৬৭ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল অনলাইন শপিং জায়ান্ট eBay
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অনলাইন মার্কেটপ্লেস ইবে (eBay) কে অধিগ্রহণের জন্য দেওয়া প্রায় ৫৫.৫ বিলিয়ন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৭ হাজার কোটি টাকা) প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রস্তাবটি দিয়েছিল ভিডিও গেম বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান গেমস্টপ (GameStop) যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে “মিম স্টক” হিসেবে ব্যাপক আলোচনায় আসে।
ইবে (eBay) এর পরিচালনা পর্ষদ জানিয়েছে, গেমস্টপ (GameStop) এর প্রস্তাব “অযাচিত” এবং “বিশ্বাসযোগ্য বা আকর্ষণীয় নয়”। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, eBay বর্তমানে একটি শক্তিশালী ও লাভজনক ব্যবসা পরিচালনা করছে এবং তাদের নিজস্ব দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সফলভাবেই এগোচ্ছে।
eBay বোর্ডের পক্ষ থেকে গেমস্টপ (GameStop) এর সিইও রায়ান কোহেনকে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, এই অধিগ্রহণ বাস্তবায়ন হলে নতুন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে গেমস্টপ (GameStop) এর পরিচালনা পর্ষদের অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে eBay।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুরু থেকেই এই প্রস্তাব বাস্তবসম্মত ছিল না। কারণ গেমস্টপ (GameStop) এর বাজারমূল্য eBay-এর তুলনায় অনেক কম। এছাড়া এত বড় চুক্তির অর্থায়ন কীভাবে হবে, সেটিও পরিষ্কার ছিল না। যদিও গেমস্টপ (GameStop) দাবি করেছিল, তারা টিডি সিকিউরিটিজের কাছ থেকে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার ঋণের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় ঋণের চাপ ভবিষ্যতে eBay-এর ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত। বর্তমানে Amazon, Etsy এবং Temu-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মধ্যেও eBay নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী রাখতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে গেমস্টপ (GameStop) এর সিইও রায়ান কোহেন এখনই পিছু হটার ইঙ্গিত দেননি। তিনি জানিয়েছেন, বোর্ড প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও তিনি সরাসরি ইবে (eBay) এর শেয়ারহোল্ডারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ইবে (eBay) এর নিট মুনাফা বেড়ে ৪১৮.৪ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। ফলে বিশ্লেষকদের ধারণা, শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানের কারণেই প্রতিষ্ঠানটি অধিগ্রহণ প্রস্তাব সহজেই ফিরিয়ে দিতে পেরেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreবিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমা এবং মূল্যস্ফীতির নতুন ইতিবাচক তথ্যের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক বাজারে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। এর ফলে দেশটিতে মর্টগেজ বা বন্ধকি ঋণের সুদের হার কমে গত চার সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। মর্টগেজ নিউজ ডেইলির (এমএনডি) বৃহস্পতিবারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩০ বছর মেয়াদি নির্দিষ্ট মর্টগেজের গড় সুদের হার ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশে অবস্থান করছে, যা গত জুলাইয়ের শেষের দিকেও ৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল। সুদের হার সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমলেও তা এখনো যুদ্ধপূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় বেশ চড়া। গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগে ৩০ বছর মেয়াদি মর্টগেজ রেট গড়ে ৬ শতাংশের নিচেই ছিল। মূলত ট্রেজারি ইয়েল্ড বা সরকারি বন্ডের মুনাফার হার এবং তেলের দাম কমার কারণেই সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মর্টগেজ রেট নিম্নমুখী প্রবণতায় ফিরেছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে থাকলে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় ট্রেজারি ইয়েল্ড বেড়ে যায়, যার সরাসরি প্রভাবে মর্টগেজ রেটেও তখন বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গিয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে বড় পরিসরের সংঘাতে সাময়িক বিরতির কারণে তেলের দামের ঊর্ধ্বমুখী চাপ অনেকটাই কমে আসে। গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ১১ ডলারে নেমে আসে, যা জুলাইয়ের শুরুর পর থেকে সবচেয়ে সস্তা। যদিও সাম্প্রতিক কয়েক দিনে দাম কিছুটা বেড়ে শুক্রবার সকালে তা ৮৭ ডলার ছাড়িয়েছে। এর পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ে সরকারের ইতিবাচক পরিসংখ্যান পরিস্থিতি শান্ত করতে সাহায্য করেছে। বন্ডের নির্দিষ্ট আয়ের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি কমে আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফেরে, যা শেষ পর্যন্ত মর্টগেজ রেট কমাতেও ভূমিকা রেখেছে। চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা পর্যায়ে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে। এর একদিন পরই সরকারের প্রকাশিত আরেকটি পরিসংখ্যানে জানা যায়, জুলাই মাসে পাইকারি পর্যায়ে উৎপাদকদের প্রদান করা দাম অপরিবর্তিত ছিল, যা অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের চেয়েও কম। মর্টগেজ নিউজ ডেইলি জানিয়েছে, সরকারের এই দুই জোড়া প্রতিবেদন বাজারকে জ্বালানির দামের প্রকৃত প্রভাব আরও নিখুঁতভাবে পরিমাপ করতে সাহায্য করেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জিনিসপত্রের বাড়তি দাম এবং উচ্চ মর্টগেজ রেটের দ্বিমুখী চাপে অনেক ক্রেতার পক্ষেই নতুন বাড়ি কেনা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে উচ্চ খরচের কারণে ক্রেতারা অনেকটাই বিভ্রান্ত ও হতাশ হয়ে পড়েছেন। এছাড়া এই উচ্চ সুদের হারের কারণে আবাসন বাজারে 'লক-ইন' বা আটকে থাকার একটি প্রভাবও তৈরি হয়েছে। বর্তমান বাড়ির মালিকরা তাদের পুরোনো ও তুলনামূলক কম সুদের মর্টগেজ সুবিধা হারাতে চাইছেন না। ফলে তারা বাড়ি বিক্রি করে নতুন করে উচ্চ সুদে ঋণ নেওয়ার ঝুঁকি এড়াতে আবাসন বাজার থেকে নিজেদের গুটিয়ে রেখেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানায় ভয়াবহ বন্যা, ১১৩ বছরের রেকর্ড ভেঙে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে
গ্রিন কার্ড, স্থায়ী চাকরি থাকার পরও কেন বাড়ি ভাড়া পাচ্ছেন না বাংলাদেশীরা!
তিনবার এইচ-১বি লটারিতে ব্যর্থ, ৭০০ পৃষ্ঠার প্রমাণ আর ১৩ হাজার ডলারে পেলেন কাঙ্খিত ভিসা
মায়ের আলঝেইমার রোগ নিয়ে গবেষণায় সহায়তা হবে, এই বিশ্বাসে ২০১৩ সালে তার দেহ বিজ্ঞানের জন্য দান করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার বাসিন্দা জিম স্টফার। কিন্তু কয়েক বছর পর তিনি জানতে পারেন, মায়ের দেহ চিকিৎসা গবেষণায় নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বিস্ফোরণ পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছিল। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, সামরিক পরীক্ষায় দেহ ব্যবহারের অনুমতি তিনি স্পষ্টভাবেই দেননি। জিমের মা ডরিস স্টফার ২০১৩ সালে ৭৪ বছর বয়সে আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত অবস্থায় মারা যান। পরিবারের আশা ছিল, তার মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণা করলে আলঝেইমার সম্পর্কে নতুন কিছু জানা যেতে পারে। একটি নার্সের পরামর্শে পরিবার যোগাযোগ করে অ্যারিজোনাভিত্তিক বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টারের সঙ্গে। দেহ হস্তান্তরের সময় জিম একটি সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করেন। সেখানে চিকিৎসা গবেষণার অনুমতি দিলেও সামরিক, ট্রাফিক সেফটি কিংবা বিস্ফোরণসহ ধ্বংসাত্মক পরীক্ষায় মায়ের দেহ ব্যবহার করা যাবে না, এমন অপশনে তিনি ‘না’ চিহ্নিত করেছিলেন। এর প্রায় ১০ দিন পর পরিবারকে কিছু দাহ করা দেহাবশেষ ফেরত দেওয়া হয়। কিন্তু ডরিসের দেহ আসলে কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারকে কিছুই জানানো হয়নি। পরে রয়টার্সের তদন্তে উঠে আসে, বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টার ডরিসের একটি হাত আলাদা করে দাহ করেছিল এবং সেই ছাই পরিবারকে ফেরত দিয়েছিল। বাকি দেহটি অর্থের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি গবেষণা প্রকল্পে পাঠানো হয়েছিল। সেনাবাহিনীর ওই পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল রাস্তার পাশে পাতা বোমা বা আইইডি বিস্ফোরণের সময় মানবদেহে কী ধরনের ক্ষতি হয়, তা বোঝা। ডরিসের দেহ সেই পরীক্ষার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অথচ তার মস্তিষ্ক আলঝেইমার গবেষণায় ব্যবহারই করা হয়নি। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা যায়, ডরিস ছাড়াও অন্তত ২০টি দেহ একই ধরনের সামরিক বিস্ফোরণ পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছিল, যেখানে দাতাদের বা তাদের পরিবারের প্রয়োজনীয় সম্মতি ছিল না। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর নিজস্ব নীতিরও লঙ্ঘন ছিল। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা পরে জানান, তারা সংশ্লিষ্ট পরিবারের আসল সম্মতিপত্র দেখেননি। বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টারের কাছ থেকে পরিবারগুলো সামরিক পরীক্ষায় সম্মতি দিয়েছে এমন আশ্বাসের ওপর নির্ভর করেছিলেন তারা। ডরিসের দেহের প্রকৃত পরিণতি পরিবারকে জানিয়েছিল না বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টার, না সেনাবাহিনী। ২০১৬ সালে রয়টার্সের একজন সাংবাদিকের কাছ থেকেই জিম প্রথম জানতে পারেন, তার মায়ের দেহ আলঝেইমার গবেষণায় নয়, বিস্ফোরণ পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে জিমসহ আরও অনেক পরিবার বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, মৃত স্বজনদের দেহ কীভাবে ব্যবহার করা হবে সে বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছিল এবং সম্মতি ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে দেহ বা দেহাংশ বিক্রি করা হয়েছিল। ২০১৯ সালে অ্যারিজোনার একটি সিভিল জুরি মামলার ২১ বাদীর মধ্যে ১০ জনের পক্ষে রায় দেয়। মোট ৫৮ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮ মিলিয়ন ডলার ছিল ক্ষতিপূরণমূলক এবং ৫০ মিলিয়ন ডলার শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ। মামলায় উঠে আসে, বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টার চিকিৎসা গবেষণার কথা বলে দেহ সংগ্রহ করলেও কিছু দেহ সামরিক পরীক্ষায় বিক্রি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মূল্যতালিকায় একটি মাথাবিহীন ধড় ৪ হাজার ডলার পর্যন্ত বিক্রির তথ্যও আদালতে দেখানো হয়। বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টারের মালিক স্টিফেন গোর এর আগে ২০১৫ সালে বেআইনি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী সময়ে বন্ধ হয়ে যায়। রয়টার্সের তদন্ত অনুযায়ী, এক দশকে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৫ হাজার দাতার দেহ থেকে ২০ হাজারের বেশি দেহাংশ বিক্রি করেছিল। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অঙ্গ প্রতিস্থাপন এবং পুরো দেহ দানের ব্যবস্থার মধ্যে বড় ধরনের নিয়ন্ত্রক পার্থক্যও সামনে আনে। অঙ্গ প্রতিস্থাপন কঠোর ফেডারেল নিয়মের আওতায় থাকলেও গবেষণা ও শিক্ষার জন্য দান করা পূর্ণ মানবদেহ বা দেহাংশের বাণিজ্যে সে সময় তুলনামূলকভাবে খুব কম নজরদারি ছিল। জিম স্টফারের জন্য বিষয়টি ছিল কেবল একটি আইনি লড়াই নয়। তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মায়ের অসুস্থতা নিয়ে গবেষণায় সাহায্য করার আশায়, সেটিই শেষ পর্যন্ত এমন এক ব্যবস্থার মুখোশ খুলে দেয় যেখানে পরিবারের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেও দান করা মানবদেহ অন্য কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছিল।
অফিস সহকারী থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি, এবার সেখানেই ওষুধ তৈরির গবেষণাগারে তিনি
ঝুঁকির অভিযোগের পর যুক্তরাষ্ট্রে ৪১ হাজার বেবি জাম্পার-সুইং রিকল
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তিতে বিশেষ ‘প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট’, যেভাবে আবেদন করবেন
