ইউরোপে ন্যাটোর (ন্যাটো) সামরিক অভিযানে নিয়োজিত মার্কিন বিমান ও নৌবাহিনীর বড় একটি অংশ প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়ের এই শক্তিশালী সামরিক জোটের প্রতি মার্কিন প্রতিশ্রুতি নিয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের মনে গভীর আস্থার সংকট তৈরি করেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'-এর এক প্রতিবেদনের বরাতে ইউরোপীয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ন্যাটোতে নিয়োজিত ফাইটার জেট ও সামুদ্রিক নজরদারি বিমানের সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
একই সাথে ইউরোপে মোতায়েন করা একটি সাবমেরিন, একটি বিমানবাহী রণতরী (এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার) এবং বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ অন্য অঞ্চলে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া এবং আমেরিকা অঞ্চলে নিজেদের সামরিক শক্তি পুনঃবিন্যাস করার কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে তাদের এই সামরিক উপস্থিতি কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ন্যাটোতে বরাদ্দকৃত এফ-১৬ এবং এফ-১৫ই ফাইটার জেটের সংখ্যা ১৫০টি থেকে কমিয়ে ১০০টিতে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি সামুদ্রিক নজরদারি বিমান ২৬টি থেকে কমিয়ে ১৫টি করা হচ্ছে এবং ৮টি আকাশসীমায় জ্বালানি সরবরাহকারী (এয়ার রিফুয়েলিং) বিমান পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
এছাড়া, ইউরোপের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত দুটি বোম্বার টাস্ক ফোর্সের একটিকে অন্য অঞ্চলে স্থানান্তর করা হবে এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম একটি সাবমেরিন ও একটি বিমানবাহী রণতরীকেও অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে। রাশিয়ার কাছ থেকে সম্ভাব্য সামরিক হুমকির মুখে যখন পুরো ইউরোপ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, ঠিক তখনই মার্কিন এই সামরিক সংকোচন ন্যাটোর নজরদারি এবং দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
তবে ন্যাটোর পক্ষ থেকে মার্কিন এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট আনাদোলু নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছেন, জোটটি যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত এবং এটি মূলত দীর্ঘমেয়াদী টেকসই ব্যবস্থার একটি অংশ।
তিনি বলেন, এই পরিবর্তন একক কোনো মিত্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং এটি জোটের অভ্যন্তরে একটি বৃহত্তর পরিবর্তনেরই প্রতিফলন। তবে মার্কিন জেনারেল অ্যালেক্স গ্রিনকেভিচ বার্লিনে এক এয়ারশোতে জানান, সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলায় ইউরোপীয় সদস্য দেশগুলোকে এখন নিজস্ব ড্রোন এবং দূরপাল্লার সমরাস্ত্রের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ন্যাটোর সমালোচনা করে আসছেন এবং তিনি ইউরোপীয় ও এশীয় মিত্রদের প্রতিরক্ষা বাজেট জিডিপির ৩.৫ শতাংশে উন্নীত করার আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী ৭-৮ জুলাই তুরস্কে অনুষ্ঠেয় ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্পের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে, যাকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ন্যাটোর ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বলে অভিহিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
ইরান কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়ারি। তবে একই সাথে তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট 'হরমুজ প্রণালি'র ওপর ইরানি সামরিক বাহিনীর পূর্ণ ও একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা ‘ইরনা’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ওয়াশিংটন ও তার পশ্চিমা মিত্রদের আশ্বস্ত করে তিনি এই বার্তা দেন। অ্যাডমিরাল সাইয়ারি স্পষ্ট করেন যে, সামরিক কৌশলগত দিক থেকে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের পথ অনুসরণ করবে না। তবে আঞ্চলিক জলসীমায় নিজেদের শক্তির জানান দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে ইরানের সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করে আছে। এর স্পষ্ট অর্থ হলো, তেহরানের সুনির্দিষ্ট অনুমতি বা ছাড়পত্র ছাড়া এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলসীমায় কোনো ধরনের বাণিজ্যিক নৌযান বা যুদ্ধজাহাজ প্রবেশ করতে পারবে না। যেকোনো ধরনের বহিরাগত পরিস্থিতি এবং শত্রুর যেকোনো উস্কানি বা আগ্রাসনের তাৎক্ষণিক জবাব দিতে ইরানি সেনারা সদা প্রস্তুত উল্লেখ করে সাইয়ারি বলেন, "আমাদের হাত এখন বন্দুকের ট্রিগারে রয়েছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা আমাদের জীবন উৎসর্গ করতে বিন্দুমাত্র ভয় পাই না।" বিশ্বের সিংহভাগ জ্বালানি তেল পরিবাহিত হওয়া এই রুটে ইরানের এমন শক্ত অবস্থান এবং সর্বোচ্চ সতর্ক বার্তা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
স্কটল্যান্ডের সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনলাইন হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাককোরের বিরুদ্ধে। ফ্রান্সের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ভিজিনাম দাবি করেছে, প্রতিষ্ঠানটি সমন্বিত ভুয়া অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি, স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (এসএনপি) এবং স্কটিশ সরকারকে লক্ষ্য করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়েছে। ফরাসি সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বিভিন্ন প্রক্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে একাধিকবার স্কটিশ সরকার, এসএনপি এবং জন সুইনির বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক প্রচারণা পরিচালিত হয়। একই ধরনের কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের পৌর নির্বাচন, ফ্রান্স, টোগো এবং অ্যাঙ্গোলার নির্বাচনী প্রক্রিয়াতেও পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভিজিনামের ডিজিটাল হস্তক্ষেপ বিভাগের প্রধান মার্ক-অঁতোয়ান ব্রিলাঁ বলেন, তদন্তে ব্ল্যাককোরকে এই কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এসব অপারেশনের পেছনে কারা ছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে মে মাস পর্যন্ত স্কটল্যান্ডের আঞ্চলিক নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনী সময়জুড়ে একটি সমন্বিত অনলাইন প্রচারণা চালানো হয়। এ উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অন্তত ২৫৬টি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয় এবং প্রায় ১ হাজার ৪০০টি মন্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জন সুইনিকে লক্ষ্য করে ৬৫২ বার, এসএনপিকে লক্ষ্য করে ৩৩৮ বার এবং স্কটিশ সরকারকে লক্ষ্য করে ১১২ বার প্রচারণামূলক বার্তা ছড়ানো হয়েছে। স্কটিশ সরকার ও ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি দীর্ঘদিন ধরে গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নীতির সমালোচনা করে আসছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপও নিয়েছে স্কটিশ প্রশাসন। ব্ল্যাককোর নিজেদেরকে “আধুনিক তথ্যযুদ্ধের জন্য নির্মিত একটি অভিজাত ইনফ্লুয়েন্স ও সাইবার প্রযুক্তি কোম্পানি” হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট সরিয়ে ফেলা হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েল সরকার জানিয়েছে, ফরাসি প্রতিবেদনের বিস্তারিত পর্যালোচনার পর বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তবে বিদেশি নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে জন সুইনি বলেছেন, অনলাইন বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা গণতন্ত্রের জন্য একটি বাস্তব ও তাৎক্ষণিক হুমকি। এ ধরনের হস্তক্ষেপ মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য সরকারের আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ফ্রান্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও বিদেশি প্রভাব বিস্তারের অনুরূপ ঝুঁকি রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইউরোপীয় রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
ভারতের অভ্যন্তরে শিল্প, বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের জন্য খুচরা পেট্রোল পাম্প থেকে সরাসরি পেট্রোল ও ডিজেল কেনার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ভারত সরকার। এখন থেকে সমস্ত বেসরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাম্পের পরিবর্তে নির্ধারিত সরকারি পাইকারি বিক্রয়কেন্দ্র বা বাল্ক সাপ্লাইয়ারদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা এক জরুরি প্রজ্ঞাপন ও আদেশে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের জারি করা এই নতুন নিষেধাজ্ঞা আগামী ৯০ দিন পর্যন্ত পুরো দেশজুড়ে কার্যকর থাকবে। মূলত সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের খুচরা বাজার ও পাম্পগুলোতে ডিজেলের অস্বাভাবিক এবং অনিয়ন্ত্রিত চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় প্রশাসন দ্রুত এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ভারতে সাধারণত বাল্ক বা প্রাতিষ্ঠানিক বড় ব্যবহারকারীদের আন্তর্জাতিক বাজারদরের সাথে মিল রেখে অতিরিক্ত দামে ডিজেল কিনতে হয়। কিন্তু দেশটির সাধারণ ব্যবহারকারী বা সাধারণ যানবাহন চালকেরা সরকারের ভর্তুকির কারণে খুবই অল্প দামে পাম্প থেকে ডিজেল কিনতে পারেন। মূল্যের এই বিশাল ব্যবধানের সুযোগ নিয়ে বড় বড় বাল্ক ব্যবহারকারীরা পাইকারি বাজার বাদ দিয়ে সাধারণ পেট্রোল পাম্প থেকে কম দামে দেদারসে জ্বালানি নিতে শুরু করেছিলেন। দেশটিতে বর্তমানে সাধারণ পেট্রোল পাম্পে ডিজেলের খুচরা দাম লিটারপ্রতি ৯৫ দশমিক ২০ রুপি হলেও বাল্ক বা পাইকারি বিক্রয়ে এর প্রকৃত দাম ১৩৪ দশমিক ৫০ রুপি। গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। এরপর ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলো সাধারণ ভোক্তাদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা দিতে খুচরা বাজারে তেলের দাম কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। কিন্তু টেলিকম টাওয়ার, বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক কারখানার ব্যবহারকারীদের সবসময় প্রকৃত উৎপাদন বা বাজারদর অনুসারেই জ্বালানি কিনতে হয়। ফলে খুচরা পাম্পের নির্ধারিত দাম বর্তমানে তেল কোম্পানিগুলোর প্রকৃত উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয় বিশেষ 'মোটর স্পিরিট ও হাই-স্পিড ডিজেল আদেশ' জারি করেছে। এতে সমস্ত খুচরা জ্বালানি বিক্রেতা ও তেল বিপণন কোম্পানিগুলোকে পেট্রোল পাম্পের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বাল্ক ক্রয় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৯০ দিন এই রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা বলবৎ থাকবে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে এই আদেশের মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। নতুন এই সরকারি আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এখন থেকে কেবল নিয়মিত যানবাহনের ফুয়েল ট্যাংক এবং সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে অনুমোদিত পাত্রেই পাম্প থেকে ডিজেল বিক্রি করা যাবে। পাশাপাশি কোনো একক সাধারণ গ্রাহক দৈনিক সর্বোচ্চ ২০০ লিটারের বেশি জ্বালানি তেল পাম্প থেকে নিতে পারবেন না। এ ছাড়া মজুতদারি, কালোবাজারি, অবৈধ জ্বালানি সংগ্রহ এবং সরবরাহের যেকোনো অপব্যবহারের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারগুলোকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।