হলিউডের ব্যস্ত জীবন ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যে স্থায়ী হওয়ার সিদ্ধান্তকে জীবনের অন্যতম সেরা পরিবর্তন বলে মনে করছেন ‘ল্যান্ডম্যান’ তারকা আলি লার্টার। তার ভাষায়, লস অ্যাঞ্জেলেসের তুলনায় আইডাহোতে জীবন অনেক বেশি সহজ, শান্ত এবং পরিবারকেন্দ্রিক। সম্প্রতি নিউপোর্ট বিচ টিভি ফেস্টিভ্যালে ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন, ২০২০ সালে পরিবারের সঙ্গে আইডাহোর সান ভ্যালিতে চলে যাওয়ার পর থেকে তাদের গ্রীষ্মকালীন জীবনধারা পুরোপুরি বদলে গেছে। আলি লার্টার বলেন, এখন সন্তানদের নিয়ে আগের মতো দীর্ঘ পাহাড়ি পথে হাঁটতে যাওয়া সম্ভব না হলেও তারা একসঙ্গে সাইকেল চালান, নদীর ঠান্ডা পানিতে সময় কাটান এবং প্রকৃতির কাছাকাছি থাকেন। তিনি বলেন, "আমরা বাড়িতে বারবিকিউ করি, আমাদের কুকুরগুলোর সঙ্গে খেলি। আমার মেয়ে ভলিবল খেলতে পছন্দ করে। মাঝে মাঝে আমরা স্থানীয় দোকান থেকে আইসক্রিম খেতে যাই।" তার ভাষায়, "এখানে জীবন অনেক সহজ। গ্রীষ্মে রাত ১০টা পর্যন্ত সূর্যের আলো থাকে। তাই সন্তানদের সঙ্গে অনেক বেশি সময় কাটানোর সুযোগ পাই।" আলি লার্টার ও তার স্বামী অভিনেতা হেইস ম্যাকআর্থার দুই সন্তানের বাবা-মা। তাদের ছেলে টেডির বয়স ১৫ বছর এবং মেয়ে ভিভিয়েনের বয়স ১১ বছর। অভিনেত্রী জানান, কোভিড-১৯ মহামারির সময় ২০২০ সালে মাত্র দুই মাসের জন্য আইডাহোতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। ধারণা ছিল, ক্যালিফোর্নিয়ার স্কুল দ্রুত খুলে যাবে। কিন্তু তা না হওয়ায় সন্তানদের পড়াশোনা অনলাইনে চলতে থাকে। অন্যদিকে আইডাহোর স্কুল খুলে যাওয়ায় তাদের ছোট মেয়েকে সেখানে কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করাতে সক্ষম হন। লার্টারের ভাষায়, ওই সময়েই তারা স্থানীয় অনেক পরিবারের সঙ্গে পরিচিত হন। সন্তানদের নিয়ে স্কি করা, একসঙ্গে সময় কাটানো এবং ছোট শহরের পরিবেশ তাদের জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়। পরে গ্রীষ্মের ছুটিতে লস অ্যাঞ্জেলেসে ফিরে গিয়ে তারা উপলব্ধি করেন, হলিউডে একজন অভিনেতার জীবন শুধু অভিনয়েই সীমাবদ্ধ নয়। নিয়মিত অডিশনের পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠান, পার্টি ও দাতব্য আয়োজনে উপস্থিত থাকারও চাপ থাকে। তিনি বলেন, "আমরা সেই জীবন আর চাইনি। আমরা আমাদের সন্তানদের সঙ্গে থাকতে চেয়েছি। তখনই সিদ্ধান্ত নিই, আইডাহোতেই থেকে দেখব।" তবে লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রতি ভালোবাসার কথা অস্বীকার করেননি আলি লার্টার। তিনি বলেন, শহরটি সবসময়ই তার হৃদয়ের একটি অংশ হয়ে থাকবে। কিন্তু বর্তমান জীবনধারায় তিনি পরিবারের জন্য বেশি সময় দিতে পারছেন, যা তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘ল্যান্ডম্যান’-এ অ্যাঞ্জেলা চরিত্রে অভিনয় করছেন আলি লার্টার। সিরিজটিতে তিনি অভিনেতা বিলি বব থরন্টনের চরিত্রের সাবেক স্ত্রী হিসেবে অভিনয় করেছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি মজার ছলে বলেন, বাস্তব জীবনেও মাঝে মাঝে অ্যাঞ্জেলা চরিত্রের সাহসী ও প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্বকে নিজের মধ্যে ধারণ করতে ইচ্ছা হয়।
হলিউড তারকা রিচার্ড ড্রেফাসের সাবেক স্ত্রী এবং সাবেক অভিনেত্রী ও চিত্রনাট্যকার জেরেমি রেইন ড্রেফাস বাস্তব জীবনের পুরুষদের ওপর থেকে সম্পূর্ণ ভরসা হারিয়ে ফেলেছেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যে ডেটিং করার চেষ্টা করেও মনের মতো কোনো মানুষ খুঁজে না পেয়ে এবার তিনি শেষ জীবনটা কাটাতে চান একটি হিউম্যানয়েড বা মানুষের মতো দেখতে ‘রোবট’-এর সঙ্গে। জেরেমির মেয়ে এমিলি ড্রেফাস এক সাক্ষাৎকারে জানান, তাঁর মায়ের শেষ বয়সের একমাত্র অদ্ভুত ইচ্ছা হলো একটি ‘সেক্স রোবট’ বা ‘লাভ রোবট’ (ভালোবাসার রোবট) কেনা। জেরেমি রেইন অবশ্য ‘সেক্স রোবট’ শব্দটিতে আপত্তি জানিয়ে বলেন, তিনি মূলত এমন একটি ‘লাভ রোবট’ চান, যে ঘরের টুকটাক কাজ করে দেবে, যার ঠোঁট দুটো সুন্দর হবে এবং দিনশেষে বিছানায় তাঁর পাশে শুয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরবে। ৭৮ বছর বয়সী জেরেমি রেইনের এই অদ্ভুত ইচ্ছার পেছনে রয়েছে তাঁর অতীতের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা। হলিউডের প্রথম সারির কয়েকজন তারকার সঙ্গে তাঁর প্রেম ও বিয়ের সম্পর্ক ছিল চরম যন্ত্রণাদায়ক। অভিনেতা রিচার্ড ড্রেফাসের সঙ্গে এক দশকেরও বেশি সময় সংসার করার পাশাপাশি তিনি হলিউডের নামী তারকা জ্যাক নিকোলসন এবং বিখ্যাত গায়ক বব ডিলানের সঙ্গেও প্রেম করেছেন। কিন্তু প্রতিবারই পুরুষদের ক্যারিয়ারের অহংকার এবং প্রতারণার শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। জেরেমি আক্ষেপ করে বলেন, "রোবট কখনো আমার সঙ্গে ঝগড়া করবে না, ধোঁকা দেবে না, কিংবা আমাকে ছেড়ে চলে যাবে না। সে আমাকে কখনো বুড়ো বা কুৎসিতও ভাববে না, আমার রোবট শুধু আমাকেই ভালোবাসবে।" বর্তমানে বাজারে অ্যামাজনে প্রায় ১৮ হাজার ডলারে মানুষের মতো দেখতে অ্যাডভান্সড রোবট কিনতে পাওয়া গেলেও সেগুলো এখনো মানুষের মতো ভালোবাসতে শেখেনি। তবে আগস্টে ৭৯ বছরে পা দিতে যাওয়া সাবেক এই অভিনেত্রী তাঁর জীবনের শেষ সময়টা কোনো মানুষের চেয়ে একটি রোবটের সঙ্গেই বেশি নিরাপদ মনে করছেন।
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসিকে এবার দেখা গেল বড় পর্দার জনপ্রিয় সুপারহিরো স্পাইডার-ম্যানের প্রচারণায়। মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সিনেমার প্রচারমূলক ভিডিওতে অভিনেতা টম হল্যান্ডের সঙ্গে হাজির হয়ে ভক্তদের চমকে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিশ্বকাপে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনায় থাকা মেসি এবার সিনেমাপ্রেমীদেরও নজর কেড়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রোমোশনাল ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কফিশপে বসে পিটার পার্কার (টম হল্যান্ড) কফি পান করতে করতে ফোনে কথা বলছেন। ঠিক তখনই স্পাইডার-ম্যানকে খুঁজতে একটি ট্র্যাকার হাতে ক্যাফেতে প্রবেশ করেন লিওনেল মেসি। মেসিকে সামনে দেখে বিস্মিত হয়ে পিটার পার্কার বলে ওঠেন, ‘তুমি... মেসি?’ তবে ক্যাফের মালিকের প্রতিক্রিয়া ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। তিনি শান্তভাবে জবাব দেন, ‘হ্যাঁ, উনি মেসি।’ এরপর পিটার পার্কার মেসিকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলে বাইরে যান এবং স্পাইডার-ম্যানের পোশাকে ফিরে আসেন। পরে স্পাইডার-ম্যান মজার ছলে মেসিকে জিজ্ঞেস করেন, ‘উঁচুতে ভয় লাগে না তো?’ এরপরই দেখা যায়, আকাশচুম্বী ভবনের মাঝ দিয়ে জাল ছুড়ে স্পাইডার-ম্যান মেসিকে নিয়ে উড়ে বেড়াচ্ছেন। ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। অনেকেই এটিকে বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় সিনেমা প্রচারণা হিসেবে মন্তব্য করছেন। এদিকে নির্মাতারা জানিয়েছেন, ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম চলচ্চিত্র, যা পুরোপুরি স্ক্রিন-এক্স (ScreenX) প্রযুক্তির জন্য শুটিং করা হয়েছে। এই প্রযুক্তিতে শুধু সামনের পর্দাই নয়, সিনেমা হলের দুই পাশের দেয়ালও প্রদর্শনের অংশ হয়ে যায়। ফলে দর্শক ২৭০ ডিগ্রি প্যানোরামিক ভিউ উপভোগ করতে পারেন। নির্মাতাদের দাবি, এতে স্পাইডার-ম্যান যখন আকাশচুম্বী ভবনের ফাঁক দিয়ে জাল ছুড়ে উড়বে, তখন দর্শকদেরও মনে হবে তারা যেন তার সঙ্গেই উড়ে চলেছেন। বিশ্বব্যাপী ৩১ জুলাই মুক্তি পাবে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। তবে তার আগে ১৭ জুলাই পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলানের বহুল প্রতীক্ষিত ‘দ্য ওডিসি’ সিনেমায়ও দেখা যাবে টম হল্যান্ডকে। ফলে পরপর দুটি বড় বাজেটের চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এই ব্রিটিশ অভিনেতা।
বিশ্বখ্যাত মার্কিন পপ তারকা কেট পেরি’র বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার গুরুতর অভিযোগ এনেছেন অস্ট্রেলীয় অভিনেত্রী ও মডেল রুবি রোজ। ২০১০ সালে মেলবোর্নের একটি নাইটক্লাবে ঘটা এক ঘটনার রেশ ধরে শুরু হয়েছে এই আইনি লড়াই। এরই মধ্যে অভিযোগটি তদন্ত করতে মাঠে নেমেছে অস্ট্রেলীয় পুলিশ। কী ঘটেছিল সেদিন? অরেঞ্জ ইজ দ্য নিউ ব্ল্যাকখ্যাত অভিনেত্রী রুবি রোজ সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে জানান, ২০১০ সালে মেলবোর্নের 'স্পাইস মার্কেট' নাইটক্লাবে কেট পেরি তাকে যৌন হেনস্থা করেছিলেন। রুবি’র দাবি, ঘটনাটি এতোটাই কুরুচিপূর্ণ ছিল যে তিনি তৎক্ষণাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। প্রায় দুই দশক আগের সেই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা এখন প্রকাশ্যে আনলেন তিনি। পুলিশি তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ: ভিক্টোরিয়া পুলিশ সিএনএন-কে নিশ্চিত করেছে যে, মেলবোর্ন যৌন অপরাধ এবং শিশু নির্যাতন তদন্ত দল (SOCIT) রুবি রোজের আনা এই অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। রুবি রোজ জানিয়েছেন, তিনি ইতিমধ্যে পুলিশের কাছে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট জমা দিয়েছেন এবং আইনি প্রক্রিয়ার স্বার্থে আপাতত বিষয়টি নিয়ে জনসমক্ষে আর মন্তব্য করবেন না। কেট পেরি’র পাল্টা প্রতিক্রিয়া: কেট পেরি তার প্রতিনিধির মাধ্যমে এই অভিযোগকে পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তার মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, "রুবি রোজ সামাজিক মাধ্যমে কেট পেরি’র বিরুদ্ধে যে কথাগুলো ছড়িয়েছেন তা সম্পূর্ণ অসত্য এবং এগুলো বিপজ্জনক ও বেপরোয়া মিথ্যাচার।" কেট পেরি’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রুবি’র এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ করার ইতিহাস রয়েছে। কেন এতো দেরি? রুবি রোজ জানিয়েছেন, আগে তিনি ক্যারিয়ার এবং মার্কিন ভিসার প্রয়োজনে চুপ ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি মানসিকভাবে শক্তিশালী বোধ করায় এবং নিজের প্রতি হওয়া অন্যায়ের বিচার পেতে মুখ খুলেছেন। এই ঘটনায় হলিউড ও অস্ট্রেলীয় বিনোদন জগতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তদন্তে কী উঠে আসে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
জনপ্রিয় মার্কিন সিটকম ‘ফ্রেন্ডস’-খ্যাত অভিনেতা ম্যাথিউ পেরির মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। সেই মৃত্যুর পেছনে জড়িত থাকার দায়ে অভিযুক্ত এবং হলিউডের মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত জাসভীন সাঙ্ঘা, যাকে ‘কেটামিন কুইন’ বলা হয়, তার সাজা ঘোষণা হতে যাচ্ছে। রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত আজ (৮ এপ্রিল ২০২৬) এই আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করতে পারেন। ঘটনার প্রেক্ষাপট: ২০২৩ সালের অক্টোবরে লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজের বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ৫৪ বছর বয়সী ম্যাথিউ পেরিকে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে জানানো হয়, তার শরীরে অতিমাত্রায় ‘কেটামিন’ (এক ধরনের চেতনানাশক মাদক) পাওয়া গিয়েছিল। তদন্তে উঠে আসে, পেরির এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পেছনে কাজ করেছে একটি বড় মাদক সিন্ডিকেট, যার মূল হোতা ছিলেন ৪২ বছর বয়সী জাসভীন সাঙ্ঘা। অভিযোগ ও বিচার প্রক্রিয়া: আদালতের নথি অনুযায়ী, জাসভীন সাঙ্ঘা পেরিকে প্রাণঘাতী কেটামিন সরবরাহ করেছিলেন। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেন। তার বিরুদ্ধে ড্রাগ ডিস্ট্রিবিউশন এবং ড্রাগ হাউজ পরিচালনার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, সাঙ্ঘা তার লস অ্যাঞ্জেলেসের বাড়ি থেকে বছরের পর বছর ধরে তারকাদের কাছে মাদক বিক্রি করে আসছিলেন। সম্ভাব্য সাজা: আইনজীবীদের দাবি, জাসভীন সাঙ্ঘার কারণে কেবল ম্যাথিউ পেরি নন, বরং এর আগেও ২০১৯ সালে অন্য এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। বর্তমান চার্জ অনুযায়ী, তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। তবে প্রসিকিউটররা তার অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদী জেল ও বিপুল পরিমাণ অর্থদণ্ডের আবেদন জানিয়েছেন। সহ-অভিযুক্তদের অবস্থা: ম্যাথিউ পেরি মৃত্যু মামলায় মোট পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। এর মধ্যে দুজন চিকিৎসক এবং পেরির ব্যক্তিগত সহকারীও রয়েছেন। এদের মধ্যে একজন চিকিৎসককে ইতিমধ্যে আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং বাকিরা বিভিন্ন মেয়াদে সাজার মুখে রয়েছেন। ম্যাথিউ পেরির কোটি কোটি ভক্ত এখন তাকিয়ে আছেন আদালতের এই রায়ের দিকে। বিশ্বজুড়ে মাদকের ভয়াবহতা এবং সেলিব্রিটিদের জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব এই মামলার মাধ্যমে আবারও সামনে এসেছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।