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে বাসা খোঁজা আরও কঠিন হয়ে উঠছে। জুলাইয়ে মার্কেট রেট অ্যাপার্টমেন্টের মিডিয়ান রেন্ট মাসে রেকর্ড ৫ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে এক বছরের ব্যবধানে ভাড়ার জন্য বাজারে থাকা অ্যাপার্টমেন্টের লিস্টিং প্রায় ৩৯ শতাংশ কমেছে। ফলে সীমিত বাসার জন্য প্রতিযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি ভাড়াটিয়াদের ওপর চাপও তীব্র হচ্ছে। বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে ম্যানহাটনের মার্কেট রেট অ্যাপার্টমেন্টের মিডিয়ান রেন্ট জুনের তুলনায় ৩ শতাংশ এবং গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে এক বছরে বাজার থেকে প্রায় ৪ হাজার অ্যাপার্টমেন্টের লিস্টিং কমে গেছে। শুধু রেন্ট বাড়াই নয়, ভালো বাসা পাওয়ার জন্য ভাড়াটিয়াদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ও কমে আসছে। গত বছরের গ্রীষ্মে একটি অ্যাপার্টমেন্ট গড়ে ৪৮ দিন বাজারে থাকলেও এবার তা নেমে এসেছে ৩৬ দিনে। অর্থাৎ পছন্দের বাসা পেলে দ্রুত লিজ না করলে সেটি অন্য ভাড়াটিয়ার কাছে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। ম্যানহাটনের সব এলাকাতেই লিস্টিং উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকায় গত বছরের তুলনায় ইনভেন্টরি প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। সবচেয়ে বেশি রেন্ট ডাউনটাউন ম্যানহাটনে। এরপর রয়েছে ওয়েস্ট সাইড, ইস্ট সাইড ও নর্দার্ন ম্যানহাটন। বিশেষ করে দুই বা তার বেশি বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে রেন্ট দ্রুত বাড়ছে। বাজারের সবচেয়ে দামি ১০ শতাংশ বা লাক্সারি অ্যাপার্টমেন্টের মিডিয়ান রেন্ট এক বছরের ব্যবধানে ৩১ শতাংশ বেড়ে মাসে ১৩ হাজার ৭৫০ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে নতুন লিজের সংখ্যাও ১৯ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ রেন্ট বাড়লেও নতুন চুক্তির সংখ্যা একই গতিতে বাড়ছে না। আবাসন বিশেষজ্ঞদের কাছে এটি নিউইয়র্কের হাউজিং মার্কেটে সরবরাহ সংকট ও ক্রয়ক্ষমতার চাপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। নিউইয়র্কে আবাসন ব্যয় দীর্ঘদিন ধরেই বড় সমস্যা। শহরের বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা তাদের আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি শুধু রেন্টেই ব্যয় করেন। সাধারণভাবে আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি আবাসনে ব্যয় হলে সেটিকে হাউজিং কস্ট বার্ডেন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে ম্যানহাটনের এই ৫ হাজার ডলারের হিসাব সব ধরনের অ্যাপার্টমেন্টের নয়। প্রতিবেদনের তথ্য মূলত মার্কেট রেট ইউনিটের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ম্যানহাটনের প্রায় ৪৪ শতাংশ বাসা রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে, যেগুলো এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়। মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন আবাসন সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদে ২ লাখ অ্যাফোর্ডেবল হোম তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ‘ব্লক বাই ব্লক’ পরিকল্পনা নিয়েছে। পাশাপাশি অফিস ভবন, সিটির মালিকানাধীন সম্পত্তি এবং অন্যান্য অব্যবহৃত জায়গাকে আবাসনে রূপান্তরের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড অ্যাপার্টমেন্টে মামদানির প্রতিশ্রুত রেন্ট ফ্রিজও চলতি শরতে কার্যকর হওয়ার কথা। তবে এই নীতি মার্কেট রেট অ্যাপার্টমেন্টের রেন্টে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রিয়েল এস্টেট খাতে বিতর্ক রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় সংকেতটি স্পষ্ট। ম্যানহাটনে শুধু বাসার রেন্টই বাড়ছে না, ভাড়ার জন্য পাওয়া যাচ্ছে আগের তুলনায় অনেক কম অ্যাপার্টমেন্ট। ফলে নতুন বাসা খুঁজছেন এমন নিউইয়র্কবাসীর জন্য উচ্চ রেন্টের পাশাপাশি সীমিত ইনভেন্টরিও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গর্ভপাতের জন্য সারোগেটকে চাপ, জন্মের পর শিশু গেল বাবা-মায়ের কাছে
সন্তানের কবরও রেহাই পেল না, মায়ের ২৪ বছরের শোক ভাঙচুরে ফিরল নতুন যন্ত্রণায়