- প্রচ্ছদ
- Topic
বিবাহবিচ্ছেদ
দীর্ঘ ২৩ বছর আলাদা থাকার পর অবশেষে বিবাহবিচ্ছেদের পর্যায়ে পৌঁছেছে ভারতের এক দম্পতির সম্পর্ক। বিচ্ছেদের নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে স্ত্রীকে নিজের পুরো গৃহস্থালি সম্পত্তি ভরণপোষণের জন্য দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন স্বামী। দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য সম্পর্ক কার্যত বিচ্ছিন্ন থাকার পর সম্পত্তি ও আর্থিক দায়দায়িত্বের প্রশ্ন সামনে আসায় ঘটনাটি আলোচনায় এসেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে এ ঘটনার কথা জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনের শিরোনাম অনুযায়ী, স্বামী ও স্ত্রী ২৩ বছর ধরে আলাদা বসবাস করছিলেন। এত দীর্ঘ সময় একসঙ্গে না থাকলেও তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক নিষ্পত্তি হয়নি। শেষ পর্যন্ত বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় স্ত্রীর ভরণপোষণ ও সম্পত্তি হস্তান্তরের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ ঘটনায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, স্বামী স্ত্রীর ভরণপোষণের জন্য নিজের পুরো গৃহস্থালি সম্পত্তি দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। তবে প্রস্তাব দেওয়া এবং আদালতের নির্দেশে সম্পত্তি হস্তান্তর সম্পন্ন হওয়া এক বিষয় নয়। প্রস্তাবটি আদালত গ্রহণ করেছেন কি না কিংবা সম্পত্তি হস্তান্তরের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। ভারতে বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় ভরণপোষণ বা অ্যালিমনি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয়। বিচ্ছেদের পর স্বামী বা স্ত্রীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আদালত সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী ভরণপোষণের নির্দেশ দিতে পারেন। এর পরিমাণ ও ধরন নির্ধারণের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের আয়, সম্পত্তি, আর্থিক সামর্থ্য, প্রয়োজন এবং মামলার অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়। ভরণপোষণ সব সময় মাসিক অর্থ প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। প্রযোজ্য আইন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী এককালীন অর্থ প্রদানের ব্যবস্থাও থাকতে পারে। কোনো দম্পতি নিজেদের মধ্যে সম্পত্তি বা আর্থিক নিষ্পত্তির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছালে সেটিও আদালতের বিবেচনায় আসতে পারে। তবে প্রতিটি মামলার সিদ্ধান্ত নির্ভর করে নির্দিষ্ট তথ্য, আইনি বিধান এবং আদালতের মূল্যায়নের ওপর। দীর্ঘদিন আলাদা বসবাসের বিষয়টিও বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ভারতে দাম্পত্য সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়লে আদালত সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনা করতে পারেন। তবে শুধু দীর্ঘদিন আলাদা থাকলেই সব ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায় না। বিচ্ছেদের জন্য প্রযোজ্য আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। ২৩ বছর আলাদা থাকা এই দম্পতির ঘটনায় সম্পত্তি দেওয়ার প্রস্তাবটি বিচ্ছেদের আর্থিক নিষ্পত্তির প্রশ্নকে সামনে এনেছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন একসঙ্গে বসবাস না করলেও বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে বহাল থাকলে ভরণপোষণ ও অন্যান্য আর্থিক অধিকার কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা এ ধরনের মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তবে আলোচিত মামলায় স্বামীর মোট সম্পত্তির পরিমাণ, প্রস্তাবিত সম্পত্তির প্রকৃতি এবং আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে স্ত্রী স্বামীর সব সম্পত্তির মালিকানা পেয়েছেন কিংবা আদালত তাঁকে পুরো সম্পত্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। দীর্ঘ ২৩ বছরের বিচ্ছিন্ন জীবন শেষে আনুষ্ঠানিক বিবাহবিচ্ছেদের এই ঘটনা আবারও দেখিয়েছে, দাম্পত্য সম্পর্কের সমাপ্তি শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে সম্পত্তির অধিকার, আর্থিক নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি আইনি দায়দায়িত্বের প্রশ্ন। ট্যাগ: বিবাহবিচ্ছেদ, ভারত, স্বামী স্ত্রী, ভরণপোষণ, সম্পত্তি, আদালত, পারিবারিক আইন ফেসবুক হুক: ২৩ বছর ধরে আলাদা থাকতেন স্বামী-স্ত্রী। অবশেষে বিবাহবিচ্ছেদের সময় স্ত্রীকে নিজের পুরো গৃহস্থালি সম্পত্তি ভরণপোষণ হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব স্বামীর। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর সম্পত্তি নিয়ে কী ঘটেছে? #DivorceCase #IndiaNews #Alimony #FamilyLaw #LegalNews ২৩ বছর আলাদা থাকার পর বিচ্ছেদ, স্ত্রীকে পুরো সম্পত্তি দেওয়ার নির্দেশ ভারতে দীর্ঘ ২৩ বছর আলাদা থাকার পর এক দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদের অনুমতি দিয়েছেন পাটনা হাইকোর্ট। একই সঙ্গে স্ত্রীকে স্থায়ী ভরণপোষণ হিসেবে স্বামীর পুরো গৃহস্থালি সম্পত্তি হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বামী নিজেই এই প্রস্তাব দেন এবং স্ত্রী তাতে সম্মতি জানান। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, আট সপ্তাহের মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ অক্টোবর বিচারপতি বিবেক চৌধুরী ও বিচারপতি রানা বিক্রম সিংয়ের বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, স্বামী ও স্ত্রী দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে পৃথকভাবে বসবাস করছেন এবং তাঁদের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক কার্যত শেষ হয়ে গেছে। দুজনের কেউই আবার একসঙ্গে সংসার করতে আগ্রহী নন। মামলার শুনানিতে আদালত জানতে পারেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে কোনো দাম্পত্য সম্পর্ক নেই। এত বছর আলাদা থাকার পর তাঁদের পুনরায় একসঙ্গে বসবাসের সম্ভাবনাও নেই। আদালতের মতে, উভয় পক্ষের আচরণ ও দীর্ঘ বিচ্ছিন্ন জীবন থেকে স্পষ্ট যে তাঁরা স্থায়ীভাবে দাম্পত্য সম্পর্কের অবসান ঘটিয়েছেন। আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেন, স্বামী ও স্ত্রী পরস্পরকে দীর্ঘ সময় ধরে পরিত্যাগ করেছেন। টানা ২৩ বছরের এই বিচ্ছিন্নতাকে বিবাহবিচ্ছেদের যথেষ্ট ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘ ও নিরবচ্ছিন্ন পরিত্যাগের কারণে স্বামীর বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট। এর আগে ২০২৫ সালে পারিবারিক আদালত একতরফাভাবে দেওয়া বিবাহবিচ্ছেদের একটি আদেশ বাতিল করে মামলাটি পুনরায় শুনানির জন্য চালু করেছিলেন। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পাটনা হাইকোর্টে আপিল করেন স্বামী। আপিলের শুনানিতেই দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতা এবং স্থায়ী ভরণপোষণের বিষয়টি সামনে আসে। মামলায় স্বামীর পক্ষে আইনজীবী ভোলা কুমার এবং স্ত্রীর পক্ষে আইনজীবী অনুপা নন্দ ঝা আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। শুনানিতে জানানো হয়, স্ত্রীর নিজস্ব কোনো আয়ের উৎস নেই। স্বামীর আইনজীবী জানান, স্ত্রী আগে স্বামীর বাড়িতে বসবাস করলেও পরে সেখান থেকে চলে গিয়ে পৃথক বাসস্থানে থাকতে শুরু করেন। স্ত্রীর আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্বামী নিজের পুরো গৃহস্থালি সম্পত্তি স্থায়ী ভরণপোষণ হিসেবে হস্তান্তরের প্রস্তাব দেন। স্ত্রীর আইনজীবী তাঁর পক্ষে এই প্রস্তাবে সম্মতি জানান। উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে আদালত বিবাহবিচ্ছেদের অনুমতি দেন এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের নির্দেশ জারি করেন। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে স্বামীকে প্রয়োজনীয় আইনি দলিল সম্পাদন করে সম্পত্তি স্ত্রীর নামে হস্তান্তর করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য উভয় পক্ষের আইনজীবীদেরও তাঁদের মক্কেলদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে। আদালত স্পষ্ট করেছেন, এই সম্পত্তি হস্তান্তরই হবে স্ত্রীর স্থায়ী ভরণপোষণের পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি। অর্থাৎ উভয় পক্ষের সম্মতিতে নির্ধারিত সম্পত্তি হস্তান্তরের মাধ্যমেই মামলাটিতে স্থায়ী ভরণপোষণের বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে। ভারতে বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় স্থায়ী ভরণপোষণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রীর আর্থিক অবস্থা, আয়ের উৎস এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়। তবে এই মামলায় আদালতের সিদ্ধান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিল উভয় পক্ষের সম্মতি। ফলে এই রায়কে সব বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে সম্পত্তি হস্তান্তরের সাধারণ নিয়ম হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। দীর্ঘ ২৩ বছরের বিচ্ছিন্ন জীবনের পর আদালতের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দম্পতির বৈবাহিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটেছে। একই সঙ্গে স্ত্রীর স্থায়ী ভরণপোষণের বিষয়েও একটি চূড়ান্ত ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত কিছু ধারণা দ্রুত বদলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন নিউইয়র্কের পারিবারিক আইনজীবী জ্যাকলিন হারুনিয়ান। বিশেষ করে যেসব স্বামী বা স্ত্রী সংসার ও সন্তান পালনের জন্য চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি সঙ্গীর আয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন, বিচ্ছেদের পর তাদের আর্থিক নিরাপত্তা আগের মতো নাও থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। নিউইয়র্কভিত্তিক আইনজীবী হারুনিয়ান পারিবারিক আইন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তিনি নিউজউইককে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিবাহবিচ্ছেদের কাঠামো ধীরে ধীরে এমন একটি ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছে, যেখানে প্রত্যেক স্বামী-স্ত্রীকে আলাদা অর্থনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে একজন সঙ্গী আয় করেন আর অন্যজন ঘর ও সন্তান সামলান, এমন পুরোনো পারিবারিক কাঠামো থেকে বিচ্ছেদ হলে আগের মতো দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সুরক্ষা পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। হারুনিয়ানের ভাষায়, “আইন বদলাচ্ছে। যারা আয় করেন, তারা তাদের অর্থের বেশি অংশ নিজেদের কাছে রাখতে পারবেন, আর নির্ভরশীল সঙ্গী সহায়তা পেলেও তা হয়তো স্বল্প সময়ের জন্য।” তাঁর মতে, গত কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের পারিবারিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আগে অনেক পরিবারে স্বামী ছিলেন প্রধান উপার্জনকারী এবং স্ত্রী সন্তান লালন-পালন ও ঘরের দায়িত্ব সামলাতেন। বিচ্ছেদের পর আদালত অনেক ক্ষেত্রে উপার্জন না করা সঙ্গীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ভরণপোষণ ও সম্পদের অংশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করত। কিন্তু এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। বাবারা সন্তান পালনে আগের তুলনায় বেশি সক্রিয় হচ্ছেন এবং যৌথ হেফাজত বা সন্তান পালনের দায়িত্ব সমানভাবে ভাগ করার দাবি করছেন। একই সময়ে নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ ও আয়ও বেড়েছে। ফলে একসময় যে আর্থিক সমীকরণে স্বামী উপার্জন করতেন এবং স্ত্রী নির্ভরশীল ছিলেন, তা এখন আর সব পরিবারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। হারুনিয়ানের দাবি, এই পরিবর্তনের ফলে কর্মজীবন থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকা স্বামী বা স্ত্রী, বিশেষ করে গৃহিণীরা, বিচ্ছেদের পর আগের তুলনায় কম ভরণপোষণ, কম আইনি খরচ এবং বৈবাহিক সম্পদের ক্ষেত্রে প্রত্যাশার চেয়ে কম অংশ পেতে পারেন। তবে এ বিষয়টি পুরো যুক্তরাষ্ট্রে একইভাবে কার্যকর হচ্ছে এমন ধারণা করা ঠিক নয়। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে বিবাহবিচ্ছেদের আইন মূলত অঙ্গরাজ্যভিত্তিক। টেক্সাসের পারিবারিক আইনজীবী হান্না হেমব্রি বেল নিউজউইককে বলেন, “একটি মাত্র আমেরিকান বিবাহবিচ্ছেদ ব্যবস্থা নেই।” তাঁর মতে, নিউইয়র্কে যে ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, টেক্সাস বা অন্য অঙ্গরাজ্যে তার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। টেক্সাসে বিবাহবিচ্ছেদের পর আদালতের মাধ্যমে স্বামী বা স্ত্রীকে দেওয়া আর্থিক সহায়তা সাধারণত সীমিত। বেলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে আদালত-নির্ধারিত ভরণপোষণ দেওয়া হলেও তা সাধারণত প্রয়োজন মেটানোর জন্য সীমিত সময়ের ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়। টেক্সাসে এই ধরনের সহায়তার পরিমাণও নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে। একই সঙ্গে টেক্সাস ‘কমিউনিটি প্রপার্টি’ নীতির আওতায় পড়ে। অর্থাৎ বিবাহ চলাকালে উপার্জিত আয় ও অর্জিত সম্পদ সাধারণভাবে বৈবাহিক সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, কে সেই অর্থ উপার্জন করেছেন তার ওপর বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করে না। ফলে উচ্চ আয়ের স্বামী বা স্ত্রী চাইলেই বিবাহকালীন সব সম্পদ নিজের কাছে রেখে দিতে পারবেন, এমন ধারণাও সঠিক নয়। তবে দুই আইনজীবী একটি বিষয়ে একমত, আর তা হলো আর্থিক নির্ভরশীলতা বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একজন ব্যক্তি যদি সন্তান লালন-পালন বা সংসারের দায়িত্ব পালনের জন্য দীর্ঘ সময় চাকরি বা পেশা থেকে দূরে থাকেন, বিচ্ছেদের পর নিজের আয় তৈরি করা কঠিন হয়ে যেতে পারে। হারুনিয়ান বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন তাদের নিয়ে, যারা সন্তান বড় করার জন্য পুরোপুরি কর্মজীবন ছেড়ে দেন। তাঁর মতে, সংসার চলাকালে একটি পরিবারে একজনের আয় দিয়ে অন্যজনের জীবনযাপন স্বাভাবিকভাবেই চলতে পারে। কিন্তু বিবাহবিচ্ছেদের পর সেই একই আর্থিক ব্যবস্থা দীর্ঘদিন বজায় থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তিনি বলেন, “আজ আপনি হয়তো বাজার, খাবার ও জীবনযাত্রার খরচ বহন করতে পারছেন। কিন্তু বিচ্ছেদ হয়ে গেলে দীর্ঘ সময় একই মাত্রার আর্থিক সহায়তা পাওয়া নাও যেতে পারে।” হারুনিয়ানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হলো, “আজীবন ভরণপোষণ” পাওয়ার ধারণাটিও অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত নয়। গৃহিণী বা গৃহস্বামী বিচ্ছেদের পর ভরণপোষণ পেতে পারেন, কিন্তু সেটিকে নিশ্চিত অধিকার হিসেবে ধরে নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। এ কারণে বিচ্ছেদের কথা ভাবার আগেই প্রত্যেক সঙ্গীকে নিজের আইনি অধিকার, আর্থিক দায়িত্ব এবং সন্তানদের হেফাজত নিয়ে সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই আইনজীবী। বিবাহের আগে করা চুক্তি বা প্রিনাপচুয়াল এগ্রিমেন্ট নিয়েও মানুষের মধ্যে কিছু ভুল ধারণা রয়েছে বলে মনে করেন হারুনিয়ান। তাঁর মতে, এ ধরনের চুক্তি মূলত বিবাহের আগে থাকা আলাদা সম্পদ, উত্তরাধিকার এবং নির্দিষ্ট আর্থিক অধিকার সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটিকে গৃহে থেকে সন্তান লালন-পালন করা সঙ্গীর জন্য পূর্ণাঙ্গ আর্থিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। তিনি আরও বলেন, ব্যবসার মালিকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিবাহের সময় কোনো ব্যবসা থেকে একজন সঙ্গী বিপুল আয় করলেও বিচ্ছেদের পর সেই ব্যবসা ও আয় থেকে অন্য সঙ্গীর প্রত্যাশা আগের মতো নাও হতে পারে। অবশ্য কোন সম্পদ বৈবাহিক সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং কে কতটা অংশ পাবেন, তা সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের আইন ও মামলার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। তবে হারুনিয়ানের বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের সব পরিবারের জন্য একই নিয়ম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আইনজীবী হান্না হেমব্রি বেলের বক্তব্যও সে বিষয়টি স্পষ্ট করে। অঙ্গরাজ্যভেদে ভরণপোষণ, সম্পদ বণ্টন, সন্তানের হেফাজত এবং বিচ্ছেদের পর আর্থিক সহায়তার নিয়মে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, শুধু সামাজিক ধারণা বা পরিচিত কারও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর না করে বিচ্ছেদের আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের পারিবারিক আইন সম্পর্কে পেশাদার পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে যিনি দীর্ঘদিন কর্মজীবনের বাইরে থেকে সন্তান ও সংসারের দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁর জন্য নিজের আর্থিক অবস্থান, সম্পদ, আয় এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের বিষয়টি আগে থেকেই বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারব্যবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর ভূমিকা যেমন বদলাচ্ছে, তেমনি বদলাচ্ছে সন্তান পালনের ধরন, যৌথ হেফাজতের প্রবণতা এবং বিচ্ছেদের পর আর্থিক সম্পর্কের কাঠামো। ফলে বহু বছর ধরে প্রচলিত ‘একজন আয় করবেন, অন্যজন সংসার সামলাবেন এবং বিচ্ছেদের পর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তা পাবেন’ ধরনের সরল ধারণা এখন আর সব ক্ষেত্রে বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। সূত্র: নিউজউইক
নিউইয়র্কের জনপ্রিয় কুকি ব্র্যান্ড ‘থিন কুকিজ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ইয়োসেফ রাজা ও জোহাল আজিমি রাজার দাম্পত্য বিরোধ এখন ব্যবসায়িক সংকটে রূপ নিয়েছে। বিবাহবিচ্ছেদের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা, অর্থ ও ব্যবসায়িক সম্পদ নিয়ে দুজনের মধ্যে শুরু হয়েছে আইনি লড়াই। ম্যানহাটন সুপ্রিম কোর্টে করা একটি মামলায় ইয়োসেফ রাজা অভিযোগ করেছেন, তার স্ত্রী জোহাল আজিমি রাজা কোম্পানির ব্যাংক হিসাব থেকে ১ লাখ ডলারের বেশি অর্থ নিজের ব্যবহারের জন্য তুলে নিয়েছেন। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি ব্যবসার একটি বড় ফ্রিজার ও সেখানে রাখা কুকির মজুত দখলে নিয়েছেন এবং কোম্পানির সরবরাহকারী গাড়িটিও নিয়ে গেছেন। তবে এসব অভিযোগ জোহাল আজিমির বিরুদ্ধে আদালতে এখনো প্রমাণিত হয়নি। তিনি নিউইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছেন, তিনি মামলাটি দেখেননি এবং এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। ইয়োসেফ রাজার আইনজীবী আয়াত মাসউদও সংবাদমাধ্যমটির মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেননি। আদালতে দেওয়া মামলার নথি অনুযায়ী, ইয়োসেফ রাজা দাবি করেছেন, জোহাল আজিমি থিন কুকিজের কোনো আনুষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার, কর্মকর্তা বা পরিচালক ছিলেন না। তার ভূমিকা মূলত কুকির রেসিপি তৈরি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনা ও প্রতিষ্ঠানের নকশা ও প্রচারণার কাজে সীমাবদ্ধ ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, ইয়োসেফ রাজা প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট এবং ৫০ শতাংশ মালিক। বাকি ৫০ শতাংশের মালিক তার বাবা বশির রাজা, যিনি প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রেসিডেন্ট। ব্যবসায়িক বিরোধের প্রভাব ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমেও পড়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। ইয়োসেফের অভিযোগ, কর্মীদের বেতন দেওয়ার মতো অর্থ কোম্পানির হাতে না থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। এমনকি ম্যানহাটনের গ্রিনিচ ভিলেজের ব্লিকার স্ট্রিটের দোকানটিও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। মামলায় আরও বলা হয়েছে, ভাড়া পরিশোধ না করায় প্রতিষ্ঠানটি উচ্ছেদের ঝুঁকিতে পড়েছে। পাশাপাশি নষ্ট হয়ে গেছে কিছু পচনশীল পণ্য, ব্যবসায়িক অংশীদার ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনামেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ইয়োসেফ আরও অভিযোগ করেছেন, জোহাল কোম্পানির অর্থ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ক্রেডিট কার্ডের খরচ পরিশোধ করেছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে জোহালের বক্তব্য এখনো আদালতের মাধ্যমে যাচাই বা নিষ্পত্তি হয়নি। থিন কুকিজের গল্প অবশ্য শুরু হয়েছিল অনেকটা ভিন্নভাবে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ২০২১ সালে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের হিকসভিলে নিজেদের বাড়ির রান্নাঘর থেকেই কুকি বানানোর কাজ শুরু করেন এই দম্পতি। জোহালের বাবা কুইন্সে একটি আফগান বেকারি পরিচালনা করেন। ছোটবেলা থেকেই বেকিংয়ের পরিবেশে বেড়ে ওঠায় জোহালের রান্না ও বেকিংয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল। একপর্যায়ে ইয়োসেফ পাতলা কুকি পছন্দ করেন বলে জানান, তবে প্রচলিত পাতলা কুকির শক্ত ও মচমচে ধরন তার পছন্দ ছিল না। সেই ধারণা থেকেই জোহাল পরীক্ষানিরীক্ষা করে এমন একটি কুকির রেসিপি তৈরি করেন, যা পাতলা হলেও নরম ও চিবিয়ে খাওয়ার মতো। পরিবার ও পরিচিতদের মধ্যে সাড়া পাওয়ার পর সেটিই ধীরে ধীরে ব্যবসায়িক উদ্যোগে পরিণত হয়। ২০২৩ সালে হিকসভিলের জেরুজালেম অ্যাভিনিউতে থিন কুকিজের প্রথম দোকান চালু হয়। এর আগে বাড়িতে উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা কাটাতে তারা কুইন্সের লং আইল্যান্ড সিটিতে বাণিজ্যিক রান্নাঘর ব্যবহার শুরু করেছিলেন। ব্যবসা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং একসময় নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি সরবরাহও শুরু হয়। ২০২৫ সালে ম্যানহাটনের ১৬৬ ব্লিকার স্ট্রিটে থিন কুকিজের দ্বিতীয় দোকান চালু হয়। এর মধ্য দিয়ে ছোট একটি ঘরোয়া উদ্যোগ নিউইয়র্কের পরিচিত কুকি ব্র্যান্ডে পরিণত হয়। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ওয়েবসাইটেও হিকসভিল ও ব্লিকার স্ট্রিটের দুটি দোকানের তথ্য রয়েছে। জোহাল শুধু কুকি তৈরিতেই নয়, প্রতিষ্ঠানের প্রচার ও নকশার কাজেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ২০২৩ সালে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্যাচকে তিনি জানিয়েছিলেন, মহামারির সময় বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ পাওয়ায় বেকিংয়ের জন্য বেশি সময় দিতে পেরেছিলেন। পরে ব্যবসা বড় হতে থাকলে তিনি নিজের চাকরি ছেড়ে থিন কুকিজের কাজে পুরোপুরি মনোনিবেশ করেন। ব্যবসাটি একসময় এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে নিউইয়র্কের বিভিন্ন দোকানে এর কুকি সরবরাহ করা হতো। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গ্রেটার লং আইল্যান্ডের ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তখন থিন কুকিজের পণ্য লং আইল্যান্ড ও নিউইয়র্ক সিটির ৩০টির বেশি দোকানে পাওয়া যেত। কুকির ব্যবসার পাশাপাশি ইয়োসেফ পেশায় একজন ফার্মাসিস্ট। ব্যবসা ও পারিবারিক জীবন একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার সময় এই দম্পতির দুটি সন্তানও হয়। ২০২৩ সালের জানুয়ারি ও ২০২৪ সালের অক্টোবরে তাদের সন্তান জন্ম নেয় বলে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ব্যবসার সাফল্যের আড়ালে তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে পড়তে শুরু করে। আদালতের নথি অনুযায়ী, জোহাল আজিমি রাজা ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ইয়োসেফ রাজার বিরুদ্ধে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেন। পরে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও ওই পারিবারিক মামলায় আদালতে শুনানি ও অন্যান্য কার্যক্রম হয়েছে। এবার সেই দাম্পত্য বিরোধই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও সম্পদ নিয়ে নতুন আইনি সংঘাতে রূপ নিয়েছে। ইয়োসেফ রাজা মামলায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে কোম্পানির সরবরাহকারী গাড়িটি ফেরত দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন। একসময় মহামারির ঘরোয়া রান্নাঘর থেকে শুরু হয়ে যে ব্যবসা নিউইয়র্কের দুই এলাকায় দোকান পর্যন্ত পৌঁছেছিল, সেই প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে দাম্পত্য বিরোধ ও ব্যবসায়িক মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর। সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে বিবাহবিচ্ছেদের শুনানির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক বাবা ও তার দুই কিশোরী কন্যার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটির পর নিহত শিশুদের মা অভিযোগ করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এলেও তার কথা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এদিকে পুলিশ এখনো মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএলইউকে (WLUK) ও এনবিসি ২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার উইসকনসিনের উইনেকনি (Winneconne) শহরের একটি বাড়িতে কল্যাণ নিশ্চিত করতে (ওয়েলফেয়ার চেক) গিয়ে পুলিশ ৫৭ বছর বয়সী জেফ্রি ম্যানকে (Jeffrey Manke) এবং তার দুই মেয়ে ১৬ বছর বয়সী জেইলি (Jaely) ও ১১ বছর বয়সী লেনোরা (Lenora)-র মরদেহ উদ্ধার করে। আদালতের নথি অনুযায়ী, মরদেহ উদ্ধারের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে জেফ্রি ম্যানকে ও তার স্ত্রী লিন্ডসি লিউয়ান্ডোস্কির (Lindsey Lewandowski) মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ-সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে তাদের মধ্যে সন্তানদের হেফাজত নিয়ে আইনি লড়াই চলছিল। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া এগোচ্ছিল। তবে সন্তানদের হেফাজতের বিষয়ে আদালত শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষকেই যৌথ আইনগত অভিভাবকত্বের উপযুক্ত বলে বিবেচনা করে। যদিও লিন্ডসি একক হেফাজতের আবেদন করেছিলেন, তা মঞ্জুর হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে জেফ্রি ম্যানকের বিরুদ্ধে একটি নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ (Restraining Order) জারি হয়েছিল। সেই নথিতে উল্লেখ ছিল, তার কাছে আগ্নেয়াস্ত্রের প্রবেশাধিকার রয়েছে। এছাড়া সন্তানদের সঙ্গে থাকার সময় তাকে মাদক বা অ্যালকোহল সেবন থেকে বিরত থাকার নির্দেশও ছিল। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে লিন্ডসি অভিযোগ করেন, তার দুই মেয়ে বাবার কাছে নিজেদের নিরাপদ মনে করত না। তিনি লেখেন, "আমি তাদের নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাকে বাধ্য করা হয়েছিল তাদের এমন জায়গায় পাঠাতে, যেখানে তারা যেতে চাইত না এবং নিজেদের নিরাপদ মনে করত না।" তিনি আরও দাবি করেন, পরিবারের কাউন্সেলর শিশুদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেননি। শিশু সুরক্ষা সংস্থা (CPS)-তে একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সতর্কবার্তার কোনো কার্যকর ফল পাওয়া যায়নি। লিন্ডসি বলেন, "গত দুই বছর ধরে যদি কেউ তাদের সাহায্যের আবেদন শুনত, তাহলে তারা আজ বেঁচে থাকত। আমার সন্তানদের রক্ষা করতে ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে।" তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উইনেবাগো কাউন্টি সার্কিট কোর্ট কিংবা কাউন্টি মানবসেবা বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। এদিকে উইনেবাগো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলছে। এটি হত্যা-আত্মহত্যার ঘটনা কি না, সে বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চিকিৎসা পরীক্ষার ফল এবং তদন্তের অগ্রগতির অপেক্ষা করা হচ্ছে। ঘটনাটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে শিশু হেফাজত, পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ এবং আদালতের সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে, শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আগে থেকে উত্থাপিত অভিযোগগুলো যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
গ্র্যামিজয়ী জনপ্রিয় মার্কিন র্যাপার কার্ডি বি জর্জিয়ার স্যান্ডি স্প্রিংসে অবস্থিত তাঁর ৬ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বিলাসবহুল ম্যানশনটি বিক্রি করে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। প্রাক্তন স্বামী অফসেটের সাথে একসময় এই বাড়িতেই বসবাস করতেন তিনি। বিবাহবিচ্ছেদের এই কঠিন সময়ে বাড়িটিতে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিগুলো তাঁর জন্য বেদনাবিধুর হলেও, ভবিষ্যতের নতুন মালিকের জন্য এটি হতে পারে আভিজাত্য ও বিলাসের এক অনন্য ঠিকানা। ২২ হাজার বর্গফুটের সুবিশাল এই ম্যানশনটিতে রয়েছে ৫টি শোবার ঘর এবং ১১টি বাথরুম। সাউদার্ন বা দক্ষিণাঞ্চলীয় আভিজাত্য এবং আধুনিক বিলাসের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটেছে এখানে। বাড়িটির অন্যতম আকর্ষণীয় দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে রিসোর্ট-স্টাইলের একটি চমৎকার সুইমিংপুল, বিনোদনের জন্য বিশাল জায়গা এবং চারপাশের সবুজে ঘেরা মনোরম পরিবেশ। কার্ডি বির জর্জিয়ার এই বাড়িটির নকশা করা হয়েছে উচ্চমানের বিলাসবহুল জীবনযাপনের কথা মাথায় রেখে। এর বাইরের অংশে রয়েছে নজরকাড়া ভূমধ্যসাগরীয় বা মেডিটেরানিয়ান স্থাপত্যশৈলীর ছোঁয়া। ভেতরের অংশে রয়েছে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলোর ব্যবস্থা এবং খিলানযুক্ত সুন্দর দরজা-জানালা। উজ্জ্বল ও খোলামেলা লেআউটের সাথে গাঢ় বাদামি রঙের বৈপরীত্য বাড়িটির অন্দরমহলে এক উষ্ণ আবহ তৈরি করেছে। বাড়ির প্রবেশমুখ বা ফয়ারে রয়েছে কাঁচের সূক্ষ্ম কারুকাজ করা কাঠের তৈরি তিনটি খিলানযুক্ত দরজা, যা দিয়ে ঘরে প্রচুর প্রাকৃতিক আলো প্রবেশ করে এবং বাড়িটিকে আরও বেশি রাজকীয় করে তোলে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।