আমেরিকান ড্রিম- শব্দ দুটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে নানা ছবি। কারও কল্পনায় আসে স্ট্যাচু অব লিবার্টির উঁচু মশাল, কারও মনে জায়গা করে নেয় ফুলের বাগানঘেরা একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। আবার কেউ হয়তো কল্পনা করেন লাস ভেগাসের ঝলমলে আলো কিংবা ক্যাসিনোর ঘূর্ণায়মান রুলেট। কিন্তু আসলে কী এই আমেরিকান ড্রিম, যার টানে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ নিজের দেশ, পরিবার ও পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবনের সন্ধানে পাড়ি জমায়?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে সাহিত্য, ইতিহাস, অর্থনীতি ও সমাজের নানা স্তরে চোখ রাখতে হয়।
আমেরিকান ড্রিম নিয়ে রচিত সবচেয়ে আলোচিত সাহিত্যকর্মগুলোর মধ্যে অন্যতম মার্কিন নাট্যকার আর্থার মিলারের কালজয়ী নাটক ‘ডেথ অব আ সেলসম্যান’। নাটকটিতে একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত আমেরিকান পরিবারের গল্প তুলে ধরা হয়েছে, যারা বছরের পর বছর ধরে কাঙ্ক্ষিত আমেরিকান ড্রিম অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যায়। কিন্তু দীর্ঘ সংগ্রামের পরও তাদের জীবনে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসে না।
নাটকের প্রতিটি চরিত্রের কাছে আমেরিকান ড্রিমের অর্থ ভিন্ন। কেউ অর্থনৈতিক সফলতাকে গুরুত্ব দেয়, কেউ সামাজিক স্বীকৃতিকে। সময়ের সঙ্গে প্রতিকূলতা বাড়ে, আর সেই সঙ্গে বদলে যায় স্বপ্নের সংজ্ঞাও।
বাস্তব জীবনেও চিত্রটি অনেকটা একই। একজন মানুষের কাছে একসময় বাড়ির সামনে দুটি গাড়ি থাকাই ছিল আমেরিকান ড্রিম। আজ হয়তো একটি গাড়ি ধরে রাখতে পারাটাই বড় সাফল্য। যে ব্যক্তি একসময় নিজের বাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, তার কাছে এখন ঋণমুক্ত জীবনই সবচেয়ে বড় অর্জন।
আমেরিকান ড্রিমের উৎপত্তি
১৯৩১ সালে মার্কিন লেখক জেমস ট্রুসলো অ্যাডামস তার ‘দ্য এপিক অব আমেরিকা’ গ্রন্থে প্রথম ‘দ্য আমেরিকান ড্রিম’ শব্দবন্ধটি জনপ্রিয় করেন। তবে তার ব্যাখ্যায় বস্তুগত সম্পদের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল সুযোগের সমতা এবং ব্যক্তিগত সক্ষমতার ভিত্তিতে উন্নতির সম্ভাবনা। তার ভাষায়, আমেরিকা এমন একটি ভূমি, যেখানে সবার জন্য জীবন হবে আরও ভালো, আরও সমৃদ্ধ এবং আরও পরিপূর্ণ; যেখানে মানুষের সুযোগ নির্ধারিত হবে তার যোগ্যতা ও অর্জনের ভিত্তিতে।
যদিও এই ব্যাখ্যা ছিল বেশ সরল, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন লেখক ও গবেষক এ ধারণাকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করেছেন। ফলে আমেরিকান ড্রিম নিয়ে আলোচনা যেমন বিস্তৃত হয়েছে, তেমনি নতুন প্রশ্নও সামনে এসেছে।
অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্যাপক অভিবাসনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ইউরোপের মতো বংশ, গোত্র বা জাতিগত ঐতিহ্যের ভিত্তিতে নয়, বরং একটি অভিন্ন আদর্শকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজন ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে আমেরিকান ড্রিমের ধারণা আরও শক্ত ভিত্তি পায়।
এ প্রসঙ্গে ১৯১৬ সালে প্রবন্ধকার অ্যাগনেস রিপলাইয়ারের ‘আমেরিকানিজম’ প্রবন্ধের কথাও উল্লেখ করা হয়, যেখানে অভিন্ন জাতীয় চেতনার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
আমেরিকান ড্রিম কী?
অনেক গবেষকের মতে, আমেরিকান ড্রিমের ধারণা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রেও প্রতিফলিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সব মানুষ সমান মর্যাদার অধিকারী এবং প্রত্যেকের জীবন, স্বাধীনতা ও সুখ অন্বেষণের অধিকার রয়েছে।
সাধারণ মানুষের কাছে আমেরিকান ড্রিমের অর্থ আরও সহজ। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের অবস্থার উন্নয়ন, সন্তানদের জন্য উন্নত শিক্ষা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়া এবং ধর্ম, বর্ণ কিংবা সামাজিক পরিচয়ের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই নিজের জীবন নিজের মতো করে গড়ে তোলার সুযোগই এর মূল ভিত্তি।
সমাজতাত্ত্বিক এমিলি রোজেনবার্গ আমেরিকান ড্রিমের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো- বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য আমেরিকাকে অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে দেখা, মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রতি আস্থা রাখা, মুক্ত বাণিজ্য ও বৈদেশিক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা, তথ্য ও সংস্কৃতির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা, বেসরকারি উদ্যোগে সরকারি সহায়তাকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখা।
এতক্ষণ পর্যন্ত আলোচনায় আমেরিকান ড্রিমকে একটি আদর্শিক ধারণা বলে মনে হতে পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে এই ধারণার সঙ্গে বাড়ি, গাড়ি ও আর্থিক সমৃদ্ধির সম্পর্ক কীভাবে তৈরি হলো?
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজমের প্রভাব মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসন নাগরিকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়। সেই সময় প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট বলেছিলেন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ছাড়া প্রকৃত স্বাধীনতা সম্ভব নয়। ক্ষুধা ও বেকারত্ব একটি সমাজকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
পরবর্তী কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রসার, সহজ ঋণ সুবিধা, বাড়ির মালিকানা বৃদ্ধি এবং ভোক্তাকেন্দ্রিক অর্থনীতির বিকাশের ফলে আমেরিকান ড্রিমের সঙ্গে বস্তুগত সফলতার সম্পর্ক তৈরি হয়। ফলে অনেকের কাছে আমেরিকান ড্রিম বলতে বোঝায় নিজের বাড়ি, ব্যক্তিগত গাড়ি, সন্তানের উন্নত শিক্ষা, পোষা প্রাণী, সফল ক্যারিয়ার কিংবা নিজের ব্যবসার মালিক হওয়া।
তবে সময়ের সঙ্গে এই স্বপ্ন অর্জন করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। অর্থনৈতিক স্থবিরতা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট, ঋণের বোঝা এবং কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা আমেরিকান ড্রিমের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একসময় বাড়ির মালিক হওয়া ছিল এই স্বপ্নের প্রধান প্রতীক। কিন্তু বর্তমানে আবাসন খাতে মূল্যবৃদ্ধি ও কঠোর ঋণনীতির কারণে অনেকের কাছে সাশ্রয়ী ভাড়ায় বাসস্থান নিশ্চিত করাই বড় লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।
ক্রেডিট ডটকমের এক জরিপ অনুযায়ী, ২৮ শতাংশ আমেরিকান পর্যাপ্ত সঞ্চয় নিয়ে অবসর জীবন কাটাতে চান। ২৩ শতাংশের কাছে ঋণমুক্ত জীবনই সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। তরুণদের ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জ কম নয়। উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর অনেকের ওপর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শিক্ষাঋণের চাপ থাকে। কর্মসংস্থানের বাজারও প্রতিযোগিতাপূর্ণ। ফলে অর্থনৈতিক সফলতা ও সামাজিক অগ্রগতির যে প্রতিশ্রুতি একসময় আমেরিকান ড্রিমের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, তা অনেকের কাছেই ক্রমশ অধরা হয়ে উঠছে।
