ন্যাটো

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
কংগ্রেসের আপত্তি উড়িয়ে তুরস্ককে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের জেট ইঞ্জিন দিচ্ছেন ট্রাম্প

আসন্ন ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগেই তুরস্কের প্রতি বন্ধুত্বের এক বড় বার্তা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন কংগ্রেসের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও আঙ্কারার কাছে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার মূল্যের যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার এই বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে।   জানা গেছে, ৭০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের এই প্যাকেজের আওতায় তুরস্কের কাছে বেশ কয়েক ডজন ইঞ্জিন বিক্রি করা হবে। স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান জেনারেল ইলেকট্রিক (জিই)-এর তৈরি এই ইঞ্জিনগুলো তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম যুদ্ধবিমান 'কান' (Kaan)-এ ব্যবহৃত হবে। প্রতিরক্ষাক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে ন্যাটো সদস্য তুরস্ক ২০১৬ সালে এই মেগা প্রকল্পটির সূচনা করেছিল।   ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যে সাধারণত উষ্ণ সম্পর্কই বজায় ছিল। ট্রাম্প একাধিকবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের প্রশংসাও করেছেন। তবে, আঙ্কারা রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় করার পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান প্রকল্প থেকে তুরস্ককে বাদ দেয় এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরিয়েছিল।   মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস এই নতুন ইঞ্জিন চুক্তির অনানুষ্ঠানিক পর্যালোচনা চলাকালীন আপত্তি তুলেছিলেন এবং এখনও এর পক্ষে সবুজ সংকেত দেননি। তা সত্ত্বেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চুক্তিটি চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং এরপর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি অবহিত করবে।   প্রায় এক বছর আগে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই ইঞ্জিন বিক্রির প্রক্রিয়াটি আটকে থাকা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে সেই জট খুলতে চলেছে। উল্লেখ্য, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই তুরস্কে ন্যাটো নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জোটে ব্যয়ভার বণ্টন, প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালী নিরাপদ রাখার বিষয়ে মিত্রদের ভূমিকা নিয়ে বিদ্যমান উত্তেজনার মাঝেই এই সম্মেলন আয়োজিত হতে যাচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: রয়টার্স
রাশিয়াকে প্রতিরোধে লাটভিয়ায় ৮৫০ সেনা পাঠাবে ডেনমার্ক

 ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা জোরদারের অংশ হিসেবে আগামী শরৎ মৌসুমে লাটভিয়ায় ৮৫০ সদস্যের একটি সামরিক ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করবে ডেনমার্ক। বর্তমানে দেশটিতে অবস্থানরত সুইডিশ সেনা কন্টিনজেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করবে ডেনিশ বাহিনী।   বুধবার ডেনমার্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়েপে ব্রুস দেশটির পার্লামেন্ট সদস্যদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।   প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “রাশিয়াকে প্রতিরোধের ক্ষেত্রে আমাদের ভূমিকা পালন করা গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তা সবাই দেখতে পাচ্ছে এবং বিষয়টি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুতর।”   ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোপেনহেগেন। ইউক্রেনে যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে জোটভুক্ত দেশগুলো সামরিক উপস্থিতি জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে।   লাটভিয়াসহ বাল্টিক অঞ্চলের দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রগুলো ওই অঞ্চলে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন বৃদ্ধি করছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের সময় পর্যাপ্ত সমর্থন না দেওয়ার অভিযোগ তুলে ইউরোপীয় ন্যাটো সদস্যদের সমালোচনা করেন। পাশাপাশি তিনি জার্মানিতে মোতায়েন মার্কিন সেনার সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনার কথাও জানান।   এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে। লাটভিয়ায় ডেনমার্কের নতুন সেনা মোতায়েনকে ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জোটটি সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে চায়।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবিঃ লকহিড মার্টিন
ন্যাটো মিশন থেকে বিমান ও নৌবাহিনীর বড় অংশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের

ইউরোপে ন্যাটোর (ন্যাটো) সামরিক অভিযানে নিয়োজিত মার্কিন বিমান ও নৌবাহিনীর বড় একটি অংশ প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়ের এই শক্তিশালী সামরিক জোটের প্রতি মার্কিন প্রতিশ্রুতি নিয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের মনে গভীর আস্থার সংকট তৈরি করেছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'-এর এক প্রতিবেদনের বরাতে ইউরোপীয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ন্যাটোতে নিয়োজিত ফাইটার জেট ও সামুদ্রিক নজরদারি বিমানের সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   একই সাথে ইউরোপে মোতায়েন করা একটি সাবমেরিন, একটি বিমানবাহী রণতরী (এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার) এবং বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ অন্য অঞ্চলে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া এবং আমেরিকা অঞ্চলে নিজেদের সামরিক শক্তি পুনঃবিন্যাস করার কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে তাদের এই সামরিক উপস্থিতি কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছে।   নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ন্যাটোতে বরাদ্দকৃত এফ-১৬ এবং এফ-১৫ই ফাইটার জেটের সংখ্যা ১৫০টি থেকে কমিয়ে ১০০টিতে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি সামুদ্রিক নজরদারি বিমান ২৬টি থেকে কমিয়ে ১৫টি করা হচ্ছে এবং ৮টি আকাশসীমায় জ্বালানি সরবরাহকারী (এয়ার রিফুয়েলিং) বিমান পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।   এছাড়া, ইউরোপের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত দুটি বোম্বার টাস্ক ফোর্সের একটিকে অন্য অঞ্চলে স্থানান্তর করা হবে এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম একটি সাবমেরিন ও একটি বিমানবাহী রণতরীকেও অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে। রাশিয়ার কাছ থেকে সম্ভাব্য সামরিক হুমকির মুখে যখন পুরো ইউরোপ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, ঠিক তখনই মার্কিন এই সামরিক সংকোচন ন্যাটোর নজরদারি এবং দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।   তবে ন্যাটোর পক্ষ থেকে মার্কিন এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট আনাদোলু নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছেন, জোটটি যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত এবং এটি মূলত দীর্ঘমেয়াদী টেকসই ব্যবস্থার একটি অংশ।   তিনি বলেন, এই পরিবর্তন একক কোনো মিত্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং এটি জোটের অভ্যন্তরে একটি বৃহত্তর পরিবর্তনেরই প্রতিফলন। তবে মার্কিন জেনারেল অ্যালেক্স গ্রিনকেভিচ বার্লিনে এক এয়ারশোতে জানান, সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলায় ইউরোপীয় সদস্য দেশগুলোকে এখন নিজস্ব ড্রোন এবং দূরপাল্লার সমরাস্ত্রের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।   উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ন্যাটোর সমালোচনা করে আসছেন এবং তিনি ইউরোপীয় ও এশীয় মিত্রদের প্রতিরক্ষা বাজেট জিডিপির ৩.৫ শতাংশে উন্নীত করার আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী ৭-৮ জুলাই তুরস্কে অনুষ্ঠেয় ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্পের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে, যাকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ন্যাটোর ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বলে অভিহিত করেছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: এআই জেনারেটেড।
আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে 'মুসলিম ন্যাটো'? তুরস্কের ডাকে মেগা বৈঠকে পাকিস্তান, সৌদি ও মিশর

বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপট বদলে দিতে এবার কি তবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত ‘মুসলিম ন্যাটো’? পশ্চিম এশিয়া তথা মুসলিম বিশ্বের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করতে এক বিশাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। আগামী সপ্তাহেই তুরস্কে আয়োজিত হতে যাচ্ছে এক মেগা বৈঠক, যেখানে অংশ নিতে যাচ্ছে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং মিশর। তুরস্কের 'আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরাম'-এর সমান্তরালে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্কের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে এই তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে যোগ দেবেন। মূলত আমেরিকা, চীন কিংবা রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মুসলিম বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলো যাতে নিজস্ব একটি সামরিক ও নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই সম্ভাব্য জোটকে 'মুসলিম ন্যাটো' হিসেবে অভিহিত করছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই চার দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সদস্য দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যৌথ নিরাপত্তা কৌশলের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভিনদেশের হস্তক্ষেপ না করার নীতির ওপর ভিত্তি করেই এই জোট গঠিত হচ্ছে। যদি এই উদ্যোগ সফল হয়, তবে বিশ্ব রাজনীতিতে পশ্চিমা শক্তির একাধিপত্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। একই সাথে কাশ্মীর ইস্যুসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক বিষয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন মেরুকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ অবরোধে ট্রাম্পের সঙ্গী হচ্ছে না ন্যাটো: সাফ জানাল ব্রিটেন ও ফ্রান্স

ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি অবরোধের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো। ব্রিটেন ও ফ্রান্সসহ একাধিক মিত্র দেশ স্পষ্ট করেছে, তারা এই অবরোধে অংশ নিয়ে নতুন কোনো সংঘাতে জড়াতে চায় না।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রস্তাবিত এই উদ্যোগে সাড়া না দেওয়ায় ন্যাটো জোটের ভেতরে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইউরোপের দেশগুলো বলছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত স্থায়ীভাবে বন্ধ না হলে তারা এমন কোনো পদক্ষেপে যুক্ত হবে না।   মিত্র দেশগুলোর মতে, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। সংঘাত বাড়ানোর মতো কোনো পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছে।   এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ন্যাটোর বিভিন্ন দেশ এই অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করবে। তবে বাস্তবে মিত্রদের অনীহা প্রকাশ পাওয়ায় কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।   উল্লেখ্য, এর আগে ইরান ইস্যুতে সমর্থন না দেওয়ায় ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ বাতিলের কথাও তুলেছিলেন ট্রাম্প। পাশাপাশি যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, সেসব দেশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়েও তিনি ভাবছেন বলে জানা গেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব আরও বাড়াতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
আবারও গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ন্যাটো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ

গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে আবারও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ন্যাটোর ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। হোয়াইট হাউস–এ ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে–এর সঙ্গে বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নতুন করে ইঙ্গিত দেন।   পোস্টে তিনি বলেন, প্রয়োজনের সময় ন্যাটো যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ায়নি এবং ভবিষ্যতেও দাঁড়াবে না। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডকে ‘বড় কিন্তু খারাপভাবে পরিচালিত বরফখণ্ড’ বলে উল্লেখ করেন তিনি, যা অঞ্চলটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার তার আগের পরিকল্পনারই ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।   এর আগে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রস্তাব ন্যাটোর বেশ কয়েকটি মিত্র দেশের বিরোধিতার মুখে পড়ে। বিষয়টি ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কেও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল।   বৈঠক শেষে সিএনএন–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুটে বলেন, আলোচনা ছিল ‘খোলামেলা’। তিনি আরও মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের পর বিশ্ব পরিস্থিতি ‘আরও নিরাপদ’ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।   বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের পুনরায় এমন মন্তব্য ন্যাটোর অভ্যন্তরে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ওপর চাপ বাড়াতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ন্যাটোকে ‘কাগুজে বাঘ’ বললেন ট্রাম্প, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নতুন বিতর্ক

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়ায় ন্যাটো মিত্রদের কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ডেনমার্কের অধীন স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নতুন মন্তব্য করে জোটের ভেতরে অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তুলেছেন তিনি।   বুধবার ওয়াশিংটনে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে–এর সঙ্গে বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমাদের প্রয়োজনের সময় ন্যাটো পাশে ছিল না, ভবিষ্যতেও থাকবে না।’   বৈঠকের পর সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুটে বলেন, ইরান যুদ্ধের সময় বেশ কিছু ন্যাটো দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাশিত সহায়তা দেয়নি, যা নিয়ে ট্রাম্প ‘স্পষ্টতই হতাশ’। তবে তিনি আলোচনাকে ‘খোলামেলা’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জোট ছাড়ার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।   এর আগে হোয়াইট হাউস–এর মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানান, মিত্র দেশগুলো ‘আমেরিকান জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে’—এই বিষয়টি নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে।   ইরান যুদ্ধের সময় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে ন্যাটোর কয়েকটি দেশ সাড়া দেয়নি। কেউ আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, আবার কেউ সরাসরি সামরিক সহায়তা থেকেও বিরত ছিল। এ প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প ন্যাটোকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলেও আখ্যা দেন।   বিতর্ক আরও বাড়িয়ে ট্রাম্প বৈঠকের পর গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘বিশাল, কিন্তু দুর্বলভাবে পরিচালিত এক বরফখণ্ড।’ তাঁর এই মন্তব্য ন্যাটো জোটের অভ্যন্তরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। এদিকে ২০২৩ সালের একটি আইনে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ন্যাটো ত্যাগ করা সম্ভব নয়। তবুও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য জোটটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা উসকে দিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
ন্যাটোর ভূমিকায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প: সম্পর্কে ফাটলের আশঙ্কা

