যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ি কেনা ও ভাড়ায় থাকার ব্যয়ের ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক একাধিক আবাসনবিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের অনেক বড় শহরে বর্তমানে বাড়ি কেনার মাসিক ব্যয় একই ধরনের বাড়ি ভাড়ায় থাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ফলে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা আপাতত বাড়ি কেনার পরিবর্তে ভাড়ায় থাকাকেই অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করছেন।
রিয়েল এস্টেট গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উচ্চ সুদের মর্টগেজ, বাড়ির মূল্যবৃদ্ধি, সম্পত্তি কর, বীমা এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ি কেনার মোট খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, অনেক এলাকায় ভাড়ার হার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকায় দুই ধরনের আবাসনের ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান আরও বেড়েছে।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, টেক্সাসের অস্টিন, অ্যারিজোনার ফিনিক্স, ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সিয়াটল এবং ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান জোসের মতো শহরগুলোতে বাড়ি কেনা ও ভাড়ার ব্যয়ের পার্থক্য সবচেয়ে বেশি। এসব শহরে মর্টগেজের মাসিক কিস্তি, কর ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে বাড়ির মালিক হওয়ার ব্যয় ভাড়ার তুলনায় অনেক বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রে গত কয়েক বছরে সুদের হার বৃদ্ধির ফলে নতুন ক্রেতাদের জন্য মর্টগেজ গ্রহণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে আবাসনের সীমিত সরবরাহ অনেক এলাকায় বাড়ির দাম উচ্চ পর্যায়ে ধরে রেখেছে। এর ফলে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের একটি বড় অংশ অপেক্ষার কৌশল বেছে নিচ্ছেন।
ভাড়ায় থাকা স্বল্পমেয়াদে অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে। এই সময়ে অনেক পরিবার ভবিষ্যতে বাড়ি কেনার জন্য ডাউন পেমেন্ট বা প্রাথমিক বিনিয়োগের অর্থ জমা করার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে দীর্ঘমেয়াদে বাড়ি কেনা এখনও সম্পদ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়।
তাদের মতে, বাড়ি কেনা বা ভাড়ায় থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্যক্তিগত আয়, সঞ্চয়, চাকরির স্থায়িত্ব, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সুদের হার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় বিবেচনা করা জরুরি। কারণ একই সিদ্ধান্ত সব অঞ্চলের বা সব পরিবারের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, স্বল্পমেয়াদে ভাড়ার বাজার অনেক পরিবারের জন্য তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক হলেও দীর্ঘমেয়াদে বাজারের সুদের হার, বাড়ির মূল্য এবং সরবরাহ পরিস্থিতির পরিবর্তনের ওপর ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টনে আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এজেন্টের গুলিতে নিহত নির্মাণশ্রমিক লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোকে ঘিরে চলমান আলোচিত ঘটনার মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে তার সহকর্মীদের আইনজীবীকে নিয়ে ওঠা অভিযোগ। নিহতের সঙ্গে থাকা এবং বর্তমানে অভিবাসন হেফাজতে থাকা দুই ব্যক্তির আইনজীবী হুগো বালদেরাস-ইবারার বিরুদ্ধে তারই সাবেক এক কর্মী পেশাগত আচরণ ও মামলার পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একই সময়ে ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি মামলাগুলোও আবার আলোচনায় এসেছে। ঘটনার সূত্রপাত ৭ জুলাই। সেদিন ভোরে হিউস্টনের ম্যাগনোলিয়া পার্ক এলাকায় আইসিই এজেন্টরা লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোকে আটক করতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আইসিইর দাবি, আরাউহো নিজের গাড়ি দিয়ে তাদের একটি গাড়িকে ধাক্কা দেন এবং এক কর্মকর্তার ওপর গাড়ি তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষার্থে এজেন্ট গুলি চালান, যাতে তিনি নিহত হন। তবে নিহতের পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, ঘটনাটির সরকারি বর্ণনার সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে। এজন্য তারা স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন। এই ঘটনায় নিহতের সঙ্গে থাকা দুই ব্যক্তি—ড্যানিয়েল তিরাদো পান্তোজা এবং ভিক্টর হুগো সালগাদো আরাউহো—আইসিই হেফাজতে রয়েছেন। তাদের পক্ষে আইনি লড়াই করছেন অভিবাসন আইনজীবী হুগো বালদেরাস-ইবারা। তিনি শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন, তার মক্কেলদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তারা কেবল কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ছিলেন। এদিকে বালদেরাস-ইবারার সাবেক প্যারালিগ্যাল টিনামারি হার্নান্দেজ গণমাধ্যমকে বলেন, তার অভিজ্ঞতায় অনেক ক্লায়েন্ট নিজেদের নামে জমা দেওয়া অভিবাসন আবেদন সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। শুনানির আগে আবেদনপত্র দেখালে অনেকে বিস্মিত হতেন বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া জটিল পরিস্থিতিতে আইনজীবী অনেক সময় নিজে সামনে না এসে দায়িত্ব কর্মীদের ওপর ছেড়ে দিতেন বলেও অভিযোগ করেন হার্নান্দেজ। এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং আইনজীবী এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। হার্নান্দেজ আরও জানান, বর্তমানে যেহেতু বালদেরাস-ইবারার বিরুদ্ধে টেক্সাস ও ফ্লোরিডায় পৃথক ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন, তাই তিনি আশঙ্কা করছেন ভবিষ্যতে যদি আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং আইন পেশায় নিষেধাজ্ঞা আসে, তাহলে আইসিই হেফাজতে থাকা তার বর্তমান মক্কেলদের মামলাও জটিলতায় পড়তে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, কেবল অভিযোগ বা অভিযুক্ত হওয়া মানেই কোনো আইনজীবীর লাইসেন্স বাতিল হয় না; আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইন পেশা চালিয়ে যেতে পারেন। অন্যদিকে লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোর মৃত্যুর পর হিউস্টনে বিক্ষোভ, শোকসভা এবং স্বাধীন তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। কংগ্রেস সদস্য সিলভিয়া গার্সিয়াসহ একাধিক স্থানীয় নেতা বলেছেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ এবং তদন্তের সব তথ্য জনসম্মুখে আনা উচিত, যাতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হয় এবং জনমনে আস্থা ফিরে আসে। আইসিই গুলিকাণ্ডের তদন্ত যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মামলায় সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে ঘিরে ওঠা অভিযোগও নতুন আইনি প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে উভয় বিষয়েই এখনো কোনো চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে আইনজীবীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং আইসিইর গুলিকাণ্ড—দুই ক্ষেত্রেই তদন্ত ও আদালতের রায়ের ওপরই পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম ও মর্টগেজ সুদের হার ক্রমাগত বাড়তে থাকায় প্রথমবার বাড়ি কেনা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত অর্থবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাবের নতুন এক বিশ্লেষণে প্রথমবারের ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী ৩০০টি শহরের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে ফ্লোরিডার পাম বে। ওয়ালেটহাব ২২টি সূচকের ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন করেছে। এতে বাড়ির সামর্থ্য, আবাসন বাজারের অবস্থা, জীবনযাত্রার মান, বসবাসের ব্যয়, সম্পত্তি কর, অপরাধের হার, স্কুলের মান এবং বাজারে বাড়ির প্রাপ্যতার মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাম বেতে তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যক বাড়ি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে এবং নতুন আবাসন নির্মাণের অনুমোদনের হারও দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে শহরটিতে মিলেনিয়াল প্রজন্মের বাড়ির মালিকানার হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা তরুণ ক্রেতাদের জন্য বাজারটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ওয়ালেটহাবের তথ্য বলছে, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পাম বেতে বাড়ির মূল্য প্রায় ১০৭ শতাংশ বেড়েছে, যা গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অ্যারিজোনার সারপ্রাইজ এবং তৃতীয় স্থানে গিলবার্ট। সারপ্রাইজ শহরটি নতুন বাড়ির সরবরাহ, তুলনামূলক কম অপরাধ এবং সক্রিয় আবাসন বাজারের কারণে উচ্চ অবস্থান অর্জন করেছে। অন্যদিকে গিলবার্টে সম্পত্তি করের হার কম, নতুন আবাসন নির্মাণের গতি ভালো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও শক্তিশালী। শহরটিতে প্রায় ৪৬ শতাংশ মিলেনিয়াল নিজস্ব বাড়ির মালিক। প্রথমবার বাড়ি কেনার জন্য শীর্ষ ১০ শহরের মধ্যে রয়েছে— ১. পাম বে, ফ্লোরিডা ২. সারপ্রাইজ, অ্যারিজোনা ৩. গিলবার্ট, অ্যারিজোনা ৪. ট্যাম্পা, ফ্লোরিডা ৫. ইউমা, অ্যারিজোনা ৬. পিওরিয়া, অ্যারিজোনা ৭. বোইসি, আইডাহো ৮. চ্যান্ডলার, অ্যারিজোনা ৯. অরল্যান্ডো, ফ্লোরিডা ১০. মারফ্রিসবোরো, টেনেসি ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপো বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়ির দাম ও সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় প্রথমবারের মতো বাড়ি কেনা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। তার মতে, আদর্শ শহর শুধু সাশ্রয়ী হলেই হবে না; সেখানে পর্যাপ্ত আবাসনের সুযোগ, কম অপরাধ এবং ভালো শিক্ষা ব্যবস্থাও থাকতে হবে। প্রতিবেদনটি এমন এক সময় প্রকাশিত হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে প্রথমবারের ক্রেতাদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ওয়ালেটহাবের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মোট বাড়ি ক্রেতার মাত্র ২১ শতাংশ ছিলেন প্রথমবারের ক্রেতা, যেখানে ঐতিহাসিকভাবে এই হার প্রায় ৪০ শতাংশ ছিল। এদিকে দীর্ঘমেয়াদি ৩০ বছরের মর্টগেজ ঋণের গড় সুদের হার আবারও সাড়ে ৬ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। উচ্চ সুদের কারণে ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। আবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুদের হার উচ্চ অবস্থানে থাকলে চলতি বছরও যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে প্রথমবারের ক্রেতাদের জন্য চ্যালেঞ্জ অব্যাহত থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে বছরে দুবার ঘড়ির সময় পরিবর্তনের প্রচলিত নিয়ম বাতিল করে ডে-লাইট সেভিং টাইম স্থায়ী করার পথে বড় এক ধাপ এগিয়েছে কংগ্রেস। মঙ্গলবার প্রতিনিধি পরিষদে বিপুল ভোটে ‘সানশাইন প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ পাস হয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ এলাকায় আর বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে বা পিছিয়ে নিতে হবে না। হাউসে বিলটি ৩০৮-১১৭ ভোটে অনুমোদন পেয়েছে। তবে এটি কার্যকর হতে হলে এখন সিনেটেও পাস হতে হবে এবং এরপর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন। হোয়াইট হাউস ইতোমধ্যে জানিয়েছে, বিলটি প্রেসিডেন্টের টেবিলে পৌঁছালে তা আইনে পরিণত করার সুপারিশ করা হবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর বসন্তে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে এবং শরতে আবার এক ঘণ্টা পিছিয়ে নেওয়া হয়। নতুন বিল কার্যকর হলে ডে-লাইট সেভিং টাইম সারা বছর বহাল থাকবে। তবে কোনো অঙ্গরাজ্য চাইলে নিজস্ব আইনসভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে এ ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে। বিলটির অন্যতম সমর্থক ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান গাস বিলিরাকিস বলেন, বছরে দুবার ঘড়ির সময় পরিবর্তনের কারণে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অপ্রয়োজনীয় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। তার মতে, সন্ধ্যায় অতিরিক্ত দিনের আলো থাকলে পরিবারগুলো বাইরে বেশি সময় কাটাতে পারবে এবং স্থানীয় ব্যবসাও উপকৃত হবে। পর্যটননির্ভর ফ্লোরিডার মতো অঙ্গরাজ্যের জন্য এটি বাস্তবসম্মত একটি পরিবর্তন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তবে বিলটির বিরোধীরা বলছেন, ডে-লাইট সেভিং টাইম স্থায়ী হলে শীতকালে সকালে দীর্ঘ সময় অন্ধকার থাকবে। এতে স্কুলগামী শিশু, কর্মজীবী মানুষ এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে। পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান মেরি গে স্ক্যানলন বলেন, শীতের সকালে সূর্য ওঠার আগেই লাখো মানুষকে স্কুল ও কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হতে হবে, যা নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান জিম ম্যাকগভার্ন বিলটির প্রতি সমর্থন জানালেও প্রশ্ন তুলেছেন, মূল্যস্ফীতি, বাসাভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধির মতো বড় সমস্যার মধ্যে এটি কংগ্রেসের সবচেয়ে জরুরি কাজ কি না। এদিকে ২০২৫ সালে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের এক জরিপে দেখা গেছে, বাধ্যতামূলকভাবে একটি সময়ব্যবস্থা বেছে নিতে হলে ৫৬ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক সারা বছর ডে-লাইট সেভিং টাইম চালু রাখার পক্ষে। তাদের মতে, সকালে কিছুটা কম আলো হলেও সন্ধ্যায় অতিরিক্ত দিনের আলো বেশি উপকারী। বিপরীতে প্রায় ৪০ শতাংশ সারা বছর স্ট্যান্ডার্ড টাইম বজায় রাখার পক্ষে মত দেন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, ১৯৪২ সালে শক্তি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে ডে-লাইট সেভিং টাইম চালু করা হয়। এরপর থেকে এর সুফল ও কুফল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। চার বছর আগে সিনেট একই ধরনের একটি বিল পাস করলেও তা প্রতিনিধি পরিষদে আটকে যায়। এবার হাউস বিলটি অনুমোদন দেওয়ায় বিষয়টি আবারও জাতীয় আলোচনায় এসেছে।