আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সমান্তরালে দেশবাসীর দৃষ্টি কেড়েছে এক ঐতিহাসিক ‘গণভোট’। এই গণভোটে যদি প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনীর পক্ষে ‘হ্যাঁ’ রায় আসে, তবে বাংলাদেশের ৫৪ বছরের সংসদীয় ইতিহাসে সূচিত হবে এক নতুন দিগন্ত। বর্তমানের একক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভার পরিবর্তে প্রবর্তিত হবে ‘দ্বিকক্ষবিশিষ্ট’ সংসদীয় ব্যবস্থা, যেখানে জাতীয় সংসদের (নিম্নকক্ষ) পাশাপাশি যুক্ত হবে একটি শক্তিশালী ‘উচ্চকক্ষ’। কীভাবে গঠিত হবে এই উচ্চকক্ষ? গণভোটে জনসমর্থন মিললে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে প্রথমে একটি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠিত হবে। এই পরিষদ ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করবে। সংস্কার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রাপ্ত মোট ভোটের সংখ্যানুপাতে (পিআর পদ্ধতি) ১০০ সদস্যের এই উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। অর্থাৎ, কোনো দল যদি নির্বাচনে মোট ভোটের ৪০ শতাংশ পায়, তবে উচ্চকক্ষে তারা ৪০টি আসন পাবে। এমনকি নিম্নকক্ষে কোনো আসন না পাওয়া ক্ষুদ্র দলগুলোও যদি মাত্র ১ শতাংশ ভোট পায়, তবে উচ্চকক্ষে তাদের অন্তত ১ জন প্রতিনিধি নিশ্চিত থাকবে। এর ফলে বিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী এবং পেশাজীবীদের রাষ্ট্র পরিচালনায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। উচ্চকক্ষের ক্ষমতা ও কাজ: দ্বিকক্ষবিশিষ্ট এই ব্যবস্থায় উচ্চকক্ষের প্রধান দায়িত্ব হবে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া আইনগুলো পুনঃপর্যালোচনা ও ত্রুটিমুক্ত করা। বিশেষ করে সংবিধান সংশোধনীর ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের বিশেষ ভেটো বা পর্যালোচনার ক্ষমতা থাকবে। যদিও উচ্চকক্ষ সরাসরি সরকারের ওপর ‘অনাস্থা প্রস্তাব’ আনতে পারবে না, তবে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তারা প্রশ্ন উত্থাপন ও নীতিগত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করবে। কোনো ইস্যুতে দুই কক্ষের মধ্যে মতভেদ দেখা দিলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আইনি সুযোগও রাখা হয়েছে এই প্রস্তাবে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: ব্রিটেনের ‘হাউস অব লর্ডস’, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘সিনেট’ এবং ভারতের ‘রাজ্যসভা’র মতো গণতান্ত্রিক কাঠামোর আদলেই এই নতুন ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদ্ধতি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া আরও সুসংহত এবং ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে। এখন দেখার বিষয়, কালকের ব্যালটে এদেশের ভোটাররা বাংলাদেশের আগামীর জন্য কোন পথে রায় দেন।
আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সমান্তরালে দেশবাসীর দৃষ্টি কেড়েছে এক ঐতিহাসিক ‘গণভোট’। এই গণভোটে যদি প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনীর পক্ষে ‘হ্যাঁ’ রায় আসে, তবে বাংলাদেশের ৫৪ বছরের সংসদীয় ইতিহাসে সূচিত হবে এক নতুন দিগন্ত। বর্তমানের একক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভার পরিবর্তে প্রবর্তিত হবে ‘দ্বিকক্ষবিশিষ্ট’ সংসদীয় ব্যবস্থা, যেখানে জাতীয় সংসদের (নিম্নকক্ষ) পাশাপাশি যুক্ত হবে একটি শক্তিশালী ‘উচ্চকক্ষ’। কীভাবে গঠিত হবে এই উচ্চকক্ষ? গণভোটে জনসমর্থন মিললে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে প্রথমে একটি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠিত হবে। এই পরিষদ ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করবে। সংস্কার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রাপ্ত মোট ভোটের সংখ্যানুপাতে (পিআর পদ্ধতি) ১০০ সদস্যের এই উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। অর্থাৎ, কোনো দল যদি নির্বাচনে মোট ভোটের ৪০ শতাংশ পায়, তবে উচ্চকক্ষে তারা ৪০টি আসন পাবে। এমনকি নিম্নকক্ষে কোনো আসন না পাওয়া ক্ষুদ্র দলগুলোও যদি মাত্র ১ শতাংশ ভোট পায়, তবে উচ্চকক্ষে তাদের অন্তত ১ জন প্রতিনিধি নিশ্চিত থাকবে। এর ফলে বিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী এবং পেশাজীবীদের রাষ্ট্র পরিচালনায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। উচ্চকক্ষের ক্ষমতা ও কাজ: দ্বিকক্ষবিশিষ্ট এই ব্যবস্থায় উচ্চকক্ষের প্রধান দায়িত্ব হবে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া আইনগুলো পুনঃপর্যালোচনা ও ত্রুটিমুক্ত করা। বিশেষ করে সংবিধান সংশোধনীর ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের বিশেষ ভেটো বা পর্যালোচনার ক্ষমতা থাকবে। যদিও উচ্চকক্ষ সরাসরি সরকারের ওপর ‘অনাস্থা প্রস্তাব’ আনতে পারবে না, তবে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তারা প্রশ্ন উত্থাপন ও নীতিগত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করবে। কোনো ইস্যুতে দুই কক্ষের মধ্যে মতভেদ দেখা দিলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আইনি সুযোগও রাখা হয়েছে এই প্রস্তাবে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: ব্রিটেনের ‘হাউস অব লর্ডস’, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘সিনেট’ এবং ভারতের ‘রাজ্যসভা’র মতো গণতান্ত্রিক কাঠামোর আদলেই এই নতুন ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদ্ধতি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া আরও সুসংহত এবং ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে। এখন দেখার বিষয়, কালকের ব্যালটে এদেশের ভোটাররা বাংলাদেশের আগামীর জন্য কোন পথে রায় দেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।
We use cookies to improve your experience, deliver personalized content and ads, and analyze our traffic. By continuing to browse our site, you agree to our use of cookies. Cookie Policy