রাজনৈতিক

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানার ধরে আছেন কয়েকজন এবং একজনের হাতে জাতীয় ও আরেকজনের হাতে সাংগঠনিক পতাকা । ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত
চুয়াডাঙ্গায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ‘অবমুক্ত’, ছাত্রলীগের পতাকা উড়ানোর দাবি

চুয়াডাঙ্গায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়কে ‘অবমুক্ত’ ঘোষণা করে এর সামনে সাংগঠনিক ও জাতীয় পতাকা উড়ানোর দাবি জানিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়।   ১ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, চুয়াডাঙ্গা পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমদাদুল হকের নেতৃত্বে পাঁচজন জেলা আওয়ামী লীগের ভাঙা কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন হেলমেট পরা এবং একজনের হাতে জাতীয় পতাকা, আরেকজনের হাতে সাংগঠনিক পতাকা দেখা যায়। ব্যানারে শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি এবং ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ লেখা রয়েছে।   ভিডিওতে ইমদাদুল হক বলেন, “চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে জেলা আওয়ামী লীগের অফিস অবমুক্ত করা হলো।” এরপর তিনি বিভিন্ন স্লোগান দেন, যেমন ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘শেখ হাসিনা বীরের বেশে, আসবে ফিরে বাংলাদেশে’।   চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, ভিডিওতে থাকা পাঁচজনের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। হেলমেট পরা তিনজনের শনাক্তকরণের চেষ্টা চলছে এবং তাঁদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।   ভিডিওটি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ফেসবুক পেজের পাশাপাশি ইমদাদুল হকের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজেও প্রকাশিত হয়েছে এবং বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন পেজে ছড়িয়ে পড়েছে।   প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এর ছয় মাস পর ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভেঙে ফেলেন। চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আহ্বায়ক তানভীর ফয়সাল বলেন, “জেলা শাখার সদস্যসচিব রনি বিশ্বাসসহ অন্যান্যদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ছাত্রলীগ করায় ছেলেকে ত্যাজ্য
ছাত্রলীগের রাজনীতি করায় বাবা ছেলেকে ত্যাজ্য করলেন

নেত্রকোনার একজন ছাত্রলীগ নেতা তার বাবার মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় ত্যাজ্য ঘোষণার শিকার হয়েছেন। জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মীর মো. সাজিদুর রহমান ছোটনের সঙ্গে তার বাবা মীর মো. আব্দুল মালেকের দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও রাজনৈতিক মতবিরোধ এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ।   মঙ্গলবার (১০ মার্চ) স্থানীয় আদালতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ছোটনকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেন তার বাবা। ঘটনার পর বুধবার ছোটন নিজের ফেসবুক আইডিতে সেই নোটারির ছবি শেয়ার করে বিস্তারিত পোস্ট করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।   ত্যাজ্য ঘোষণায় আব্দুল মালেক উল্লেখ করেছেন, পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রবীণ সমর্থক। কিন্তু ছোটন তার কৈশোর থেকেই পরিবারের রাজনীতির আদর্শ থেকে সরে এসে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত হন। এ রাজনৈতিক ভিন্নতার কারণে পারিবারিক সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে তিক্ত হয়ে ওঠে।   বাবার অভিযোগ অনুযায়ী, ছোটনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পারিবারিক দাবিদাওয়ার বিষয়ে অসদাচরণই এই চরম পদক্ষেপের মূল কারণ। ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক হিসেবে ছোটনের নিজস্ব মতাদর্শে চলার অধিকার থাকলেও তার কোনো কর্মকাণ্ডের দায়ভার এখন থেকে পরিবার বহন করবে না।   ছোটন তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘ বছর পরিবারের ভেতরে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা তিনি গোপন রাখার চেষ্টা করেছিলেন, তবে অবশেষে তা প্রকাশের মুখে এসেছে। ক্লান্তির প্রকাশ থাকলেও, ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে তার রাজনৈতিক পথচলা চলবে বলে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেন। পোস্টে তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতার কয়েকটি লাইন উদ্ধৃত করে নিজের লড়াকু মানসিকতার প্রতিফলন ঘটান।   এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে সহমর্মিতা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই তার পদক্ষেপকে সাহসী ও ন্যায্য বলে অভিহিত করছেন এবং কঠিন সময়ে তাকে মানসিক সহায়তা দিচ্ছেন। নেত্রকোনার রাজনৈতিক মহলেও এ ঘটনা এখন প্রধান আলোচনার বিষয়। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ছোটনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
শেখ হাসিনা
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিবর্তন? শেখ হাসিনার বিকল্প নিয়ে যা ভাবছে হাইকমান্ড

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক কঠিন সময় পার করছে আওয়ামী লীগ।   ২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক দলীয় নিবন্ধন স্থগিত ও সহযোগী সংগঠনের রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ায় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা এই দলটি। বর্তমানে রাজনৈতিক ‘স্পেস’ ফিরে পেতে কৌশলী অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী মহল। দলীয় সূত্রমতে, আপাতত সহিংসতা এড়িয়ে সংগঠন পুনর্গঠনেই মূল মনোযোগ দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে বিতর্কিত নেতাদের বাদ দিয়ে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির তরুণ নেতৃত্ব সামনে আনার বিষয়ে হাইকমান্ডে নীতিগত ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তবে মূল প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে নেতৃত্ব ঘিরেই। দলের ভেতরে এখনো শেখ হাসিনাকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা মনে করা হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিকল্প নেতৃত্ব আনার বিষয়টি জোরালো আলোচনায় রয়েছে। বিচক্ষণ মহলের মতে, আওয়ামী লীগ ‘শেখ পরিবার’-এর হাতেই নেতৃত্ব বজায় রাখতে আগ্রহী। সেক্ষেত্রে শেখ হাসিনা নেপথ্য শক্তি হিসেবে কাজ করবেন এবং সামনে আনা হতে পারে নতুন কোনো মুখ। সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা কম। তবে তৃণমূল ও শীর্ষ নেতাদের বড় অংশ এখনো মনে করেন, পরিস্থিতির বিচারে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। বর্তমানে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের দিকে কড়া নজর রাখছে দলটি। অনেক আত্মগোপনে থাকা নেতা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন এবং দলীয় কার্যালয় খোলার প্রস্তুতি চলছে। বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সাম্প্রতিক কিছু ইতিবাচক বক্তব্যে আওয়ামী লীগ নেতারা আইনি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আশা দেখছেন। সব মিলিয়ে, একদিকে শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য বজায় রাখা এবং অন্যদিকে বাস্তবতা মেনে বিকল্প নেতৃত্বের পথ খোলা রাখা—এই দ্বৈত কৌশলে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
রাজনীতির গ্রাসে বিপন্ন শিক্ষাব্যবস্থা
রাজনীতির গ্রাসে বিপন্ন শিক্ষাব্যবস্থা

বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজে একটি গভীরভাবে প্রোথিত ধারণা তৈরি হয়েছে—শিক্ষাব্যবস্থা মূলত প্রশাসনের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে দল ক্ষমতায় আসে, শিক্ষা ব্যবস্থার দিশাও ঠিক হয় তাদের রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দ অনুযায়ী। এর ফলে শিক্ষা কোনো সুদূরপ্রসারী জাতীয় পরিকল্পনার অংশ হয়ে উঠতে পারে না; বরং তা এক ধরনের দলীয় সম্পত্তিতে পরিণত হয়। পূর্ববর্তী সরকারের গৃহীত নীতি ভালো না মন্দ—এই প্রশ্ন মুখ্য নয়, মুখ্য হয়ে ওঠে সেই নীতি বর্তমান শাসকের মতাদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা।   অথচ শিক্ষা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পদ নয়, কিংবা কোনো একক সরকারের কৃতিত্বও নয়। শিক্ষা হলো একটি জাতির দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বিনিয়োগ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা বারবার এই সত্য ভুলে যাই—বা ভুলিয়ে দেওয়া হয়। এর প্রধান কারণ, শিক্ষা সম্পর্কে একটি সুসংহত ও দীর্ঘস্থায়ী দৃষ্টিভঙ্গি এখনও আমাদের সমাজে গড়ে ওঠেনি। শিক্ষাকে জাতির মেরুদণ্ড হিসেবে না দেখে আমরা তাকে ভোগ্যপণ্যের কাতারে বসিয়ে দিয়েছি। ফলস্বরূপ সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাক্ষেত্রে যে প্রবণতাগুলি দেখা যাচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে গভীর উদ্বেগের বিষয়। শিক্ষা আজ আর কেবল জ্ঞানার্জন ও মননচর্চার ক্ষেত্র নয়, ক্রমশ তা রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার একটি মঞ্চে রূপ নিচ্ছে।   স্বাধীনতার পর ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তিবাদী, বিজ্ঞানমনস্ক ও মানবিক নাগরিক গড়ে তোলা। সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই পাঠ্যক্রম, শিক্ষক-প্রশিক্ষণ এবং উচ্চশিক্ষার কাঠামো নির্মাণের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নীতিগত ধারাবাহিকতার অভাব এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে আদর্শগত পরিবর্তন শিক্ষাব্যবস্থার ভিতকে দুর্বল করে দিয়েছে। সরকার বদলালেই পাঠ্যক্রম বদলানো, ইতিহাসের ব্যাখ্যা নতুন করে রচনা করা কিংবা পূর্বতন সিদ্ধান্ত বাতিল করার প্রবণতা শিক্ষাকে এক অনিশ্চিত পরীক্ষানিরীক্ষার ক্ষেত্র করে তুলেছে। বিশেষত ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সবচেয়ে প্রকট। কোন বিষয় পড়ানো হবে আর কোনটি বাদ যাবে—এই সিদ্ধান্ত অনেক সময়ই একাডেমিক আলোচনার বদলে রাজনৈতিক স্বার্থের নিরিখে নেওয়া হয়। এর ফলে শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি বিকাশের সুযোগ সংকুচিত হয়।   শিক্ষার মেরুদণ্ড যদি হয় শিক্ষক, তবে সেই শিক্ষক সমাজও আজ রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে দলীয় আনুগত্য যদি যোগ্যতা ও মেধাকে ছাপিয়ে যায়, তবে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াই স্বাভাবিক। শিক্ষক যখন রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারেন না, তখন শ্রেণিকক্ষ আর মুক্ত চিন্তার পরিসর হয়ে উঠতে পারে না। এতে শিক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। অথচ শিক্ষার গুরুত্ব এমন হওয়া উচিত ছিল যে সমাজের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় তার স্থান থাকবে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষা ও শিক্ষক উভয়েই রাজনৈতিক আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে।   আমরা গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে গর্ব করতে ভালোবাসি। কিন্তু সেই অধিকার প্রয়োগ সমাজের সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখছে কিনা, সে প্রশ্ন খুব কমই তুলি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতিকে অনেক সময় গণতান্ত্রিক অধিকার বলে যুক্তি দেওয়া হয়। কিন্তু বিদ্যালয়, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় কি আদৌ রাজনৈতিক লড়াইয়ের ক্ষেত্র হওয়া উচিত? শিক্ষক আসেন শিক্ষা দিতে, শিক্ষার্থী আসে শিক্ষা গ্রহণ করতে—সেই পরিসর কীভাবে রাজনৈতিক আখড়ায় পরিণত হয়, তা নিয়ে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। অবশ্যই গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে ছাত্র রাজনীতির গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু যখন তা সরাসরি দলীয় রাজনীতির সম্প্রসারিত রূপ নেয়, তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ নষ্ট হলে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর—যার ফল আজ আমরা প্রত্যক্ষ করছি।   উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক চাপ অনেক সময় সূক্ষ্ম অথচ গভীরভাবে কাজ করে। কোন গবেষণা গ্রহণযোগ্য, কোন বিষয় সংবেদনশীল—এই অলিখিত নিয়ম গবেষণার স্বাধীনতাকে সংকুচিত করে। প্রশ্ন করার সাহস ও ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান সৃষ্টির কেন্দ্র না হয়ে কেবল ডিগ্রি প্রদানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই থাকা উচিত, তবে তা কোনো রাজনৈতিক দলের ছায়ায় নয়—তা হওয়া উচিত ভবিষ্যৎ নির্মাণের স্বার্থে গঠনমূলক ও স্বাধীন চিন্তার প্রকাশ।   এ কথা সত্য যে শিক্ষা ও রাজনীতি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হতে পারে না। রাষ্ট্রকে শিক্ষানীতি নির্ধারণ করতেই হয়। কিন্তু সেই নীতির ভিত্তি হওয়া উচিত গবেষণা, সামাজিক বাস্তবতা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ—দলীয় মতাদর্শ নয়। শিক্ষা যদি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ময়দানে পরিণত হয়, তার মূল্য দিতে হবে গোটা জাতিকেই।   আজ প্রয়োজন একটি স্পষ্ট সীমারেখা টানা—যেখানে রাজনীতি থাকবে নীতি নির্ধারণে, কিন্তু শিক্ষার অন্তঃসারকে নিয়ন্ত্রণ করবে না। পাঠ্যক্রম, শিক্ষক নিয়োগ ও গবেষণার ক্ষেত্রে একাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ছাড়া শিক্ষার গুণগত মান রক্ষা করা সম্ভব নয়। সর্বদলীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দীর্ঘস্থায়ী শিক্ষানীতি প্রণয়নই হতে পারে এই সংকট থেকে উত্তরণের প্রথম ধাপ।   শিক্ষা হলো জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের কারখানা। সেখানে যদি রাজনৈতিক স্বার্থের ভারী যন্ত্র প্রবেশ করে, তবে সেই ভবিষ্যৎই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। আজ চারদিকে যে অসহিষ্ণুতা, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিভাজন চোখে পড়ছে, তার শিকড় অনেকাংশেই বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতায় নিহিত। তাই এখনই সময়—শিক্ষাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে নয়, জাতি গঠনের ভিত্তি হিসেবে দেখার। দেরি হলে তার মাশুল দিতে হবে আগামী প্রজন্মের পর প্রজন্মকে।   লেখক: নিশীথ সিংহ রায়

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
মামলা-হয়রানি থেকে মুক্তির পথে লাখো মানুষ
মামলা-হয়রানি থেকে মুক্তির পথে লাখো মানুষ

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা কথিত রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলোর বড় একটি অংশ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার এসব মামলার মধ্যে মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে। এর ফলে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ মামলা-সংক্রান্ত হয়রানি থেকে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।   রোববার আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে যেসব মামলা দায়ের করা হয়েছিল, সেগুলো পর্যালোচনা ও প্রত্যাহারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জেলা পর্যায়ে কমিটি এবং আইন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে একটি আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়।   পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আবেদন আহ্বান করা হলে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। এসব আবেদনের ভিত্তিতে আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি ধারাবাহিকভাবে ৩৯টি সভা আয়োজন করে মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করে। যাচাই শেষে ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এ সংক্রান্ত পর্যালোচনা ও সুপারিশ কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।   প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব কি বন্ধ? ইউএস ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটে কী বলা আছে

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস  এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।

Top week

বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?
আমেরিকা

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0