প্রবাসী আয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাস থেকে দেশে টাকা পাঠানো কিংবা বিদেশি মুদ্রা কেনাবেচার ক্ষেত্রে প্রতিদিনের মুদ্রা বিনিময় হার জানা জরুরি। আজ বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার সর্বশেষ বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যাংক, মোবাইল ওয়ালেট ও ক্যাশ লেনদেনের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে। প্রবাস থেকে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠালে বাংলাদেশি টাকায় যে মূল্য পাওয়া যাবে তার ভিত্তিতে নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রার আজকের হার তুলে ধরা হলো- আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার (বাংলাদেশি টাকায়) মার্কিন ডলার (USD): ১২৩ টাকা ২৬ পয়সা (ব্যাংক) ইউরো (EUR): ১৪৫ টাকা ২১ পয়সা ব্রিটিশ পাউন্ড (GBP): ১৬৫ টাকা ০৬ পয়সা সৌদি রিয়াল (SAR): ৩২ টাকা ৬৪ পয়সা মালয়েশিয়ান রিংগিত (MYR): ৩১ টাকা ১০ পয়সা সিঙ্গাপুর ডলার (SGD): ৯৬ টাকা ৫৯ পয়সা অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD): ৮৭ টাকা ৪৫ পয়সা নিউজিল্যান্ড ডলার (NZD): ৭২ টাকা ৬৩ পয়সা কানাডিয়ান ডলার (CAD): ৯০ টাকা ৩০ পয়সা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম (AED): ৩৩ টাকা ৩৪ পয়সা কাতারি রিয়াল (QAR): ৩৩ টাকা ৬০ পয়সা ওমানি রিয়াল (OMR): ৩১৭ টাকা বাহরাইনি দিনার (BHD): ৩২৫ টাকা ৭৬ পয়সা কুয়েতি দিনার (KWD): ৪০০ টাকা ২৬ পয়সা সুইস ফ্রাঁ (CHF): ১৫৩ টাকা ৬২ পয়সা জাপানি ইয়েন (JPY): ০.৭৭৫ টাকা দক্ষিণ কোরিয়ান ওন (KRW): ০.০৮২ টাকা ভারতীয় রুপি (INR): ১ টাকা ২৯ পয়সা বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজার, বৈদেশিক বাণিজ্য, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং ডলারের চাহিদা–জোগানের ওপর ভিত্তি করে প্রতিদিন মুদ্রার বিনিময় হার ওঠানামা করে। এদিকে সরকার বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহ দিতে ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দিয়ে থাকে। ফলে ব্যাংক বা বৈধ মাধ্যমে টাকা পাঠালে প্রবাসীরা অতিরিক্ত সুবিধা পান। তবে সময় ও লেনদেনের মাধ্যমভেদে প্রকৃত বিনিময় হার কিছুটা কমবেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আজ শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬ (২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ)। দিনের শুরুতেই জেনে নেওয়া যাক বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার সর্বশেষ বিনিময় হার। প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার এই রেট জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ওপর নির্ভর করে দেশে পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রকৃত মূল্য। প্রবাস থেকে বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানোর সময় সাধারণত ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের নির্ধারিত রেটে বাংলাদেশি টাকা পাওয়া যায়। তবে বাংলাদেশে বসে বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় বা বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এর মূল্য ভিন্ন হতে পারে। এছাড়া স্থান, সময় ও লেনদেনের পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে প্রকৃত রেট কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। আজকের বৈদেশিক মুদ্রার রেট (বাংলাদেশি টাকায়) মালয়েশিয়ান রিংগিত: ১ রিংগিত = ৩০ টাকা ৯৬ পয়সা (ব্যাংক), বিকাশ ৩০.৭০, ক্যাশ ৩০.৭০ সৌদি রিয়াল: ১ রিয়াল = ৩২ টাকা ৬২ পয়সা (ব্যাংক/বিকাশ), ক্যাশ ৩২.৪২ মার্কিন ডলার: ১ ডলার = ১২২ টাকা ৯১ পয়সা (ব্যাংক), বিকাশ/নগদ ১২২.৯১, ক্যাশ ১২৩.৭৪ ইউরো (ইউরোপ): ১ ইউরো = ১৪৪ টাকা ০৮ পয়সা (ব্যাংক/মোবাইল ওয়ালেট/ক্যাশ) ইউরো (ইতালি): ১ ইউরো = ১৪৪ টাকা ০৮ পয়সা (ব্যাংক), বিকাশ/নগদ ১৪০.৬৯, ক্যাশ ১৪৪.২৫ ব্রিটিশ পাউন্ড: ১ পাউন্ড = ১৬৩ টাকা ০৭ পয়সা (ব্যাংক), বিকাশ/নগদ ১৫৯.৯৯, ক্যাশ ১৬৩.৪২ সিঙ্গাপুর ডলার: ১ ডলার = ৯৬ টাকা ২৬ পয়সা (ব্যাংক), বিকাশ/নগদ ৯৬.২৭, ক্যাশ ৯৫.১০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার: ১ ডলার = ৮৫ টাকা ৯৫ পয়সা (ব্যাংক), বিকাশ/নগদ ৮৫.৮৮, ক্যাশ ৮৪.৯৬ নিউজিল্যান্ড ডলার: ১ ডলার = ৭২ টাকা ২৪ পয়সা (ব্যাংক), বিকাশ ৭১.৮৩, ক্যাশ ৬৮.৬৭ কানাডিয়ান ডলার: ১ ডলার = ৮৯ টাকা ৪৩ পয়সা (ব্যাংক), বিকাশ/নগদ ৮৮.৮৮, ক্যাশ ৮৯.৩৯ ইউএই দিরহাম: ১ দিরহাম = ৩৩ টাকা ৩০ পয়সা (ব্যাংক/বিকাশ/ক্যাশ) ওমানি রিয়াল: ১ রিয়াল = ৩১৭ টাকা (ব্যাংক/বিকাশ/ক্যাশ) বাহরাইন দিনার: ১ দিনার = ৩২৪ টাকা ৫৬ পয়সা (ব্যাংক/বিকাশ), ক্যাশ ৩২৩.৬৯ কাতারি রিয়াল: ১ রিয়াল = ৩৩ টাকা ৬০ পয়সা (ব্যাংক/বিকাশ/ক্যাশ) কুয়েতি দিনার: ১ দিনার = ৩৯৯ টাকা ১৯ পয়সা (ব্যাংক/বিকাশ), ক্যাশ ৩৯৫.৫০ সুইস ফ্রাঁ: ১ ফ্রাঁ = ১৫২ টাকা ৫৪ পয়সা (ব্যাংক), বিকাশ/নগদ ১৫২.০২, ক্যাশ ১৫৩.৭১ দক্ষিণ আফ্রিকান র্যান্ড: ১ র্যান্ড = ৭ টাকা ৩৭ পয়সা (ব্যাংক) জাপানি ইয়েন: ১ ইয়েন = ০.৭৭৭ টাকা (ব্যাংক/বিকাশ/ক্যাশ) দক্ষিণ কোরিয়ান ওন: ১ ওন = ০.০৮২৩৯৯৮৬ টাকা (ব্যাংক), বিকাশ/ক্যাশ ০.০৮১৯০৩৩৩ ভারতীয় রুপি: ১ রুপি = ১ টাকা ৩০ পয়সা (ব্যাংক/বিকাশ/ক্যাশ) বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারসহ বিভিন্ন মুদ্রার ওঠানামার কারণে যেকোনো সময় এই বিনিময় হার পরিবর্তিত হতে পারে। তাই প্রবাস থেকে টাকা পাঠানোর আগে সর্বশেষ রেট জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে সরকার বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহ দিতে বিশেষ প্রণোদনা চালু রেখেছে। বর্তমানে ব্যাংক বা অনুমোদিত চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স পাঠালে প্রেরিত অর্থের ওপর ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ বিদেশ থেকে ১০০ টাকা পাঠালে দেশে প্রায় ১০২ টাকা ৫০ পয়সা পাওয়া যায়। প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ নিরাপদে দেশে পাঠাতে ব্যাংক বা অনুমোদিত বৈধ চ্যানেল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অবৈধ পদ্ধতি যেমন হুন্ডি ব্যবহার না করার আহ্বানও জানানো হয়েছে। বি.দ্র.: বৈদেশিক মুদ্রার এই হার সময় ও লেনদেন পদ্ধতির ভিত্তিতে পরিবর্তিত হতে পারে। সর্বশেষ তথ্য জানতে নিকটস্থ ব্যাংক বা অনুমোদিত মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। সূত্র: ফরেন এক্রাচেন্জ
চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ২৩ দিনে দেশে ২৫৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার বা ২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১১ কোটি ১৬ লাখ ডলার। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান প্রবাসী আয়ের এই হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত বছর ফেব্রুয়ারির প্রথম ২৩ দিনে দেশে এসেছিল ২০৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ১৯৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশে আসে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। এর আগের মাস ডিসেম্বরে এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, যা দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews