ইসলামী আন্দোলন

সংসদে লিখিত বক্তব্য নিয়ে দ্বৈত আচরণ? স্পিকারের মন্তব্যে শুরু নতুন বিতর্ক

জাতীয় সংসদে লিখিত বক্তব্য পাঠ করা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য, প্রয়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্র মাসুদ উদ্দিন সাঈদী সংসদে লিখিত বক্তব্য পাঠ করলে স্পিকার তাকে দেখে না পড়ে বক্তব্য দেওয়ার পরামর্শ দেন। একই ধরনের মন্তব্য করা হয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এক সংসদ সদস্যের ক্ষেত্রেও।   স্পিকার বলেন, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় কাগজ দেখে পড়ার পরিবর্তে হাউজের দিকে তাকিয়ে কথা বলা উচিত। তবে এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—সংসদে কি লিখিত বক্তব্য পড়া নিষিদ্ধ, নাকি তা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়।   সমালোচকরা বলছেন, অতীতে বহু গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য লিখিতভাবেই সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন শীর্ষ নেতার বক্তব্য লিখিত ছিল, এমনকি রাষ্ট্রপতির ভাষণও লিখিত আকারেই সংসদে পাঠ করা হয়েছে। ফলে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে আলাদা করে মন্তব্য করার কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ বা সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় অনেক সংসদ সদস্য লিখিত বক্তব্য ব্যবহার করে থাকেন, যাতে ভুল না হয় এবং বক্তব্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা যায়। তাই লিখিত বক্তব্য পড়াকে কেন্দ্র করে আপত্তি তোলায় সংসদের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা শুরু হয়েছে।   এদিকে সরকারি দলের একটি শোক প্রস্তাব উত্থাপনের সময় কয়েকজন প্রয়াত নেতার নাম উচ্চারণে জটিলতা তৈরি হওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। এতে সংসদে বক্তব্য দেওয়ার নিয়ম ও শালীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামের নামে একটি দল স্বার্থের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছে: চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম (চরমোনাই পীর) অভিযোগ করে বলেছেন, ইসলামের নামে একটি দল ক্ষমতা ও স্বার্থের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছে। তিনি বলেন, “আমরা যখন ইসলামের পক্ষে একটি বাক্স ঘোষণা করেছিলাম, তখন দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়েছিল। মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, তখন ইসলামের নামে একটি দল ক্ষমতা ও স্বার্থের জন্য আমেরিকা ও ভারতের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করে।”   রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ভোলার চরফ্যাশনের টি বি স্কুল মাঠে ভোলা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অধ্যাপক কামাল উদ্দিনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   চরমোনাই পীর বলেন, “আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আমরা আর আমেরিকা ও ভারতের ইনসাফ দেখতে চাই না। আমরা মদিনা এবং ইসলামের ইনসাফ দেখতে চাই।”   তিনি আরও বলেন, যারা এখন বলছেন শরীয়াহ বাস্তবায়ন করবেন না এবং প্রচলিত আইনে দেশ পরিচালনা করবেন, বাস্তবে তাদের বাহ্যিক রূপ যত সুন্দরই হোক, ভেতরের অবস্থা ভিন্ন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি ধিক্কারসহকারে বলতে চাই, এই দেশ যখন দুর্নীতিতে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তখন ইসলামের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে সেই দুর্নীতিবাজদের অংশীদার ছিলেন আপনারাই। এ দায় কোনোভাবেই এড়ানো যাবে না।”   চরমোনাই পীর বলেন, দেশের ৫৪ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু ভোটের মাধ্যমে যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের কথা বলা হয়েছিল, তার প্রতিফলন মানুষ দেখেনি। তাঁর ভাষায়, “এখন পরিবর্তনের জন্য একমাত্র নীতি ও আদর্শ হলো ইসলাম। এটি একটি কালজয়ী আদর্শ।” তিনি আরও বলেন, শরীয়াহ শব্দ শুনে অনেকে ভয় পান, অথচ ইসলাম মানেই শরীয়াহ—রোজা, নামাজ, হজ, যাকাতসহ ইসলামের সব বিধানই শরীয়াহর অন্তর্ভুক্ত।   জনসভায় ভোলা-৪ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা নুরুল করিম আকরাম, সহ-প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক কে এম শরিয়াতুল্লাহ, ইসলামী স্কলার মুফতি হাবিবুর রহমান মিসবাহ ও মাওলানা হাসিব আর রহমান।   এর আগে ও পরে চরমোনাই পীর ভোলার বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তিনি ভোলার লালমোহন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ভোলা-৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা মোসলেহ উদ্দিনের জনসভায় এবং সন্ধ্যার পর ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ভোলা-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুর রহমানের জনসভায় বক্তব্য রাখেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামী আন্দোলন জামায়াত ত্যাগের পেছনের কারণ তুলে ধরলেন চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) জানিয়েছেন, জামায়াতের অসৎ আচরণের কারণে তারা ১১ দলীয় জোট থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা প্রথমে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট তৈরি করিনি; আমরা ৮ দলীয় সমঝোতায় অংশ নিয়েছিলাম। সমঝোতা ও জোটের মধ্যে পার্থক্য হলো—জোটে একজনকে নেতৃত্বে থাকতে হয়, সমঝোতায় কোনো একক নেতৃত্ব থাকে না।       বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পল্টনের ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এ সময় দলের নির্বাচনি ইশতেহারও প্রকাশ করা হয়।       চরমোনাই পীর অভিযোগ করেন, সমঝোতার ভেতরে আমাদের পরামর্শ ছাড়া জামায়াতে ইসলামী অন্য দলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। যেখানে ইসলাম, দেশের স্বার্থ বা সৌহার্দ্য নেই, সেখানে আমরা বড় আশা নিয়ে একত্র হয়েছিলাম। কিন্তু তাদের অসৎ আচরণের কারণে আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছি।       তিনি আরও বলেন, জামায়াত মার্কিন দূতাবাসে ইসলামী আন্দোলনকে উগ্রবাদী হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যা বাংলাদেশে কখনও সত্য হয়নি। বাংলাদেশে কোনো দলীয় নেতা আজ পর্যন্ত জঙ্গি বা উগ্রবাদী হিসেবে পরিচিত নয়। তবে জামায়াত আমাদের জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।       চরমোনাই পীরের এ মন্তব্যে স্পষ্ট করা হয়েছে, ইসলামী আন্দোলন দেশের স্বার্থ ও ন্যায়পরায়ণ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেবে, এবং তারা অন্য দলের অসৎ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরানি চিকিৎসা গবেষক ডঃ জহরা শোকরি ভারনিয়াব এবং তার স্বামী আশকান পুরাভারি ল্যাঙরউডি | ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

গ্রিন কার্ড জটিলতায় অনিশ্চয়তায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত হাজার রোগীর চিকিৎসক ডা. ফয়সাল

ডেস্ক রিপোর্ট মে ৯, ২০২৬ 0