টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষী ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমানকে জেরা করা হবে। এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চে এ জেরা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, শুনানির শুরুতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেমসহ সাত আসামির পক্ষে আইনজীবী তাবারক হোসেন ও অন্য আইনজীবীরা সাক্ষীকে জেরা করবেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের নিয়োগ করা ডিফেন্স আইনজীবীরা তাদের জেরা সম্পন্ন করবেন। গত ৮ মার্চ এই মামলায় প্রথম দফায় জেরা অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন কর্নেল কেএম আজাদের পক্ষে আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো দাবি করেন, ব্যারিস্টার আরমানকে কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুম করেনি; বরং তিনি প্রায় আট বছর আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি আরমানের লেখা ‘আয়নাঘরের সাক্ষী, গুমজীবনের আট বছর’ বইয়ের তথ্যকেও অসত্য বলে উল্লেখ করেন। তবে সাক্ষী এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানান, সেগুলো সঠিক নয়। এর আগে ২১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন ব্যারিস্টার আরমান। জবানবন্দিতে তিনি ২০১৬ সালে গুম হওয়ার পর দীর্ঘ আট বছর গোপন বন্দিত্বে থাকার অভিজ্ঞতা এবং সেখানে নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা তুলে ধরেন। এ মামলায় গ্রেফতার ১০ আসামিকে ঢাকার সেনানিবাসে স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হবে। তাদের মধ্যে রয়েছেন র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), র্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম। অন্যদিকে শেখ হাসিনাসহ আরও কয়েকজন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক এম খুরশিদ হোসেন, সাবেক ডিজি ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ এবং র্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খায়রুল ইসলাম।
নতুন মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় জড়ো হওয়া সাধারণ মানুষের কণ্ঠে উঠে এসেছে নিরাপত্তা, সুশাসন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রত্যাশা। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে কথা হয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে। কক্সবাজার থেকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসা আরিফ উল্লাহ সকাল থেকেই নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান দেখতে অপেক্ষা করছিলেন। তিনি জানান, প্রায় ১০ দিন আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন। নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা জানতে চাইলে তিনি বলেন, জনগণের সমর্থনে ক্ষমতায় আসা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যেন দেশকে শান্তিপূর্ণ বাসযোগ্য রাষ্ট্রে পরিণত করে এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে আরিফ উল্লাহ বলেন, আমরা চাই মানুষ যেন গুম-খুনের আতঙ্কে না থাকে। দেশের আইনশৃঙ্খলা উন্নত হোক, দুর্নীতি কমুক। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে শুধু সার্টিফিকেটনির্ভর নয়, কারিগরি ও জীবনমুখী শিক্ষা চালু করা প্রয়োজন। একই স্থানে দাঁড়িয়ে শপথ অনুষ্ঠান দেখছিলেন ঢাকার একটি কলেজের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান। নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশ যেন বেকারত্বমুক্ত হয়। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনসহ (পিএসসি) বিভিন্ন নিয়োগে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা বন্ধ করতে হবে। নতুন শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আশা—নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যদিকে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের এক সংসদ সদস্যের বহরের সঙ্গে সংসদ ভবনের সামনে আসা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, নতুন সরকার যেন সহনশীলতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করে। তিনি বলেন, অতীতের মতো যেন কোনো ধরনের দমন-পীড়ন না হয়। আইনের চোখে সবাই সমান থাকবে এবং নাগরিকরা সমান অধিকার ভোগ করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। নতুন সরকারের শপথকে ঘিরে সাধারণ মানুষের এসব প্রত্যাশা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ থেকে ‘গুম’ নামক মানবাধিকারবিরোধী ঘৃণ্য অপরাধকে চিরতরে বিলুপ্ত করার অঙ্গীকার করেছেন আইন ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গুমের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ এবং এই লক্ষ্য অর্জনে যে আইনি ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে, তা আগামী সরকারগুলোকেও অনুসরণ করতে হবে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সে (বিলিয়া) মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার এবং গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিরা তাদের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা ও সরকারের কাছে তাদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে সশরীর উপস্থিত ছিলেন শিল্প এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান Khan। সভায় ২০১২ সালে গুমের শিকার হওয়া বিএনপি নেতা ফিরোজ খানের স্ত্রী আমেনা আক্তার বৃষ্টি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, "অন্তর্বর্তী সরকার আমাদের গুম হওয়া পরিবারগুলোর জন্য কী করে গেল? আমরা চাই এই সরকার এমন কিছু করে যাক যাতে আগামী সরকার আমাদের পাশে থাকতে বাধ্য হয়।" ভুক্তভোগীদের এই আর্তনাদের জবাবে আসিফ নজরুল সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে গুমসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন করতে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে। মতবিনিময় সভায় গুম থেকে ফিরে আসা সাবেক রাষ্ট্রদূত এম মারুফ জামান, শিক্ষক ইকবাল চৌধুরী, রহমত উল্লাহ এবং কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান তাদের নিখোঁজ থাকাকালীন শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কথা বর্ণনা করেন। তারা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর যথাযথ পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আশ্বস্ত করেন যে, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ প্রণয়ন এবং নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন এক নতুন আইনি যুগে প্রবেশ করেছে, যেখানে কোনো অপরাধীই পার পাবে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিদায় নিতে যাওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে নিজেদের জন্য কী করা হয়েছে—এ প্রশ্ন তুলেছেন গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা। জবাবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুমের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া) মিলনায়তনে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ আয়োজিত এক বৈঠকে গুমের ভুক্তভোগী পরিবার, গুম হয়ে ফিরে আসা ব্যক্তিরা এবং সরকারের উপদেষ্টারা অংশ নেন। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ভার্চুয়ালি যুক্ত হন এবং শিল্প, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা অভিযোগ করেন, তাঁদের দুর্দশা ও বাস্তব পরিস্থিতি পর্যাপ্তভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। তাঁরা গুমের বিচার, অপরাধীদের শাস্তি, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের সুস্পষ্ট অগ্রগতি জানতে চান। জবাবে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, সরকার গুমসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনে যোগ দিয়েছে এবং বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের বিচার শুরু হয়েছে। তিনি জানান, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ প্রণয়ন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করা এবং নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষরের মাধ্যমে গুমের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বৈঠকে অংশ নিয়ে গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিরা তাঁদের শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা তুলে ধরেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার দাবি জানান। সমাপনী বক্তব্যে উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, গুমের বিচারে নানা বাধা ও চ্যালেঞ্জ থাকলেও আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে এবং এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। প্রসিকিউটর এস এম তাসমিরুল ইসলাম জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে গুমবিষয়ক তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এবং ইতিমধ্যে তিনটি মামলা সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপনের পর্যায়ে রয়েছে। বৈঠকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুমের বিরুদ্ধে গড়ে তোলা আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি ভবিষ্যৎ সরকারগুলোও অব্যাহত রাখবে।
গুমের ঘটনায় জড়িত সেনাবাহিনীর সদস্যদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান অত্যন্ত দুর্বল বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র ও আইন সংস্কারের উদ্যোগগুলো বর্তমানে এক নাজুক অবস্থায় রয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম: গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশকালে এসব তথ্য জানানো হয়। গবেষণা প্রতিবেদনে টিআইবি উল্লেখ করেছে, নিরাপত্তা বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর একাংশের বিরুদ্ধে গুমের আলামত নষ্ট করার গুরুতর অভিযোগ থাকলেও সরকার তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে, বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ১০ জন সেনাকর্মকর্তার পলায়ন রোধ করতে না পারাটা সরকারের বড় ধরনের প্রশাসনিক ব্যর্থতা। সংস্থাটি আরও অভিযোগ করেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অভিযুক্ত ১৫ জন সেনাকর্মকর্তাকে সেনানিবাসের অভ্যন্তরে ‘সাবজেল’ বা উপ-কারাগারে রাখা হয়েছে, যা বৈষম্যমূলক ও প্রশ্নবিদ্ধ। টিআইবির গবেষণায় উঠে এসেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও তার পরবর্তী সময়ে সারা দেশে মোট ১ হাজার ৭৮৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে হত্যা মামলা ৮৩৭টি। যদিও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড এবং কিছু পুলিশ কর্মকর্তার সাজার রায় এসেছে, কিন্তু গুমের বিচারের প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। এছাড়া পুলিশের বিরুদ্ধে ৭৬১টি মামলায় ১ হাজার ১৬৮ জন অভিযুক্ত হলেও গ্রেফতার হয়েছেন মাত্র ৬১ জন। সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “নির্বাচনে পুনরায় অর্থ, পেশীশক্তি এবং ধর্মের অপব্যবহারের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। যদি এই প্রবণতা বন্ধ করা না যায়, তবে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।” তিনি আরও বলেন, গুমের সঙ্গে জড়িত যারা বিদেশে পালিয়েছে, তাদের ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা এখন সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবির উপদেষ্টা ড. সুমাইয়া খায়ের, পরিচালক মোহাম্মদ তাওহিদুল ইসলাম ও মো. বদিউজ্জামান। বক্তারা জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কাজের সমন্বয়হীনতা এবং গণ-অভ্যুত্থান জাদুঘর নির্মাণে সরকারি ক্রয় নীতি লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলো নিয়েও সমালোচনা করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস