সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

জরুরি অবতরণের সময় গ্রিসে আগুনে পুড়ল এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, নিরাপদে পাইলট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৯, ২০২৬ ২১:২৭
জরুরি অবতরণের পর আগুনে জ্বলছে গ্রিসের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। ছবি: সংগৃহীত
জরুরি অবতরণের পর আগুনে জ্বলছে গ্রিসের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। ছবি: সংগৃহীত

গ্রিসের জাকিনথোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সময় একটি এফ-১৬সি ফাইটিং ফ্যালকন যুদ্ধবিমানে আগুন ধরে যায়। তবে দক্ষতার সঙ্গে বিমানটি অবতরণ করাতে সক্ষম হন পাইলট এবং তিনি অক্ষত রয়েছেন বলে জানিয়েছে গ্রিক বিমান বাহিনী। ঘটনার পর বিমানবন্দরের রানওয়েতে দমকলকর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং সাময়িকভাবে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

 

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে গ্রিসের হেলেনিক এয়ার ফোর্সের ৩৩৫তম স্কোয়াড্রনের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ মিশনে অংশ নেওয়ার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির মুখে পড়ে। বিমানটি উত্তর-পশ্চিম গ্রিসের আরাকসোস বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছিল। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পাইলট নিকটতম বিমানবন্দর জাকিনথোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রানওয়েতে নামার পর যুদ্ধবিমানটির নিচের অংশে আগুন জ্বলে ওঠে। আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা বিমানবন্দরের দমকলকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে ফোম ও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পাইলট নিরাপদে বিমান থেকে বেরিয়ে আসেন।

গ্রিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিমানটির ল্যান্ডিং গিয়ারে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

ঘটনার কারণে জাকিনথোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একমাত্র রানওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। ফলে নির্ধারিত বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল হয় এবং যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

এই দুর্ঘটনার কয়েক দিন আগেই গ্রিসের ১১৬তম কমব্যাট উইং তাদের এফ-১৬ বহর আধুনিকীকরণের ঘোষণা দিয়েছিল। যদিও সাম্প্রতিক এই ঘটনার সঙ্গে সেই আধুনিকীকরণ কর্মসূচির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামরিক বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে পাইলটদের কঠোর জরুরি প্রোটোকল অনুসরণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে পাইলট নিরাপদে বিমানটি অবতরণ করাতে সক্ষম হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে। তদন্ত শেষ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ সামরিক বিমান ধ্বংস, ক্ষয়ক্ষতি ৩৩০ কোটি ডলারের বেশি
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ সামরিক বিমান ধ্বংস, ক্ষয়ক্ষতি ৩৩০ কোটি ডলারের বেশি