তবুও আমেরিকান ড্রিমের আবেদন ফুরিয়ে যায়নি। সময়ের সঙ্গে এর সংজ্ঞা বদলেছে, অগ্রাধিকার বদলেছে, কিন্তু উন্নত জীবনের প্রত্যাশা ও সুযোগের সন্ধান এখনো লাখো মানুষের কাছে এই স্বপ্নকে জীবন্ত করে রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
আমেরিকান ড্রিম- শব্দ দুটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে নানা ছবি। কারও কল্পনায় আসে স্ট্যাচু অব লিবার্টির উঁচু মশাল, কারও মনে জায়গা করে নেয় ফুলের বাগানঘেরা একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। আবার কেউ হয়তো কল্পনা করেন লাস ভেগাসের ঝলমলে আলো কিংবা ক্যাসিনোর ঘূর্ণায়মান রুলেট। কিন্তু আসলে কী এই আমেরিকান ড্রিম, যার টানে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ নিজের দেশ, পরিবার ও পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবনের সন্ধানে পাড়ি জমায়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে সাহিত্য, ইতিহাস, অর্থনীতি ও সমাজের নানা স্তরে চোখ রাখতে হয়। আমেরিকান ড্রিম নিয়ে রচিত সবচেয়ে আলোচিত সাহিত্যকর্মগুলোর মধ্যে অন্যতম মার্কিন নাট্যকার আর্থার মিলারের কালজয়ী নাটক ‘ডেথ অব আ সেলসম্যান’। নাটকটিতে একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত আমেরিকান পরিবারের গল্প তুলে ধরা হয়েছে, যারা বছরের পর বছর ধরে কাঙ্ক্ষিত আমেরিকান ড্রিম অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যায়। কিন্তু দীর্ঘ সংগ্রামের পরও তাদের জীবনে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসে না। নাটকের প্রতিটি চরিত্রের কাছে আমেরিকান ড্রিমের অর্থ ভিন্ন। কেউ অর্থনৈতিক সফলতাকে গুরুত্ব দেয়, কেউ সামাজিক স্বীকৃতিকে। সময়ের সঙ্গে প্রতিকূলতা বাড়ে, আর সেই সঙ্গে বদলে যায় স্বপ্নের সংজ্ঞাও। বাস্তব জীবনেও চিত্রটি অনেকটা একই। একজন মানুষের কাছে একসময় বাড়ির সামনে দুটি গাড়ি থাকাই ছিল আমেরিকান ড্রিম। আজ হয়তো একটি গাড়ি ধরে রাখতে পারাটাই বড় সাফল্য। যে ব্যক্তি একসময় নিজের বাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, তার কাছে এখন ঋণমুক্ত জীবনই সবচেয়ে বড় অর্জন। আমেরিকান ড্রিমের উৎপত্তি ১৯৩১ সালে মার্কিন লেখক জেমস ট্রুসলো অ্যাডামস তার ‘দ্য এপিক অব আমেরিকা’ গ্রন্থে প্রথম ‘দ্য আমেরিকান ড্রিম’ শব্দবন্ধটি জনপ্রিয় করেন। তবে তার ব্যাখ্যায় বস্তুগত সম্পদের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল সুযোগের সমতা এবং ব্যক্তিগত সক্ষমতার ভিত্তিতে উন্নতির সম্ভাবনা। তার ভাষায়, আমেরিকা এমন একটি ভূমি, যেখানে সবার জন্য জীবন হবে আরও ভালো, আরও সমৃদ্ধ এবং আরও পরিপূর্ণ; যেখানে মানুষের সুযোগ নির্ধারিত হবে তার যোগ্যতা ও অর্জনের ভিত্তিতে। যদিও এই ব্যাখ্যা ছিল বেশ সরল, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন লেখক ও গবেষক এ ধারণাকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করেছেন। ফলে আমেরিকান ড্রিম নিয়ে আলোচনা যেমন বিস্তৃত হয়েছে, তেমনি নতুন প্রশ্নও সামনে এসেছে। অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্যাপক অভিবাসনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ইউরোপের মতো বংশ, গোত্র বা জাতিগত ঐতিহ্যের ভিত্তিতে নয়, বরং একটি অভিন্ন আদর্শকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজন ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে আমেরিকান ড্রিমের ধারণা আরও শক্ত ভিত্তি পায়। এ প্রসঙ্গে ১৯১৬ সালে প্রবন্ধকার অ্যাগনেস রিপলাইয়ারের ‘আমেরিকানিজম’ প্রবন্ধের কথাও উল্লেখ করা হয়, যেখানে অভিন্ন জাতীয় চেতনার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। আমেরিকান ড্রিম কী? অনেক গবেষকের মতে, আমেরিকান ড্রিমের ধারণা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রেও প্রতিফলিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সব মানুষ সমান মর্যাদার অধিকারী এবং প্রত্যেকের জীবন, স্বাধীনতা ও সুখ অন্বেষণের অধিকার রয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে আমেরিকান ড্রিমের অর্থ আরও সহজ। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের অবস্থার উন্নয়ন, সন্তানদের জন্য উন্নত শিক্ষা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়া এবং ধর্ম, বর্ণ কিংবা সামাজিক পরিচয়ের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই নিজের জীবন নিজের মতো করে গড়ে তোলার সুযোগই এর মূল ভিত্তি। সমাজতাত্ত্বিক এমিলি রোজেনবার্গ আমেরিকান ড্রিমের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো- বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য আমেরিকাকে অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে দেখা, মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রতি আস্থা রাখা, মুক্ত বাণিজ্য ও বৈদেশিক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা, তথ্য ও সংস্কৃতির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা, বেসরকারি উদ্যোগে সরকারি সহায়তাকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখা। এতক্ষণ পর্যন্ত আলোচনায় আমেরিকান ড্রিমকে একটি আদর্শিক ধারণা বলে মনে হতে পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে এই ধারণার সঙ্গে বাড়ি, গাড়ি ও আর্থিক সমৃদ্ধির সম্পর্ক কীভাবে তৈরি হলো? প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজমের প্রভাব মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসন নাগরিকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়। সেই সময় প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট বলেছিলেন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ছাড়া প্রকৃত স্বাধীনতা সম্ভব নয়। ক্ষুধা ও বেকারত্ব একটি সমাজকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। পরবর্তী কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রসার, সহজ ঋণ সুবিধা, বাড়ির মালিকানা বৃদ্ধি এবং ভোক্তাকেন্দ্রিক অর্থনীতির বিকাশের ফলে আমেরিকান ড্রিমের সঙ্গে বস্তুগত সফলতার সম্পর্ক তৈরি হয়। ফলে অনেকের কাছে আমেরিকান ড্রিম বলতে বোঝায় নিজের বাড়ি, ব্যক্তিগত গাড়ি, সন্তানের উন্নত শিক্ষা, পোষা প্রাণী, সফল ক্যারিয়ার কিংবা নিজের ব্যবসার মালিক হওয়া। তবে সময়ের সঙ্গে এই স্বপ্ন অর্জন করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। অর্থনৈতিক স্থবিরতা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট, ঋণের বোঝা এবং কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা আমেরিকান ড্রিমের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একসময় বাড়ির মালিক হওয়া ছিল এই স্বপ্নের প্রধান প্রতীক। কিন্তু বর্তমানে আবাসন খাতে মূল্যবৃদ্ধি ও কঠোর ঋণনীতির কারণে অনেকের কাছে সাশ্রয়ী ভাড়ায় বাসস্থান নিশ্চিত করাই বড় লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। ক্রেডিট ডটকমের এক জরিপ অনুযায়ী, ২৮ শতাংশ আমেরিকান পর্যাপ্ত সঞ্চয় নিয়ে অবসর জীবন কাটাতে চান। ২৩ শতাংশের কাছে ঋণমুক্ত জীবনই সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। তরুণদের ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জ কম নয়। উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর অনেকের ওপর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শিক্ষাঋণের চাপ থাকে। কর্মসংস্থানের বাজারও প্রতিযোগিতাপূর্ণ। ফলে অর্থনৈতিক সফলতা ও সামাজিক অগ্রগতির যে প্রতিশ্রুতি একসময় আমেরিকান ড্রিমের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, তা অনেকের কাছেই ক্রমশ অধরা হয়ে উঠছে। তবুও আমেরিকান ড্রিমের আবেদন ফুরিয়ে যায়নি। সময়ের সঙ্গে এর সংজ্ঞা বদলেছে, অগ্রাধিকার বদলেছে, কিন্তু উন্নত জীবনের প্রত্যাশা ও সুযোগের সন্ধান এখনো লাখো মানুষের কাছে এই স্বপ্নকে জীবন্ত করে রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করতে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল বিল পাস করেছে প্রতিনিধি পরিষদ। রিপাবলিকানদের সমর্থনে পাস হওয়া এই বিলকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিলটি ২১৪-২১২ ভোটে পাস হয়। প্রতিনিধি পরিষদের প্রায় সব ডেমোক্র্যাট সদস্য এর বিরোধিতা করেন। রিপাবলিকানদের সঙ্গে কাজ করা ক্যালিফোর্নিয়ার স্বতন্ত্র প্রতিনিধি কেভিন কাইলিও ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে বিলটির বিরুদ্ধে ভোট দেন। নতুন এই আইনের মাধ্যমে আগামী তিন বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পরিচালনায় অতিরিক্ত অর্থায়নের পথ তৈরি হবে। বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য হোয়াইট হাউসে পাঠানো হবে। প্রেসিডেন্টের অনুমোদন পেলেই এটি আইনে পরিণত হবে। বিলে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইর জন্য। সংস্থাটির জন্য ৩৮ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সীমান্ত টহল বাহিনীর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২৬ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া জরুরি বা অপ্রত্যাশিত ব্যয় মোকাবিলায় আরও ৫ বিলিয়ন ডলার সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। রিপাবলিকান নেতৃত্বের দাবি, দক্ষিণ সীমান্তে অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যমান আইন কার্যকর করতে এই অর্থায়ন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন বিলটির পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন আইন প্রয়োগে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, “সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন আইন বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়ন জরুরি। দুঃখজনক হলেও সত্য, এই কাজটি রিপাবলিকানদের একাই করতে হচ্ছে।” ডেমোক্র্যাটরা অবশ্য বিলটির কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আরও ব্যাপক অভিযান পরিচালনার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে, যা মানবাধিকার এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিল ট্রাম্প প্রশাসনের বহুল আলোচিত অভিবাসন কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের শনাক্তকরণ, আটক এবং বহিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনায় আইসিইর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বিলটি এমন এক সময়ে পাস হলো যখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ইস্যু আবারও জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণা থেকে শুরু করে বর্তমান মেয়াদ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ অভিবাসন রোধকে অন্যতম প্রধান নীতি হিসেবে তুলে ধরেছে। উল্লেখ্য, গত বছর ট্রাম্প প্রশাসনের কর ও ব্যয়সংক্রান্ত বৃহৎ আইন প্যাকেজের আওতায় কংগ্রেস আইসিই এবং কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন সংস্থার জন্য প্রায় ১৪০ বিলিয়ন ডলার অনুমোদন করেছিল। নতুন ৭০ বিলিয়ন ডলারের বিল সেই অর্থায়নের অতিরিক্ত হিসেবে যোগ হবে। এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটেও বিলটি অনুমোদন পায়। দীর্ঘ রাতের অধিবেশনের পর অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিলটি ৫২-৪৭ ভোটে পাস হয়। এরপর এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রতিনিধি পরিষদে পাঠানো হয়েছিল। অভিবাসন নীতিকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেই বিলটি পাস হলো। ফলে আগামী কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং বহিষ্কার কার্যক্রমের গতি ও পরিধি আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিলটিতে স্বাক্ষর করলে এটি শুধু প্রশাসনিক সক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং অভিবাসন ইস্যুতে তার রাজনৈতিক অবস্থানকেও আরও সুসংহত করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ডের স্বনামধন্য চ্যামিনেড হাইস্কুলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক অনন্য রেকর্ড গড়লেন দুই যমজ ভাই, জন এবং জোসেফ গোমেস। তারা তাদের শিক্ষাজীবনের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে স্কুলের শীর্ষ দুই স্থান—ভ্যালিডিক্টোরিয়ান এবং স্যালুট্যাটোরিয়ান—অধিকার করেছেন। ১৮ বছর বয়সী এই দুই মেধাবী শিক্ষার্থী এখন বিখ্যাত আইভি লীগভুক্ত প্রতিষ্ঠান ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্কুলের চার বছরের ফলাফলে বড় ভাই জন গোমেস ৯৯.৪২ শতাংশ নম্বর পেয়ে ভ্যালিডিক্টোরিয়ান হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। অন্যদিকে, তার চেয়ে মাত্র এক মিনিটের ছোট ভাই জোসেফ ৯৯.২৯ শতাংশ নম্বর নিয়ে স্যালুট্যাটোরিয়ান নির্বাচিত হয়েছেন। এই দুই ভাইয়ের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও সেটি সবসময়ই ছিল ইতিবাচক ও বন্ধুত্বপূর্ণ। জন গোমেস জানান, পদার্থবিজ্ঞান বা ক্যালকুলাসে কে ভালো করছে তা নিয়ে মাঝে মাঝে তাদের মধ্যে মজার বড়াই হলেও, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল একে অপরকে সাহায্য করা। মজার ব্যাপার হলো, দ্বাদশ শ্রেণিতে জোসেফ তার বড় ভাইকে পেছনে ফেলেছিলেন, যেখানে তিনি পেয়েছিলেন ৯৯.৬৭ এবং জন পেয়েছিলেন ৯৮.৮৩। সাধারণত শেষ বর্ষে অনেক শিক্ষার্থী পড়ালেখায় মনোযোগ হারিয়ে ফেললেও, জোসেফ ছিলেন এর ব্যতিক্রম এবং এটিই ছিল তার চার বছরের সেরা ফলাফল। হিউলেটে বেড়ে ওঠা এই দুই ভাই শৈশব থেকেই একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ; টেনিস, নিনটেন্ডো, বোর্ড গেম খেলা থেকে শুরু করে জন্মদিনের বড় আয়োজন—সবকিছুতেই তারা সবসময় একসাথে থেকেছেন। চ্যামিনেড হাইস্কুলের মতো একটি তীব্র প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানে নিজেদের প্রমাণ করতে তারা সবসময়ই কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তাদের এই কাজের স্পৃহা খুব দ্রুতই পুরো স্কুলের জন্য অনুকরণীয় হয়ে ওঠে। স্কুলের প্রিন্সিপাল রবার্ট পল জানান, এই দুই ভাই সবসময় স্কুলের সবচেয়ে কঠিন কোর্সগুলোই বেছে নিয়েছিলেন, যেখানে অপেক্ষাকৃত সহজ পথ বেছে নিয়ে ভালো ফল করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তারা কঠোর পরিশ্রমের পথেই হেঁটেছেন। সাধারণ পড়াশোনার বাইরে সোশ্যাল স্টাডিজ, বিজনেস ও রন্ধনশিল্প ক্লাবের পাশাপাশি স্কুলের প্রার্থনা দলেও তারা একসঙ্গে সক্রিয় ছিলেন। ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে একসঙ্গে পড়তে যাওয়ার বিষয়টি আগে থেকে নির্ধারিত না থাকলেও, ঘটনাচক্রে দুজনেরই একই জায়গায় সুযোগ মিলে যায়। কাকতালীয়ভাবে তাদের বাবাও এই ব্রাউন ইউনিভার্সিটি থেকেই পড়াশোনা সম্পন্ন করেছিলেন। ভবিষ্যতে জন গোমেস সরকারি খাত বা আইন পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখছেন, অন্যদিকে জোসেফ পরিবেশ প্রকৌশল নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। গত রোববার স্কুলের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তারা সহপাঠীদের উদ্দেশ্যে কর্মস্পৃহা এবং ভ্রাতৃত্ববোধ নিয়ে প্রেরণাদায়ী বক্তব্য রাখেন। আগামী চার বছর ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে একে অপরের সঙ্গে চমৎকার সময় কাটানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করে জন বলেন, প্রতিদিন যার সঙ্গে দেখা হয় তাকে সপ্তাহে অন্তত একবার না দেখলে মানিয়ে নেওয়াটা সত্যিই খুব কঠিন হতো।