আমেরিকা

কোভিড সময়ের ট্যাক্স ফাইল নিয়ে আদালতের যে রায়ে অনেকেই পেতে পারেন রিফান্ড

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: মে ১১, ২০২৬ ১৬:১৮
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কোভিড-১৯ মহামারির সময় দেরিতে ট্যাক্স ফাইল করা বা সময়মতো কর জমা দিতে না পারায় জরিমানা ও সুদ পরিশোধ করা লাখো আমেরিকান এখন রিফান্ড পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতের সাম্প্রতিক রায়ের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।

 

“Kwong v. United States” মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোর্ট অব ফেডারেল ক্লেইমস রায় দেয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জাতীয় জরুরি অবস্থার সময় ট্যাক্স ফাইলিংয়ের সময়সীমা বাড়ানোর যে আইনি বিধান রয়েছে, তা কোভিড-১৯ মহামারির সময়ও কার্যকর হওয়া উচিত ছিল। আদালতের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড জরুরি অবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর ছিল।

 

এই রায়ের ফলে ওই সময়ের মধ্যে দেরিতে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়া বা সময়মতো কর পরিশোধ করতে না পারায় যাদের কাছ থেকে জরিমানা ও সুদ আদায় করা হয়েছিল, তারা সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন বলে মনে করছেন কর বিশেষজ্ঞরা।

 

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক আমেরিকান হয়তো না জেনেই অপ্রয়োজনীয় জরিমানা পরিশোধ করেছেন। মহামারির সময় চাকরি হারানো, অসুস্থতা, ব্যবসায় ক্ষতি কিংবা আর্থিক সংকটের কারণে বহু মানুষ সময়মতো ট্যাক্স ফাইল করতে পারেননি। আদালতের এই রায় তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

তবে বিষয়টি এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। মামলাটি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আইআরএস এখন পর্যন্ত সবার জন্য স্বয়ংক্রিয় রিফান্ড ঘোষণা করেনি। ফলে কর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্ভাব্য রিফান্ড পেতে আগ্রহীদের নিজেদের ট্যাক্স রেকর্ড পর্যালোচনা করা উচিত এবং প্রয়োজন হলে সংশোধিত রিটার্ন বা রিফান্ড দাবি জমা দিতে হবে।

 

এছাড়া রিফান্ড দাবির সময়সীমাও দ্রুত শেষ হয়ে আসছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই যারা কোভিড সময়ের ট্যাক্স জরিমানা বা সুদ পরিশোধ করেছিলেন, তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
প্রায় এক দশক একসঙ্গে থাকার পর, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং জর্জিনা রদ্রিগেজ ২০২৬ সালের ১১ই আগস্ট পর্তুগালে একটি ঘরোয়া ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ছবি:সংগৃহীত
রোনালদোকে বিয়ের পরও জর্জিনার থাকবে না তার সম্পত্তিতে স্বয়ংক্রিয় মালিকানা

দীর্ঘ প্রায় এক দশকের সম্পর্কের পর বিয়ে করেছেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজ। গত ১১ আগস্ট পর্তুগালের ক্যাসকাইসে একান্ত পারিবারিক আয়োজনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে বিয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাদের সম্পত্তি ও আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে আগে থেকে থাকা চুক্তির বিষয়টি।   রোনালদোর ম্যানেজমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাসকাইসে একটি ব্যক্তিগত সিভিল সেরেমনিতে বিয়ে করেন তারা। অনুষ্ঠানে তাদের পাঁচ সন্তান উপস্থিত ছিল। পরে দুজনই হাতে বিয়ের আংটি পরা একটি ছবি প্রকাশ করে বিয়ের খবর নিশ্চিত করেন।   রোনালদো ও জর্জিনার সম্পর্ক শুরু হয় ২০১৬ সালে। মাদ্রিদের একটি গুচি স্টোরে জর্জিনা কাজ করার সময় তাদের পরিচয় হয়েছিল। প্রায় এক দশক একসঙ্গে থাকার পর ২০২৫ সালের আগস্টে বাগদানের ঘোষণা দেন তারা। ঠিক এক বছর পর সেই সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়েতে রূপ নেয়।   বিয়ের পর তাদের সম্পত্তির মালিকানা কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিয়ের আগে তারা এমন একটি চুক্তি করেছেন যাতে দুজনের সম্পত্তি পৃথক থাকবে। অর্থাৎ বিয়ের কারণে একজনের ব্যক্তিগত সম্পদের ওপর অন্যজনের স্বয়ংক্রিয় মালিকানা তৈরি হবে না।   রোনালদোর বিপুল সম্পদের কারণে বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। আল নাসরে খেলা থেকে পাওয়া আয় ছাড়াও বিভিন্ন ব্যবসা, ব্র্যান্ড চুক্তি, বিনিয়োগ ও সম্পত্তি রয়েছে পাঁচবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী এই ফুটবলারের। তবে তার মোট সম্পদের পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব রয়েছে। ফলে রোনালদোর সম্পদের পরিমাণ ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বলে যে দাবি করা হচ্ছে, সেটিকে নিশ্চিত হিসাব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   একইভাবে জর্জিনারও নিজস্ব মডেলিং ক্যারিয়ার, ব্যবসা ও ব্র্যান্ড থেকে উল্লেখযোগ্য আয় রয়েছে। পৃথক সম্পত্তির ব্যবস্থায় তার নিজের নামে থাকা আয় ও সম্পদের নিয়ন্ত্রণও তার কাছেই থাকবে।   সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে বিচ্ছেদের পরিস্থিতিতে জর্জিনার আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে পুরোনো একটি চুক্তির দাবিকে ঘিরে। স্প্যানিশ ভাষার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কয়েক বছর ধরেই দাবি করা হচ্ছে, সম্পর্ক ভেঙে গেলে জর্জিনা প্রতি মাসে এক লাখ ইউরো করে আজীবন আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। একই সঙ্গে মাদ্রিদের অভিজাত লা ফিনকা এলাকায় পরিবারের একটি বিলাসবহুল বাড়ির মালিকানাও তার কাছে থাকবে বলে এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   তবে এই শর্তগুলো নিয়ে রোনালদো বা জর্জিনা প্রকাশ্যে বিস্তারিত কিছু জানাননি। তাদের পক্ষ থেকে চুক্তির পূর্ণ নথিও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে মাসিক এক লাখ ইউরো কিংবা নির্দিষ্ট বাড়ির মালিকানা পাওয়ার দাবিগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না।   জর্জিনা ও রোনালদো বর্তমানে পাঁচ সন্তানকে নিয়ে পরিবার হিসেবে জীবনযাপন করছেন। জর্জিনা ও রোনালদোর দুই মেয়ে আলানা মার্টিনা ও বেলা এসমেরালদা। রোনালদোর ছেলে ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র এবং যমজ ইভা ও মাতেওকেও একসঙ্গে বড় করছেন তারা। ২০২২ সালে জর্জিনা যমজ সন্তানের জন্ম দেওয়ার সময় তাদের ছেলে অ্যাঞ্জেল মারা যায়।   বিয়ের আয়োজনও ছিল তাদের তারকাখ্যাতির তুলনায় অত্যন্ত ছোট ও ব্যক্তিগত। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্ত থাকা সত্ত্বেও বড় কোনো জমকালো অনুষ্ঠান না করে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতেই সম্পর্কটিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেন রোনালদো ও জর্জিনা।   বিয়ের পর রোনালদো ইতোমধ্যে সৌদি আরবে আল নাসরের অনুশীলনে ফিরেছেন। নতুন মৌসুম সামনে রেখে মাঠের প্রস্তুতি শুরু করলেও তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আগ্রহ কমেনি। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে তাদের সম্পত্তি পৃথক রাখার সিদ্ধান্ত এবং দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পাশাপাশি দুজনের আর্থিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৮:২৩
২০২৬ সালের ১২ই আগস্টের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের পটভূমিতে একটি জাদুকরী বিয়ের প্রস্তাবের দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে, যা সূর্যাস্তের সময় ঘটেছিল। ছবি:সংগৃহীত

সূর্যগ্রহণের আলোছায়ায় হাঁটু গেড়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব! মুহূর্তেই ভাইরাল

কামাল উদ্দিন বাবুল, তাঁর স্ত্রী আরজু আক্তারএবং তাঁদের ছোট মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা, যারা ইতালির রোমে এক সহিংস হামলায় মর্মান্তিকভাবে নিহত হন। ছবি:সংগৃহীত

দেশে এসেছে ইতালিতে নিহত একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশির মরদেহ

মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর এজেন্টদের একটি আবাসিক বাড়ির প্রবেশপথে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা। ছবি:সংগৃহীত

বাসায় হঠাৎ আইসিই এলে কী করবেন? দরজা খোলার আগে বাংলাদেশিদের জানা জরুরি ৫ রাইটস

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ঘটনার সাথে সম্পর্কিত, যেখানে এক নারী দাবি করেছেন যে তার অভিবাসী প্রেমিক অবিশ্বস্ত জানতে পেরে তিনি অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে (ICE) বিষয়টি জানান, যার ফলে তাকে আটক ও নির্বাসিত করা হয়। ছবি:সংগৃহীত
পরকীয়ার প্রতিশোধে প্রেমিককে আইসিই এর গাতে ধরিয়ে ডিপোর্ট করালেন প্রেমিকা

পরকীয়ায় জড়ানো কাগজপত্রহীন প্রেমিককে সিক্স ফ্ল্যাগসে বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে মেক্সিকো সীমান্তে নিয়ে ফেলে আসার এক নারীর গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছিল। কিন্তু লাখো মানুষের আলোচনার জন্ম দেওয়া সেই গল্পে পরে আসে বড় মোড়। টিকটকে ‘মন্টস.ইউজার৫৫৫’ নামে পরিচিত ওই নারী নিজেই জানান, ঘটনাটি বাস্তব ছিল না, বরং একটি সাজানো গল্প বা স্ক্রিপ্ট ছিল।   ঘটনাটি প্রথম ভাইরাল হয় ২০২৪ সালের অক্টোবরে। ওই নারী একটি ভিডিওতে দাবি করেন, তার প্রেমিক যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ছাড়া বসবাস করছিলেন। একসঙ্গে ঘুরতে গিয়ে তোলা ছবি ফোনে নেওয়ার সময় প্রেমিকের স্ন্যাপচ্যাটে অন্য এক নারীর সঙ্গে কথোপকথন ও ছবি দেখে তিনি পরকীয়ার বিষয়টি জানতে পারেন বলে দাবি করেন।   তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেমিককে সরাসরি কিছু না বলে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি। প্রেমিকের ছুটির দিন থাকায় তাকে টেক্সাসের সান আন্তোনিওর সিক্স ফ্ল্যাগস অ্যামিউজমেন্ট পার্কে ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব দেন।   প্রেমিক যাতে কোনো সন্দেহ না করেন, সেজন্য ভ্রমণের প্রস্তুতিও স্বাভাবিকভাবেই নেওয়া হয় বলে গল্পে দাবি করেন ওই নারী। তাকে ফোন ও ওয়ালেট সঙ্গে নিতে বলা হয়। যাত্রাপথে অপ্রয়োজনীয় বিরতি এড়াতে আগেই বাথরুম ব্যবহার করতে বলেন এবং পরে গাড়িতে ঘুমাতে উৎসাহিত করেন।   কিন্তু সিক্স ফ্ল্যাগসের দিকে না গিয়ে গাড়ি চালিয়ে লারেডো হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো সীমান্তের দিকে নিয়ে যান বলে দাবি করেন তিনি।   ভাইরাল ভিডিওর গল্প অনুযায়ী, প্রেমিক গাড়িতে ঘুমিয়ে থাকায় প্রথমে বুঝতে পারেননি তারা কোথায় যাচ্ছেন। সীমান্তের কাছে পৌঁছে একটি চেকপয়েন্টে গাড়ি থামার পর তার ঘুম ভাঙে এবং তখনই তিনি পরিস্থিতি বুঝতে পারেন।   নারী দাবি করেন, প্রেমিক তখন পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করতে থাকেন এবং কেন তাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তা জানতে চান। কিন্তু তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেননি।   গল্পের শেষ অংশে ওই নারী দাবি করেন, মেক্সিকোয় পৌঁছানোর পর প্রেমিককে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেন। যাওয়ার আগে তাকে ৫০ ডলারও দেন। তার বক্তব্যের সারমর্ম ছিল, তিনি আর নিজেকে ব্যবহার করতে দেবেন না এবং প্রেমিককে নিজের জীবন নতুন করে শুরু করতে হবে।   ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও নারীর বক্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি প্রকাশ করে। কোথাও বলা হয় তিনি প্রেমিককে মেক্সিকোয় ফিরিয়ে দিয়েছেন, আবার কোথাও ঘটনাটিকে সরাসরি ‘ডিপোর্ট’ করানো হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।   তবে এখানেই গল্পটির গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিপোর্ট করা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ও ইমিগ্রেশন আইনের আওতাধীন একটি সরকারি প্রক্রিয়া। একজন প্রেমিক বা প্রেমিকা ব্যক্তিগতভাবে কাউকে ‘ডিপোর্ট’ করতে পারেন না।   ভাইরাল গল্পের মূল বর্ণনাতেও ওই নারী আইসিইকে ফোন করে প্রেমিককে ধরিয়ে দিয়েছেন এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং তার বর্ণনা ছিল, তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে তাকে মেক্সিকো সীমান্তের দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পড়তে গল্পটিতে ‘আইসিইকে ডেকে ডিপোর্ট করানো’র মতো আরও নাটকীয় দাবি যুক্ত হয়।   এরপর আসে আরও বড় প্রশ্ন। মেক্সিকোর সংবাদমাধ্যম রেডিও ফর্মুলার প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ওই নারী আরেকটি পোস্টে জানান, পুরো গল্পটিই ছিল একটি স্ক্রিপ্ট এবং বাস্তব কোনো প্রেমিককে এভাবে ডিপোর্ট করার ঘটনা ঘটেনি।   ওই পোস্টে তিনি গল্পটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল বলেও ইঙ্গিত করেন এবং মজা করে জানান, তিনি একটি স্ক্রিপ্ট অনুশীলন করছিলেন। রেডিও ফর্মুলা জানায়, পরে তিনি স্পষ্ট করেন যে ভাইরাল হওয়া ঘটনাটি কাল্পনিক।   ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহুল প্রচারিত ‘পরকীয়ার প্রতিশোধ নিতে কাগজপত্রহীন প্রেমিককে ডিপোর্ট করালেন নারী’ দাবিটিকে নিশ্চিত বাস্তব ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার ভিত্তি নেই।   ঘটনাটি বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি নাটকীয় ব্যক্তিগত গল্প কীভাবে দ্রুত বাস্তব ঘটনা হিসেবে ছড়িয়ে পড়তে পারে তার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। প্রথমে নারীর নিজের বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম খবর প্রকাশ করে। এরপর সেই গল্পে আরও নাটকীয় তথ্য যোগ হয়ে আইসিই দিয়ে প্রেমিককে ডিপোর্ট করানোর দাবিও ছড়িয়ে পড়ে।   শেষ পর্যন্ত যে নারী গল্পটির কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিলেন, তার নিজের পরবর্তী বক্তব্যই পুরো ঘটনার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয়। তাই ভাইরাল দাবিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, প্রেমিককে পরকীয়ার প্রতিশোধ হিসেবে মেক্সিকোয় ফেলে আসার যে গল্প লাখো মানুষের দৃষ্টি কেড়েছিল, সেটিকে পরে ওই নারী নিজেই সাজানো গল্প হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৬:৩৩
নিউইয়র্কে বাড়িভাড়া, সাশ্রয়ী আবাসন ও নতুন বাড়ি নির্মাণ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে নগরবাসীর মতবিনিময়। ছবি:সংগৃহীত

