ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মতিন খানের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার সদর কড়িকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন, সদর কড়িকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির ২নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, ৫নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সুরুজ মিয়া এবং ৫নং ওয়ার্ড সদস্য জুয়েল শিকদার। এ বিষয়ে তিতাস উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান সেলিম ভূঁইয়া বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তারা দলের ক্ষতি করেছেন। তিনি জানান, তারা বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। এ কারণেই তাদের বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের আগে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ছিল যে পোস্টাল ভোটের অধিকাংশই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে পড়বে, এমনকি কেউ কেউ ধারণা করেছিলেন এই ভোটের হার ৮০ শতাংশেরও বেশি হতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাস্তবে সেই ধারণার সঙ্গে মিল নেই এবং ফলাফলে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। শনিবার (৭ মার্চ) নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পোস্টাল ভোটে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, তবে তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ৪৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিএনপি পেয়েছে ৩০ দশমিক ২৮ শতাংশ ভোট। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি পেয়েছে ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ ভোট এবং বাকি ভোট গেছে অন্যান্য দলের ঝুলিতে। প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ভোটের ব্যবস্থা করা হয়। এর পাশাপাশি নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি এবং কারাবন্দীরাও ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পোস্টাল ভোট দেওয়ার জন্য ১৫ লাখ ২০ হাজার ৯৩ জন নিবন্ধন করেন। এর মধ্যে মোট ভোট পড়েছে ১০ লাখ ৬৩ হাজার ৮৭৪টি, বাতিল হয়েছে ৫৭ হাজার ৮৯৮টি। ভোট পড়ার হার ছিল ৬৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ভোটের হিসাবে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৪ লাখ ৮৮ হাজার ১১৪ ভোট, বিএনপি পেয়েছে ৩ লাখ ২২ হাজার ১৪৪ ভোট এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি পেয়েছে ৫২ হাজার ৮৪০ ভোট। এদিকে নির্বাচন কমিশনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পোস্টাল ভোট দুইটি আসনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সিরাজগঞ্জ-৪ ও মাদারীপুর-১ আসনে ডাকযোগে দেওয়া ভোটের কারণে ফলাফলে পরিবর্তন আসে এবং দুটি আসনেই জয় পায় জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। বিশ্লেষকদের মতে, পোস্টাল ভোট নিয়ে আগে যে ধারণা ছড়িয়েছিল যে অধিকাংশ ভোটই জামায়াতের পক্ষে পড়বে, চূড়ান্ত ফলাফল সেই ধারণাকে পুরোপুরি সমর্থন করেনি এবং প্রকৃত চিত্র অনেকটাই ভিন্ন দেখা গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০৯টি আসনে একক জয় পাওয়ার পর এখন বিএনপির অন্দরমহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু সংরক্ষিত নারী আসন। আনুপাতিক হার অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৩৫টি পেতে যাচ্ছে বিএনপি। নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এই ৩৫টি পদের বিপরীতে দলের শতাধিক নেত্রী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ মনোনয়ন দৌড়ে শামিল হয়েছেন। যেভাবে বণ্টিত হয় সংরক্ষিত আসন - সংবিধান ও আরপিও (RPO) অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনে জয়ী আসন সংখ্যার অনুপাতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংরক্ষিত আসন বণ্টন করা হয়। বিএনপি: ২০৯টি সাধারণ আসনের বিপরীতে পাচ্ছে ৩৫টি সংরক্ষিত আসন। স্বতন্ত্র (বহিষ্কৃত বিএনপি): ৭টি আসনের বিপরীতে ১টি সংরক্ষিত আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচনায় যারা রয়েছেন - বিএনপির হাইকমান্ড ও তৃণমূল থেকে একঝাঁক অভিজ্ঞ ও তরুণ নেত্রীর নাম আলোচনায় উঠে এসেছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন: কেন্দ্রীয় ও পরিচিত মুখ: আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, শিরিন সুলতানা, নিলোফার চৌধুরী মনি, আসিফা আশরাফী পাপিয়া এবং বিলকিস আকতার জাহান শিরিন। সাংস্কৃতিক অঙ্গন: কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন, কনক চাঁপা ও রিজিয়া পারভিন। নতুন ও আলোচিত মুখ: নিপুণ রায় চৌধুরী, সানজিদা ইসলাম তুলি (মায়ের ডাক), হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী, শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হুসাইন এবং ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা। সাবেক এমপির উত্তরসূরি: হাসনা জসিম উদ্দিন মওদুদ ও হাসিনা আহমদ। চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে জোর আলোচনায় আছেন ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, ফাতেমা বাদশা, মনোয়ারা বেগম মনি এবং গুম হওয়া নেতা সিরাজ চেয়ারম্যানের স্ত্রী সুলতানা পারভীন। সাবেক কাউন্সিলর জেসমিনা খানম জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর মামলা-হামলা সহ্য করেও তারা মাঠ ছাড়েননি, তাই দল এবার ত্যাগী নারীদের মূল্যায়ন করবে বলে তাদের বিশ্বাস। ইসির পরিকল্পনা ও আইনি বাধ্যবাধকতা - নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, সাধারণ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনে ভোট করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ইসি চাইছে রমজান মাসের মধ্যেই যাবতীয় নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ করে ঈদের আগে ফলাফল ঘোষণা করতে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হাইকমান্ডের - বিএনপির স্থায়ী কমিটির সূত্র অনুযায়ী, এবার কেবল অভিজ্ঞতাই নয়, রাজপথের আন্দোলন এবং তরুণ নেতৃত্বের বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণের পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণ করবেন। ত্যাগী নেত্রীদের পাশাপাশি পেশাজীবী ও গুম-খুন হওয়া পরিবারের সদস্যদের মূল্যায়নের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ দুই দশক পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ফেরা নতুন প্রধানমন্ত্রীর বেতন-ভাতা এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিদ্যমান ‘দ্য প্রাইম মিনিস্টারস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০১৬’ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর এই আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধাদির কাঠামো। আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মাসিক ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা মূল বেতন পাবেন। এর বাইরে মাসিক ১ লাখ টাকা বাড়ি ভাড়া ভাতা নির্ধারিত থাকলেও প্রথা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বাসভবনেই অবস্থান করেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি দৈনিক ৩ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে তার জন্য রয়েছে ২৫ লাখ টাকার বিশেষ বিমা কভারেজ। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর অধীনে দেড় কোটি টাকার একটি ‘স্বেচ্ছাধীন তহবিল’ বরাদ্দ থাকে, যা তিনি জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করতে পারেন। বেতন ও ভাতার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু বিশেষ সুবিধা ভোগ করেন। সরকারি বাসভবনের বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, টেলিফোনসহ যাবতীয় ইউটিলিটি খরচ রাষ্ট্র বহন করে। অফিস ও বাসার যাতায়াত খরচসহ প্রধানমন্ত্রীর বিনোদন খাতের যাবতীয় ব্যয়ও সরকারি তহবিল থেকে প্রদান করা হয়। এছাড়া নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ ব্যয় ভাতার বিধান রয়েছে। তারেক রহমানের সংসদ নেতা নির্বাচিত হওয়া এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ দেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এক নজরে প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ-সুবিধাগুলো নিচে দেখে নিন: মাসিক মূল বেতন: ১,১৫,০০০ টাকা মাসিক বাড়ি ভাড়া: ১,০০,০০০ টাকা (যদি সরকারি বাসায় না থাকেন) দৈনিক ভাতা: ৩,০০০ টাকা স্বেচ্ছাধীন তহবিল: ১,৫০,০০,০০০ টাকা (বার্ষিক) বিমা কভারেজ: ২৫,০০,০০০ টাকা (বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে)
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-পরবর্তী দুই দিনে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৪ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার পর্যন্ত বাগেরহাট, মুন্সিগঞ্জ ও ময়মনসিংহসহ দেশের অন্তত ৩০টি জেলায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর অনুসারীদের সংঘর্ষ দেখা গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, সহিংসতার এই দুই দিনে অন্তত ৩৫০টি ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। নোয়াখালীর হাতিয়ায় এক নারী ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন; বিষয়টি প্রশাসন তদন্ত করছে বলে জানানো হয়েছে। পটুয়াখালী, নড়াইল, নাটোর ও ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন হিমশিম খাচ্ছে। সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিএনপি। চলমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আবুল বাশার আকন্দের গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও চালককে আহত করার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ফুলপুর উপজেলার বালিয়া মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে আবুল বাশার ধানের শীষের পক্ষে কাজ না করায় হামলার পেছনে রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকতে পারে। ফুলপুর-তারাকান্দা উপজেলা অন্তর্ভুক্ত ময়মনসিংহ-২ আসনে এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার। তিনি ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৩৮ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। নির্বাচিত হন ১১–দলীয় জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ, যিনি ১ লাখ ৪৬ হাজার ২০২ ভোট পেয়েছেন। সাবেক এমপি আবুল বাশার আকন্দ ১৯৯৬ সালে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি ফুলপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি। স্থানীয় বিএনপি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তুলার গুদামে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আবুল বাশার আকন্দ ঘটনাস্থলে যান। এ সময় তাঁর গাড়ির চারপাশে একটি দল হামলা চালিয়ে কাচ ভাঙচুর করে। চালক মো. আরমান আহত হন। পরে পুলিশ এসে দুই পক্ষকে সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় বিএনপি নেতা জানিয়েছেন, সাবেক এমপি আবুল বাশার এবারের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাওয়ায় ব্যর্থ হওয়ায় ধানের শীষের পক্ষে কোনো ভূমিকা রাখেননি। ফলে ধানের শীষের প্রার্থী পরাজিত হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আবুল বাশার নিজ বক্তব্যে বলেন, তুলার গুদামে আগুন দেখে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ওই সময় হামলা হয়, চালক আহত হয়। কে হামলা করেছে জানি না। অপরদিকে উত্তর জেলা যুবদলের সদস্য ওয়াহেদুজ্জামান মিঠুন দাবি করেছেন, সাবেক এমপি ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেননি, এজন্য ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল। ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান নিশ্চিত করেছেন, ‘ধানের শীষের পরাজিত প্রার্থীর কিছু লোক এই হামলা করেছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৫ আসনে বিশাল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। লাঙল প্রতীকে নির্বাচন করে প্রয়োজনীয় ভোটের ন্যূনতম সংখ্যাক ভোটও তিনি পাননি। আসনটি থেকে সর্বসাকুল্যে ৩ হাজার ৩৭৫ ভোট পেয়েছেন তিনি। যার ফলে নির্বাচনি আইন অনুযায়ী তার জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মাসুদুর রহমান মোল্লার স্বাক্ষরিত ফলাফল শিট থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ২৫২টি। নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীর জামানত রক্ষার জন্য মোট বৈধ ভোটের অন্তত আট ভাগের এক ভাগ বা ১২.৫ শতাংশ ভোট পাওয়া প্রয়োজন। সেই হিসেবে, জামানত টিকিয়ে রাখতে শামীম হায়দার পাটোয়ারীর প্রয়োজন ছিল ২৬ হাজার ৬৫৬ ভোট। কিন্তু তিনি পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৩৭৫ ভোট।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, দেশের ইতিহাসের যেকোনো মানদণ্ডে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত ভালো ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে। তিনি বলেন, সবাই মিলে একটি সুন্দর নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পেরেছি। এটি দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে যেকোনো মানদণ্ডে অত্যন্ত ভালো নির্বাচন। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে ফলাফল ঘোষণার আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিইসি বলেন, আমরা ওয়াদা করেছিলাম, একটি উৎসবমুখর পরিবেশে এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নির্বাচন জাতিকে উপহার দেব। আমরা বিশ্বাস করি, সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পেরেছি। এটি সবাই স্বীকৃতি দিচ্ছে। দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ১৮ কোটি মানুষের দেশ, ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটারের দেশে এবং গণভোটসহ মোট ২৫ কোটি ৪০ লাখ ব্যালট ছাপিয়ে এই নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে সবার সহযোগিতায়। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ভোটার এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। পারফেক্ট নির্বাচন কোথাও হয় না উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ভোটগ্রহণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ মানুষ কাজ করেছেন। অনেক দেশে এত লোকই নেই। সবাইকে সমন্বয় করে আমরা একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজন করতে পেরেছি। তিনি আরও বলেন, আমি বলব না এটি পরিপূর্ণ নির্বাচন; পৃথিবীর কোথাও পারফেক্ট নির্বাচন হয় না। আমেরিকার নির্বাচনেও নানা সমস্যা দেখা যায়। তবে অতীতের ইতিহাস বিবেচনায় ইনশাআল্লাহ এটি যেকোনো মানদণ্ডে অত্যন্ত ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। ভোট গণনায় কিছুটা সময় লাগছে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, গণভোট ও পোস্টাল ব্যালট থাকায় ফল প্রস্তুত করতে কিছুটা সময় লাগছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো যে ফল দেখাচ্ছে, তা তাদের নিজস্ব সূত্র থেকে। এগুলো আনুষ্ঠানিক ফল নয়। আনুষ্ঠানিক ফলাফল নির্বাচন কমিশন থেকেই ঘোষণা করা হবে। স্বচ্ছতার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত স্বচ্ছ থাকতে চাই। কোনো লুকোচুরি করি না। সাংবাদিকরা আমাদের থার্ড আই। তাঁদের মাধ্যমেই দেশবাসী আমাদের কার্যক্রম দেখছে। আমরা সবকিছু প্রকাশ্যেই করতে চাই। নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ না করার আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, “অতীতে কিছু সন্দেহজনক কাজ হয়েছে। কিন্তু এবার সে রকম কিছু নেই। সাড়ে ৪২ হাজার কেন্দ্র থেকে যে ফল আসছে, তা যোগ করে প্রকাশ করা হচ্ছে। এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য বা কারসাজি নেই।”
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমের সঙ্গে কমনওয়েলথ অবজারভার গ্রুপের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। মঙ্গলবার রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎটি নেতৃত্ব দেন কমনওয়েলথ অবজারভার গ্রুপের প্রধান এইচ ই নানা আকুফো-আডো। বৈঠকে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ইস্যুসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্বাচনের সময় কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নে আইজিপি বাহারুল আলম সার্বিক প্রস্তুতির তথ্য প্রদান করেন। তিনি ঝুঁকিভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা, সাইবার মনিটরিং এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরেন। আইজিপি নিশ্চিত করেন যে, বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধিদল জানিয়েছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তারা ২৫ জন পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নেবেন এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দীদের ভোটাধিকার কার্যকর হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত নিবন্ধিত ৫ হাজার ৯৯০ কারাবন্দীর মধ্যে ৪ হাজার ৬৭ জন পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। শনিবার পর্যন্ত নিবন্ধন করা বাকি ১ হাজার ৯২৩ জন ভোট না দিলে তাঁদের ভোট বাতিল হয়ে যাবে। জেল বিভাগের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) মো. জান্নাত-উল-ফরহাদ জানান, এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে বন্দীদের পোস্টাল ব্যালটের খাম ঢাকার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। কারা অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, ৩ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৫২১ জন, ৪ ফেব্রুয়ারি ৯৮৮ জন, ৫ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ১৩৮ জন এবং শুক্রবার ৪২০ জন বন্দী পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান করেছেন। দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম কারাগারে থাকা বন্দীরা ভোটাধিকার ব্যবহার করতে পারছেন। নির্বাচন কমিশনের অ্যাপে কারা কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় তিন সপ্তাহ ধরে বন্দীরা অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। ৫ জানুয়ারি নিবন্ধন শেষ হয়, তখন দেশের ৭৫টি কারাগারে ৮৬ হাজার বন্দী ছিলেন। এর মধ্যে ৫ হাজার ৯৯০ জন নিবন্ধন করেছেন এবং ৩৮০টি ত্রুটিপূর্ণ আবেদন বাতিল হয়েছে। ভোটদানের জন্য নিবন্ধিত ৩৯ জন ভিআইপি বন্দীর মধ্যে ২২ জন রাজনৈতিক নেতা, ১১ জন সাবেক সচিব, ৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাঁরা সবাই কেরানীগঞ্জের বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজি-প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, প্রথমবারের মতো কারাবন্দীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিচ্ছেন। তবে নিবন্ধনে আগ্রহ কম ছিল, কারণ অনেকের মনে হয়েছে যেকোনো সময় তাঁরা জামিনে মুক্তি পেতে পারেন। এছাড়া পুরোনো বন্দীদের মধ্যে অনেকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই। নিবন্ধিত ভোটাররা কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বহির্গামী খাম (ফরম-৯ক) পেয়েছেন। এতে রয়েছে নির্বাচনের দুটি ব্যালট পেপার, ভোট প্রদানের নির্দেশাবলি ও ঘোষণাপত্র (ফরম-৮) এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার ঠিকানাসহ ফেরত খাম (ফরম-১০খ)। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারে ভোট প্রদানের গোপন কক্ষ বা উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোট গ্রহণ শেষে খামগুলো সুরক্ষিতভাবে সংগ্রহ করে দ্রুত ডাক বিভাগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনি অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার ৬৫৭ জন বিচারককে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। মনোনীত ম্যাজিস্ট্রেটরা আগামী ১০ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ দিন জাতীয় ৩০০টি নির্বাচনি এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ মনোনয়ন চিঠি প্রেরণ করে নির্বাচন কমিশন সচিবকে। মনোনয়ন চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে জুডিশিয়াল সার্ভিসের ৬৫৭ জন বিচারককে নির্বাচনি অপরাধের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হলো। তাঁরা ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের আওতায় নির্বাচনি অপরাধ নিয়ে তদন্ত ও সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার সম্পন্ন করবেন। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, মনোনীত ম্যাজিস্ট্রেটরা ‘দ্য কোড অব ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮’ অনুযায়ী নির্বাচনি অপরাধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হবেন। এর আগে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়োগ দেয়, যারা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় দায়িত্ব পালন করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নির্বাচনি অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিদায় নিতে যাওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে নিজেদের জন্য কী করা হয়েছে—এ প্রশ্ন তুলেছেন গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা। জবাবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুমের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া) মিলনায়তনে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ আয়োজিত এক বৈঠকে গুমের ভুক্তভোগী পরিবার, গুম হয়ে ফিরে আসা ব্যক্তিরা এবং সরকারের উপদেষ্টারা অংশ নেন। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ভার্চুয়ালি যুক্ত হন এবং শিল্প, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা অভিযোগ করেন, তাঁদের দুর্দশা ও বাস্তব পরিস্থিতি পর্যাপ্তভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। তাঁরা গুমের বিচার, অপরাধীদের শাস্তি, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের সুস্পষ্ট অগ্রগতি জানতে চান। জবাবে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, সরকার গুমসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনে যোগ দিয়েছে এবং বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের বিচার শুরু হয়েছে। তিনি জানান, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ প্রণয়ন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করা এবং নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষরের মাধ্যমে গুমের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বৈঠকে অংশ নিয়ে গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিরা তাঁদের শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা তুলে ধরেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার দাবি জানান। সমাপনী বক্তব্যে উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, গুমের বিচারে নানা বাধা ও চ্যালেঞ্জ থাকলেও আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে এবং এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। প্রসিকিউটর এস এম তাসমিরুল ইসলাম জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে গুমবিষয়ক তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এবং ইতিমধ্যে তিনটি মামলা সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপনের পর্যায়ে রয়েছে। বৈঠকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুমের বিরুদ্ধে গড়ে তোলা আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি ভবিষ্যৎ সরকারগুলোও অব্যাহত রাখবে।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ নিয়ে চলা বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে—১৮০ দিন নয়, নির্বাচনের পর অল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। আরো পড়ুন... এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, এটা পাগলও বিশ্বাস করেনা- ফাহিম ফারুকী বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচন শেষে যত দ্রুত সম্ভব নতুন সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে। তিনি জানান, সংসদ সদস্যদের শপথ ও সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলে তিন দিনের মধ্যেও ক্ষমতা হস্তান্তর সম্ভব। তার ভাষায়, ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারিতেও সরকার গঠন হতে পারে, ১৭–১৮ ফেব্রুয়ারির পর যাবে না। আরো পড়ুন... বিএনপির সঙ্গে জোট না হলেও ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের বিষয়ে আমরা ইতিবাচক এদিকে, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন—সে বিষয়ে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, এটি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত। রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি বা প্রধান নির্বাচন কমিশনার—দুই বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে। তবে দ্রুত শপথ গ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। আরো পড়ুন... শুক্রবার বিকালে বিএনপির ইশতেহার ঘোষণা করবেন তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ফ্যাক্টস পেজ থেকেও জানানো হয়েছে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ব্যাখ্যায় বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার ১৮০ দিন ক্ষমতায় থাকবে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেই। বরং নির্বাচিত সংসদই সরকার পরিচালনার পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করবে। আরো পড়ুন... নারী কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ইসলামী যুব আন্দোলনের বিক্ষোভ সমাবেশ জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে সংসদের দ্বৈত ভূমিকা থাকবে—একদিকে সরকার পরিচালনা, অন্যদিকে সংবিধান সংস্কার। সংস্কার সম্পন্ন হলে সংসদ স্বাভাবিক ভূমিকায় ফিরে আসবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোট গণনা ও গণভোটের ফলের ওপর নির্ভর করে ১৪–১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফলাফল ঘোষণা হতে পারে এবং দ্রুত সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে ভোট গণনায় দেরি হলে গুজব ও আইনি জটিলতা তৈরির আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন তারা। সব মিলিয়ে, ১৮০ দিন নয়—ভোটের পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যেই নতুন সরকার দায়িত্ব নেবে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
হাতে প্রচারপত্র, সঙ্গে কয়েকজন কর্মী। কখনও পায়ে হেঁটে, কখনও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে হাট-বাজার, গ্রাম আর চা-বাগান ঘুরে ঘুরে ভোট চাইছেন সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী। যিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার জেলার একমাত্র নারী প্রার্থী। রাজনীতির চিরচেনা ছবির বাইরে দাঁড়িয়ে তার এই পথচলা হয়ে উঠেছে সাহস ও দৃঢ়তার এক আলাদা গল্প। মৌলভীবাজারের রাজনীতির মাঠে সাদিয়া নোশিনের উপস্থিতি অনেকটাই ব্যতিক্রমী। মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া উপজেলা) আসনে বাসদ (মার্ক্সবাদী) মনোনীত ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে তিনি ‘কাঁচি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার বাড়ি কুলাউড়া উপজেলার লস্করপুর এলাকায়। স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনি প্রচারে বড় শোডাউন বা ব্যয়বহুল আয়োজনের বদলে সাধারণ মানুষের কাছেই যেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন সাদিয়া নোশিন। চায়ের দোকান, হাটের আড্ডা কিংবা চা-বাগানের শ্রমিক লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি কথা বলছেন মানুষের দৈনন্দিন সংকট, ন্যায্য অধিকার ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে। জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে সাদিয়া নোশিনই একমাত্র নারী প্রার্থী। মৌলভীবাজার-২ আসনে তিনি ছাড়াও আরও সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির শওকতুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর মো. সায়েদ আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী নওয়াব আলী আব্বাস খান, ফজলুল হক খান, জাতীয় পার্টির আবদুল মালিক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুল কুদ্দুস এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এম জিমিউর রহমান চৌধুরী। সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী জানান, এমসি কলেজে পড়াশোনার সময় থেকেই তার রাজনৈতিক পথচলার শুরু। সে সময় তিনি ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। বাসদের ছাত্রসংগঠন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের এমসি কলেজ শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি সিলেট নগর শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। পড়াশোনা শেষ হলে ছাত্ররাজনীতি থেকে সরে এসে তিনি মূল রাজনৈতিক সংগঠনে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর কেন্দ্রীয় নারী সংগঠনের দফতর সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। প্রচারণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সাদিয়া নোশিন জানান, তিনি বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রচারপত্র বিতরণ করছেন এবং প্রতিদিন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। অনেকেই তাকে সাহস জোগান। তিনি বলেন, অনেকে বলেন, মেয়ে হয়ে সাহস করে দাঁড়ানোই বড় কথা। এসব কথা থেকেই আমি শক্তি ও সাহস পাই। এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে এই প্রার্থী বলেন, চা-শ্রমিক, খাসিয়া ও গারো জনগোষ্ঠী দেশের নাগরিক হয়েও এখনও ভূমির মালিকানার অধিকার থেকে বঞ্চিত। দীর্ঘদিন ধরে এই জনগোষ্ঠীগুলো নানাভাবে অবহেলার শিকার হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভবন থাকলেও চিকিৎসক ও পরীক্ষার যন্ত্রপাতির সংকটে মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ভেঙে পড়েছে, আর রেলযোগাযোগেও অব্যবস্থাপনায় স্টেশন ও লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। নারী উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সাদিয়া নোশিন বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। এই জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে কোনো টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। চা-শ্রমিকদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নারীর অধিকার ও উন্নয়ন। এই দাবিগুলোকে সামনে রেখেই তারা রাজনীতির মাঠে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, জয়-পরাজয় বড় বিষয় নয়, মানুষের দাবি তুলে ধরাই তাদের মূল লক্ষ্য। কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তার এই নিরবচ্ছিন্ন প্রচারণা ইতোমধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক ভোটারের কাছে সাদিয়া নোশিন হয়ে উঠছেন ভিন্ন ধারার রাজনীতির এক প্রতীক। যেখানে ক্ষমতার নয়, অগ্রাধিকার পায় মানুষের কথা।
গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে মোট ২৭৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৫ জন নিহত হয়েছেন। এই তথ্য জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। প্রেস উইং থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সহিংস ঘটনাগুলো ১১টি শ্রেণিতে (ক্যাটাগরি) ভাগ করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর সবচেয়ে বেশি সহিংসতা হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে—মোট ৮৯টি ঘটনা। এরপর সর্বাধিক সহিংসতার অবস্থান ধরে রেখেছে নির্বাচনী প্রচারকাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা (২৯টি) এবং নির্বাচনী অফিস ও প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ (২০টি)। এছাড়া প্রার্থীর ওপর আক্রমণ হয়েছে ১৫টি ঘটনায়, ভীতি প্রদর্শন বা আক্রমণাত্মক আচরণ ঘটেছে ১৬টি ঘটনায়, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে ৩টি ঘটনায়, হুমকি প্রদান হয়েছে ৯টি ঘটনায় এবং সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ হয়েছে ১টি ঘটনায়। বিক্ষোভ ও অবরোধের ঘটনা হয়েছে ১৭টি। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘অন্যান্য’ শিরোনামের মধ্যে ৭০টি ঘটনা রয়েছে, তবে সেগুলো কী ধরনের সহিংসতা, তা স্পষ্ট করা হয়নি। অতীতের নির্বাচনের সহিংসতার তুলনাও প্রকাশ করা হয়েছে। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ৫৩০টি সহিংস ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে ১১৫ জন নিহত ও ৩১৫ জন আহত হন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ৪১৪টি সহিংসতায় ২২ জন নিহত ও ৭৮০ জন আহত হন। সর্বশেষ, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ৫৩৪টি সহিংসতায় ৬ জন নিহত ও ৪৬০ জন আহত হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই সহিংসতার চিত্র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করতে এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্বকে আরও বেশি প্রমাণ করছে।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ–৪ (সদর উপজেলা) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে এবারের নির্বাচনে ব্যালটে থাকছে না বিএনপির ধানের শীষ কিংবা জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীক। তবুও বহুমুখী প্রার্থী ও বিদ্রোহী অংশগ্রহণে আসনটিতে ভোটের লড়াই ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মনির হোসেন কাসেমী। তাঁর নির্বাচনী প্রতীক ‘খেজুরগাছ’। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন নিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন আব্দুল্লাহ্ আল আমিন, যার প্রতীক ‘শাপলা কলি’। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দল এবং একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির সাবেক প্রভাবশালী দুই নেতা—দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ শাহ্ আলম এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে তৃণমূল পর্যায়ে তাঁদের শক্ত অনুসারী থাকায় ভোটের সমীকরণ জটিল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। ফতুল্লা, মাসদাইরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব প্রার্থীই ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছেন। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উন্নয়ন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত পরিবেশ এবং নির্বাচনের পর যাঁকে সব সময় পাশে পাওয়া যাবে—এমন প্রার্থীই তাঁদের অগ্রাধিকার। মনির হোসেন কাসেমী বলেন, জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপির নেতা-কর্মীরাও তাঁর পক্ষে মাঠে নেমেছেন এবং তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নিজেদের জনপ্রিয়তা ও গণসংযোগের শক্তির কথা তুলে ধরে বিজয়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন। এনসিপির প্রার্থী আব্দুল্লাহ্ আল আমিন বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মানুষ বিকল্প শক্তির দিকে তাকাচ্ছে, যা এ আসনে ভোটের লড়াইকে আরও বহুমাত্রিক করেছে। সব মিলিয়ে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার অনুপস্থিতিতেও নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনে ভোটের উত্তাপ কমেনি। বরং একাধিক জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণে এ আসনটি পরিণত হয়েছে এবারের নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’-কে জয়যুক্ত করতে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রতিনিধি দলের এক বৈঠকে এই প্রচারণার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠক শেষে দিবাগত রাত ১২টার পর এ তথ্য জানানো হয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রচারণার সুবিধার্থে ছয়টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে— ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, যশোর, ময়মনসিংহ ও সিলেট। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার মাধ্যমে এই প্রচারণা শুরু হবে। সভা আয়োজনের সময়সূচি অনুযায়ী, ৩১ জানুয়ারি ঢাকা ও ময়মনসিংহ, ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম ও সিলেট, এবং ৩ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী ও যশোর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “তারুণ্যের স্পর্ধিত অহংকার দীর্ঘদিন জাতির ঘাড়ে চেপে বসা স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে। সেই তারুণ্যের সম্মিলিত সমাবেশে নতুন বাংলাদেশের পথচলার সূচনা হবে। ৫৪ বছর পর সুযোগ এসেছে— গণতান্ত্রিক, মানবিক ও ইনসাফের একটি সমাজ গড়ার। তরুণরা এ প্রসঙ্গে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।” তিনি আরও যোগ করেন, এই মতবিনিময় সভার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নাগরিকদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিতে উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হবে। এসময় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক তানজিমউদ্দীন খান, অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত মঞ্চ প্রস্তুত! ৪ দিনব্যাপী যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহারের রুদ্ধশ্বাস নাটক শেষে ভোটের লড়াইয়ে টিকে রইলেন ১ হাজার ৯৬৭ জন যোদ্ধা। নির্বাচন কমিশন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী ডামাডোল এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশের নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৪৯টি দল এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও নিবন্ধন স্থগিত থাকা আওয়ামী লীগসহ ১১টি দল এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে থাকছে। নির্বাচনী লড়াইয়ে যারা আছেন: মাঠে থাকা প্রধান দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি (জাপা), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টি এবং সিপিবিসহ মোট ৪৯টি দল। মাঠের বাইরে যে ১১ দল: নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না ১১টি নিবন্ধিত দল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, আওয়ামী লীগ (নিবন্ধন স্থগিত), বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, তরিকত ফেডারেশন এবং জাসদ। প্রার্থী ও দলীয় পরিসংখ্যান: মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৩০৫ জন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে চূড়ান্ত লড়াইয়ে টিকে আছেন ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী। দলভিত্তিক প্রার্থীর সংখ্যা নিম্নরূপ: বিএনপি: ২৯০ জন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: ২৫৯ জন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ২১৬ জন জাতীয় পার্টি (জাপা): ১৯৬ জন গণঅধিকার পরিষদ: ৯২ জন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): ৩০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী: ৩০০ জনের বেশি (যার মধ্যে বিএনপির অর্ধশতাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন) নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামীকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দ শুরু হবে এবং প্রার্থীরা পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণায় নামতে পারবেন। ১২ ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে আগামীর বাংলাদেশের ভাগ্য। রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম—সবত্রই এখন ভোটের আমেজ।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।