সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

সাংবাদিক

ক্যালিফোর্নিয়ায় কমেছে নতুন চাকরির সুযোগ
ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরির বাজারে চরম সংকট, কমছে সুযোগ বাড়ছে প্রতিযোগিতা

ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরির বাজারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলক কমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রাজ্যটির গড় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে একই সময়ে জাতীয় হার ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। চাকরির সুযোগের হার বলতে মাসের শেষ কর্মদিবসে বিদ্যমান খালি পদকে মোট কর্মী ও খালি পদের সমষ্টির শতাংশ হিসেবে হিসাব করা হয়। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর জেওএলটিএস জরিপে চাকরির সুযোগ, নিয়োগ এবং কর্মী ছাঁটাইসহ শ্রমবাজারের বিভিন্ন সূচক পরিমাপ করা হয়।  ক্যালিফোর্নিয়ার এই হার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২১ সালে রাজ্যটির গড় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২২ সালে তা বেড়ে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হলেও ২০২৩ সালে কমে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে হারটি ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।  ২০২৫ সালের অক্টোবরেও ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ৬ লাখ ৬৪ হাজার চাকরির সুযোগ ছিল। তবে ওই মাসে রাজ্যটির চাকরির সুযোগের হার ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে জাতীয় হার ছিল ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগের মাসে ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।  তবে চাকরির সুযোগ কম থাকা মানেই নিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, এমন নয়। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মোট চাকরির সুযোগ ছিল প্রায় ৭২ লাখ ৭১ হাজার এবং জাতীয় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে নিয়োগের হার ছিল ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং ছাঁটাই ও চাকরিচ্যুতির হার ছিল ১ শতাংশ।  সাম্প্রতিক শ্রমবাজারের আরেকটি চিত্রও দেখা যাচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে শ্রম বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বেকার ভাতার আবেদন সামান্য কমে ২ লাখ ৬ হাজারে নেমেছে। একই সময়ে আগস্টে দেশটিতে ১ লাখ ৬২ হাজার নতুন চাকরি যোগ হয়েছে। অর্থাৎ জাতীয় পর্যায়ে নিয়োগের গতি কিছুটা বাড়লেও রাজ্যভেদে চাকরির সুযোগের চিত্র এক নয়।  ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরি খুঁজছেন এমন কর্মীদের জন্য তাই শুধু মোট চাকরির সংখ্যা নয়, কোন খাতে নিয়োগ বাড়ছে, কোন এলাকায় সুযোগ বেশি এবং নিয়োগের প্রবণতা কীভাবে বদলাচ্ছে, সেদিকেও নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চাকরির সুযোগের হার কম থাকলে একটি পদের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়তে পারে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা তীব্র হতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট চাকরিপ্রার্থীর ক্ষেত্রে এর প্রভাব কতটা হবে, তা পেশা, দক্ষতা ও স্থানীয় শ্রমবাজারের ওপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে সামগ্রিকভাবে চাকরির সুযোগ এখনো কয়েক মিলিয়নের পর্যায়ে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, মহামারির পরের উচ্চ চাকরির সুযোগের সময়ের তুলনায় নিয়োগের বাজার অনেক বেশি স্বাভাবিক পর্যায়ে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনামূলক কম চাকরির সুযোগের হার রাজ্যটির চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
সংবাদ সংগ্রহের সময় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এনবিসি সাংবাদিকের
এনগেজমেন্টের এক বছরের মধ্যেই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এনবিসি সাংবাদিকের