নিউইয়র্কের আবাসন সংকট রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে

নিউইয়র্কে আইনশৃঙ্খলা ও সহিংস অপরাধ কমার বিষয় তুলে ধরছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; পাশে পুলিশ কর্মকর্তারা। ছবি:সংগৃহীত

নিউইয়র্কে অপরাধ কমার তথ্য সামনে আনছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বিক্রি কমলেও বাড়ির দাম ও গৃহঋণের উচ্চ সুদ ক্রেতাদের ওপর বাড়াচ্ছে আর্থিক চাপ। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বিক্রি কমেছে, ঋণের সুদে চাপ বাড়ছে

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ক্রেডিট কার্ডের মোট ঋণ ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ছবি: গেটি ইমেজ
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের ঋণ ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার, বাড়ছে খেলাপি

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের মোট ঋণ বেড়ে ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই ঋণ ২১ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। একই সময়ে ৯০ দিনের বেশি বকেয়া থাকা ঋণের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ক্রেডিট কার্ডের ঋণ আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। এই পরিমাণ গত বছরের ১ দশমিক ২৮ ট্রিলিয়ন ডলারের সর্বোচ্চ রেকর্ডের কাছাকাছি।   ঋণের পাশাপাশি বকেয়া পরিশোধের পরিস্থিতিও উদ্বেগ তৈরি করেছে। ৯০ দিনের বেশি বকেয়া থাকা ক্রেডিট কার্ড ঋণের হার দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১২ দশমিক ৮ শতাংশে উঠেছে। আগের প্রান্তিকে এই হার ছিল ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।   নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের গবেষকেরা বলছেন, অনেক পরিবার বেতন-নির্ভর জীবনযাপন করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও জ্বালানির ব্যয় বাড়ায় কিছু পরিবার দৈনন্দিন খরচ মেটাতে ক্রেডিট কার্ডের ওপর বেশি নির্ভর করছে।   তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, ৯০ দিনের বেশি বকেয়ার হার বেড়েছে মানেই নতুন করে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছেন—এমনটা নয়। পুরোনো বকেয়া ঋণ দীর্ঘ সময় নথিতে থেকে যাওয়ায় এই হারও বেড়ে দেখা যেতে পারে। নতুন করে খেলাপি হওয়ার হার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।   ঋণের চাপ কমাতে বিশেষজ্ঞরা মাসিক পরিশোধের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি নিজের ঋণ ও সুদের হার পর্যালোচনার পরামর্শ দিয়েছেন। ক্রেডিট স্কোর ভালো হয়ে থাকলে কম সুদের হার নিয়ে ঋণদাতার সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। এছাড়া যোগ্যতা থাকলে সুদমুক্ত নির্দিষ্ট সময়ের ঋণ স্থানান্তর সুবিধা বা কম সুদের ব্যক্তিগত ঋণও বিবেচনা করা যেতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৫:৩
আদালতে কয়েদির পোশাকে জেরেমি উইলিয়ামস এবং বাঁ পাশে নিহত পাঁচ বছর বয়সী শিশু কামারি হল্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত

শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে আলাবামায় জর্জিয়ার যুবকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ইবে থেকে কেনা পুরোনো ক্যামেরায় পাওয়া ফিল্মের ছবি এবং সেগুলোর প্রকৃত মালিক খোঁজা ম্যাট টাইগে। ছবি: সংগৃহীত

ইবেতে কেনা পুরোনো ক্যামেরায় মিলল ২০ বছর আগের হারানো ছবি

সমাবর্তনের পোশাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ড. নাহিয়ান বিন খালেদ। ছবি: সংগৃহীত

ঢাবি থেকে ইয়েল, অর্থনীতিতে নতুন যাত্রা ড. নাহিয়ানের

0 Comments