ইরান ইস্যুতে ন্যাটোর রহস্যময় নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তায় এবার সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার হোয়াইট হাউসে ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুটের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নিজের চরম হতাশার কথা জানান তিনি। মূলত ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে ন্যাটোর দেশগুলোর সরাসরি অংশ না নেওয়া নিয়েই এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বৈঠকের পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ ট্রাম্প এক বিস্ফোরক পোস্টে লেখেন, "আমাদের প্রয়োজনের সময় ন্যাটো পাশে ছিল না। ভবিষ্যতেও তাদের পাশে পাওয়ার কোনো আশা নেই।"  মার্ক রুটেকে সচরাচর 'ট্রাম্প হুইস্পারার' বলা হয়, কারণ তিনি ট্রাম্পের মেজাজ বুঝে সুকৌশলে সম্পর্ক বজায় রাখতে দক্ষ। এদিনের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুট বলেন, "আমাদের মধ্যে অত্যন্ত খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। দুই বন্ধুর মধ্যে যেমনটা হয়, ঠিক তেমনই।"  তবে রুটের এই কূটনৈতিক বক্তব্য ট্রাম্পের কঠোর মনোভাবকে কতটা শান্ত করতে পারবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: রযটার্স
ট্রাম্পের হাসিঠাট্টার জবাব দিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ও তার দাম্পত্য জীবন নিয়ে কটাক্ষ করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ইরান-যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে অংশ না নেওয়াকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প ম্যাখোঁর ব্যক্তিগত জীবন ও দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেছেন।   স্থানীয় সময় গত বুধবার ওয়াশিংটনের একটি মধ্যাহ্নভোজে ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করতে গিয়ে ট্রাম্প ফরাসি উচ্চারণ অনুকরণ করে বলেন, “ম্যাখোঁর স্ত্রী তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন, আর ম্যাখোঁ এখনও তার চোয়ালে ঘুষির ধাক্কা সামলাচ্ছেন।” ট্রাম্প এই মন্তব্য করেছেন ২০২৫ সালের একটি ভিডিও দেখার পর, যেখানে ভিয়েতনাম সফরের সময় ব্রিজিত ম্যাখোঁকে বিমানের সিঁড়ি দিয়ে নামার আগে হালকা ধাক্কা দিচ্ছেন।   ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অশোভন’ ও ‘মানসম্মত নয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হ্যানয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “এর জবাব দেওয়ার দরকার নেই। এ ধরনের মন্তব্য মার্জিত এবং সম্মানজনক নয়। আমাদের সকলের লক্ষ্য হওয়া উচিত স্থিতিশীলতা ও শান্তি ফিরিয়ে আনা।”   ফ্রান্সের রাজনৈতিক মহলও ট্রাম্পের এই আচরণকে সমালোচনা করেছে। সংসদের নিম্নকক্ষের সভাপতি ইয়েল ব্রাউন-পিভেট বলেন, “এ সময় যখন বিশ্বের ভবিষ্যৎ ও ইরানের লাখ লাখ মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে, একজন রাষ্ট্রপতি হাসছে ও অন্যকে উপহাস করছে, এটি গ্রহণযোগ্য নয়।” কট্টর-বামপন্থী দল ফ্রান্স আনবাউড-এর সমন্বয়ক ম্যানুয়েল বোম্পার্ডও ম্যাখোঁর সমর্থনে দাঁড়িয়েছেন।   রক্ষণশীল ফরাসি দৈনিক লে ফিগারো ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘আরেকটি বিতর্কিত মন্তব্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সাম্প্রতিক এক কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, “উপসাগরীয় অঞ্চলে সাহায্য পেলে খুশি হব, যদিও আমরা দুষ্কৃতকারী ও ক্ষেপণাস্ত্র নির্মূলের ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়ছি। যদি পারেন, অবিলম্বে জাহাজ পাঠান।” এরপর ট্রাম্প ফরাসি উচ্চারণে ম্যাখোঁর জবাব অনুকরণ করে বলেন, “না না না, আমরা তা করতে পারি না, যুদ্ধ জেতার পর করতে পারব।”   মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করতে হবে। ট্রাম্প নিজেও ন্যাটোকে ‘কাগজের বাঘ’ আখ্যা দিয়েছেন।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্যাট্রিয়ট দিতে অস্বীকৃতি পোল্যান্ডের

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পোল্যান্ড। এতে পশ্চিমা জোটের ভেতরে সমন্বয় ও কৌশলগত অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ কোসিনিয়াক-কামিশ বলেছেন, তাদের প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে দেশের আকাশসীমা ও ন্যাটোর পূর্ব সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে সেগুলো অন্য অঞ্চলে পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য ইরানি হামলা প্রতিরোধে পোল্যান্ডের কাছে অন্তত দুটি প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা ও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র চেয়েছিল। তবে ওয়ারশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নিজস্ব নিরাপত্তা বিবেচনায় তারা এ অনুরোধ রাখতে পারছে না।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চললেও ইরান পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল হয়নি। পাল্টা হামলায় মার্কিন ঘাঁটি ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি ন্যাটো জোটের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলোর ভিন্ন অবস্থান ভবিষ্যতে পশ্চিমা জোটের ঐক্যে প্রভাব ফেলতে পারে। এরই মধ্যে স্পেনও যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০ 0
সংগৃহীত ছবি
ন্যাটোকে ঘিরে যুদ্ধের আশঙ্কা—রাশিয়ার অভিযোগ

রাশিয়ার দাবি, পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো দেশটির বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন অভিযোগ করেছেন রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা। রুশ বার্তা সংস্থা তাস খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   জাখারোভার মতে, ন্যাটোর বাড়তে থাকা সামরিক ব্যয় ও নিয়মিত মহড়া ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়—জোটটি আগামী বছরগুলোতে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সামরিক মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।   ন্যাটোর ২০২৫ সালের কার্যক্রম প্রতিবেদন উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, বৈশ্বিক উত্তেজনা বাড়ার পেছনে জোটটির ভূমিকা স্পষ্ট। তার দাবি, ওই বছর ন্যাটোর মোট সামরিক ব্যয় প্রায় ১ দশমিক ৬৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিত ব্যয়ের বড় একটি অংশ।   তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত বিপুল সামরিক ব্যয় সত্ত্বেও কেন রাশিয়াকে প্রধান হুমকি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।   জাখারোভা আরও জানান, গত বছর ন্যাটোর অধীনে শতাধিক সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি সদস্য রাষ্ট্রগুলো আলাদাভাবে শত শত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করেছে, যেখানে অংশীদার দেশগুলোর অংশগ্রহণও বাড়ছে।   তার অভিযোগ, এসব মহড়ায় শুধু প্রতিরক্ষামূলক নয়, আক্রমণাত্মক কৌশলও অনুশীলন করা হচ্ছে, যা জোটটির মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলে। একই সঙ্গে ন্যাটোর পক্ষ থেকে রাশিয়াকে ইউরো-আটলান্টিক অঞ্চলের প্রধান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়টিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।   আকাশসীমা লঙ্ঘন, নাশকতা ও সাইবার হামলার মতো অভিযোগ নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এমন বক্তব্যে ন্যাটো ও মস্কোর মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ব্যালট–সংক্রান্ত এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার সময় বক্তব্য দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে। ৩১ মার্চ ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইঙ্গিত: শিগগিরই ইরান যুদ্ধ শেষ হতে পারে

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরুর এক মাসের বেশি সময় পার হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ “খুব শিগগিরই” শেষ হবে। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উল্লেখ করেছেন, যুদ্ধের শেষসীমা দেখা যাচ্ছে এবং কূটনৈতিক আলোচনা চলছে।   মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর ট্রাম্প একাধিকবার যুদ্ধ শেষ করার কথা বলেছেন, তবে একই সময়ে সেনা মোতায়েন ও সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। যুদ্ধের ৩৩তম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরান, লেবানন ও ইয়েমেন থেকে ত্রিমুখী হামলার শিকার হয়। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।   বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত পরিবর্তন করছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ লিন্ডা ব্লিমস জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র দিনে প্রায় ২০০ কোটি ডলার খরচ করছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ঐতিহাসিক জীবনযাত্রার সংকট’-এর মধ্যে উল্লেখ করেছেন।   সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজন পড়লে যুক্তরাষ্ট্র আবার ফিরে এসে হামলা চালাতে পারে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বুধবার রাত ৯টায় ট্রাম্প জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।   যুক্তরাষ্ট্রের জনগণও দ্রুত যুদ্ধ সমাপ্তি চায়। রয়টার্স–ইপসসের জরিপে দেখা গেছে, ৬৬ শতাংশ মানুষ দ্রুত যুদ্ধ শেষ চাইছে। ন্যাটো সম্পর্কেও ট্রাম্প নাড়াচাড়া করছেন; তিনি মনে করছেন, যুদ্ধের ক্ষেত্রে জোটটি তাদের পাশে নেই এবং যুদ্ধ শেষে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা হবে।   ইরানের বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি ক্রমশ বেড়ে ১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি হয়েছে। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণ, কাতারে তেলবাহী জাহাজ আঘাতপ্রাপ্ত, কুয়েতে বিমানবন্দরে আগুন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরায় এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, “আমরা এই যুদ্ধে এখন খুব ক্লান্ত।”

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । ছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি
ইরান যুদ্ধে সহযোগিতা না পেয়ে কয়েকটি দেশের ওপর খেপেছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে ন্যাটো মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাচ্ছেন না। মঙ্গলবার রয়টার্সকে তিনি বলেন, ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেন তাদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দিচ্ছে না, যা অভিযানকে জটিল করছে।   ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ফ্রান্সকে “অসহযোগিতামূলক” উল্লেখ করেছেন। এর পাল্টা ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, তারা সংঘাত শুরুর পর থেকেই তাদের নীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।   ফ্রান্সের আকাশসীমা ব্যবহার না দেওয়ায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও ফরাসি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতালিও সিসিলির সিগোনেলা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বিমান অবতরণের অনুমতি দেয়নি।   অন্যদিকে, স্পেন ইরানবিরোধী অভিযানে আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো স্যানচেজ বলেন, শুধুমাত্র ন্যাটো সম্মিলিত প্রতিরক্ষা কাজে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার অনুমোদিত হবে।   যুক্তরাজ্যকেও ট্রাম্প অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, জার্মানির রামস্টেইন বিমানঘাঁটি এখনো ব্যবহারযোগ্য থাকলেও দেশটির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার সামরিক অভিযানের আইনগত বৈধতা নিয়ে সন্দিহান।   উল্লেখ্য, এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসন ও ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর মধ্যে বিভাজনের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ন্যাটোর সাথে কি সম্পর্ক ছিন্ন করছে যুক্তরাষ্ট্র? ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বিশ্ব রাজনীতিতে এক বড় ধরনের কম্পন সৃষ্টি করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য টেলিগ্রাফ'-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটো থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন।  ট্রাম্পের মতে, এই জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি এখন কেবল আলোচনার পর্যায়ে নেই, বরং এটি 'পুনর্বিবেচনারও ঊর্ধ্বে'। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ন্যাটোকে একটি 'কাগুজে বাঘ' হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "আমি কখনোই ন্যাটোর ওপর আস্থা রাখতে পারিনি। আমি সবসময় জানতাম তারা কতটা দুর্বল এবং মজার ব্যাপার হলো পুতিনও সেটা ভালো করেই জানেন।" প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ক্ষোভের মূলে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল 'হরমুজ প্রণালী' রক্ষায় ন্যাটো মিত্রদের অনীহা। হরমুজ প্রণালীতে সেনা পাঠাতে অস্বীকার করায় মিত্র দেশগুলোকে 'কাপুরুষ' বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। তার মতে, মিত্রদের সমর্থন হওয়া উচিত ছিল 'স্বয়ংক্রিয়', যা এই সংকটের সময় দেখা যায়নি। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার তুলনা টেনে ট্রাম্প আক্ষেপের সুরে বলেন, "আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সবার পাশে দাঁড়িয়েছি, এমনকি ইউক্রেনের ক্ষেত্রেও। অথচ ইউক্রেন আমাদের সমস্যা ছিল না। এটি আমাদের জন্য একটি পরীক্ষা ছিল এবং আমরা তাদের জন্য সর্বোচ্চটা করেছি। কিন্তু বিনিময়ে যখন আমাদের প্রয়োজন হলো, তারা আমাদের পাশে থাকল না।" বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান দীর্ঘদিনের ট্রান্স-আটলান্টিক নিরাপত্তা বলয়কে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। ন্যাটোর প্রতি আমেরিকার এই বিমুখতা বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে শক্তির ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্পেনকে তোপ: আকাশসীমা ব্যবহার বন্ধে ক্ষোভ

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী অভিযানে সহায়তা করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে।   আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, প্রয়োজনের সময় যুক্তরাষ্ট্র আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। তখনই আমরা দেখেছি, ন্যাটোর সদস্য দেশ স্পেন আমাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিচ্ছে না, এমনকি তাদের ঘাঁটিও ব্যবহার করতে অনুমতি দিচ্ছে না। এটি দেখে তারা গর্বও করছে।   রুবিও আরও উল্লেখ করেন, কিছু দেশ একই আচরণ করেছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে এর ফল কী হবে?

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ৩০, ২০২৬ ১৪:০ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
বন্ধুহীন ট্রাম্প! ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাশে নেই ন্যাটো ও যুক্তরাজ্য

ইরানে সামরিক আগ্রাসন চালাতে গিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কার্যত একাকী হয়ে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বারবার মিত্র রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা চেয়েও এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি তিনি। এমনকি সামরিক জোট ন্যাটোও এই যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করল দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানে কোনো ব্রিটিশ সেনা মোতায়েন করা হবে না।   আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এই সংঘাত থেকে যুক্তরাজ্যকে দূরে রাখার ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘এটি আমাদের যুদ্ধ নয় এবং আমরা এতে জড়াতে যাচ্ছি না।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্রিটিশ সরকার কেবল তার নাগরিক, জাতীয় স্বার্থ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের রক্ষায় ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ গ্রহণ করছে। ব্রিটেন হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার প্রচেষ্টায় সমর্থন দিলেও কোনোভাবেই সরাসরি যুদ্ধে ‘টেনে হিঁচড়ে’ জড়াতে চায় না।   তবে সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগত কিছু সুবিধা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য। হরমুজ প্রণালির হুমকির সঙ্গে জড়িত ইরানি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে তারা। এছাড়া ইরান থেকে আসা সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন প্রতিহত করতে আকাশপথে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। মিত্রহীন ট্রাম্পের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ বড় কোনো অভিযানে সাধারণত পশ্চিমা দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ সমর্থন প্রয়োজন হয়।   সূত্র: আল জাজিরা

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ২৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
NATO
নাটো পাশে নেই, ইরান যুদ্ধে একা যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের হতাশা প্রকাশ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান ইস্যুতে ন্যাটো জোটের ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও কূটনৈতিক চাপের সময় ন্যাটো মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাশিত সহায়তা দেয়নি।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ন্যাটো জোটকে শক্তিশালী রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে আসছে, কিন্তু সংকটের মুহূর্তে সেই মিত্রদের অনেকেই পাশে দাঁড়ায়নি। তার ভাষায়, ইরান এখন সামরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লেও এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মূল দায়িত্ব নিতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকেই।   হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার সময় ইউরোপের কয়েকটি ন্যাটো দেশ সরাসরি অভিযানে অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করে। এতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে জোটের ভেতরে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প বরাবরই ন্যাটোর ব্যয় ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র জোটকে রক্ষা করতে বড় অঙ্কের অর্থ ও সামরিক শক্তি ব্যয় করে, কিন্তু প্রয়োজনে একই ধরনের সমর্থন সবসময় পাওয়া যায় না।   বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের সম্পর্কের ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। একই সঙ্গে ইরানকে ঘিরে চলমান সংকট আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

Unknown মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দ অস্ত্র কি মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে? মার্কিন মজুত সংকট নিয়ে উদ্বেগ

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক গোলাবারুদের মজুত নিয়ে চাপে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দ কিছু অস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে পেন্টাগন—এমন তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।   তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের ভেতরের আলোচনায় থাকা এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ দেশটির ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্যমতে, ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর গত চার সপ্তাহে ৯ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ব্যবহৃত হয়েছে বিপুল পরিমাণ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গোলাবারুদ। ফলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে আসছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয়ে অবগত সূত্রগুলো জানায়, ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—বিশেষ করে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র—অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এসব অস্ত্র মূলত পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো-এর একটি কর্মসূচির আওতায় সংগ্রহ করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে মিত্রদেশগুলো ইউক্রেনের জন্য মার্কিন অস্ত্র কিনে থাকে।   ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি সামরিক সহায়তার বড় অংশ সীমিত করলেও ‘ইউক্রেনের অগ্রাধিকারমূলক তালিকা’ কর্মসূচির মাধ্যমে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য অংশের গোলাবারুদ সরবরাহ করা হচ্ছে।   এদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দুইজন ইউরোপীয় কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে দ্রুতগতিতে গোলাবারুদ ব্যবহার করছে, তাতে ইউরোপের নিজস্ব অস্ত্র সরবরাহও বিলম্বিত হতে পারে। একই সঙ্গে ইউক্রেনে চলমান সরঞ্জাম সহায়তা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।   রাশিয়ার হামলার মুখে ইউক্রেনের জন্য এই আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে সরবরাহে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি হলে দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো স্পষ্ট করে জানায়নি—এই অস্ত্রগুলো পরে সরবরাহ করা হবে, নাকি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জরুরি সামরিক প্রয়োজন দেখা দিলে পেন্টাগন সরবরাহের অগ্রাধিকার পরিবর্তন করতে পারে।   এদিকে সংঘাত শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ন্যাটোর প্রশিক্ষক ও উপদেষ্টারা। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা: ইরাক থেকে কর্মী সরাল ন্যাটো, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফেরার ইঙ্গিত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ইরাক থেকে নিজেদের কর্মীদের সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করেছে ন্যাটো। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে তারা আবার ফিরে আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দপ্তরের উপদেষ্টা সাঈদ আল জায়াশি শুক্রবার আল জাজিরা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের অবসান এবং ইরাকে স্থিতিশীলতা ফিরলে ন্যাটো কর্মীরা পুনরায় তাদের কার্যক্রম শুরু করতে দেশটিতে ফিরে আসবেন।   বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ঝুঁকি কমাতে এ ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরান ইস্যুতে ন্যাটো মিত্রদের ‘কাপুরুষ’ বললেন ট্রাম্প

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত নিয়ে ন্যাটো মিত্রদের তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে সহযোগিতা না করায় মিত্ররা ‘কাপুরুষের’ আচরণ করছে।   শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, এই সংঘাত সামরিকভাবে ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে “জয়ী” হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ন্যাটো মিত্ররা তেলের উচ্চমূল্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।   ট্রাম্পের ভাষায়, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া একটি “সহজ সামরিক পদক্ষেপ”, যা তেলের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ দূর করতে পারে। কিন্তু মিত্ররা এতে এগিয়ে না এসে দায় এড়িয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যাটো জোট কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া এই জোটকে “কাগুজে বাঘ” বলেও আখ্যা দেন ট্রাম্প।   সপ্তাহের শুরুতে মিত্রদের সহায়তা চাইলেও পরে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে ট্রাম্প বলেন, এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যদের সহায়তার প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র একাই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম।   বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য ন্যাটো জোটের ভেতরে বিদ্যমান মতপার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0