লস অ্যাঞ্জেলেসে সংবাদ সংগ্রহের সময় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এনবিসি লস অ্যাঞ্জেলেসের সাংবাদিক এলিয়ানা মোরেনো। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চ্যাটসওয়ার্থ এলাকায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় মোরেনোর সঙ্গে হেলিকপ্টারের পাইলট জর্জ মার্সিনিউ এবং মাটিতে থাকা আরও একজন প্রাণ হারান। ওই সময় হেলিকপ্টারটি কাছাকাছি একটি বাস দুর্ঘটনার খবর সংগ্রহ করছিল। এলিয়ানা মোরেনো এনবিসি৪ ও টেলিমুন্ডো ৫২-এর জন্য আকাশপথে সংবাদ সংগ্রহ করতেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে চ্যাটসওয়ার্থের নর্থ মেসন অ্যাভিনিউ এলাকায় নিউজ হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। এরপর হেলিকপ্টারটিতে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলে থাকা আরও কয়েকটি গাড়ি ও দুটি স্টোরেজ কনটেইনারও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে এলিয়ানা ও পাইলট জর্জ মার্সিনিউ কাছাকাছি একটি মেট্রো বাস ও একটি এসইউভির সংঘর্ষের খবর কভার করছিলেন। ওই সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত দুজন প্রাণ হারান এবং ছয়জন আহত হন। একই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহে একাধিক নিউজ হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলের ওপর অবস্থান করছিল। এর কিছুক্ষণ পরই এনবিসির নিউজচপার৪ বিধ্বস্ত হয়। মোরেনো দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার পরিচিত আকাশপথের সংবাদ প্রতিবেদকদের একজন ছিলেন। তিনি চ্যাপম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রচার সাংবাদিকতা ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন। ২০১০ সালে তিনি অ্যাঞ্জেল সিটি এয়ারের হেলিকপ্টার টিমে যুক্ত হন। পরে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করেন। পাইলট জর্জ মার্সিনিউয়ের সঙ্গে ২০২৩ সাল থেকে নিয়মিত উড়ছিলেন তিনি। ব্যক্তিজীবনেও নতুন অধ্যায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মোরেনো। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাণ হারানোর এক বছরেরও কম সময় আগে তাঁর বাগদান হয়েছিল। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থেমে গেল। দুর্ঘটনার খবরটি এনবিসি৪-এর সরাসরি সম্প্রচারের মধ্যেই সহকর্মীদের কাছে পৌঁছে যায়। পরে সম্প্রচারে মোরেনো ও মার্সিনিউয়ের প্রাণ হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সহকর্মীরা তাঁদের দীর্ঘদিনের সহকর্মী হিসেবে স্মরণ করে শোক প্রকাশ করেন। এনবিসি৪ ও টেলিমুন্ডো ৫২ এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ৭০ জনের বেশি ফায়ারফাইটার ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আরও দুজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ইস রায়েলের কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের প্রতীকী চিত্র
ইস রায়েলের কারাগারে ৩৭ ফিলিস্তিনি সাংবাদিক, ১৯ জনের বিরুদ্ধে নেই কোনো অ ভি যোগ

গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইস রায়েলের কারাগারে ৩৭ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আ টক রয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রিজনার সোসাইটি। রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে মানবাধিকারবিষয়ক এই বেসরকারি সংগঠন জানায়, তাদের মধ্যে ১৯ জনকে কোনো অ ভি যোগ বা বিচার ছাড়াই প্রশাসনিক আ টকাদেশের আওতায় রাখা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় যু দ্ধ শুরুর পর এসব সাংবাদিককে আ টক করা হয়। সাংবাদিকতার কাজ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কারণে ইস রায়েলি কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রে প্তার, কা রাদণ্ড, একাকী ব ন্দিত্ব ও বিভিন্ন মা মলার মুখোমুখি করছে বলেও অ ভি যোগ করেছে সংগঠনটি। সর্বশেষ আ টক হওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন মুয়াথ আম্মারনা ও সাবরি জিবরিন। বৃহস্পতিবার অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় বেথলেহেমে তাদের বাড়িতে অ ভি যান চালিয়ে ইস রায়েলি বা হিনী তাদের গ্রে প্তার করে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। ফিলিস্তিনি প্রিজনার সোসাইটির ভাষ্য, সাংবাদিকতার কাজের কারণে আম্মারনাকে এর আগেও ইস রায়েলি কর্তৃপক্ষ একাধিকবার টার্গেট করেছে। এবার তৃতীয়বারের মতো তাকে আ টক করা হয়েছে। সাংবাদিক ও লেখক মাহমুদ ফাতাফতার মা মলার কথাও তুলে ধরেছে সংগঠনটি। ইস রায়েলের ভাষায় ‘উ স কানি’ দেওয়ার অ ভি যোগে তাকে ৪৮ মাসের কা রাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এ ধরনের অ ভি যোগে দেওয়া কঠোর সাজাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘উ স কানি’ দেওয়ার অ ভি যোগ ক্রমেই বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি ‘গোপন নথি’র ভিত্তিতে সাংবাদিকদের প্রশাসনিক আ টকেও রাখা হচ্ছে বলে অ ভি যোগ করা হয়েছে। বর্তমানে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের ১৯ জন সাংবাদিক প্রশাসনিক আ টকাদেশে রয়েছেন। অর্থাৎ ইস রায়েলের কারাগারে থাকা মোট সাংবাদিকের প্রায় ৫১ শতাংশই কোনো মা মলা বা বিচার ছাড়াই এই ব্যবস্থার আওতায় রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। বন্দি সাংবাদিক বুশরা আল-তাওয়িলের বিষয়টিও উল্লেখ করেছে ফিলিস্তিনি প্রিজনার সোসাইটি। ৩৩ বছর বয়সী এই সাংবাদিককে উত্তর ইস রায়েলের ডেমন কারাগার থেকে মধ্যাঞ্চলের রামলা কারাগারে একাকী ব ন্দিত্বে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নারী ফিলিস্তিনি ব ন্দিদের ওপর ইস রায়েলি কর্তৃপক্ষের কড়াকড়ি আরও বেড়েছে বলেও অ ভি যোগ করেছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, খাবারের ঘা টতি, চিকিৎসা না দেওয়া ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের পাশাপাশি নারী ব ন্দিদের একাকী রাখাসহ নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। ফিলিস্তিনি প্রিজনার সোসাইটির ভাষ্য, আ টক সাংবাদিকরাও অন্যান্য ফিলিস্তিনি ব ন্দির মতো ক্ষু ধা, চিকিৎসার অবহেলা, নি র্যাতন, নিপী ড়ন, একাকী ব ন্দিত্ব এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। সংগঠনটির আরও অ ভি যোগ, সাংবাদিকদের শুধু গ্রে প্তার বা কা রাবন্দি করেই নয়, হ ত্যা, নি খোঁজ করে দেওয়া এবং কাজের সময় সরাসরি হা মলার মাধ্যমেও টার্গেট করা হচ্ছে। তাদের মতে, ফিলিস্তিনের পরিস্থিতি ও ইস রায়েলি কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ এবং প্রকাশ সীমিত করার একটি ধারাবাহিক নীতির অংশ হিসেবেই এসব করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইস রায়েলি বা হিনীর অ ভি যান ও হা মলা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রিজনার সোসাইটি। সংগঠনটির দাবি, এসব ঘটনায় হ ত্যা, গ্রে প্তার, বাড়িঘর ও যানবাহনে হা মলা, মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত করা, কৃষিজমি ধ্বংস, কৃষকদের ওপর বিধিনিষেধ, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করা এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের মতো ঘটনা ঘটছে। বৃহস্পতিবার সংগঠনটি জানায়, এর আগের এক সপ্তাহে পশ্চিম তীরজুড়ে ১০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনিকে আ টক করেছে ইস রায়েলি বা হিনী। তাদের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে আ টক ফিলিস্তিনির সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে। এর বাইরে গাজা থেকেও হাজারো ফিলিস্তিনিকে আ টক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
সন্তান জন্মের পর মাকে নিজের কবর খুঁড়তে বাধ্য করে হত্যা
সন্তান জন্মের পর মাকে নিজের কবর খুঁড়তে বাধ্য করে হত্যা! মৃত্যুর আগে করা হয় মাথা ন্যাড়া

রাশিয়ার চেচনিয়া অঞ্চলে তিন সন্তানের ২৫ বছর বয়সী এক তরুণীকে তাঁর বাবা হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জুখরা মুজায়েভা নামের ওই নারীকে স্বামীর সঙ্গে পরকীয়ার সন্দেহে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে তাঁর মাথা ন্যাড়া করে নিজেই নিজের কবর খুঁড়তে বাধ্য করা হয় এবং পরে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে ঘটনাটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।    চেচনিয়ার কুরচালয় গ্রামে বসবাসকারী জুখরা এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, তাঁর বাবা সামরাদি মুজায়েভ মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছেন। প্রথমে তিনি দাবি করেন, জুখরা জীবিত ও সুস্থ আছেন। পরে জানান, তিনি বিদেশে চলে গেছেন। তবে কোথায় আছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।    স্বাধীনভাবে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কহীন তিনটি সূত্র দাবি করেছে, জুখরাকে তাঁর বাবা হত্যা করে থাকতে পারেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে তাঁর মাথা ন্যাড়া করা হয়, এরপর তাঁকে নিজের কবর নিজেকেই খুঁড়তে বাধ্য করা হয় এবং পরে গুলি করা হয়। স্বামীর সঙ্গে পরকীয়ার সন্দেহ থেকেই কথিত হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে।    জুখরার স্বামী ইয়াকুব মাগোমাদভ ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর হয়ে অংশ নিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জুখরার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল কিশোরী বয়সে। ১৭ বছর বয়সে তিনি যমজ সন্তানের মা হন। পরে তাঁদের আরও একটি কন্যাসন্তান হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রসাধনী বিক্রির ছোট ব্যবসাও পরিচালনা করতেন তিনি।    ঘটনাটিকে সম্ভাব্য ‘অনার কিলিং’ বা কথিত সম্মান রক্ষার নামে হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, জুখরাকে হত্যার পেছনে পরিবারের ‘সম্মান’ রক্ষার ধারণা কাজ করে থাকতে পারে। এ ঘটনায় চেচনিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।    তবে জুখরা সত্যিই নিহত হয়েছেন কি না, সেটিও এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ককেশাস নটসহ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও হত্যার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলি কারাগার থেকে দুই বছর পর মুক্তি
ইসরায়েলি কারাগার থেকে দুই বছর পর মুক্তি, চেহারায় যেন ২০ বছরের ছাপ ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের

প্রায় দুই বছর ইসরায়েলি কারাগারে আটক থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন ফিলিস্তিনি ফটোসাংবাদিক রামেজ আওয়াদ। মুক্তির পর পশ্চিম তীরের জিফনা গ্রামে ফিরলে দীর্ঘদিন পর মায়ের সঙ্গে তার আবেগঘন পুনর্মিলনের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে। রোয়া নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।    ৩১ বছর বয়সী আওয়াদকে ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট জিফনায় তার পারিবারিক বাড়ি থেকে ইসরায়েলি বাহিনী আটক করে বলে জানিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। তার পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেনারা বাড়িতে ঢুকে তার পরিচয়পত্র পরীক্ষা করার পর তাকে নিয়ে যায়। সে সময় পরিবারকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বা কোথায় তাকে নেওয়া হচ্ছে, তা জানানো হয়নি।    আওয়াদের আটকের ঘটনাই তার জীবনে প্রথম ইসরায়েলি বাহিনীর হয়রানি নয়। ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর পশ্চিম তীরের জিফনায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের খবর সংগ্রহ করার সময় তার উরুতে গুলি লাগে বলে সিপিজে ও ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    আটকের পর তাকে ওফের কারাগারে রাখা হয়েছিল। পরে তার বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগ আনা হয় এবং ২০২৫ সালের নভেম্বরে একটি আদালত তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয় বলে সিপিজের তথ্য থেকে জানা যায়।    ফলে আওয়াদের ঘটনাটি শুধু একজন সাংবাদিকের মুক্তির খবর নয়, পশ্চিম তীরে সাংবাদিকদের কাজ করতে গিয়ে আটক ও হামলার ঝুঁকিরও একটি উদাহরণ। সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এর আগে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের আটক, গুলিবিদ্ধ ও অন্যান্য হয়রানির ঘটনাও নথিভুক্ত করেছে।    দুই বছর পর বাড়িতে ফিরে মায়ের সঙ্গে আওয়াদের সেই পুনর্মিলনের দৃশ্য তাই তার দীর্ঘ বন্দিজীবনের পর পরিবারের কাছে ফিরে আসার প্রতীকী মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
গাজায় হাসপাতালে হামলায় ৫ সাংবাদিক নিহত ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
গাজায় হাসপাতালে হামলায় ৫ সাংবাদিক নিহত, তাদের একজন মরিয়ম আবু দাগ্গা

গাজার খান ইউনিসে নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় পাঁচ সাংবাদিকসহ অন্তত ২১ জন নিহত হন। নিহত সাংবাদিকদের একজন ছিলেন ৩৩ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি ফটোসাংবাদিক মরিয়ম আবু দাগ্গা, যিনি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও ইন্ডিপেনডেন্ট আরাবিয়ার হয়ে কাজ করছিলেন।   ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট নাসের হাসপাতালে পরপর দুটি হামলা হয়। প্রথম হামলার পর সাংবাদিক ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে কয়েক মিনিটের মধ্যে দ্বিতীয় হামলা হয়। এতে সাংবাদিক ও উদ্ধারকর্মীদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটে।   নিহত সাংবাদিকদের মধ্যে মরিয়ম আবু দাগ্গা ছাড়াও ছিলেন রয়টার্সের ক্যামেরাম্যান হুসাম আল-মাসরি, আলজাজিরার ক্যামেরাম্যান মোহাম্মদ সালামা এবং ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক মোয়াজ আবু তাহা ও আহমদ আবু আজিজ। হামলায় রয়টার্সের ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার হাতেম খালেদ আহত হন।   মরিয়ম গাজায় যুদ্ধের শুরু থেকেই সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ, আহতদের চিকিৎসা এবং শিশুদের অপুষ্টির চিত্র তুলে ধরছিলেন। হামলার কয়েক দিন আগেও নাসের হাসপাতালে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের নিয়ে তিনি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের জন্য প্রতিবেদন ও ছবি তৈরি করেছিলেন।   খান ইউনিসের বাসিন্দা মরিয়ম ছিলেন এক সন্তানের মা। যুদ্ধের কারণে নিরাপত্তার জন্য তার ১৩ বছর বয়সী ছেলে গাইথকে বাবার সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো হয়েছিল। মরিয়ম নিজে গাজায় থেকে সাংবাদিকতা চালিয়ে যান।   তার সহকর্মীদের কাছে মরিয়ম পরিচিত ছিলেন গাজার মানুষের দুর্ভোগের ছবি তুলে ধরার জন্য। তিনি যুদ্ধের মধ্যে নাসের হাসপাতালকেই প্রায়ই সাংবাদিকতার অন্যতম ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতেন।   হামলার পর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্স যৌথভাবে ঘটনাটির স্বচ্ছ ব্যাখ্যা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হামলার বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছে, তারা সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না এবং ঘটনায় কোনো অনিচ্ছাকৃত ক্ষতি হয়ে থাকলে তারা দুঃখিত। পরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্তের কথা জানায়।   তবে ২০২৬ সালের ২৩ আগস্ট প্রকাশিত দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ও ইন্ডিপেনডেন্ট আরাবিয়ার যৌথ অনুসন্ধানে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ও ছবির বিশ্লেষণের ভিত্তিতে হামলাটি নতুন করে পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার ব্যাখ্যা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ থাকার দাবি করা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী নির্দিষ্ট অনুসন্ধান নিয়ে মন্তব্য না করে জানিয়েছে, তাদের পর্যালোচনা এখনো চলছে।   মরিয়মের মৃত্যু গাজায় সাংবাদিকদের জন্য তৈরি হওয়া ভয়াবহ পরিস্থিতিকেও সামনে এনেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্সের হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর অঞ্চলটিতে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহতের সংখ্যা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
আহত সাংবাদিক
বিক্ষোভ কাভার করতে গিয়ে আহত সাংবাদিক, শরীরে এখনও ৩০টি পেলেট

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি কাভার করতে গিয়ে পেলেটের আঘাতে আহত এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, ঘটনার পরও তাঁর শরীরের ভেতরে ৩০টি পেলেট রয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের শারীরিক যন্ত্রণা, চিকিৎসা ব্যয় এবং পেশাগত ক্ষতির কথা উল্লেখ করে তিনি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।   দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সাংবাদিক বিক্ষোভস্থলে দায়িত্ব পালন করার সময় আহত হন। চিকিৎসকেরা তাঁর শরীর থেকে সব পেলেট অপসারণ করতে পারেননি। বর্তমানে শরীরে রয়ে যাওয়া পেলেটের কারণে তিনি নিয়মিত ব্যথা অনুভব করছেন এবং ভবিষ্যতে আরও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। সাংবাদিকটি বলেন, “আমার শরীরের ভেতরে এখনও ৩০টি পেলেট রয়েছে। প্রতিদিন ব্যথা নিয়ে বাঁচতে হচ্ছে। আমি শুধু আমার দায়িত্ব পালন করছিলাম।”   তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি তাঁর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও গুরুতর প্রভাব ফেলেছে। চিকিৎসার ব্যয় বহন করাও তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই তিনি যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের সময় তিনি আহত হন। তবে দিল্লি পুলিশ পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।   পুলিশের দাবি, তারা ভিড় নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করেছে। এদিকে সাংবাদিকের অভিযোগের পর ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাংবাদিক সংগঠন, মানবাধিকারকর্মী এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশ দায়িত্ব পালনরত গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসা নীতিতে আসছে বড় পরিবর্তন
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসা নীতিতে আসছে বড় পরিবর্তন

বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাংবাদিকদের জন্য প্রচলিত ভিসা নীতিতে বড় ধরনের সংশোধনী আনতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের (ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) সাম্প্রতিক একটি নোটিশের বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে। প্রস্তাবিত এই নতুন নীতিমালার ফলে এতদিন ধরে চালু থাকা অনির্দিষ্ট মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সুযোগ বাতিল হতে যাচ্ছে, যা অভিবাসন প্রক্রিয়ায় একটি বড় কড়াকড়ি হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।   প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ‘এফ’ ভিসা, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও বিনিময় কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পাওয়া দর্শনার্থীদের ‘জে’ ভিসা এবং বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের ‘আই’ ভিসার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসবে।   এতদিন ধরে এই ভিসাগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মসূচি, গবেষণা বা কর্মসংস্থানের মেয়াদকাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সুযোগ বা 'ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস' বহাল থাকত। অর্থাৎ, কাজ বা পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ছাড়াই তারা সেখানে থাকতে পারতেন। কিন্তু নতুন নিয়মে এই সুবিধা আর থাকছে না। এর পরিবর্তে প্রতিটি ভিসার বিপরীতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।   নতুন এই নীতিমালার ফলে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কাজ বা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাইলে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য নতুন করে আবেদন করতে হবে। তবে মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তটি কবে থেকে কার্যকর হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নোটিশে জানানো হয়েছে, সিদ্ধান্তটি চূড়ান্তভাবে কার্যকরের তারিখ নির্ধারণের আগে তা মার্কিন কংগ্রেসে বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য উত্থাপন করা হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভুয়া টেক্সট মেসেজের ফাঁদে পড়ে ৭২ হাজার ডলার হারালেন সাবেক নিউজ অ্যাঙ্কর

দীর্ঘ ২২ বছর ধরে পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে টেলিভিশনের পর্দায় খবর পড়েছেন তিনি। মানুষকে সতর্ক করেছেন নানা প্রতারণার বিষয়ে। অথচ সেই তিনিই এবার একটি সাধারণ টেক্সট মেসেজ প্রতারণার শিকার হয়ে খুইয়েছেন ৭২ হাজার মার্কিন ডলার! যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনো শহরের ‘কেএসইই ২৪’ (KSEE 24) চ্যানেলের সাবেক সংবাদ পাঠিকা অ্যালেক্স ডেলগাডো নিজেই এখন এক চাঞ্চল্যকর খবরের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে ডেলগাডোর ফোনে জনপ্রিয় স্টক ট্রেডিং অ্যাপ ‘রবিনহুড’-এর নাম করে একটি সন্দেহজনক টেক্সট মেসেজ আসে। মেসেজটিতে বলা হয়, তার অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেনের চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত একটি নম্বরে কল করে রিপোর্ট করতে বলা হয়। একটি ভ্রমণের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত থাকা ডেলগাডো খুব একটা না ভেবেই ওই নম্বরে কল করে বসেন। আর সেটাই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। কলটি রিসিভ করার পর অপর প্রান্ত থেকে তাকে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে ‘ফ্রড ডিপার্টমেন্টে’ ট্রান্সফার করার কথা বলা হয়, যা শুনে তার কাছে পুরো বিষয়টি একেবারে আসল বলেই মনে হয়েছিল।   ফোনের ওই প্রান্তে থাকা ভুয়া প্রতিনিধি ডেলগাডোকে জানান যে, এশিয়া থেকে কেউ একজন অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করে তার ইনভেস্টমেন্ট অ্যাকাউন্টে প্রবেশের চেষ্টা করছে। তাই তদন্ত চলাকালীন নিরাপত্তার স্বার্থে তার বিনিয়োগকৃত অর্থ অন্য একটি অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নিতে হবে। ডেলগাডো জানান, এরপর টানা দুদিন ধরে প্রতারকরা ফোনে ধাপে ধাপে নির্দেশনা দিয়ে তাকে অর্থ স্থানান্তরে বাধ্য করে। মাঝে মাঝে তিনি কলটি কেটে দিতে চাইলেও প্রতারকরা নানা কৌশলে তাকে আটকে রাখে। যখন তিনি বুঝতে পারেন যে তার অ্যাকাউন্ট থেকে হাজার হাজার ডলার উধাও হয়ে গেছে, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।   নিজের এমন বোকামিতে চরম হতাশ এই সাবেক সাংবাদিক বলেন, “আমি নিজেকে খুব বোকা মনে করছি। খবরের মানুষ হিসেবে আমার আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। আমি এসব বিষয়ে খবর সংগ্রহ করেছি, সব সময় শুনেছি। এটি যদি আমার সাথে ঘটতে পারে, তবে যে কারও সাথেই হতে পারে।” ঘটনার পর তিনি আসল ‘রবিনহুড’ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলেও তাদের কিছুই করার ছিল না। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ জানালেও তার খোয়া যাওয়া অর্থ কবে ফেরত পাবেন বা আদৌ পাবেন কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। হতাশ ডেলগাডোর এখন একটাই পরামর্শ, “দুর্ভাগ্যবশত, নিজের মা ছাড়া আর কাউকেই বিশ্বাস করবেন না!”

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
জুলকারনাইন সায়েরের প্রতিবেদনে জয়ের কোটি ডলারের বিবাহবিচ্ছেদের গোপন সমঝোতা নথির তথ্য প্রকাশ

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়ের ব্যক্তিগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জয়ের বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত একটি অপ্রকাশিত সমঝোতা নথির তথ্য সামনে আনা হয়েছে। সেখানে বহু-মিলিয়ন ডলারের আর্থিক বন্দোবস্ত, করপোরেট শেয়ার হস্তান্তর এবং বাংলাদেশের কয়েকটি বড় প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভবিষ্যৎ আর্থিক স্বার্থের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।   অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা আউটলুকে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, জয়ের সাবেক স্ত্রী ক্রিস্টিনা ওয়াজেদের সঙ্গে সম্পাদিত ২২ পৃষ্ঠার সমঝোতা চুক্তির ১৩ থেকে ১৫ নম্বর পৃষ্ঠায় বিবাহবিচ্ছেদের পর উভয় পক্ষের আর্থিক দায়বদ্ধতা, ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং সম্পদ বণ্টনের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তিতে ডিজিকন টেকনোলজিস ও ফিনটেক সলিউশনসের ব্যবসায়িক স্বার্থ ভাগাভাগির বিষয় উল্লেখ আছে। পাশাপাশি সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ আয়কে ঘিরে একটি ট্রাস্ট কাঠামোর কথাও বলা হয়েছে।   করপোরেট সম্পদের বাইরে জয়ের ওপর বড় ধরনের ব্যক্তিগত আর্থিক দায়ও আরোপ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। “মনিটারি অ্যাওয়ার্ড” শিরোনামের অংশে উল্লেখ রয়েছে, ২০২৫ সালের ১ জুনের মধ্যে ক্রিস্টিনা ওয়াজেদকে এককালীন করমুক্ত ১০ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১২ কোটি ২৯ লাখ টাকা।   এ ছাড়া, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু করে প্রতি মাসের প্রথম দিনে ২০ হাজার ডলার করে ভরণপোষণ দেওয়ার শর্ত রাখা হয়েছে, যা চলবে ২০৩৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। পুরো সময়জুড়ে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়াবে ২৫ লাখ ডলারের বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০ কোটি ৭১ লাখ টাকার সমান।   চুক্তিতে বলা হয়েছে, এই ভরণপোষণের পরিমাণ ও সময়সীমা পরিবর্তনযোগ্য নয়। তবে উভয় পক্ষের কারও মৃত্যু, ক্রিস্টিনা ওয়াজেদের পুনর্বিবাহ অথবা এক বছর বা তার বেশি সময় ধরে বৈবাহিক সম্পর্কসদৃশ সহবাসে থাকলে অর্থ প্রদান বন্ধ হবে।   এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের শিশু ভরণপোষণ নির্দেশিকা অনুযায়ী তাদের কন্যা সোফিয়ার জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার ৪০০ ডলার দেওয়ার বিষয়েও সম্মত হয়েছেন জয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   নথিতে আরও বলা হয়েছে, সন্তান যদি পূর্ণকালীন উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়, নিজে উপার্জনে সক্ষম না হয় এবং ভরণপোষণ গ্রহণকারী অভিভাবকের সঙ্গে বসবাস করে, তাহলে ১৮ বছর বয়স অতিক্রমের পরও সহায়তা অব্যাহত থাকতে পারে। গুরুতর ও স্থায়ী শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।   এর আগে ২০২৫ সালের শুরুতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সজিব ওয়াজেদ জয় জানিয়েছিলেন, আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদের আগে প্রায় তিন বছর ধরে তারা আলাদা বসবাস করছিলেন।   তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত আর্থিক বন্দোবস্ত ও করপোরেট স্বার্থসংক্রান্ত দাবিগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো আদালত-স্বীকৃত নথি বা স্বাধীন সরকারি যাচাই প্রকাশ্যে আসেনি। এ বিষয়ে সজিব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নুরুল্লাহ সাইদ মে ২২, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানে নিখোঁজ পাইলট নিয়ে গোপন তথ্য ফাঁস, সাংবাদিকদের জেলে পাঠানোর হুমকি ট্রাম্পের

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ পাইলট সংক্রান্ত গোপন তথ্য ফাঁসের ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের ওপর নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তথ্যের উৎস বা ‘সোর্স’ প্রকাশ না করলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের কারাবরণ করতে হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিযোগ, গত শুক্রবার ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন F-15 ফাইটার জেট ভূপাতিত হওয়ার পর সেখানে থাকা দ্বিতীয় পাইলটের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি ইরান জানত না। কিন্তু মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো এই স্পর্শকাতর তথ্য প্রকাশ করে দেওয়ায় উদ্ধার অভিযান চরম ঝুঁকিতে পড়ে। ট্রাম্পের দাবি, সংবাদমাধ্যমে খবর আসার পরই ইরান সতর্ক হয়ে যায় এবং মার্কিন উদ্ধার অভিযান বাধাগ্রস্ত করতে বিশাল পুরস্কার ঘোষণা করে। সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, “আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই তথ্য ফাঁসকারীকে খুঁজছি। আমরা সরাসরি সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছে যাব এবং বলব—হয় তথ্যের উৎস জানান, না হয় জেলের জন্য প্রস্তুতি নিন। এটি কোনো সাধারণ বিষয় নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন।” যদিও প্রেসিডেন্ট নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম নেননি, তবে সিএনএন, সিবিএস নিউজ এবং নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রথম এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। ট্রাম্প এই তথ্য সরবরাহকারীকে একজন ‘অসুস্থ ব্যক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এদিকে, মার্কিন মানবাধিকার কর্মী ও বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই হুমকিকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে নিখোঁজ দুই পাইলটকেই সফলভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তা সত্ত্বেও, হোয়াইট হাউস ও সংবাদমাধ্যমের এই সংঘাত নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে বিশ্ব রাজনীতিতে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৩ সাংবাদিক নিহত: বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর আল-মানার টেলিভিশনের প্রখ্যাত সাংবাদিক আলী শুয়াইবসহ তিন গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। নিহত অন্য দুই সাংবাদিক হলেন ফাতেমা ও মোহাম্মদ ফাতুনি, যারা ইরানপন্থী আল-মায়াদিন চ্যানেলে কর্মরত ছিলেন।  লেবানন সরকার এই আক্রমণকে একটি ‘নির্লজ্জ অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আলী শুয়াইবকে ‘সাংবাদিকের ছদ্মবেশে থাকা একজন সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিযুক্ত করেছে এবং তাদের দাবি অনুযায়ী তিনি দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান ফাঁস করে দিচ্ছিলেন।  তবে হিজবুল্লাহ এবং আল-মানার টেলিভিশন এই অভিযোগ অস্বীকার করে শুয়াইবকে ‘প্রতিরোধ মিডিয়ার আইকন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, নিহত অন্য দুই সাংবাদিকের বিষয়ে ইসরায়েল কোনো মন্তব্য করেনি। লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, এই হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং যুদ্ধকালীন আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা মনে করে, সাংবাদিকরা যুদ্ধের ময়দানে বেসামরিক নাগরিক হিসেবে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন এবং তাদের লক্ষ্যবস্তু করা একটি যুদ্ধাপরাধ।  গাজায় ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের হত্যার পর লেবাননে এই ঘটনা গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তার ওপর বড় ধরণের আঘাত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সামিয়া মালিক

অস্ট্রেলিয়ায় সড়কে নামাজ পড়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু, চালকের সাজা স্থগিত

অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০