আমেরিকা

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির প্রথম ১০০ দিনের হিসাব

Unknown প্রকাশ: এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১:৪২
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১০০ দিনে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে জোহরান মামদানির কর্মকাণ্ডে। নির্বাচনের সময় বড় ধরনের পুলিশ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও সেগুলোর বেশিরভাগ এখনো বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

 

২০২৫ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সময় তিনি অপরাধী তালিকা বাতিল, আক্রমণাত্মক পুলিশ ইউনিট ভেঙে দেওয়া এবং পুলিশি জবাবদিহিতা বেসামরিক তদারকির আওতায় আনার কথা বলেছিলেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, এসব উদ্যোগের অনেকগুলোই পিছিয়ে আছে অথবা বাস্তবায়নের সময়সূচি এখনো স্পষ্ট নয়।

 

তবে কিছু পদক্ষেপ ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে। কমিউনিটি নিরাপত্তা জোরদারে নতুন উপমেয়র নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গুরুতর ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে শরীরে ধারণকৃত ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশের নিয়ম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি সাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি নোটিশ দেওয়ার আগের নীতিও বাতিল করা হয়েছে।

 

অপরাধের পরিসংখ্যানে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। প্রথম ১০০ দিনে খুনের ঘটনা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ শতাংশ কমেছে। গুলির ঘটনাও কমেছে ২০ শতাংশ। তবে ধর্ষণের ঘটনা ৮ শতাংশ বেড়েছে, যা উদ্বেগজনক।

 

সিটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাজ চলমান রয়েছে এবং এটি কেবল শুরু।

 

এদিকে বিভিন্ন পক্ষ থেকে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া এসেছে। নাগরিক অধিকার সংশ্লিষ্ট একটি সংস্থা সংস্কার উদ্যোগকে সমর্থন জানালেও এর ধীরগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে পুলিশ সদস্যদের সংগঠন বলেছে, প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত না হওয়ায় সদস্যদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

 

এ ছাড়া রাজনৈতিকভাবে তাকে সমর্থন দেওয়া একটি সংগঠনের অংশ পুলিশ কমিশনারকে বহাল রাখার সিদ্ধান্তে অসন্তোষ জানিয়েছে।

 

২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এক নাগরিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিলেও বর্তমানে প্রশাসনিক বাস্তবতায় কিছুটা ভিন্ন পথে এগোচ্ছেন মেয়র।

 

অপরাধী তালিকা নিয়ে মেয়র ও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। প্রয়োজনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নিজের হাতে থাকার কথাও তিনি জানিয়েছেন।

 

দায়িত্বের প্রথম ১০০ দিনে বড় প্রতিশ্রুতিগুলোর পুরো বাস্তবায়ন না হলেও কিছু উদ্যোগ কার্যকর হয়েছে। নিউইয়র্কের প্রশাসন আগামীতে কোন পথে এগোয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
দক্ষিণ চীন সাগর বিরোধ নিষ্পত্তিতে ২০১৬ সালের ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক রায়ের প্রতি আবারও সমর্থন জানাল ১৪ দেশ। ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের দাবিকে অবৈধ বলল যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৪ দেশ

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপ ও এশিয়ার আরও ১২টি দেশ যৌথভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছে যে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের বিস্তৃত সামুদ্রিক দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই। দেশগুলো ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক সালিশি ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ঐতিহাসিক রায়ের প্রতি আবারও সমর্থন জানিয়েছে।   যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় সমুদ্রসীমা নির্ধারণে জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সনদ (UNCLOS) অনুসরণ করতে হবে এবং ২০১৬ সালের রায় দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধ নিষ্পত্তিতে এখনো প্রাসঙ্গিক।   ২০১৬ সালে নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক স্থায়ী সালিশি আদালত ফিলিপাইনের করা মামলায় রায় দেয় যে, দক্ষিণ চীন সাগরের অধিকাংশ এলাকায় চীনের তথাকথিত “নাইন-ড্যাশ লাইন” দাবির কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। তবে চীন ওই রায় প্রত্যাখ্যান করে এবং শুরু থেকেই জানিয়ে আসছে যে তারা এ সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না।   সাম্প্রতিক যৌথ বিবৃতিকে বেইজিংয়ের প্রতি একটি কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, দক্ষিণ চীন সাগরে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ও আন্তর্জাতিক আইন বজায় রাখার প্রশ্নে পশ্চিমা ও এশীয় দেশগুলোর অবস্থান আরও জোরালো হচ্ছে। দক্ষিণ চীন সাগর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ। প্রতিবছর ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্যবাহী জাহাজ এ পথ দিয়ে চলাচল করে। চীন, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই ও তাইওয়ান এ অঞ্চলের বিভিন্ন দ্বীপ ও সামুদ্রিক এলাকার ওপর দাবি জানিয়ে আসছে, যা দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক উত্তেজনার অন্যতম প্রধান কারণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ১০:৪৩
ডাটা সেন্টারের কারণে পানি ও বিদ্যুৎ সংকট এড়াতে গ্রামীণ টেক্সাস আইনসভার পদক্ষেপের দাবি। ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসে এআই ডাটা সেন্টার স্থাপন নিয়ে মুখোমুখি দুই রিপাবলিকান নেতা

শিকাগোর ব্যাক অব দ্য ইয়ার্ডস এলাকার একটি গলির আবর্জনার পাত্র থেকে এক নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

শিকাগোয় আবর্জনার পাত্র থেকে নারীর গলিত লাশ উদ্ধার, এলাকায় রহস্য

ইরান যুদ্ধের জেরে তেলের দাম বাড়ায় লুইজিয়ানার কৃষি বিমানের জ্বালানি খরচ এক দফায় ৩০ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, চরম সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার কৃষকেরা

শিকাগোর ওয়েস্ট সাইডে খোলা জায়গায় থাকা ১৪ বছরের কিশোরের ওপর গুলি; এলাকা জুড়ে আতঙ্ক। ছবি: সংগৃহীত
শিকাগোর সাউথ অস্টিনে ১৪ বছরের এক কিশোরকে একাধিক গুলি, তদন্তে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর ওয়েস্ট সাইডের সাউথ অস্টিন এলাকায় রবিবার ভোরে এক কিশোরকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শিকাগো পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বন্দুকহামলার ঘটনাটি ঘটে রবিবার রাত ১টা ২৩ মিনিটে, সাউথ অস্টিন এলাকার লোটাস অ্যাভিনিউয়ের কাছে ওয়েস্ট ভ্যান ব্যুরেন স্ট্রিটের ৫৫০০ ব্লকে।   সেখানে চৌদ্দ বছর বয়সী ওই কিশোর যখন একটি খোলা জায়গায় অবস্থান করছিল, তখন আকস্মিকভাবে তাকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি গুলি চালানো হয়। এতে সে একাধিক স্থানে বুলেটের আঘাতে গুরুতর আহত হয়।   গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আক্রান্ত কিশোর নিজেই কোনোভাবে নিকটবর্তী লরেটো হাসপাতালে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুক কাউন্টির স্ট্রোজার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন যে, বর্তমানে হাসপাতালে ওই কিশোরের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।   এই ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করেছে। তবে এই কিশোরকে লক্ষ্য করে কেন এবং কারা এই গুলিবর্ষণ করেছে, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।   পুরো ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করতে হ্যারিসন এলাকার গোয়েন্দারা ইতিমধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছেন। রবিবার সকাল পর্যন্ত এই ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করার খবর পাওয়া যায়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ৯:৪৯
৫২ বছর বয়সী লরেঞ্জো সালগাদোর মৃত্যুর জেরে উত্তাল হিউস্টন; ইউনিয়ন কার্যালয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে নিহতকে স্মরণ। ছবি: সংগৃহীত

"আজ আমেরিকান হয়ে কষ্ট হচ্ছে", আইসিইর গুলিতে নিহত অভিবাসীকে ঘিরে হিউস্টনে শোকের ঢল

ত্বকের ক্যান্সারের আক্রান্ত মেয়ের ছবি সংগৃহীত

ব্রণ ভেবে ছয় বছর অবহেলা, শেষে ধরা পড়ল ত্বকের ক্যানসার; মুখের ছোট দাগ থেকেই মিলল ভয়াবহ সত্য

মার্কিন নার্স ম্যাকেঞ্জি মিখালস্কি ও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিয়ে পুলিশকে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছবি:সংগৃহীত

মার্কিন নার্স হত্যার নেপথ্যে আইরিশ খুনির বিকৃত গোপন জীবন, আদালতে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

মনস্তাত্ত্বিক এআই সংবলিত ছবি সংগৃহীত
এআইয়ের যুগে চাকরির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, প্রস্তুতির অভাবে উদ্বেগ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে

যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। একদিকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এআই ব্যবহারে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে লাখো কর্মী আশঙ্কা করছেন—তাদের বর্তমান চাকরি ভবিষ্যতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত হতে পারে। তবে এআই ঠিক কত মানুষের চাকরিতে প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঐকমত্য নেই।   এমন প্রেক্ষাপটে দ্য আটলান্টিক-এ প্রকাশিত “America Isn’t Ready for What AI Will Do to Jobs” শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার এআই-নির্ভর পরিবর্তনের জন্য পর্যাপ্তভাবে প্রস্তুত নয়। প্রতিবেদনের লেখক জশ টাইরাঙ্গিয়েল পরে পিবিএস নিউজআওয়ার-এর এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।   প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এআইয়ের প্রভাব শুধু কারখানা বা প্রযুক্তি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। অফিস প্রশাসন, গ্রাহকসেবা, হিসাবরক্ষণ, সফটওয়্যার উন্নয়ন, আইনি সহায়তা, বিপণন, অনুবাদ, সংবাদ সম্পাদনা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন জ্ঞানভিত্তিক পেশাতেও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে একই কাজ সম্পন্ন করতে ভবিষ্যতে অনেক প্রতিষ্ঠানের কম কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে।   বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে এআইকে দৈনন্দিন কাজের অংশ করে তুলছে। বিভিন্ন কোম্পানি অভ্যন্তরীণ নথি প্রস্তুত, তথ্য বিশ্লেষণ, গ্রাহকের প্রশ্নের উত্তর, কোড লেখা এবং প্রশাসনিক কাজের জন্য এআইভিত্তিক ব্যবস্থা ব্যবহার শুরু করেছে। এর ফলে কর্মীদের কাজের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে।   তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই মানেই সব চাকরি হারিয়ে যাবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় এখনো আসেনি। অতীতের শিল্পবিপ্লব, কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটের মতো প্রযুক্তিগত পরিবর্তনও বহু পুরোনো পেশা বিলুপ্ত করলেও নতুন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছিল।   এবারও একই ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে, যদিও পরিবর্তনের গতি আগের তুলনায় অনেক দ্রুত হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান চ্যালেঞ্জের বড় অংশ প্রযুক্তিগত নয়, বরং নীতিগত। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং শ্রমবাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এখনো পর্যাপ্ত প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে না। ফলে এআই-নির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের সময় অনেক কর্মী অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারেন।   আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO), বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (WEF) এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, এআই কিছু বিদ্যমান কাজের চাহিদা কমিয়ে দিতে পারে, তবে একই সঙ্গে নতুন দক্ষতাভিত্তিক পেশারও সৃষ্টি করবে। তাই ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান অনেকাংশে নির্ভর করবে কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং সরকার ও বেসরকারি খাতের প্রস্তুতির ওপর।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকলেও এআইয়ের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক বছরেই বোঝা যাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মূলত কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, নাকি নতুন অর্থনৈতিক সুযোগের পথ খুলে দেয়।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৬ ৮:১৯
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ছবি সংগৃহীত

‘ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখন তার মূল্য দিচ্ছে’—মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের বিশিষ্ট রিপাবলিকান রাজনীতিবিদ ও সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ছবি সংগৃহীত

ইউক্রেন থেকে ইসরায়েল—মার্কিন কূটনীতির সক্রিয় মুখ লিন্ডসে গ্রাহাম আর নেই

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ও হরমুজ সংকটে ন্যাটো কি আরও সক্রিয় হবে? আঙ্কারা বৈঠকে বাড়ল জল্পনা

0 Comments