আমেরিকান ড্রিম
যে স্বপ্নের টানে মানুষ ছুটে যায় আমেরিকায়, কতটা পূরণ হয় সেই স্বপ্ন?
আমেরিকান ড্রিম- শব্দ দুটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে নানা ছবি। কারও কল্পনায় আসে স্ট্যাচু অব লিবার্টির উঁচু মশাল, কারও মনে জায়গা করে নেয় ফুলের বাগানঘেরা একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। আবার কেউ হয়তো কল্পনা করেন লাস ভেগাসের ঝলমলে আলো কিংবা ক্যাসিনোর ঘূর্ণায়মান রুলেট। কিন্তু আসলে কী এই আমেরিকান ড্রিম, যার টানে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ নিজের দেশ, পরিবার ও পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবনের সন্ধানে পাড়ি জমায়?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে সাহিত্য, ইতিহাস, অর্থনীতি ও সমাজের নানা স্তরে চোখ রাখতে হয়।
আমেরিকান ড্রিম নিয়ে রচিত সবচেয়ে আলোচিত সাহিত্যকর্মগুলোর মধ্যে অন্যতম মার্কিন নাট্যকার আর্থার মিলারের কালজয়ী নাটক ‘ডেথ অব আ সেলসম্যান’। নাটকটিতে একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত আমেরিকান পরিবারের গল্প তুলে ধরা হয়েছে, যারা বছরের পর বছর ধরে কাঙ্ক্ষিত আমেরিকান ড্রিম অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যায়। কিন্তু দীর্ঘ সংগ্রামের পরও তাদের জীবনে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসে না।
নাটকের প্রতিটি চরিত্রের কাছে আমেরিকান ড্রিমের অর্থ ভিন্ন। কেউ অর্থনৈতিক সফলতাকে গুরুত্ব দেয়, কেউ সামাজিক স্বীকৃতিকে। সময়ের সঙ্গে প্রতিকূলতা বাড়ে, আর সেই সঙ্গে বদলে যায় স্বপ্নের সংজ্ঞাও।
বাস্তব জীবনেও চিত্রটি অনেকটা একই। একজন মানুষের কাছে একসময় বাড়ির সামনে দুটি গাড়ি থাকাই ছিল আমেরিকান ড্রিম। আজ হয়তো একটি গাড়ি ধরে রাখতে পারাটাই বড় সাফল্য। যে ব্যক্তি একসময় নিজের বাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, তার কাছে এখন ঋণমুক্ত জীবনই সবচেয়ে বড় অর্জন।
আমেরিকান ড্রিমের উৎপত্তি
১৯৩১ সালে মার্কিন লেখক জেমস ট্রুসলো অ্যাডামস তার ‘দ্য এপিক অব আমেরিকা’ গ্রন্থে প্রথম ‘দ্য আমেরিকান ড্রিম’ শব্দবন্ধটি জনপ্রিয় করেন। তবে তার ব্যাখ্যায় বস্তুগত সম্পদের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল সুযোগের সমতা এবং ব্যক্তিগত সক্ষমতার ভিত্তিতে উন্নতির সম্ভাবনা। তার ভাষায়, আমেরিকা এমন একটি ভূমি, যেখানে সবার জন্য জীবন হবে আরও ভালো, আরও সমৃদ্ধ এবং আরও পরিপূর্ণ; যেখানে মানুষের সুযোগ নির্ধারিত হবে তার যোগ্যতা ও অর্জনের ভিত্তিতে।
যদিও এই ব্যাখ্যা ছিল বেশ সরল, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন লেখক ও গবেষক এ ধারণাকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করেছেন। ফলে আমেরিকান ড্রিম নিয়ে আলোচনা যেমন বিস্তৃত হয়েছে, তেমনি নতুন প্রশ্নও সামনে এসেছে।
অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্যাপক অভিবাসনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ইউরোপের মতো বংশ, গোত্র বা জাতিগত ঐতিহ্যের ভিত্তিতে নয়, বরং একটি অভিন্ন আদর্শকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজন ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে আমেরিকান ড্রিমের ধারণা আরও শক্ত ভিত্তি পায়।
এ প্রসঙ্গে ১৯১৬ সালে প্রবন্ধকার অ্যাগনেস রিপলাইয়ারের ‘আমেরিকানিজম’ প্রবন্ধের কথাও উল্লেখ করা হয়, যেখানে অভিন্ন জাতীয় চেতনার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
আমেরিকান ড্রিম কী?
অনেক গবেষকের মতে, আমেরিকান ড্রিমের ধারণা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রেও প্রতিফলিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সব মানুষ সমান মর্যাদার অধিকারী এবং প্রত্যেকের জীবন, স্বাধীনতা ও সুখ অন্বেষণের অধিকার রয়েছে।
সাধারণ মানুষের কাছে আমেরিকান ড্রিমের অর্থ আরও সহজ। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের অবস্থার উন্নয়ন, সন্তানদের জন্য উন্নত শিক্ষা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়া এবং ধর্ম, বর্ণ কিংবা সামাজিক পরিচয়ের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই নিজের জীবন নিজের মতো করে গড়ে তোলার সুযোগই এর মূল ভিত্তি।
সমাজতাত্ত্বিক এমিলি রোজেনবার্গ আমেরিকান ড্রিমের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো- বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য আমেরিকাকে অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে দেখা, মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রতি আস্থা রাখা, মুক্ত বাণিজ্য ও বৈদেশিক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা, তথ্য ও সংস্কৃতির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা, বেসরকারি উদ্যোগে সরকারি সহায়তাকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখা।
এতক্ষণ পর্যন্ত আলোচনায় আমেরিকান ড্রিমকে একটি আদর্শিক ধারণা বলে মনে হতে পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে এই ধারণার সঙ্গে বাড়ি, গাড়ি ও আর্থিক সমৃদ্ধির সম্পর্ক কীভাবে তৈরি হলো?
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজমের প্রভাব মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসন নাগরিকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়। সেই সময় প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট বলেছিলেন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ছাড়া প্রকৃত স্বাধীনতা সম্ভব নয়। ক্ষুধা ও বেকারত্ব একটি সমাজকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
পরবর্তী কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রসার, সহজ ঋণ সুবিধা, বাড়ির মালিকানা বৃদ্ধি এবং ভোক্তাকেন্দ্রিক অর্থনীতির বিকাশের ফলে আমেরিকান ড্রিমের সঙ্গে বস্তুগত সফলতার সম্পর্ক তৈরি হয়। ফলে অনেকের কাছে আমেরিকান ড্রিম বলতে বোঝায় নিজের বাড়ি, ব্যক্তিগত গাড়ি, সন্তানের উন্নত শিক্ষা, পোষা প্রাণী, সফল ক্যারিয়ার কিংবা নিজের ব্যবসার মালিক হওয়া।
তবে সময়ের সঙ্গে এই স্বপ্ন অর্জন করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। অর্থনৈতিক স্থবিরতা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট, ঋণের বোঝা এবং কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা আমেরিকান ড্রিমের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একসময় বাড়ির মালিক হওয়া ছিল এই স্বপ্নের প্রধান প্রতীক। কিন্তু বর্তমানে আবাসন খাতে মূল্যবৃদ্ধি ও কঠোর ঋণনীতির কারণে অনেকের কাছে সাশ্রয়ী ভাড়ায় বাসস্থান নিশ্চিত করাই বড় লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।
ক্রেডিট ডটকমের এক জরিপ অনুযায়ী, ২৮ শতাংশ আমেরিকান পর্যাপ্ত সঞ্চয় নিয়ে অবসর জীবন কাটাতে চান। ২৩ শতাংশের কাছে ঋণমুক্ত জীবনই সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। তরুণদের ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জ কম নয়। উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর অনেকের ওপর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শিক্ষাঋণের চাপ থাকে। কর্মসংস্থানের বাজারও প্রতিযোগিতাপূর্ণ। ফলে অর্থনৈতিক সফলতা ও সামাজিক অগ্রগতির যে প্রতিশ্রুতি একসময় আমেরিকান ড্রিমের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, তা অনেকের কাছেই ক্রমশ অধরা হয়ে উঠছে।
তবুও আমেরিকান ড্রিমের আবেদন ফুরিয়ে যায়নি। সময়ের সঙ্গে এর সংজ্ঞা বদলেছে, অগ্রাধিকার বদলেছে, কিন্তু উন্নত জীবনের প্রত্যাশা ও সুযোগের সন্ধান এখনো লাখো মানুষের কাছে এই স্বপ্নকে জীবন্ত করে রেখেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ পাচারে ব্যবহৃত চীনা ভাষার অনলাইন মার্কেটপ্লেস ‘জিনবি গ্যারান্টি’-র বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। একদিনের অভিযানে সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো ওয়ালেট থেকে ৫২ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ জব্দের প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের স্ক্যাম সেন্টার স্ট্রাইক ফোর্স, ইউএস সিক্রেট সার্ভিস ও ট্রেজারি বিভাগের সমন্বিত অভিযানে জিনবি গ্যারান্টির বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আদালতের অনুমোদিত পরোয়ানার ভিত্তিতে জিনবির ব্যবহৃত দুটি ক্রিপ্টো ওয়ালেট জব্দ করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ১২ মিলিয়ন ডলার ছিল। আরও ৪৭টি সংশ্লিষ্ট ওয়ালেটের অর্থ আটকে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫২ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। জিনবি গ্যারান্টি টেলিগ্রামভিত্তিক একটি চীনা ভাষার অবৈধ অনলাইন মার্কেটপ্লেস হিসেবে কাজ করত বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ। সেখানে স্ক্যাম সেন্টার পরিচালনাকারীদের কাছে প্রতারণার ওয়েবসাইট তৈরি, প্রতারণার অর্থ ‘ধোয়া’ বা পাচার এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে কাজের জন্য মানুষ সংগ্রহসহ বিভিন্ন অবৈধ সেবা বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। ব্লকচেইন গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান এলিপটিক জানিয়েছে, ২০২২ সালে কার্যক্রম শুরুর পর জিনবি গ্যারান্টি ও এর ব্যবসায়ীরা অন্তত ২৪ বিলিয়ন ডলারের লেনদেন প্রক্রিয়া করেছে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জিনবি পে আরও প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের লেনদেন করেছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ একই দিনে জিনবি গ্যারান্টিকে গুরুতর আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠন হিসেবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে। জিনবির কার্যক্রমে সহায়তার অভিযোগে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বা মার্কিন নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সংশ্লিষ্ট সম্পদ ব্লক হয়ে যাবে। ইউএস সিক্রেট সার্ভিসের ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিসের স্পেশাল এজেন্ট ইন চার্জ তারা ম্যাকলিস বলেন, মার্কিন নাগরিকদের প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ বিদেশে পরিচালিত অপরাধী চক্রগুলো জিনবি গ্যারান্টি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পাচার করত। তদন্তকারীরা ক্রিপ্টো লেনদেন অনুসরণ করে নেটওয়ার্কটির বিস্তৃতি শনাক্ত করেছেন। তদন্তে সহায়তা করেছে এলিপটিকের ব্লকচেইন গোয়েন্দা দল। একই সঙ্গে মার্কিন ট্রেজারির ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল অফিস (ওএফএসি) এবং ট্রেজারি এক্সিকিউটিভ অফিস ফর অ্যাসেট ফরফেইচার-ও অভিযানে সহযোগিতা করেছে। তবে অর্থ আটকে দেওয়া মানেই তা ইতিমধ্যে প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে - এমন নয়। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আরও অর্থ শনাক্ত ও উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তেল ও গ্যাসের দাম অনেক কমে আসবে - ট্রাম্প
ভোর ৪টায় ডোরবেল ক্যামেরার ফুটেজ দেখে আঁতকে উঠলেন মা, বাইরে ৩ বছরের শিশু
আমেরিকায় আসবেন না,বিদেশে যাওয়ার আগে ভাবুন! হতাশ ভারতীয় দম্পতির পরামর্শ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টোতে নেভিডিয়ার ৩২ বছর বয়সী সিনিয়র এআই গবেষক ইরফান আল-হুসাইনির মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে তার পরিবার। মৃত্যুর কারণ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে পরিবারের সদস্যরা ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টার কার্যালয়ে জরুরি আবেদন করেছেন এবং নির্ধারিত দাহকাজ বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছেন। এনবিসি বে এরিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরফানকে জুলাইয়ে পালো আল্টোর নিজ বাড়িতে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর আট দিন চিকিৎসাধীন থেকে তার মৃত্যু হয়। কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করলেও পরিবার ও ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পরিবারের দাবি, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেও ইরফান স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিলেন। মৃত্যুর দিন সকালে তিনি একটি পেশাগত প্রেজেন্টেশনও দেন। এরপর কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে তিনি অচেতন হয়ে পড়লেন, তা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান। ইরফানের পরিবারের সদস্যরা সম্প্রতি স্যাক্রামেন্টোতে গিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ও জরুরি আবেদন জমা দেন। তাদের আশঙ্কা, দাহ করা হলে মৃত্যুর ঘটনাটি পুনরায় পরীক্ষা বা ফরেনসিক তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ইরফানের বোন সারাহ আল-হুসাইনি এনবিসি বে এরিয়াকে বলেন, শরীর দাহ হয়ে গেলে সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক প্রমাণ আর পরীক্ষা করা সম্ভব হবে না। তাই তারা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং দেহটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। ইরফান আল-হুসাইনি নেভিডিয়ায় সিনিয়র ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। তার ব্যক্তিগত পেশাগত তথ্য অনুযায়ী, তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং এবং বিশেষ করে হেলথকেয়ারে ব্যাখ্যাযোগ্য এআই নিয়ে গবেষণা করতেন। তিনি জর্জিয়া টেক থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটের শিক্ষার্থী ছিলেন। জর্জিয়া টেকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইরফান ও তার স্ত্রী ফাবিয়া ফারলিন আথেনা একই সময়ে বুয়েটে পড়লেও তাদের পরিচয় হয় পরে জর্জিয়া টেকে। দুজনই সেখানে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করেন এবং ২০২২ সালে বিয়ে করেন। ইরফানের মৃত্যুকে ঘিরে ইতোমধ্যে একটি পৃথক তদন্তের দাবিও উঠেছে। আগস্টে প্রকাশিত এক আপডেটে জানানো হয়, বাংলাদেশের কনসাল জেনারেলের পক্ষ থেকে বিষয়টি সান্তা ক্লারা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের নজরে আনা হয়েছিল। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, পালো আল্টো পুলিশ তদন্ত করছে এবং সান্তা ক্লারা কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের ফরেনসিক প্যাথলজিস্টও মৃত্যুর কারণ ও ধরন নিয়ে স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করছেন। তদন্তে হত্যাকাণ্ডের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে পুলিশ মামলাটি পরবর্তী আইনি পর্যালোচনার জন্য পাঠাতে পারে বলেও ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এদিকে পরিবারের অভিযোগ ও প্রশ্নের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরফানের মৃত্যুকে ঘিরে নানা দাবি ছড়ালেও সেগুলোর সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বা দায়ী ব্যক্তি সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। নির্ধারিত দাহকাজ বন্ধ করে দেহটি আরও পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়াই এখন পরিবারের প্রধান দাবি। তারা বলছেন, ইরফানের মৃত্যুর পরিস্থিতি পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।
টেক্সাসে নতুন ইবি-৩ কর্মসংস্থানভিত্তিক সুযোগ! আয় খাতে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ১৬.৩৫ ডলার
ট্রাম্পের আমলে ২ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী রিপোর্ট করেছে আইসিই
বিশ্বজুড়ে নিয়োগ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, বেতন সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪৯ হাজার ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানরা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেট উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে দেশটির প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে ‘ডিভিডেন্ড’ দেওয়া হবে। ৯ সেপ্টেম্বর ডালাসে রিপাবলিকানদের মিডটার্ম কনভেনশনে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। ট্রাম্প এই অর্থকে ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শক্তি ও সাফল্যের কারণে এই অর্থ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের জন্য অর্থের উৎস, অর্থ বিতরণের পদ্ধতি কিংবা কবে নাগাদ এই অর্থ দেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। ট্রাম্পের ঘোষণায় বলা হয়েছে, যোগ্যতা হবে প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক হওয়া এবং রিপাবলিকানদের উভয় কক্ষে জয় পাওয়া। তিনি আরও বলেছেন, এই ডিভিডেন্ডের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই খরচ করতে হবে। তবে প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক যোগ্যতার তালিকা বা আয়ের কোনো সীমা ঘোষণা করা হয়নি। এই ঘোষণার সঙ্গে ট্রাম্পের আগের ২ হাজার ডলারের ‘ট্যারিফ ডিভিডেন্ড’ প্রস্তাবের পার্থক্যও রয়েছে। আগের প্রস্তাবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মার্কিনদের ট্যারিফ থেকে পাওয়া রাজস্বের একটি অংশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ২০২৬ সালে সেই প্রস্তাব বাস্তবায়নের কোনো আইন এখনো হয়নি। নতুন ৫ হাজার ডলারের প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে এর সম্ভাব্য ব্যয়ও হবে বিশাল। এপি জানিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকদের এই অর্থ দিতে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি প্রয়োজন হতে পারে। ফলে অর্থের উৎস ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। এদিকে, ট্রাম্পের ঘোষণা এখনো কোনো অনুমোদিত সরকারি পেমেন্ট প্রোগ্রাম নয়। কংগ্রেসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইন ও অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি কীভাবে হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বর্তমানে ৫ হাজার ডলারের এই অর্থ পাওয়ার জন্য কোনো অ্যাপ্লিকেশন, রেজিস্ট্রেশন বা নির্দিষ্ট পেমেন্ট তারিখও নেই। নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের এই ঘোষণা রিপাবলিকান প্রচারণায় সরাসরি আর্থিক প্রণোদনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে নির্বাচনে রিপাবলিকানরা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও প্রস্তাবটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগোতে মালিক সেজে অন্যের বাড়ি বিক্রি, ১০ লাখ ডলারের প্রতারণায় স্বামী-স্ত্রীর কারাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রে এলজিবিটিকিউ+ শিশুদের সুরক্ষা নীতি বাতিলের উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের