যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ) হত্যাকাণ্ডের শিকার দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা ব্রিস্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বসন্তকালীন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা প্রদান করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে রোববার পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হবে। এর মধ্যেই থাকবেন নাহিদা ও জামিল, যারা উভয়েই ২৭ বছর বয়সী ডক্টরাল শিক্ষার্থী ছিলেন।
প্রতিটি সমাবর্তন অনুষ্ঠানের শুরুতে তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে। এছাড়া শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত ডক্টরাল ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠানে তাদের সম্মানে বিশেষভাবে দুটি খালি চেয়ার রাখা হবে, যেখানে একাডেমিক পোশাকও সাজানো থাকবে।
ইউএসএফ জানায়, চলতি বছর মোট ৩৫৩ জন শিক্ষার্থী ডক্টরেট ডিগ্রি পাচ্ছেন। এর মধ্যে নাহিদা ব্রিস্টি ও জামিল লিমনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সম্মানসূচকভাবে।
গত ১৬ এপ্রিল শেষবারের মতো তাদের জীবিত দেখা যায়। পরবর্তী দুই দিনের মধ্যে তারা নিখোঁজ হিসেবে রিপোর্ট করা হয়। প্রায় এক সপ্তাহ পর হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতুর কাছে ভারী ব্যাগের ভেতর থেকে জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর দুই দিন পর একই এলাকার ম্যানগ্রোভ জঙ্গলের মধ্যে থেকে এক কায়াকার মানবদেহের অবশিষ্টাংশ খুঁজে পান। পরে হিলসবোরো কাউন্টির শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার নিশ্চিত করেন, সেটি নাহিদা ব্রিস্টির মরদেহ।
এই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুগারবিয়াহর বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে হিলসবোরো কাউন্টি কারাগারে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা। উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল। চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন জনপ্রিয় সোপ অপেরা ‘অল মাই চিলড্রেন’ খ্যাত প্রবীণ অভিনেতা পল অ্যাভেরি (৮৪) এবং তার স্ত্রী শিলা (৭৭)। গত মঙ্গলবার ভোরে ব্লেয়ারসটাউনে তাদের নিজ বাড়িতে লাগা ভয়াবহ আগুনে পুড়ে চল্লিশ বছরের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে এই যুগলের। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত তাদের দুই কন্যা কাইল অ্যাভেরি ও পার্কার সানচেজ পিতামাতার প্রতি আবেগঘন শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এবং এই দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুকে তাদের ‘জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শুক্রবার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কন্যা কাইল অ্যাভেরি বলেন, তার পিতামাতা ছিলেন অসাধারণ মানুষ। তারা কত মানুষের জীবনকে ছুঁয়ে গেছেন এবং কতটা আনন্দময় ছিলেন, তা বলে শেষ করা যাবে না। অন্যদিকে, বোন পার্কার সানচেজ জানান, মূলত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। পল অ্যাভেরি হিট সোপ অপেরাটিতে ‘হিউয়ি’ চরিত্রে এবং ১৯৭৮ সালের ‘সুপারম্যান’ চলচ্চিত্রে ছোট একটি অভিনয়ের জন্য পরিচিত ছিলেন। সানচেজের মতে, তার বাবা কখনোই খ্যাতির পেছনে ছোটেননি; বরং কেবল আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা থেকেই দুই দশকের বেশি সময় ধরে অভিনয়ের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত ছিলেন। পল অ্যাভেরি পর্দায় পরিচিত মুখ হলেও তার স্ত্রী শিলাও ছিলেন এক অসাধারণ নারী। তিনি পেশায় একজন নিবন্ধিত সেবিকা (আরএন নার্স) ও শিল্পী ছিলেন। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তিনি যৌন নিপীড়নের শিকার ও নির্যাতিত নারীদের কাউন্সেলিং এবং প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। সানচেজ জানান, অনেক নারী তাকে বার্তা পাঠিয়ে বলেছেন যে তার মায়ের কাছ থেকেই তারা অধিকার সচেতন হতে শিখেছেন। সানচেজ আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, যদি ক্যাটালগ থেকে পিতামাতা বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকত, তবে তারা তাদের দুজনকেই বেছে নিতেন। চল্লিশ বছরেরও বেশি সময়ের বিবাহিত জীবনে এই দম্পতি চমৎকার পার্টি আয়োজন করতে ভালোবাসতেন এবং তাদের রসবোধ সবাইকে মুগ্ধ করত। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১টার কিছু আগে অ্যাভেরি পরিবারের বাড়িতে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস। তারা দম্পতিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সিপিআর (CPR) প্রদান করলেও কিছুক্ষণ পরই দুজনের মৃত্যু হয়। শুক্রবার পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা না গেলেও, এটি কোনো ‘সন্দেহজনক’ ঘটনা নয় বলে নিশ্চিত করেছেন তাদের কন্যারা।
নিউইয়র্ক নিক্সের বিজয় উদযাপন প্যারেডে বিশেষভাবে তৈরি ফ্যাশন পোশাকে নজর কাড়লেন শহরের ফার্স্ট লেডি রামা দুওয়াজি। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ওই প্যারেডে তিনি নকশা করা একটি পোশাক পরিধান করেন, যা এনবিএ ফাইনালের নকল মার্চেন্ডাইজ টি-শার্ট ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় ডিজাইনার মিস ক্লেয়ার সুলিভানের তৈরি ওই এক-কাঁধা পোশাকটি সাদা, কমলা ও নীল রঙের একাধিক টি-শার্ট কেটে, সেলাই ও বাঁধনের মাধ্যমে অসমমিত নকশায় প্রস্তুত করা হয়। বিভিন্ন অংশ জোড়া লাগিয়ে পোশাকটির বিশেষ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ২৮ বছর বয়সী রামা দুওয়াজি পোশাকটির সঙ্গে কালো মিডি স্কার্ট পরেন। তিনি গলায় স্তরবিন্যাস করা স্বর্ণালঙ্কার, কমলা রঙের ঝুলন্ত কানের দুল এবং কালো নাইকি এয়ার রিফট স্নিকার্স পরিধান করেন। ডিজাইনার ক্লেয়ার সুলিভান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একই ধরনের আরেকটি সংস্করণ শেয়ার করেন, যেখানে স্কার্টের পরিবর্তে সাদা টিউল টিউটু ব্যবহার করা হয়। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, “Knicks in five LFG NYC।” পোশাকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বিভিন্ন সেলিব্রিটি ও ফ্যাশন ব্যক্তিত্ব প্রশংসা জানিয়ে মন্তব্য করেন। অ্যাডিসন রে লেখেন, “R u kidding”, লিসা রিনা লেখেন, “So good!!!!”, এবং এলা এমহফ লেখেন, “Holy S—TTTTT।” ডিজাইনারের ভাষ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের স্থানীয় সংযোগ এবং নিক্স সমর্থন থেকেই এই নকশার ধারণা তৈরি হয়। বিভিন্ন রঙের টি-শার্ট সংগ্রহ করে তিনি পোশাকটি প্রস্তুত করেন। নিক্সের বিজয় উদযাপনের অংশ হিসেবে রামা দুওয়াজির এই উপস্থিতি তার সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত জনসম্মুখ উপস্থিতিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জানুয়ারিতে স্বামীর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি তুলনামূলকভাবে কম জনসম্মুখে এসেছেন। হিউস্টনে জন্ম নেওয়া রামা দুওয়াজি একজন শিল্পী ও অ্যানিমেটর হিসেবে কাজ করেন। তিনি নিউইয়র্কের প্রথম জেন-জি এবং প্রথম মুসলিম ফার্স্ট লেডি হিসেবে পরিচিত। শহরের সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেও তিনি সাধারণত তুলনামূলকভাবে ব্যক্তিগত জীবনধারা বজায় রাখেন।
আমেরিকার অর্ধেকেরও কম নাগরিক এখন তাদের প্রয়োজনীয় মানসম্মত চিকিৎসা এবং ওষুধের খরচ মেটাতে সক্ষম বলে বিশ্বখ্যাত জরিপকারী সংস্থা গ্যালাপের নতুন একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে। দেশটিতে চিকিৎসা খাতের ক্রমাগত ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি অনেক উচ্চ আয়ের পরিবারগুলোও এখন তীব্র আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, যা মার্কিন সমাজব্যবস্থায় গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। গ্যালাপের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আমেরিকার মাত্র ৪৯ শতাংশ মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত ডাক্তার দেখানো এবং চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ কেনার খরচ সহজেই মেটাতে পেরেছেন। ২০২২ সালে এই অর্থনৈতিকভাবে নিরাপদ নাগরিকদের হার ছিল সর্বোচ্চ ৬১ শতাংশ, যা সময়ের ব্যবধানে ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়ে এখন ২০২১ সালের পর সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। চিকিৎসার খরচ মেটানোর এই সক্ষমতা কমার পাশাপাশি আগামী দিনে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বহন করা নিয়ে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে মানসিক উদ্বেগ অনেক তীব্র হচ্ছে। গ্যালাপের এই জাতীয় সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫১ শতাংশ মানুষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তারা আগামী এক বছরে নিজেদের চিকিৎসা খরচ চালানো নিয়ে খুবই চিন্তিত এবং ৪২ শতাংশ মানুষ ওষুধ কেনার খরচ মেটানো নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন। এই তীব্র আর্থিক সংকট কেবল দেশটির নিম্ন বা মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সব স্তরের আয়ের মানুষের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে। গ্যালাপের সমীক্ষায় দেখা গেছে, বছরে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯৯৯ ডলার আয় করা সচ্ছল পরিবারগুলোর এক-তৃতীয়াংশ এবং বছরে কমপক্ষে ১ লাখ ৮০ হাজার ডলার আয় করা উচ্চবিত্ত পরিবারের এক-পঞ্চমাংশ মানুষ হয় ভালো স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না অথবা দামি ওষুধ কেনার মতো প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছেন। বয়সভিত্তিক সামাজিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৫০ থেকে ৬৫ বছর বয়সীদের একটি নির্দিষ্ট অংশকে বাদ দিয়ে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আমেরিকার সব বয়সের মানুষেরই নিজের চিকিৎসা খরচ মেটানোর বাস্তব ক্ষমতা অনেক কমেছে। এর মধ্যে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণ সমাজ সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে রয়েছেন, কারণ এই তরুণদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বর্তমানে চিকিৎসার খরচ মেটাতে নিরাপদ আর্থিক অবস্থানে আছেন। জরিপের এই উদ্বেগজনক তথ্যগুলো মূলত গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার ৬৬০ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর ওয়েব ও ডাক মেইলের মাধ্যমে নিখুঁত জরিপ চালিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এই সংকটের মাঝেই গত জানুয়ারি মাসে ট্রাম্প প্রশাসন সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যবীমার প্রিমিয়াম কমাতে একটি নতুন পরিকল্পনা এবং পরবর্তী মাসে সুলভ মূল্যে ওষুধ দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করার ঘোষণা দেয়।