এক বছর বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম Voice of America (ভয়েস অব আমেরিকা)। যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump দায়িত্ব নেওয়ার পর এক নির্বাহী আদেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেন। তবে আদালত সেই সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেছেন। ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক Royce Lamberth গত মঙ্গলবার দেওয়া এক আদেশে বলেন, ভয়েস অব আমেরিকা বন্ধ করে দেওয়া আইনের পরিপন্থী ছিল। একই সঙ্গে তিনি শত শত সাংবাদিককে পুনরায় কাজে বহাল করার নির্দেশ দেন এবং এক সপ্তাহের মধ্যে কার্যক্রম চালুর সময়সীমা বেঁধে দেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি প্রোপাগান্ডার মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠিত এই গণমাধ্যমটি বন্ধ হওয়ার আগে প্রায় ৫০টি ভাষায় টেলিভিশন, রেডিও ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংবাদ ও তথ্যসেবা প্রদান করত। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছিলেন, ভয়েস অব আমেরিকার কনটেন্টে পক্ষপাত রয়েছে। একই সঙ্গে ‘রেডিও ফ্রি ইউরোপ’ ও ‘রেডিও ফ্রি এশিয়া’র মতো অন্যান্য আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যমও বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি করে US Agency for Global Media। সংস্থাটির প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া Kari Lake দায়িত্ব নেওয়ার পর ৮৫ শতাংশের বেশি কর্মীকে বরখাস্ত করেন। ভয়েস অব আমেরিকায় এক হাজারের বেশি কর্মী চাকরি হারান। তবে আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন, সিনেটের অনুমোদন না থাকায় ক্যারি লেকের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো বৈধ ক্ষমতা ছিল না। বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে ‘খামখেয়ালি’ বলেও মন্তব্য করেন বিচারক। ভয়েস অব আমেরিকার তিনজন সাংবাদিক ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার রায়েই আদালত প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালুর নির্দেশ দেন। মামলাকারীদের একজন প্যাটসি উইডাকুসওয়ারা রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তাঁরা আশা করছেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার এই উদ্যোগ আবারও শক্তিশালীভাবে ফিরে আসবে এবং জনগণের আস্থা অর্জন করবে। এদিকে, আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে জ্বালানি তেলে যে সমস্যার কথা বলা হচ্ছে, পেট্রল পাম্পে যা দেখা দিয়েছে তা কোনো সত্যিকারের সংকট নয়। সরকারের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি মজুদ রয়েছে এবং তা পর্যায়ক্রমে সরবরাহ করা হবে। তিনি জানান, অনেকেই পেট্রল মজুত করার চেষ্টা করছেন, তাই যদি কোথাও তেলের অস্বাভাবিক সংকট দেখা দেয়, তা নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে এবং ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, দেশের সব গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করবে এটাই সরকারের প্রত্যাশা, তবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সাংবাদিকদের নতুন নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হবে। সভায় প্রতিমন্ত্রী ময়মনসিংহের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ ও যানজট নিরসনের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, শহরের যানজটের মূল কারণ রাস্তার সংকট নয়, বরং ব্যবস্থাপনার ঘাটতি। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সভায় জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রীরা, পুলিশ সুপার ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাব-এ গণমাধ্যম সংগঠকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সেখানে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ন্যায্য দাবি ও পেশাগত সমস্যার সমাধান ছাড়া দেশের গণমাধ্যম প্রত্যাশিত উন্নয়নে পৌঁছাতে পারবে না। তিনি জানান, সাংবাদিক সমাজের সংকটগুলো অগ্রাধিকারভিত্তিতে সমাধান না করলে গণমাধ্যম খাতের সামগ্রিক সমস্যাও দূর করা সম্ভব নয়। মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিকাশের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ কর্মসূচির আলোকে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও কর্মকৌশল শিগগিরই উপস্থাপন করা হবে। এর আগে সাংবাদিক সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সভায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং কালের কণ্ঠ-এর সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-এর মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-এর সভাপতি শহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও এর চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরঙ্কুশ বিজয় এখন বিশ্ব গণমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই প্রথম নির্বাচনে বিএনপির এই বিশাল জয়কে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো। রয়টার্সের বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার আশা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপির এই বিজয় দলটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম সাফল্য। সংস্থাটি আশা প্রকাশ করেছে যে, এই ভোটের মাধ্যমে দেশটিতে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবে। এএফপি: ‘নির্বাসন থেকে ক্ষমতায়: তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত’ ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের খবর প্রকাশ করেছে। তাদের শিরোনাম: ‘নির্বাসন থেকে ক্ষমতায়: তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬০ বছর বয়সে তারেক রহমান ১৭ কোটি মানুষের দক্ষিণ এশীয় দেশটির নেতৃত্ব নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি দেশকে আরও উন্নত করার উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। দ্য গার্ডিয়ান: ‘হাসিনার উৎখাতের পর ঐতিহাসিক প্রথম নির্বাচনে বিএনপির জয় দাবি’ যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানেও বাংলাদেশের সংবাদ প্রকাশ করেছে। তাদের খবরের শিরোনাম, ‘হাসিনার উৎখাতের পর ঐতিহাসিক প্রথম নির্বাচনে বিএনপির জয় দাবি’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পর বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর সামগ্রিকভাবে নির্বাচনি প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। বিবিসি: রাজপথ থেকে ক্ষমতার শীর্ষ চূড়ায় ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি তারেক রহমানকে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ওপর আলোকপাত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে তারেক রহমানের পরিবার কয়েক দশক ধরে রাজনীতিতে প্রাধান্য বিস্তার করলেও তার এই পথ মসৃণ ছিল না। বাবার হত্যাকাণ্ড, দুর্নীতির অভিযোগ এবং দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে তার এই ফিরে আসাকে একটি বড় রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখছে বিবিসি। সিএনএন: সামনে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন তারেক রহমানের বিজয়ের পাশাপাশি তার আগামীর চ্যালেঞ্জগুলোকেও গুরুত্ব দিয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অস্থিরতা কাটিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানো, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং তৈরি পোশাক খাতকে পুনর্গঠন করাই হবে তার নতুন সরকারের প্রধান কাজ। তারেক রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে সিএনএন উল্লেখ করে, "প্রতিহিংসা ভালো কিছু আনে না, বরং ধ্বংস করে।" ভারতীয় গণমাধ্যম ও তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মুহূর্ত ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক 'দ্য হিন্দু' তারেক রহমানের এই জয়কে একটি "চমকপ্রদ রাজনৈতিক অভিষেক" হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ সালের সেই মুহূর্তটি, যখন দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তারেক রহমান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে জুতা খুলে জন্মভূমির মাটিতে পা রাখেন। দলটি জানিয়েছে, বিজয় পরবর্তী কোনো আনুষ্ঠানিক সমাবেশ তারা করবে না। বিশ্ব গণমাধ্যমের সার্বিক বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন পথচলার ওপর এখন সারা বিশ্বের নজর। দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখাই হবে নবনির্বাচিত এই নেতৃত্বের জন্য অ্যাসিড টেস্ট।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।