প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় সফরের দিনক্ষণ ও সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তিনি প্রথম কোন দেশ সফর করবেন, সেটিও এখনো নির্ধারিত হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে এক বার্তায় তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। আতিকুর রহমান জানান, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফর নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং গুজব ছড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে দাবি করা হচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত যাচ্ছেন। এসব তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এসব তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে।" অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের বিষয়ে সরকারি সূত্র থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা যথাসময়ে গণমাধ্যম ও দেশবাসীকে অবহিত করা হবে। এর আগ পর্যন্ত কয়েকটি মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানিয়েছেন। বর্তমানে সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে কাজ চললেও প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফরের গন্তব্য নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তাই দেশবাসীকে এসব ভিত্তিহীন সংবাদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সারা দেশে দোকানপাট ও শপিংমল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে সময় পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে রাত ৮টা পর্যন্ত ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। সমিতির নেতারা প্রস্তাব করেছেন যে, প্রয়োজনে তারা সকাল ৯টার পরিবর্তে বেলা ১১টায় দোকান খুলতে রাজি আছেন, তবে বন্ধের সময় যেন সন্ধ্যা ৬টার পরিবর্তে রাত ৮টা করা হয়। সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের ৭০ লাখ দোকান ব্যবসায়ী ও আড়াই কোটি কর্মচারীর জীবিকার কথা বিবেচনা করে এই অনুরোধ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত করা হয়। একই বৈঠকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সারা দেশের সব দোকানপাট ও শপিংমল আজ (৩ এপ্রিল) থেকেই সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর আগে গতকাল মালিক সমিতি রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধের ঘোষণা দিলেও সরকারের নতুন নির্দেশনায় সময় আরও কমিয়ে আনা হয়। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সন্ধ্যা ৬টায় দোকান বন্ধ করে দিলে খুচরা ব্যবসায় বড় ধরনের ধস নামতে পারে। তাই সকালের সময় কমিয়ে রাতে বাড়তি দুই ঘণ্টা সময় বরাদ্দের জন্য তারা সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঠিক সময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হঠাৎ সফরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৯টা ৫ মিনিটে নিজ কার্যালয়ের নিচে পৌঁছান তিনি। সেখানে থেকে সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবন থেকে পায়ে হেঁটে ৬ নম্বর ভবনে যান প্রধানমন্ত্রী। তিনি জ্বালানি মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে কিনা তা খোঁজ নেন। এরপর ৫ নম্বর ভবনের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং ৩ নম্বর ভবনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করেন। সকাল ১০টার দিকে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে ফিরে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি কৃষক কার্ডের ডেমো প্রদর্শনী সভায় অংশ নেন।
দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট তৈরি ও চোরাচালান রোধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৮ মার্চ) সংসদ ভবনে সরকারি দলীয় সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম। তিনি জানান, অসাধু চক্রের তৎপরতা ও সীমান্ত দিয়ে তেল পাচার বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিরুনি অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও দেশে দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই; ইতিমধ্যে ২ লাখ মেট্রিক টনের জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে এবং সমপরিমাণ তেল আসার পথে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তেলের বাজার মনিটরিং করার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামীকাল সংসদ অধিবেশনে জ্বালানিমন্ত্রী এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া বৈঠকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন, সংরক্ষিত নারী আসন ও বিভিন্ন বিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চিফ হুইপ জানান, সংসদ সদস্যদের এলাকাভিত্তিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এখন থেকে প্রতি মাসে এ ধরনের ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। বৈঠকের শুরুতে স্পিকারের সহধর্মিণীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয় এবং সাম্প্রতিক বাস ও ট্রেন দুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এর এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে সচিবালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, এই সাক্ষাৎকালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা মূলত দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সহযোগিতা বিষয়ক বিষয়ে কেন্দ্রিত ছিল।
ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি শেষে আবারও কর্মব্যস্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ সচিবালয়। ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসেই সকাল থেকে দাপ্তরিক কাজে সক্রিয় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে তিনি সচিবালয়ে প্রবেশ করেন। দিনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এর এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সকাল ১১টার দিকে রাজধানী ঢাকা-এর দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। এরপর দুপুরে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ সংক্রান্ত কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন। বিকেলে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা এবং পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সূচি রয়েছে। উল্লেখ্য, টানা সাত দিনের ছুটি শেষে আজ থেকে সচিবালয়সহ দেশের সব সরকারি অফিস, ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলেছে। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ঈদের আনন্দ এখনও বজায় রয়েছে—তারা পরস্পরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে উৎসবের আমেজ ভাগাভাগি করছেন।
সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যমুনা সরকারি অতিথি ভবনে থাকবেন। তবে এর আগে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময়ের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানই সেই ভবনে অনুষ্ঠিত হবে। গণপূর্ত অধিদফতর জানিয়েছে, বর্তমানে সেখানে বড় ধরনের কোনো সংস্কার করা হচ্ছে না; রুটিন রক্ষণাবেক্ষণ ও ছোটখাটো কাজ চলমান রয়েছে। আগস্টের অভ্যুত্থানের সময় গণভবনের নিয়ন্ত্রণ সাধারণ মানুষ নিয়েছিল, যার পর জুলাইয়ে সেটি গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে রূপান্তরিত হয়। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে গণভবন ব্যবহার সম্ভব নয়। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে গণভবন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য জাতীয় সংসদ ভবন ও আগারগাঁও এলাকায় বাসভবন খোঁজা হয়েছিল, কিন্তু সময় সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তাই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাকেই সরকার প্রধানের নতুন স্থায়ী বাসভবন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী গুলশান থেকে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে সচিবালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিয়মিত অফিস করছেন। যমুনা ভবন থেকে দুইটি স্থানের দূরত্ব প্রায় সমান। ৩০ হেয়ার রোডে অবস্থিত যমুনা সরকারি অতিথি ভবনের মোট আয়তন প্রায় ৮ একর, যার মধ্যে ভেতরের অংশ ৫.২ একর এবং বাইরের অংশ ২.৮ একর। অফিসসহ ভবনের মোট আকার ৩৫ হাজার বর্গফুট। গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চাহিদা অনুযায়ী কাজ চলছে। ভেতরের কাজগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, হাইজিনিক ওয়াশ, রং, এবং সিলিংয়ের কিছু পুরনো অংশ ঠিক করার কাজ অন্তর্ভুক্ত। তবে বড় ধরনের সংস্কার বা পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। রুটিন কাজগুলো দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে যমুনা সরকারি অতিথি ভবনে দুটি ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন, যেখানে দেশি ও বিদেশি কয়েকশ অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
দেশের ৫৪ জেলায় খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে আজ সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খাল খননের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচি শুরু হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে ছয় মাসে প্রায় ১২০০ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। পর্যায়ক্রমে আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, নালা ও খাল-বিল পুনঃখননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, সোমবার সকাল সোয়া ১০টায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাহাপাড়া খাল খনন কার্যক্রম উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশের আরও ৫৩টি স্থানে একযোগে খাল খনন প্রকল্পের সূচনা করবেন। উদ্বোধন শেষে দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ছাগল বিতরণ করবেন এবং সেখানে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া বিকাল সাড়ে ৩টায় দিনাজপুর উপশহর এলাকার ফরিদপুর কবরস্থানে গিয়ে তাঁর নানা-নানি ও অন্যান্য নিকটাত্মীয়দের কবর জিয়ারত করবেন তারেক রহমান। পরে বিকাল ৫টায় শহরের গোর-এ-শহিদ ময়দানে দিনাজপুরের সুধী সমাবেশে যোগ দেবেন এবং সেখানে ইফতার ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে দিনাজপুর সফর শেষে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হলো। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পর বেলা সোয়া ১১টার কিছু আগে তিনি তার বক্তব্য শুরু করেন। বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন সংসদকে তর্ক-বিতর্ক ও জাতীয় সমস্যার সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। তারেক রহমান বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন এবং স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে কখনো আপোস করেননি। এ সময় তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দল-মত নির্বিশেষে তিনি দেশের সব মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন। দেশের প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করে তোলাই বিএনপির লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, “স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো বিরোধ থাকার কথা নয়।” ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা–১৭-এ নারীদের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দিয়ে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর মহাখালীর টিএন্ডটি মাঠে কড়াইল এলাকার নারীপ্রধান পরিবারের মধ্যে এ কার্ড বিতরণ করা হয়। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কড়াইল এলাকার নিম্ন আয়ের নারীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্ড তুলে দেন তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নারীর ক্ষমতায়ন এবং পরিবারগুলোর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। সরকারি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই নারীপ্রধান পরিবারগুলোর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বাড়াতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা ছিল। বিএনপির চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন তারেক রহমান। সরকার গঠনের পর এখন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাইলট কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে রাজধানীর কড়াইল ছাড়াও সাততলা, ভাষানটেক এবং মিরপুরের কয়েকটি এলাকায় এ কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। এতে মূলত নিম্ন আয়ের নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন নারী জানান, কার্ড পাওয়ার জন্য তাদের নাম, মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পরিবারের সদস্যসংখ্যাসহ বিভিন্ন তথ্য জমা দিতে হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য পরিবারগুলোকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পাইলট প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ সময় মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে চূড়ান্তভাবে এ সুবিধার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। সরকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে সারা দেশে ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, দুইজন আলেম টেবিলে বসে কথা বলছেন এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী তাদের পেছনে দাঁড়িয়ে সাধারণ ভঙ্গিতে তাদের কথা শুনছেন। দৃশ্যটিতে আনুষ্ঠানিকতা বা ক্ষমতার প্রদর্শনের চেয়ে স্বাভাবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশই বেশি চোখে পড়েছে। ছবিতে উপস্থিত আলেমদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামিক বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ ও শায়খ আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ। সামাজিক মাধ্যমে ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক ব্যবহারকারী প্রধানমন্ত্রীর আচরণকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। তাঁদের মতে, ক্ষমতার আনুষ্ঠানিকতা না দেখিয়ে সাধারণ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে কথা বলার দৃশ্যটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের ইঙ্গিত দেয়। উল্লেখ্য, শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এতিম শিশু ও ওলামা-মাশায়েখদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমন্ত্রণে শায়খ আহমাদুল্লাহ ও শায়খ আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফসহ দেশের বিভিন্ন আলেম উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪ কোটি পরিবার রয়েছে। দরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে পাঁচ লাখ পরিবারকে এক লাখ টাকা করে যাকাত দেওয়া হলে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই দারিদ্র্য অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, দেশে প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার যাকাত দেওয়া হয়। তবে সুপরিকল্পিত ও সংগঠিতভাবে তা বণ্টন না হওয়ায় এর কার্যকারিতা সীমিত হয়ে যায়। ইফতার মাহফিলে উপস্থিত আলেম-ওলামা ও এতিমদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রমজান মাসে অসাধুপন্থায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ানো অনুচিত। একই সঙ্গে তিনি বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান, কুরআন-হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী এতিমদের দায়িত্ব নিলে তারা রাষ্ট্র ও সমাজে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারবে। অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমসহ সরকারি ও ধর্মীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার (৭ মার্চ) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এতিম শিশু ও ওলামা-মাশায়েখদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘লক্ষ্যভিত্তিক এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে যাকাত দেওয়া হলে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে শুধু যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।’ তিনি জানান, দেশের পরিবার সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি। দরিদ্র বা হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে ৫ লাখ পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে যাকাত দিলে পরের বছর তাদের অধিকাংশকে আর যাকাত দিতে হবে না। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে যাকাত বিতরণ দারিদ্র্য বিমোচনে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে। তারেক রহমান আরও বলেন, দেশে বিত্তবানরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বা সরকারের মাধ্যমে যাকাত প্রদান করেন। প্রতি বছর বাংলাদেশে যাকাতের পরিমাণ ২০–২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। তবে সুপরিকল্পিত ও সংগঠিত বণ্টন না হওয়ায় এর কার্যকারিতা সীমিত হয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ইফতার মাহফিলে আলেম-ওলামা, মাশায়েখ ও এতিমদের উদ্দেশে বলেন, রমজান মাসে অসাধুপন্থা অবলম্বন করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি করা অনুচিত। তিনি বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পবিত্র কুরআন-হাদিসের নির্দেশ অনুযায়ী অসহায় এতিমদের দায়িত্ব পালন করলে তারা রাষ্ট্র ও সমাজে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাবে। ইফতার মাহফিলে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা এজেডএম জাহিদ হোসেন, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমসহ অন্যান্য সরকারি ও ধর্মীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ অধিবেশনকে সামনে রেখে দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রস্তুত করতে দুই দিনব্যাপী একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে বিএনপি। বিশেষ করে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং নতুন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সংসদীয় কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দেওয়াই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কর্মশালাটির উদ্বোধন করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নিয়ে দলের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা ভাগাভাগি করছেন। উদ্বোধনী পর্বে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কর্মশালায় তার কন্যা জাইমা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। দলীয় নেতারা জানান, কর্মশালায় সংসদের নিয়ম-কানুন, আচরণবিধি, বিল প্রণয়ন ও পর্যালোচনার পদ্ধতি, বাজেট সংক্রান্ত নথি বিশ্লেষণ এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাজের ধরনসহ নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যরা তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা নতুনদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে সরকারের কার্যক্রমকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন। তার ঘোষণানুযায়ী, ১২ মার্চ সকাল ১১টায় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে। সেই অধিবেশনকে সামনে রেখেই নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রস্তুত করতে এই নিবিড় প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়েছে। কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে সাবেক আমলা, শিক্ষাবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন। তারা সংসদীয় কার্যপ্রণালী, বিল ও বাজেট প্রক্রিয়া এবং স্থায়ী কমিটির ভূমিকা নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা দিচ্ছেন। দুই দিনের এই কর্মশালার কার্যক্রম বিভিন্ন সেশনে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম দিনের সকালে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টারা অংশ নেন। বিকেলে রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা ও ফরিদপুর বিভাগের কিছু সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকবেন। পরদিন শনিবার সকালে ঢাকা জেলা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও ঢাকা বিভাগের বাকি সদস্যরা অংশ নেবেন এবং বিকেলে সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম বিভাগের সংসদ সদস্যরা কর্মশালায় যোগ দেবেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মোট ২০৯ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪৬ জনই প্রথমবারের মতো সংসদে এসেছেন। ফলে সংসদীয় কার্যপ্রণালী সম্পর্কে নতুন সদস্যদের প্রস্তুত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, কর্মশালায় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডার উত্থাপনের পদ্ধতি, বিল প্রণয়ন ও তা নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার নিয়ম, নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার সমস্যা সংসদে তুলে ধরার কৌশল এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি সংসদ অধিবেশনে সদস্যদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে। দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার বিষয়ে কর্মশালায় আলোচনা হচ্ছে। স্থানীয় উন্নয়ন তদারকি, নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হতে পারে। এছাড়া মন্ত্রীদের জন্য দুর্নীতি প্রতিরোধ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিভিন্ন কৌশল নিয়েও আলোচনা করা হচ্ছে এই প্রশিক্ষণে।
দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের গুণীজনদের হাতে ‘একুশে পদক ২০২৬’ তুলে দেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই পদক প্রদান করা হয়। এ বছরের জন্য ৯ জন ব্যক্তি এবং একটি প্রতিষ্ঠানকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্তদের পাশাপাশি মন্ত্রিসভার সদস্য, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তালিকা অনুযায়ী, অভিনয় শাখায় স্বীকৃতি পেয়েছেন ফরিদা আক্তার ববিতা, চারুকলায় নির্বাচিত হয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সাত্তার, এবং স্থাপত্যে সম্মাননা পেয়েছেন প্রখ্যাত স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম। সংগীতে (মরণোত্তর) সম্মানিত হয়েছেন কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু। নৃত্যে স্বীকৃতি পেয়েছেন অর্থী আহমেদ, পালাগানে সম্মানিত হয়েছেন ইসলাম উদ্দিন পালাকার। সাংবাদিকতায় সম্মাননা পেয়েছেন শফিক রেহমান, শিক্ষাক্ষেত্রে অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার, এবং ভাস্কর্যে স্বীকৃতি পেয়েছেন তেজস হালদার জস। এছাড়া বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজকেও ‘একুশে পদক ২০২৬’-এ ভূষিত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্তদের সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্য ও অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। দুপুর ২টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বইমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারের বইমেলায় অংশ নিচ্ছে মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান স্টল পেয়েছে। মোট ইউনিট সংখ্যা ১ হাজার ১৮টি। গত বছর অংশ নিয়েছিল ৭০৮টি প্রতিষ্ঠান এবং ইউনিট ছিল ১ হাজার ৮৪টি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন গাছতলায় থাকছে লিটল ম্যাগাজিন চত্বর, যেখানে ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিনকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিশুচত্বরে থাকছে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ও ১০৭টি ইউনিট। মেলার বিন্যাস আগের মতো থাকলেও মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থানগত কারণে বাহিরপথ কিছুটা সরিয়ে মন্দির গেটের কাছে নেওয়া হয়েছে। টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্লান্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অংশে থাকবে চারটি প্রবেশ ও বাহিরপথ। খাবারের স্টলগুলো ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের সীমানা ঘেঁষে সুবিন্যস্তভাবে রাখা হয়েছে। নামাজের স্থান, ওয়াশরুমসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সেবা অব্যাহত থাকবে। পবিত্র রমজান উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে তারাবি নামাজের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বইমেলায় বাংলা একাডেমি ও অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নির্ধারিত কমিশনে বই বিক্রি করবে। বাংলা একাডেমির বই ও পত্রপত্রিকা বিক্রির জন্য মেলার দুই অংশেই স্টল থাকবে। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত মূল মঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত থাকবে ‘শিশুপ্রহর’। শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে। নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের ব্যবস্থাও থাকবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। মেলার প্রবেশ ও বাহিরপথে থাকবে পর্যাপ্ত আর্চওয়ে। সার্বিক নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ, র্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। এলাকাজুড়ে বসানো হয়েছে প্রায় ৩০০টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। মেলা পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে। ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সরওয়ার জানান, সাদা পোশাকের বিশেষ টিম মোতায়েন থাকবে পুরো এলাকায়। নারী ও শিশুদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোয়াট টিম প্রস্তুত থাকবে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে এমন কোনো বই স্টলে রয়েছে কি না, সেদিকেও নজরদারি থাকবে। ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত (ছুটির দিন ব্যতীত) প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। রাত ৮টা ৩০ মিনিটের পর নতুন করে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিনে মেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারের আয়োজনকে পরিবেশবান্ধব ও ‘জিরো ওয়েস্ট বইমেলা’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। স্টল, মঞ্চ, ব্যানার ও খাবারের দোকানে পাট, কাপড় ও কাগজের মতো পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ব্যবহারে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। রীতি অনুযায়ী ভাষার মাসের প্রথম দিন বইমেলা শুরু হলেও চলতি বছর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও রমজানকে বিবেচনায় নিয়ে তারিখ পরিবর্তন করা হয়। কয়েক দফা পেছানোর পর অবশেষে আজ থেকে শুরু হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত এ আয়োজন।
রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের এক নতুন নজির স্থাপন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এই আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। আমন্ত্রণ গ্রহণ শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দাওয়াত কবুল করেছেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও উল্লেখ করেন যে, জামায়াতের আমির ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও তার সহধর্মিণী ও পরিবারের সদস্যদেরও বিশেষভাবে আমন্ত্রিত হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টায় শুরু হতে যাওয়া এই অনুষ্ঠানটি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টানা তৃতীয় দিনের মতো সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে অফিস করেছেন। সেখানে তিনি মন্ত্রিসভার সদস্য ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এবং সময়ানুবর্তিতার বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং নির্ধারিত সময়ে সবাইকে অফিসে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টা ৫ মিনিটে সচিবালয়ে পৌঁছান। এত সকালে প্রধানমন্ত্রীকে অফিসে দেখে অনেকেই অভিভূত হন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, সচিবালয়ে এসে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টারা কারা কারা অফিসে এসেছেন, সে বিষয়ে খোঁজ নেন এবং মৌখিকভাবে নির্দেশ দেন, যাতে সবাই নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকেন। উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তারেক রহমান। পরদিন তিনি সচিবালয়ে দাপ্তরিক কাজ শুরু করেন এবং টানা দুই দিন সেখানে অফিস করেন। এর মধ্যেই শনিবার সরকারি ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও তিনি তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করেন।
ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাক্ষাতে রাষ্ট্রদূত তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ ও সরকার গঠনের জন্য শুভেচ্ছা জানান। এছাড়াও সৌদি যুবরাজের পক্ষ থেকে অভিনন্দন বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। সাক্ষালে দুই নেতা সৌদি আরব ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এর আগে সকাল ৯টার দিকে সচিবালয়ে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী, যেখানে তাকে স্বাগত জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এই ডাকটিকিট অবমুক্ত করেন। স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচনের পাশাপাশি আজ একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিন ছিল নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীর জন্য। দায়িত্ব গ্রহণের পর এদিনই প্রথমবারের মতো তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কার্যালয়ে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। অফিসের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় চত্বরে একটি 'স্বর্ণচাঁপা' ফুলের চারা রোপণ করেন। বৃক্ষরোপণ শেষে তিনি দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো তেজগাঁও কার্যালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০:১০ মিনিটে তিনি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। সেখানে তাকে স্বাগত জানান মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। নিজের অফিস ভবনে প্রবেশের আগে, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারের সময় দায়িত্বপালন করা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এর ফলে কার্যালয়ের পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় চত্বরে একটি ‘স্বর্ণচাঁপা’ ফুলের চারা রোপণ করেন। বৃক্ষরোপণের পর তিনি মহান আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
অমর একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির সূচনা হয়। প্রথমে রাষ্ট্রপতি শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তারা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রীসহ উপস্থিত সবাই ভাষা শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে নিয়ে পুনরায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ নেতারাও শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে সম্মান জানান। মন্ত্রিসভার সদস্যরা পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা শ্রদ্ধা জানান। তিন বাহিনীর প্রধানরাও পৃথকভাবে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন। এছাড়া বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতাও শহীদ মিনারে ফুল দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারাও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জনস্রোতে ভরে ওঠে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর শহীদ মিনার সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। রাত বারোটার আগেই হাজারো মানুষ হাতে ফুল নিয়ে শহীদ মিনারের দিকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পড়েন। রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করেন শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। শ্রদ্ধা জানানোর আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘদিন পর একুশ নতুন পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, গণতান্ত্রিক চেতনা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করবে। একুশের মূল চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি। গৌরব ও বেদনার একুশ ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের এই দিনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর তৎকালীন পুলিশের গুলিবর্ষণে শহীদ হন সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর, জব্বারসহ অনেকে। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলার ভাষার অধিকার। এই আত্মদানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে ২০১০ সালে জাতিসংঘ ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। একুশ উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। প্রভাতফেরি, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কালো ব্যাজ ধারণের মাধ্যমে শহীদদের স্মরণ করা হচ্ছে। দিনটি সরকারি ছুটির দিন। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং কালো পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাঙালি জাতির জন্য একুশ একই সঙ্গে শোক ও গৌরবের প্রতীক। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় জীবন উৎসর্গের এমন ইতিহাস বিশ্বে বিরল। এই দিনে জাতি আবারও অঙ্গীকার করে—বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও স্বাধীনতার চেতনা সমুন্নত রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews