- প্রচ্ছদ
- Topic
ভোট
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডাকযোগে ভোট সীমিত করার নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের পথ কিছুটা খুলে দিয়েছে। তবে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রশাসন ঠিক কতটা পরিবর্তন কার্যকর করতে পারবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনী প্রস্তুতিতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেলেও বিষয়টি পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। নতুন করে আদালতে চ্যালেঞ্জের সুযোগ থাকায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় আদেশ বাস্তবায়ন আরও বিলম্বিত হতে পারে। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশটি মার্চে স্বাক্ষর করা হয়। এতে প্রশাসনকে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার জন্য যোগ্য ভোটারদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগকে ওই তালিকায় থাকা ভোটারদের কাছেই ডাকযোগে ভোটের ব্যালট পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ডাকযোগে ভোটের সমালোচনা করে আসছেন। তাঁর দাবি, এ পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচনে জালিয়াতির সুযোগ তৈরি হয়। তবে ডাকযোগে ভোটে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগের পক্ষে শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি ট্রাম্প নিজেও বিভিন্ন সময়ে ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন। ট্রাম্পের আদেশের বিরুদ্ধে ২৩টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসির ডেমোক্র্যাট কর্মকর্তারা মামলা করেন। তাঁদের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা অঙ্গরাজ্য ও কংগ্রেসের হাতে। ফলে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ডাকযোগে ভোটের নিয়মে এত বড় পরিবর্তন আনা সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘন করতে পারে। মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনজীবীরা আদালতকে সতর্ক করে বলেন, আসন্ন শরতের নির্বাচনের এত কাছাকাছি সময়ে ভোট ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন কার্যকর হলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তারাও সুপ্রিম কোর্টের কাছে আদেশটি স্থগিত রাখার আহ্বান জানান। ম্যাসাচুসেটসের একজন বিচারক এর আগে ওই অঙ্গরাজ্যগুলোতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের পরিকল্পনা আটকে দেন। পরে একটি আপিল আদালতও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপর একই বিচারক দেশজুড়ে আদেশটি কার্যকর হওয়া ঠেকাতে আরও একটি নির্দেশ দেন। ট্রাম্প প্রশাসন জুলাইয়ের শেষ দিকে এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, অঙ্গরাজ্যগুলো মামলাটি করার ক্ষেত্রে আগেভাগেই আদালতে গিয়েছিল। একই সময়ে ওয়াশিংটনের একটি আদালতের ভিন্ন সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরা হয়, যেখানে ট্রাম্পের আদেশ বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া হয়নি। ওয়াশিংটনের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল হলেও আপিল আদালত সেটি বহাল রাখে। তবে ভবিষ্যতে আদেশটি বাস্তবায়নের ফলে নতুন কোনো আইনি সমস্যা তৈরি হলে আদালতে আবার চ্যালেঞ্জ করার সুযোগও রাখা হয়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ গত সপ্তাহেই ট্রাম্পের আদেশ কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তার একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। কিন্তু সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। কয়েকটি অঙ্গরাজ্য মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভোটারদের ডাকযোগে ব্যালট পাঠানো শুরু করবে। ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রশাসন বড় ধরনের পরিবর্তন বাস্তবে কতটা কার্যকর করতে পারবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত তাই ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও এটি চূড়ান্ত আইনি বিজয় নয়। ডাকযোগে ভোটের নিয়ম নিয়ে অঙ্গরাজ্য, নির্বাচন কর্মকর্তা ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে বিরোধ আরও আদালতে গড়াতে পারে। আর মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, এই আইনি লড়াইয়ের সময়সীমাও তত সংকুচিত হয়ে আসছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন টেক্সাসের ৭৫ বছর বয়সী ব্যবসায়ী জন গ্যানন। কিন্তু এখন সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা করছেন তিনি। কারণ, তার হবু স্ত্রী ইয়াসমিন সুয়ারেজ রেয়েসকে হিউস্টনের জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল এয়ারপোর্ট থেকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। ঘটনাটি ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ইমিগ্রেশন নীতির সমালোচনা করেছেন আজীবন রিপাবলিকান হিসেবে পরিচিত গ্যানন। সিবিএস নিউজকে গ্যানন জানান, ৪৫ বছর বয়সী ইয়াসমিনকে বিয়ে করে সংসার গড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। কিন্তু গত ২৪ জুলাই লাস ভেগাস যাওয়ার পথে হিউস্টন এয়ারপোর্টে আইসিই কর্মকর্তারা ইয়াসমিনকে আটক করলে তাদের সেই পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। ইয়াসমিনের জন্ম ভেনেজুয়েলায়। তবে তিনি স্পেনের নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৩ সালের ২৪ অক্টোবর বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তার অনুমোদিত থাকার মেয়াদ শেষ হয় ২০২৪ সালের ১৯ জানুয়ারি। ইয়াসমিনের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন এবং তার ওয়ার্ক পারমিট ও টেক্সাসের ড্রাইভার লাইসেন্স ছিল। তবে ডিএইচএস বলছে, কোনো ইমিগ্রেশন আবেদন বিচারাধীন থাকলেই তা নিজে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস দেয় না। ইয়াসমিন অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছেন বলেই তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ডিএইচএস আরও জানিয়েছে, ইয়াসমিনের ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত দাবিগুলো বিচার বিভাগের একজন ইমিগ্রেশন বিচারকের সামনে শুনানি হবে এবং তিনি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ পাবেন। গ্যাননের দাবি, তারা হিউস্টন থেকে লাস ভেগাসে একটি ফার্নিচার শিল্পের সম্মেলনে যাচ্ছিলেন। এয়ারপোর্টে ইয়াসমিনকে আটকের ঘটনাটি তার কাছে ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। তিনি বলেন, নিজের জীবনে কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন বলে ভাবেননি। গ্যানন যুক্তরাষ্ট্রে এক হাজারের বেশি বিলবোর্ডের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। মেক্সিকোতেও তার হোটেল ও রেস্তোরাঁসহ একাধিক ব্যবসা রয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। হবু স্ত্রীর আটকের পর ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন অভিযান নিয়ে তার অবস্থান আমূল বদলে গেছে। গ্যানন বলেন, তিনি ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন আর সেই সিদ্ধান্ত নেবেন না। তার অভিযোগ, ইমিগ্রেশন অভিযানে অপরাধীদের পাশাপাশি এমন মানুষও আটক হচ্ছেন, যাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নেই। তিনি মনে করেন, সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, পরিবার বিচ্ছিন্ন করা নয়। আইসিইর বর্তমান অভিযান পরিবার ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ইয়াসমিন বর্তমানে টেক্সাসে ইমিগ্রেশন হেফাজতে রয়েছেন। তার ভবিষ্যৎ এখন ইমিগ্রেশন আদালতের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। অন্যদিকে যে প্রশাসনকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনতে সহায়তা করেছিলেন, সেই প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতির সরাসরি প্রভাব নিজের জীবনে পড়ার পর গ্যানন বলছেন, তিনি নিজেকে গভীরভাবে হতাশ ও প্রতারিত মনে করছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টি বা জিপিও-এর (GOP) নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সুপরিকল্পিত ও সমন্বিতভাবে মুসলিম বিদ্বেষ ছড়ানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ম্যানুফ্যাকচারিং দ্য মুসলিম থ্রেট’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ সালের মধ্যে অন্তত ৮৯ জন রিপাবলিকান নেতা এই প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১,১১১টিরও বেশি বিদ্বেষমূলক পোস্ট করেছেন। সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট (CSOH)-এর এই গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্রচারণার লক্ষ্য ছিল মার্কিন মুসলিমদের বিরুদ্ধে জনমনে ভয় এবং বিভাজন তৈরি করা। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এই বিদ্বেষমূলক ক্যাম্পেইনের শুরু হয়েছিল টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের একটি পোস্টের মাধ্যমে, যেখানে তিনি একটি মুসলিম আবাসন প্রকল্পকে ‘শরিয়া সিটি’ বলে অভিহিত করেছিলেন। পরবর্তী ১৩ মাসে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশটির ৪৬ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি সরাসরি এই মুসলিম বিরোধী প্রচারণায় শামিল হন। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে এই ঘৃণা ছড়ানোর পাশাপাশি আইনিভাবেও মুসলিমদের কোণঠাসা করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। কংগ্রেসে ‘শরিয়া’ সংক্রান্ত আটটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে এবং ‘শরিয়া মুক্ত আমেরিকা’ ককাসে সদস্য সংখ্যা বেড়ে ৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, রিপাবলিকানদের এই ধরণের বক্তব্য এবং কর্মকাণ্ড কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুসলিমদের জন্য সরাসরি নিরাপত্তার হুমকি তৈরি করছে। ‘ডেঞ্জারাস স্পিচ প্রজেক্ট’-এর মতে, এই ধরনের ভাষা সরাসরি সহিংসতার উস্কানি হিসেবে কাজ করতে পারে। সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে ধর্মীয় সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প -এর সামরিক তৎপরতা সীমিত করার প্রস্তাব মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে। ফলে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে কংগ্রেসে বিভক্ত মতামত আবারও স্পষ্ট হলো। বৃহস্পতিবার প্রতিনিধি পরিষদে যুদ্ধ ক্ষমতাবিষয়ক বিলটি ২১৩-২১৪ ভোটে নাকচ হয়। বিলটির লক্ষ্য ছিল, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালানো রোধ করা। এর আগে একদিন আগে ইউনাইটেড স্টেটস সিনেটে একই ধরনের একটি প্রস্তাব খারিজ হয়। ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থিত সেই উদ্যোগ সিনেটে টানা চতুর্থবার ব্যর্থ হয়। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদের এই ভোট প্রতীকী গুরুত্ব বহন করলেও এটি দেখিয়েছে, ইরান প্রশ্নে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে মতভেদ এখনও গভীর। গত মাসের শুরুতে প্রতিনিধি পরিষদে একই ধরনের একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছিল। তখন ভোটের ফল ছিল ২১২-২১৯। সর্বশেষ ভোটে কয়েকজন সদস্য অবস্থান পরিবর্তন করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন ফেডারেল আইন অনুযায়ী, কোনো সামরিক অভিযান ৬০ দিনের বেশি চালিয়ে যেতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সূত্র: বিবিসি
হরমুজ প্রণালী শক্তি প্রয়োগে উন্মুক্ত করার বিষয়ে আরব দেশগুলোর আনা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তিনটি স্থায়ী সদস্যের ভেটোতে আটকে গেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে প্রস্তাবটির বিপক্ষে চীন, রাশিয়া এবং ফ্রান্স তাদের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করলে তা পাস হতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালীতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা বড় ধরনের কূটনৈতিক বাধার মুখে পড়ল। আরব দেশসমূহ এবং বাহরাইনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত এই প্রস্তাবে জাহাজ চলাচলের সুরক্ষায় 'প্রয়োজনীয় সকল রক্ষণাত্মক ব্যবস্থা' বা সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে এই প্রধান নৌপথটি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে এবং তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। তবে চীন ও রাশিয়া শুরু থেকেই এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসছিল। তাদের মতে, বলপ্রয়োগের বৈধতা দিলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে। ভেটো দেওয়া দেশগুলোর দাবি, সামরিক পদক্ষেপের বদলে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকট সমাধান করা উচিত; অন্যথায় এর পরিণাম হবে অপূরণীয়। নিরাপত্তা পরিষদের নিয়ম অনুযায়ী, স্থায়ী পাঁচ সদস্যের যে কোনো একটি দেশ ভেটো দিলে অন্য সব সদস্যের সমর্থন থাকলেও প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়। এই সিদ্ধান্তে উপসাগরীয় দেশগুলো গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে, কারণ তাদের মতে এই পথটি বন্ধ থাকা মানে বৈশ্বিক বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে আসা। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আক্রমণ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়ায় হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন ও রাশিয়ার এই শক্ত অবস্থানের কারণে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান উত্তেজনা এখন আরও দীর্ঘস্থায়ী এবং জটিল রূপ ধারণ করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।