যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ি কেনা ও ভাড়ায় থাকার ব্যয়ের ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক একাধিক আবাসনবিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের অনেক বড় শহরে বর্তমানে বাড়ি কেনার মাসিক ব্যয় একই ধরনের বাড়ি ভাড়ায় থাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ফলে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা আপাতত বাড়ি কেনার পরিবর্তে ভাড়ায় থাকাকেই অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করছেন। রিয়েল এস্টেট গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উচ্চ সুদের মর্টগেজ, বাড়ির মূল্যবৃদ্ধি, সম্পত্তি কর, বীমা এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ি কেনার মোট খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, অনেক এলাকায় ভাড়ার হার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকায় দুই ধরনের আবাসনের ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান আরও বেড়েছে। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, টেক্সাসের অস্টিন, অ্যারিজোনার ফিনিক্স, ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সিয়াটল এবং ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান জোসের মতো শহরগুলোতে বাড়ি কেনা ও ভাড়ার ব্যয়ের পার্থক্য সবচেয়ে বেশি। এসব শহরে মর্টগেজের মাসিক কিস্তি, কর ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে বাড়ির মালিক হওয়ার ব্যয় ভাড়ার তুলনায় অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে গত কয়েক বছরে সুদের হার বৃদ্ধির ফলে নতুন ক্রেতাদের জন্য মর্টগেজ গ্রহণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে আবাসনের সীমিত সরবরাহ অনেক এলাকায় বাড়ির দাম উচ্চ পর্যায়ে ধরে রেখেছে। এর ফলে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের একটি বড় অংশ অপেক্ষার কৌশল বেছে নিচ্ছেন। ভাড়ায় থাকা স্বল্পমেয়াদে অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে। এই সময়ে অনেক পরিবার ভবিষ্যতে বাড়ি কেনার জন্য ডাউন পেমেন্ট বা প্রাথমিক বিনিয়োগের অর্থ জমা করার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে দীর্ঘমেয়াদে বাড়ি কেনা এখনও সম্পদ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। তাদের মতে, বাড়ি কেনা বা ভাড়ায় থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্যক্তিগত আয়, সঞ্চয়, চাকরির স্থায়িত্ব, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সুদের হার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় বিবেচনা করা জরুরি। কারণ একই সিদ্ধান্ত সব অঞ্চলের বা সব পরিবারের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, স্বল্পমেয়াদে ভাড়ার বাজার অনেক পরিবারের জন্য তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক হলেও দীর্ঘমেয়াদে বাজারের সুদের হার, বাড়ির মূল্য এবং সরবরাহ পরিস্থিতির পরিবর্তনের ওপর ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা অনেকের কাছেই নতুন জ্ঞান, গবেষণা এবং ক্যারিয়ার গড়ার এক অনন্য সুযোগ। তবে বাংলাদেশের রেজওয়ানের জন্য সেই যাত্রা এনে দিয়েছে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিগুলোর একটি—নিজের জীবনসঙ্গী। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সিডনিতে পিএইচডি করতে যান রেজওয়ান। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সেখানে গবেষণায় যোগ দেন টেইলর। মলিকুলার বায়োসায়েন্স ভবনের একই গবেষণাগারে কাজ করতে গিয়েই তাদের প্রথম পরিচয়। রেজওয়ান বলেন, “আমি বাংলাদেশ থেকে, আর টেইলর যুক্তরাষ্ট্রের। ইউনিভার্সিটি অব সিডনিতে গবেষণা করতে না এলে হয়তো কোনো দিনই আমাদের দেখা হতো না।” সে সময় টেইলর স্ট্রাকচারাল বায়োলজিতে পিএইচডি করছিলেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল জিন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখা প্রোটিনের ত্রিমাত্রিক (৩ডি) গঠন, যা ভবিষ্যতে নতুন ওষুধ উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে, রেজওয়ানের গবেষণার বিষয় ছিল ফাঙ্গাল প্রোটিন ব্যবহার করে ন্যানোপার্টিকল কোটিং প্রযুক্তি। বায়োটেকনোলজিতে ন্যানো-ক্যারিয়ার হিসেবে এ প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে তিনি গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। দিনের বেশিরভাগ সময় একই গবেষণাগারে কাটত দুজনের। গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিভিন্ন প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করতে করতেই গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। সময়ের সঙ্গে সেই বন্ধুত্ব রূপ নেয় ভালোবাসায়, আর শেষ পর্যন্ত তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। রেজওয়ান ও টেইলরের গল্পটি মনে করিয়ে দেয়, বিদেশে উচ্চশিক্ষা শুধু ডিগ্রি বা গবেষণার সুযোগই এনে দেয় না; কখনো কখনো জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মানুষটির সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের সময় সরকারি চাকরি হারানো যুক্তরাষ্ট্রের একদল জলবায়ু বিজ্ঞানী ও গবেষক এবার নিজেদের উদ্যোগেই নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারের বাইরে পরিচালিত অলাভজনক ওয়েবসাইট Climate.us-এর মাধ্যমে তারা জলবায়ু–সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, গবেষণা এবং সরকারি বিভিন্ন প্রতিবেদনের সংরক্ষিত সংস্করণ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেছেন। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ফিউচারিজম জানিয়েছে, নতুন এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এর জলবায়ুবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্লাইমেট গভ এর সাবেক প্রোগ্রাম ম্যানেজার রেবেকা লিন্ডসে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন NOAA-এর আরও বহু সাবেক বিজ্ঞানী, গবেষক এবং তথ্যবিশেষজ্ঞ। তাদের তৈরি নতুন ওয়েবসাইটে গত ১৫ বছরে প্রকাশিত আবহাওয়া ও জলবায়ু–সংক্রান্ত তথ্য, বিভিন্ন জলবায়ু সূচক এবং যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম জাতীয় জলবায়ু মূল্যায়ন প্রতিবেদন (Fifth National Climate Assessment) সংরক্ষণ করা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, এসব তথ্য গবেষক, শিক্ষার্থী, নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহারযোগ্য থাকবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ৮০ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবী বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ কাজ করেছেন। পাশাপাশি ২ হাজার ৫০০-এরও বেশি ব্যক্তি অনুদান দিয়ে প্রায় আড়াই লাখ মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেন। সেই অর্থেই অলাভজনক এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের সরকারি ব্যয় সংকোচন নীতির অংশ হিসেবে NOAA, পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (EPA)সহ একাধিক ফেডারেল সংস্থায় ব্যাপক জনবল ছাঁটাই করা হয়। এতে জলবায়ু গবেষণা ও জনসাধারণের জন্য তথ্যপ্রকাশে যুক্ত অনেক বিজ্ঞানী চাকরি হারান। এরপর তারা সরকারি কাঠামোর বাইরে একত্রিত হয়ে গবেষণা ও তথ্য সংরক্ষণের এই স্বাধীন উদ্যোগ শুরু করেন। রেবেকা লিন্ডসে বলেন, নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া উচিত নয়। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা এবং তথ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা যেমন জরুরি, তেমনি জনসাধারণের জন্য তা সহজলভ্য রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, ক্লাইমেট নিয়ে ওয়েবসাইট শুধু একটি নতুন ওয়েবসাইট নয়; এটি দেখিয়ে দিয়েছে যে সরকারি চাকরি হারানোর পরও গবেষণা থেমে থাকে না। বরং বিজ্ঞানীরা একত্রিত হয়ে স্বাধীনভাবে জনস্বার্থে গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ম্যাটারিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সালমা সুমাইয়া যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম স্বনামধন্য গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরি-কলাম্বিয়া (মিজু)-তে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে যোগ দেবেন। রুয়েটের ২০১৯ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থীর অর্জনকে বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা। কারণ শুধু পিএইচডিতে ভর্তির সুযোগই নয়, সালমা পেয়েছেন সম্পূর্ণ অর্থায়নভিত্তিক গবেষণা সহায়তা, যার আওতায় তাঁর টিউশন ফি সম্পূর্ণ মওকুফ থাকবে। পাশাপাশি মাসিক গবেষণা বৃত্তি বা স্টাইপেন্ডের মাধ্যমে তাঁর জীবনযাত্রা ও গবেষণাসংক্রান্ত ব্যয়ও বহন করবে বিশ্ববিদ্যালয়। রুয়েট ম্যাটারিয়ালস ক্লাব এবং বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ প্রস্তুতি, একাডেমিক সাফল্য এবং গবেষণার প্রতি আগ্রহের ফল হিসেবেই এই সুযোগ অর্জন করেছেন সালমা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তাঁর এই সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরি-কলাম্বিয়া একটি সুপরিচিত নাম। এটি আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটিজ (এএইউ)-এর সদস্য, যেখানে দেশটির শীর্ষ গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই সংগঠনের সদস্যপদ বিশেষ মর্যাদার বলে বিবেচিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রকৌশল অনুষদও যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য প্রকৌশল শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মূল্যায়নে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে ভালো অবস্থান ধরে রেখেছে। টাইম ম্যাগাজিনের ২০২৬ সালের বৈশ্বিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিং অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ১২৪তম। ফলে সেখানে গবেষণার সুযোগ পাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে ভর্তি হওয়া এখন অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর লক্ষ্য। সালমা সুমাইয়ার এই সাফল্য সেই ধারাবাহিকতারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। রুয়েটের শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, সালমার এই অর্জন বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। গবেষণার প্রতি একাগ্রতা, একাডেমিক দক্ষতা এবং সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করা সম্ভব, সেটিই প্রমাণ করেছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতে, সালমার এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি রুয়েটের ম্যাটারিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার মান এবং গবেষণার সক্ষমতারও প্রতিফলন। তাঁর এই অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি আরও বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। ক্যাম্পাসজুড়ে ইতোমধ্যে তাঁর সাফল্য নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষক, সহপাঠী এবং সাবেক শিক্ষার্থীরা তাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। অনেকেই মনে করছেন, এই অর্জন রুয়েটের নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাবে। উচ্চশিক্ষার পথে সালমা সুমাইয়ার এই নতুন যাত্রা শুধু তাঁর নিজের নয়, দেশের প্রকৌশল শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। আন্তর্জাতিক গবেষণাঙ্গনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সক্ষমতার আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে তাঁর এই সাফল্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মহাবিশ্ব কত দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে—এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সবচেয়ে নির্ভুল উত্তর বের করার দাবি করেছে আন্তর্জাতিক একদল বিজ্ঞানী। প্রায় ৪০ জন গবেষকের সমন্বয়ে পরিচালিত এ গবেষণায় মহাবিশ্বের প্রসারণ হার বা হাবল ধ্রুবক নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি সেকেন্ডে প্রতি মেগাপারসেকে ৭৩.৫ কিলোমিটার, যার অনিশ্চয়তা এক শতাংশেরও কম। এই গবেষণায় অংশ নিয়েছেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) ফিজিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন। তিনি ‘এইচ নট ডিসট্যান্স নেটওয়ার্ক’ (এইচওডিএন) কোলাবোরেশনের সদস্য হিসেবে গবেষণাপত্রটির অন্যতম রচয়িতা। গবেষণাটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে মহাবিশ্বের প্রসারণ হার নিয়ে একমত হতে পারেননি। বিভিন্ন পদ্ধতিতে পরিমাপ করে পাওয়া ফলাফলের মধ্যে পার্থক্য থাকায় এই মতভেদকে ‘হাবল টেনশন’ বলা হয়। কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড বিশ্লেষণ, সেফিড নক্ষত্রের উজ্জ্বলতা, সুপারনোভা পর্যবেক্ষণসহ নানা পদ্ধতিতে এই হার নির্ধারণের চেষ্টা হয়েছে। নতুন গবেষণায় এসব পৃথক পদ্ধতিকে একত্রে বিশ্লেষণের জন্য ‘ডিসট্যান্স নেটওয়ার্ক’ নামে একটি কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতির ফলাফল আসলে একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে ‘হাবল টেনশন’ কেবল গণনার ত্রুটি নয়, বরং পদার্থবিজ্ঞানের আরও গভীর কোনো অজানা বিষয়ের ইঙ্গিত হতে পারে বলে ধারণা করছেন গবেষকেরা। ড. সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা দেখিয়েছি যে ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করেও একই ধরনের ফল পাওয়া যায়। তাই এই অমিলকে শুধু পদ্ধতিগত ভুল হিসেবে দেখার সুযোগ কমে গেছে।’ গবেষণায় অংশ নেওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, এই নতুন কাঠামো ভবিষ্যতে আরও উন্নত টেলিস্কোপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে সহায়ক হবে এবং মহাবিশ্বের প্রসারণ সম্পর্কে আরও নিখুঁত ধারণা দিতে পারবে। আইইউবির সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকস (কাসা)-এর পরিচালক ড. খান মোহাম্মদ বিন আসাদ বলেন, বাংলাদেশে জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুক্ত করার প্রচেষ্টা ইতোমধ্যে ফল দিতে শুরু করেছে। তরুণ গবেষকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কাসা দেশের প্রথম জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতিপদার্থবিজ্ঞান গবেষণাকেন্দ্র। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি একটি ট্রান্সিয়েন্ট অ্যারে রেডিও টেলিস্কোপ স্থাপন করেছে, যা বাংলাদেশে মহাকাশ গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।