সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

কর্নওয়াল

কর্নওয়ালে নয় দিন বয়সী শিশুর মৃ ত্যুর ঘটনায় আদালতে বাবা-মায়ের সাজা
মাতৃদুগ্ধ পানের পর নবজাতকের মৃ ত্যু, শরীরে কো কে ন; বাবা-মা গ্রে প্তা র

ইংল্যান্ডের কর্নওয়ালে নয় দিন বয়সী এক শিশুর মৃ ত্যুর ঘটনায় অবহেলার দায় স্বীকার করা বাবা-মাকে আড়াই বছর করে কা রা দণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে সাজা তিন বছরের জন্য স্থ গিত রাখা হয়েছে। ফলে তাদের এখনই কা রা গা রে যেতে হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ট্রুরো ক্রাউন কোর্টে রোশেল থমাস ও অ্যান্ড্রু মন্ডারের সাজা ঘোষণা করা হয়।   ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর নিউকির হোটেল ভিক্টোরিয়ায় তাদের মেয়ে ডার্সিকে অ চে তন অবস্থায় পাওয়া যায়। জ রু রি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পরে পরীক্ষায় তার শরীরে কো কে নের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। ঘটনার পর গ্রে প্তা র হওয়া দুজনই শিশুর প্রতি অবহেলার একটি করে অ ভি যোগে দোষ স্বীকার করেন।   আদালতবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারক সাইমন কার বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুটির শরীরে কো কে ন প্রবেশ করাকে সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে শিশুটির মৃ ত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বাবা-মায়ের কর্মকাণ্ডই ডার্সির মৃ ত্যুর কারণ—এমন সিদ্ধান্তও শুনানিতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   আদালতে প্রসিকিউশন জানায়, দুজনই কো কে ন ব্যবহার করতেন। তাদের পোশাক ও আঙুলের পাশাপাশি হোটেলকক্ষের একটি কাপেও কো কে ন পাওয়া যায়। প্রসিকিউশনের বক্তব্য ছিল, তাদের মা দ ক ব্যবহার শিশুটির জীবনকে ঝুঁ কির মধ্যে ফেলেছিল।   সাজা নির্ধারণের সময় বিচারক থমাসের মা ন সিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা এবং মন্ডারের অনুশোচনা ও মা ন সিক অবস্থার বিষয় বিবেচনা করেন। স্থ গিত কা রা দণ্ডের পাশাপাশি দুজনকে এক বছর পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। থমাসকে অতিরিক্ত ছয় মাসের মা দ ক পুনর্বাসন কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের ল্যাক্টমেড তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, কো কে ন ও এর বিপাকজাত উপাদান বুকের দুধে পাওয়া যেতে পারে। নবজাতকের শরীরে কো কে ন নিষ্ক্রিয় করার প্রয়োজনীয় এনজাইম পুরোপুরি গড়ে না ওঠায় তারা এ মা দ কে র প্রভাবে বিশেষভাবে ঝুঁ কিপূর্ণ। তবে এই সাধারণ চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য দিয়ে ডার্সির মৃ ত্যুর নির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা যায় না।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
হামলার পর কেন্দ্রটি পরিষ্কার এবং মেরামতের কাজে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন আশপাশের অমুসলিম প্রতিবেশীরা। (ছবি: সংগৃহীত)
যুক্তরাজ্যে ইসলামিক সেন্টারে হামলার পর মেরামতে এগিয়ে এলেন স্থানীয়রা

যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারে হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত ফটক মেরামত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হামলার কয়েক দিনের মধ্যেই স্বেচ্ছাসেবীরা কেন্দ্রটিতে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি পরিষ্কার করতে এবং মেরামতের কাজে সহায়তা শুরু করেন।   কর্নওয়াল ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারটি ট্রুরোর কাছে কার্নন ডাউনস এলাকায় কুয়েঞ্চওয়েল রোডে অবস্থিত। গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে কেন্দ্রটির প্রবেশপথের লোহার ফটকে একটি গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে দুই ব্যক্তি সেখানে ঢুকে তেলসদৃশ একটি পদার্থ কেন্দ্রের চত্বর ও ভবনের বাইরের দেয়ালে ছড়িয়ে দেন বলে পুলিশ ও কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   ঘটনাটি তদন্ত করছে ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশ। অবস্থান ও ঘটনার ধরন বিবেচনায় পুলিশ এটিকে আপাতত জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধমূলক ক্ষতিসাধন হিসেবে তদন্ত করছে। তবে তদন্তের তথ্য অনুযায়ী প্রয়োজন হলে ঘটনার শ্রেণিবিন্যাস পরিবর্তন করা হতে পারে। সন্দেহজনক কোনো গাড়ি বা ব্যক্তির বিষয়ে তথ্য থাকলে পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে।   হামলার পর কেন্দ্রটির ক্ষতিগ্রস্ত ফটক মেরামতে এগিয়ে আসেন পাশের পেরানওয়েল স্টেশন এলাকার দুই বাসিন্দা রব ও জেমস। তারা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই ফটকটি মেরামত করেন। কেন্দ্রটির ট্রাস্টি ও পরিচালক টিপু চৌধুরী বলেন, ঘটনার পর কীভাবে ক্ষয়ক্ষতি সামাল দেবেন তা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। স্থানীয় দুই বাসিন্দার এই উদ্যোগ তাদের জন্য বড় সহায়তা হয়েছে।   কেন্দ্রটির স্বেচ্ছাসেবী ইমাম হাসান কিলিক জানান, হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে যে সহায়তা এসেছে, তা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কেউ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী নিয়ে এসেছেন, কেউ ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিষ্কার করেছেন, আবার কেউ আর্থিক সহায়তা ও ফুল পাঠিয়েছেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ভয়েস নিউজপেপার্সকে হাসান কিলিক বলেন, ঘটনার পর কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও স্থানীয় মানুষের প্রতিক্রিয়া ছিল অসাধারণ। শনিবার কয়েকজন এসে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে সহযোগিতা করেন এবং পরদিন দুই ব্যক্তি এসে ফটকটি মেরামত করে দেন।   কেন্দ্রটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার পর কর্নওয়ালসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপক সমর্থন ও সহমর্মিতার বার্তা এসেছে। স্থানীয় রাজনীতিকরাও ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছেন এবং কেন্দ্রটির পাশে থাকার কথা বলেছেন।   কার্নন ডাউনসের এই ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারটি প্রায় দুই দশক ধরে মুসলিম ও অমুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কেন্দ্রটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, এটি শুধু নামাজের স্থান নয়, বরং শিক্ষা, দাতব্য কার্যক্রম, সামাজিক যোগাযোগ ও বিভিন্ন কমিউনিটি সেবারও কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৭ সালে নিবন্ধিত দাতব্য সংস্থা হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে এবং বর্তমানে কর্নওয়ালের একমাত্র মসজিদ হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয়।   হামলার ঘটনায় কেন্দ্রটির ক্ষয়ক্ষতি মেরামত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়েছে। কেন্দ্রটির তহবিল সংগ্রহের পাতায় বলা হয়েছে, প্রায় ১৮ বছর ধরে এমন ঘটনার মুখোমুখি হওয়ার পর এবার ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা মেরামতের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিরাপত্তা জোরদার করাও তাদের লক্ষ্য।   পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সময় আশপাশে কোনো সন্দেহজনক গাড়ি বা ব্যক্তিকে দেখে থাকলে স্থানীয় বাসিন্দারা তথ্য দিতে পারেন। ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশের প্রধান সুপারিনটেনডেন্ট স্কট ব্র্যাডলি বলেছেন, তদন্ত চলাকালে এলাকায় অতিরিক্ত টহল দেওয়া হবে।   এর আগে ২০০৮ সালেও একই ইসলামিক কেন্দ্রকে ঘিরে জাতিগত বিদ্বেষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তখন ভবনটির দরজায় একটি শূকরের মাথা পেরেক দিয়ে আটকানো এবং বর্ণবাদী লেখা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। সর্বশেষ ঘটনার পর কেন্দ্রটির ইমাম হাসান কিলিক বলেন, হামলার ঘটনায় কমিউনিটি উদ্বিগ্ন হলেও তারা ঐক্য ও ইতিবাচকতার মাধ্যমে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে চান।   স্থানীয় মানুষের এই সহায়তাকে কেন্দ্রটির পক্ষ থেকে শুধু ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সহযোগিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে না, বরং হামলার পর মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশে বৃহত্তর স্থানীয় সমাজের অবস্থানেরও একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাওয়া সহায়তা তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে আস্থা জোগাচ্ছে।   সূত্র: ভয়েস নিউজপেপার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারের লোহার গেট গাড়ি দিয়ে ভেঙে ফেলে দুর্বৃত্তরা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে ইসলামিক সেন্টারে হামলা, তেল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা

যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে একটি ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারের প্রবেশপথে দুটি গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দিয়ে গেট ভেঙে ফেলা এবং পরে সেখানে দাহ্য পদার্থ ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটিকে জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত ক্ষতিসাধন হিসেবে তদন্ত করছে ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশ।   কর্নওয়ালের কার্নন ডাউনস এলাকায় অবস্থিত কর্নওয়াল ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারে বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১টা ২০ মিনিটে ঘটনাটি ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার সকালে কেন্দ্রটির স্বেচ্ছাসেবী ইমাম হাসান কিলিককে এক প্রতিবেশী ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখতে পান, কেন্দ্রের লোহার গেটটি ভেঙে কবজা থেকে ছিটকে গেছে।   তবে গেট ভাঙার পাশাপাশি কেন্দ্রের আঙিনা থেকে মূল প্রবেশপথ পর্যন্ত এবং ভবনের দেয়ালে তেলজাতীয় একটি পদার্থ ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি আরও উদ্বেগ তৈরি করেছে। কিলিক জানান, কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজে দুটি ভ্যানকে গেটে ধাক্কা দিতে দেখা গেছে। এরপর দুই ব্যক্তি সেখানে ঢুকে বিভিন্ন স্থানে তেল ছড়িয়ে দেন বলে তিনি জানিয়েছেন।   ঘটনার পর কিলিক বলেন, কেন্দ্রের ভেতরে হামলাকারীরা প্রবেশ করতে পারেনি বা প্রবেশের চেষ্টা করেনি। তবে ভাঙচুরের বিষয়টি তিনি পুলিশ ও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়কে জানান।   এটি ওই ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারে গত ১৮ বছরে দ্বিতীয়বারের মতো সম্ভাব্য জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত হামলার ঘটনা। এর আগে ২০০৮ সালে কেন্দ্রটি যে সাবেক মেথডিস্ট চার্চ ভবনে পরিচালিত হতো, তার দরজায় শূকরের মাথা পেরেক দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে ভবনে বর্ণবাদী গ্রাফিতিও লেখা হয়েছিল বলে CornwallLive জানিয়েছে।   সাম্প্রতিক ঘটনার পর স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও কেন্দ্রটির নেতারা উত্তেজনার পরিবর্তে ঐক্য ও ইতিবাচকতার মাধ্যমে পরিস্থিতির মোকাবিলা করার কথা জানিয়েছেন।   হাসান কিলিক CornwallLive-কে বলেন, ঘটনাটি সম্প্রদায়ের সদস্যদের জন্য স্বাভাবিকভাবেই কষ্টদায়ক। তবে তারা এটিকে স্থানীয় বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন বা কয়েকজনের কর্মকাণ্ড দিয়ে পুরো সম্প্রদায়কে সংজ্ঞায়িত করা হবে না।   শুক্রবার মুসলমানদের সাপ্তাহিক প্রধান নামাজের দিন হওয়ায় ওই দিন কেন্দ্রটিতে দেওয়া বক্তব্যেও শান্তি, ধৈর্য, ঐক্য ও আশার বার্তা তুলে ধরার কথা জানান কিলিক। তিনি বলেন, এই ঘটনা তাদের ভয় দেখাতে বা কার্যক্রম বন্ধ করতে পারবে না।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। কর্নওয়াল ও আইলস অব সিলির পুলিশ কমান্ডার চিফ সুপারিনটেনডেন্ট স্কট ব্র্যাডলি বলেন, ঘটনার স্থান ও পরিস্থিতির কারণে প্রাথমিকভাবে এটিকে জাতিগতভাবে প্ররোচিত ক্ষতিসাধন হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনাটির শ্রেণিবিন্যাস পরিবর্তিত হতে পারে।   পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তথ্য চেয়েছে। ঘটনার সময় আশপাশে সন্দেহজনক কোনো গাড়ি বা ব্যক্তির উপস্থিতি কেউ দেখে থাকলে তা জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় এলাকায় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করতে শুক্রবার ও সপ্তাহান্তে অতিরিক্ত টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।   ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কর্নওয়ালে জাতিগত ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধের ঘটনা নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের সহায়তার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। পুলিশের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাহিনীর আওতাধীন এলাকায় ২৮২টি ঘটনায় মুসলিমবিরোধী ধর্মীয় বিদ্বেষের ধরন নথিভুক্ত হয়েছিল। তবে এসব পরিসংখ্যানের মধ্যে এই নির্দিষ্ট ঘটনার কোনো তথ্য নেই।   পুলিশের পক্ষ থেকে সন্দেহজনক তথ্য থাকা ব্যক্তিদের ১০১ নম্বরে অথবা পুলিশের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। বেনামে তথ্য দিতে স্বাধীন দাতব্য সংস্থা ক্রাইমস্টপার্সের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যায়।   সূত্র: CornwallLive, Devon & Cornwall Police

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০