভাবে বিকল্প স্পনসরকে মার্কিন নাগরিক, মার্কিন ন্যাশনাল অথবা গ্রিন কার্ডধারী হতে হবে এবং আইন অনুযায়ী নির্ধারিত পারিবারিক সম্পর্ক ও আর্থিক যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। তবে বিধবা বা বিপত্নীকের আই-৩৬০ আবেদনসহ কিছু বিশেষ শ্রেণিতে নিয়ম আলাদা। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য এই তিনটি সুযোগ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক পরিবারে বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী কিংবা ভাইবোনের জন্য আই-১৩০ পিটিশন করা হয়। এসব আবেদনের কিছু দীর্ঘদিন অপেক্ষমাণ থাকে। বিশেষ করে পরিবারভিত্তিক নির্দিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরিতে বার্ষিক সংখ্যাগত সীমা থাকায় অনুমোদিত পিটিশনের পরও ভিসার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। এই সময় মূল পিটিশনকারী মারা গেলে পরিবারের সদস্যরা অনেক সময় ধরে নেন, আবেদনটি আর এগোনো সম্ভব নয়। অথচ যোগ্যতা থাকলে বিকল্প আইনি পথ খোলা থাকতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতিতে প্রথমে জানতে হবে, মৃত্যুর আগে আই-১৩০ পিটিশন অনুমোদিত হয়েছিল কি না। এরপর দেখতে হবে, যাঁর জন্য আবেদন করা হয়েছে তিনি পিটিশনকারীর মৃত্যুর সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতেন কি না এবং এখনো সেখানে বসবাস করছেন কি না। একই সঙ্গে মৃত ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং সম্ভাব্য বিকল্প আর্থিক স্পনসরের তথ্য যাচাই করতে হবে। মৃত্যুসনদ, পিটিশনের রসিদ ও অনুমোদনের নোটিশসহ প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে পরিবারের গ্রিন কার্ডের পিটিশনকারী মারা গেলে আবেদন সব ক্ষেত্রে শেষ হয়ে যায় না। মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর আই-৩৬০-এ রূপান্তর, ২০৪(এল) ধারার সুরক্ষা কিংবা মানবিক কারণে অনুমোদিত পিটিশন পুনর্বহালের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আবেদন এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কোন পথটি প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করে পিটিশনের অবস্থা, পারিবারিক সম্পর্ক, আবেদনকারীর বসবাস এবং অন্যান্য যোগ্যতার ওপর। তাই আবেদন বন্ধ হয়ে গেছে ধরে নেওয়ার আগে ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা যাচাই এবং অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস), আই-৩৬০ ফরমের নির্দেশনা, অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ২০৪(এল) ধারা এবং হিউম্যানিটারিয়ান রিইনস্টেটমেন্টসংক্রান্ত নীতিমালা।
নারী সহকর্মীদের অপহরণ ও যৌ ন হেনস্তার অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ায় সাবেক পুলিশ সার্জেন্ট গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসাইলাম আবেদনকারীদের বাড়ি কেনার অর্থায়ন কীভাবে কাজ করে?