ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়ায় ন্যাটো মিত্রদের কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ডেনমার্কের অধীন স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নতুন মন্তব্য করে জোটের ভেতরে অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তুলেছেন তিনি।
বুধবার ওয়াশিংটনে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে–এর সঙ্গে বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমাদের প্রয়োজনের সময় ন্যাটো পাশে ছিল না, ভবিষ্যতেও থাকবে না।’
বৈঠকের পর সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুটে বলেন, ইরান যুদ্ধের সময় বেশ কিছু ন্যাটো দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাশিত সহায়তা দেয়নি, যা নিয়ে ট্রাম্প ‘স্পষ্টতই হতাশ’। তবে তিনি আলোচনাকে ‘খোলামেলা’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জোট ছাড়ার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
এর আগে হোয়াইট হাউস–এর মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানান, মিত্র দেশগুলো ‘আমেরিকান জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে’—এই বিষয়টি নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে।
ইরান যুদ্ধের সময় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে ন্যাটোর কয়েকটি দেশ সাড়া দেয়নি। কেউ আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, আবার কেউ সরাসরি সামরিক সহায়তা থেকেও বিরত ছিল। এ প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প ন্যাটোকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলেও আখ্যা দেন।
বিতর্ক আরও বাড়িয়ে ট্রাম্প বৈঠকের পর গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘বিশাল, কিন্তু দুর্বলভাবে পরিচালিত এক বরফখণ্ড।’ তাঁর এই মন্তব্য ন্যাটো জোটের অভ্যন্তরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। এদিকে ২০২৩ সালের একটি আইনে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ন্যাটো ত্যাগ করা সম্ভব নয়। তবুও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য জোটটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা উসকে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে তিনি চারটি পৃথক ঘটনায় ৯ হাজার ১০০ ডলারেরও বেশি মূল্যের প্রসাধনী, রান্নাঘরের সরঞ্জাম এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চুরি করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম CBS12-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোর্ট লডারডেলের বাসিন্দা লিয়ানা প্লাউ-এর বিরুদ্ধে পাম বিচ কাউন্টির বিভিন্ন উল্টা বিউটি (Ulta Beauty), লোয়েজ হোম ইমপ্রুভমেন্ট (Lowe's) এবং হোম ডিপো (Home Depot) শাখায় সংঘটিত চারটি চুরির ঘটনার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত শেষে গত ৮ জুলাই তাকে পাম বিচ কাউন্টি কারাগারে নেওয়া হয়। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর ওয়েলিংটনের একটি উল্টা বিউটি স্টোরে। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, লিয়ানা প্লাউ ও তার সঙ্গে থাকা আরেক নারী দোকানে প্রবেশ করে বিভিন্ন প্রসাধনী ও তিনটি উচ্চমূল্যের চুলের স্টাইলিং যন্ত্র ব্যাগে ভরে মূল্য পরিশোধ না করেই বেরিয়ে যান। চুরি হওয়া পণ্যের মোট মূল্য ছিল ১ হাজার ৮৭৩ দশমিক ৮৯ ডলার। পুলিশ জানায়, পালিয়ে যাওয়ার সময় একটি ডাইসন এয়ারর্যাপ স্টাইলিং যন্ত্র মাটিতে পড়ে যায়, যার মূল্য ছিল ৬৪৯ দশমিক ৯৯ ডলার। পরে সেটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী ছবি দেখে লিয়ানা প্লাউকে শনাক্ত করেন। এ ছাড়া তদন্তে উঠে এসেছে, ৫ ডিসেম্বর বোকা রাটনের একটি লোয়েজ স্টোর থেকে তিনি দুই সহযোগীকে নিয়ে ১০টি কোহলার ব্র্যান্ডের রান্নাঘরের কল চুরি করেন। তদন্তকারীদের দাবি, তারা একটি ট্রলিতে কলগুলো তুলে বাগান বিভাগের বের হওয়ার পথ ব্যবহার করে মূল্য পরিশোধ ছাড়াই দোকান ছেড়ে যান। চুরি হওয়া পণ্যের মূল্য ছিল ৩ হাজার ৪০ ডলার। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, পরে এসব পণ্য একটি হোন্ডা সিআর-ভি গাড়িতে তোলা হয়। ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনের এক প্রবেশন কর্মকর্তা নজরদারির ছবি দেখে লিয়ানা প্লাউকে শনাক্ত করেন। তিনি আগে থেকেই গুরুতর অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তদারকির সময় প্লাউকে চিনতেন বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাও তার পরিচয় নিশ্চিত করে। এর মাত্র নয় দিন পর, ১৪ ডিসেম্বর, রয়্যাল পাম বিচের আরেকটি লোয়েজ স্টোরে একই ধরনের আরেকটি চুরির ঘটনা ঘটে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, দোকানের পেছনের জরুরি বহির্গমন পথের অ্যালার্ম বেজে ওঠার পর কর্মীরা বিষয়টি টের পান। নজরদারি ফুটেজে দেখা যায়, লিয়ানা প্লাউ ও তার সহযোগী একাধিক কোহলার রান্নাঘরের কল নিয়ে সব ধরনের বিক্রয় কাউন্টার এড়িয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে যান। পরে সেগুলো একটি রুপালি রঙের টয়োটা ক্যামরি গাড়িতে তোলা হয়। চুরি হওয়া পণ্যের মূল্য ছিল ৩ হাজার ৬৯৮ ডলার। পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের দাবি, এই ঘটনাটি সংঘবদ্ধ খুচরা পণ্য চুরির একটি বড় চক্রের অংশ হতে পারে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের চুরি এবং প্রতারণার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তের আরেকটি ঘটনায় দেখা যায়, ৮ ডিসেম্বর লান্টানার একটি হোম ডিপো শাখা থেকে লিয়ানা প্লাউ ও তার সহযোগী প্রবেশমুখের কাছে রাখা মিলওয়াকি ব্র্যান্ডের পাঁচটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র নিয়ে মূল্য পরিশোধ ছাড়াই দোকান ছেড়ে যান। এসব পণ্যের মূল্য ছিল ৪৯৫ ডলার। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ছোট পরিসরের চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ল্যাট্রিস হোয়াইট নামে ৪৭ বছর বয়সী এক নারীকে একাধিক মামলায় সহ-আসামি হিসেবে শনাক্ত করেছেন তদন্তকারীরা। তাদের দাবি, বিভিন্ন দোকান থেকে উচ্চমূল্যের পণ্য পরিকল্পিতভাবে চুরি করার ক্ষেত্রে একই ধরনের কৌশল ও একই ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতেই লিয়ানা প্লাউকে চারটি পৃথক চুরির মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম এখন আদালতে চলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সেরেনা এলাকায় বাড়ির পেছনের উঠোনে খেলতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছে আট বছর বয়সী এক শিশু। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ঝড় শুরু হওয়ার আগমুহূর্তে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল কিন্সলি চিডা (Kinslee Tschida)। দোলনা থেকে নামার ঠিক সেই মুহূর্তেই বজ্রপাত হয়। পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে সিপিআর দিলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম People, WGN এবং ABC7 Chicago (WLS)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে গত ৩ জুলাই (শুক্রবার) সন্ধ্যায় ইলিনয়ের লাসাল কাউন্টির সেরেনা এলাকায়। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, সেদিন সন্ধ্যায় কিন্সলি তার চাচাতো বোনদের সঙ্গে বাড়ির পেছনের উঠোনে খেলছিল। এ সময় আকাশে ঝড়ের পূর্বাভাস দেখা দিলে পরিবারের বড়রা শিশুদের ঘরের ভেতরে চলে আসতে বলেন। দূরে বজ্রধ্বনিও শোনা যাচ্ছিল। কিন্সলির দাদা ক্রিস শেইব স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল WGN-কে বলেন, তার ছেলে কিন্সলি এবং নিজের মেয়েকে দোলনা থেকে নেমে আসতে বলেছিল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা কার্যকর হওয়ার আগেই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। তার ভাষায়, "কিন্সলি দোলনা থেকে নামছিল। হঠাৎ এক মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু ঘটে গেল। কোনো আগাম সংকেত ছিল না। চোখে পড়ার মতো বজ্রপাতও দেখা যায়নি। মুহূর্তেই বজ্রপাত এসে গাছের মাঝখানে আঘাত হানে।" ঘটনার সময় কিন্সলির পাশে থাকা আরেকটি শিশু অক্ষত থাকে। তবে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয় কিন্সলি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তার কাছে ছুটে যান। কিন্সলির মা, যিনি পেশায় একজন নার্স, ঘটনাস্থলেই অন্য স্বজনদের সহায়তায় শিশুটিকে সিপিআর দিতে শুরু করেন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নাতনির মৃত্যুর খবর পেয়ে ভেঙে পড়েন দাদা ক্রিস শেইব। তিনি বলেন, "জীবনে কখনো এমন ঘটনার মুখোমুখি হইনি। এই ঘটনা আমাকে বদলে দিয়েছে। মনে হচ্ছে আমরা সবাই ভেঙে পড়েছি।" এদিকে, People জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে লাসাল কাউন্টির করোনার কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে লাসাল কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ও এ ঘটনায় নতুন কোনো তথ্য দেয়নি। শিশুটির মৃত্যুর পর পরিবারকে সহায়তা করতে স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছেন। এর মাধ্যমে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত ব্যয় মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তহবিল সংগ্রহের আয়োজক সামান্থা ওয়ালেস কিন্সলিকে প্রাণবন্ত, হাসিখুশি ও সবার প্রিয় একটি শিশু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষায়, কিন্সলি গান গাইতে, নাচতে এবং অন্যদের হাসিখুশি রাখতে ভালোবাসত। তার প্রাণখোলা হাসি যে কোনো ঘরকে আনন্দে ভরিয়ে দিতে পারত। ছোট্ট শরীর হলেও তার হৃদয় ছিল অনেক বড়, আর তাকে যারা চিনতেন, তারা সবাই তার ভালোবাসা, উদারতা ও প্রাণচাঞ্চল্যে মুগ্ধ ছিলেন। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, বজ্রধ্বনি শোনা মাত্রই খোলা জায়গা, মাঠ, গাছের নিচে কিংবা ধাতব খেলাধুলার সরঞ্জামের কাছ থেকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়া উচিত। কারণ বজ্রপাত অনেক সময় দৃশ্যমান বিদ্যুৎ চমক দেখা দেওয়ার আগেই আঘাত হানতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযান ‘অপারেশন হার্ড বল’-এ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ২৪ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় এই অভিযানে বিভিন্ন দেশে ৫০টিরও বেশি স্থানে একযোগে অভিযান চালানো হয়। মার্কিন তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, চাঁদাবাজি, অর্থপাচার, অস্ত্র সরবরাহ, ভাড়াটে হামলা পরিচালনা এবং আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধ পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র, মাদক ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে। এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), কানাডার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো যৌথভাবে অংশ নেয়। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা ভারতভিত্তিক একাধিক সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং উত্তর আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত ছিল। মার্কিন প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, এই অভিযানের অংশ হিসেবে মোট ৩৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে ভারতের কারাগারে বন্দি গ্যাং নেতা লরেন্স বিষ্ণোই এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নামও রয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন এবং চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি। তদন্ত নথিতে বলা হয়েছে, অপরাধচক্রটি মাদক পাচার, চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং সহিংস অপরাধের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিল। তদন্তকারীরা আরও অভিযোগ করেছেন, এই নেটওয়ার্ক বিভিন্ন দেশে সহযোগীদের মাধ্যমে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত এবং আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের কার্যক্রম সমন্বয় করত। অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অতীতের কয়েকটি আলোচিত অপরাধের তদন্তও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এসব ঘটনার অনেকগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলেছে, নতুন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও অভিযোগ আনা হতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও যৌথ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধচক্রগুলোর অর্থায়ন, অস্ত্র সরবরাহ এবং মাদক পাচারের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নতুন তথ্যের ভিত্তিতে আরও গ্রেপ্তার, অভিযোগপত্র দাখিল এবং অতিরিক্ত অভিযান পরিচালনার সম্ভাবনা রয়েছে।