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি সামরিক বিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক এফ-১৫ ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং বিপুলসংখ্যক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই ক্ষয়ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে। সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ ৩৩০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে মার্কিন কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।   গত সোমবার (৫ অক্টোবর) হালনাগাদ করা এই প্রতিবেদনের তথ্য বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। প্রতিবেদনে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো বিমান ও ড্রোনের হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।   সিআরএস জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড, প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনা করে এই হিসাব তৈরি করা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন বহরে। ইরানের সঙ্গে সামরিক অভিযানে অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে মার্কিন বাহিনী। গোয়েন্দা নজরদারি এবং নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ব্যবহৃত এই ড্রোন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তি।   গত ১৩ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তিন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে অন্তত ৪৫টি রিপার ড্রোন হারানোর তথ্য সামনে আসে। নতুন কংগ্রেশনাল প্রতিবেদনে সেই সংখ্যাই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   শুধু রিপার ড্রোন নয়, ইরানের সামরিক অভিযানে আরও তিনটি এমকিউ-১ ড্রোন এবং একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন হারানোর তথ্যও রয়েছে। এর মধ্যে এমকিউ-৪সি ট্রাইটন দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   মানবচালিত যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য ক্ষতির কথা জানিয়েছে সিআরএস।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে চারটি বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আটটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আবারও ব্যবহারযোগ্য করা হয়েছে।   গত ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে নিজেদের মিত্রবাহিনীর ভুলবশত গুলিতে তিনটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। এ ধরনের ঘটনাকে সামরিক পরিভাষায় ফ্রেন্ডলি ফায়ার বলা হয়।   এরপর ৫ এপ্রিল ইরানের আকাশে আরও একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয় বলে জানিয়েছিল ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড।   অন্যদিকে গত ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর জর্ডানের মুওয়াফফাক সালটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আটটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেগুলো মেরামত করে আবারও সামরিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।   মার্কিন বিমানবাহিনীর অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ লাইটনিং টু যুদ্ধবিমানও ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় রয়েছে। গত ১৯ মার্চ ইরানের আকাশে ভূমি থেকে চালানো হামলায় একটি এফ-৩৫এ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল।   এফ-৩৫ যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমানগুলোর একটি। শত্রুপক্ষের রাডার এড়িয়ে অভিযান পরিচালনার সক্ষমতার কারণে এই যুদ্ধবিমান মার্কিন সামরিক শক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।   এছাড়া দুটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে ৬ এপ্রিল শত্রুপক্ষের হামলায় একটি এ-১০ বিধ্বস্ত হয় বলে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছিলেন। অন্যটি সেপ্টেম্বরে জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।   আকাশে জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার বিমানগুলোরও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।   কংগ্রেশনাল প্রতিবেদনে সাতটি কেসি-১৩৫ বিমানের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য রয়েছে। গত ১২ মার্চ ইরাকে দুটি কেসি-১৩৫ বিমান একটি ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে একটি বিধ্বস্ত হয়ে ছয় মার্কিন ক্রু সদস্যের মৃত্যু হয়। অন্য বিমানটি জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়।   এর দুই দিন পর সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আরও পাঁচটি কেসি-১৩৫ বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা সমন্বয়ের জন্য ব্যবহৃত একটি ই-৩ সেন্ট্রি বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্চের শেষ দিকে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হামলায় বিমানটি ক্ষতির মুখে পড়ে। পরবর্তী প্রতিবেদনে বিমানটিতে সরাসরি আঘাত লাগার তথ্যও উঠে আসে।   সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হেলিকপ্টারগুলোর মধ্যেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।   সিআরএসের হিসাবে, চারটি এএইচ-৬ লিটল বার্ড হেলিকপ্টার, একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি, একটি এমএইচ-৬০ সি হক এবং একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন টু হেলিকপ্টার ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   এছাড়া বিশেষ সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহৃত দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো টু বিমানও ধ্বংস হওয়ার তথ্য রয়েছে। এপ্রিল মাসে ইরানে ভূপাতিত একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ক্রুদের উদ্ধারের অভিযানের সময় বিমান দুটি ধ্বংস করা হয়েছিল।   তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ৮১টি বিমান ও ড্রোনের সবই ইরানের সরাসরি হামলায় ধ্বংস হয়নি। এর মধ্যে কিছু বিমান শত্রুপক্ষের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিছু বিধ্বস্ত হয়েছে দুর্ঘটনায়, আবার কিছু মিত্রবাহিনীর ভুলবশত হামলার শিকার হয়েছে। কয়েকটি বিমান উদ্ধার অভিযান পরিচালনার সময় মার্কিন বাহিনী নিজেরাই ধ্বংস করেছে।   একইভাবে ৮১টি বিমানই স্থায়ীভাবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে, এমন তথ্যও প্রতিবেদনে বলা হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি বিমান ইতোমধ্যে মেরামত করে সামরিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথভাবে সামরিক অভিযান শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযানের নাম দেয় অপারেশন এপিক ফিউরি।   মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিমান হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং সামরিক স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি আক্রমণের মধ্য দিয়ে সংঘাত বিস্তৃত হয়। এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতির পর সামরিক তৎপরতা কিছুটা কমলেও পরবর্তী সময়ে আবারও হামলার ঘটনা ঘটে।   এই দীর্ঘ সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রতিস্থাপন ব্যয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   মার্কিন কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের সেপ্টেম্বর মাসের হিসাবে, ১ আগস্ট পর্যন্ত সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতির পরিমাণ প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করে ১৯০ কোটি থেকে ৩৩০ কোটি ডলারের মধ্যে হতে পারে।   তবে এই হিসাব শুধু বিমান ও ড্রোনের ক্ষতির জন্য নয়। এতে যুদ্ধের অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে ৮১টি বিমানের ক্ষতির আর্থিক মূল্য এককভাবে ৩৩০ কোটি ডলার বলে ধরে নেওয়া যাবে না।   কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস সতর্ক করেছে, যুদ্ধের পরিস্থিতি এবং নতুন তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। কিছু সামরিক তথ্য গোপনীয় হওয়ায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নির্ধারণও কঠিন।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এসব ক্ষয়ক্ষতির কারণে মার্কিন কংগ্রেসকে সামরিক বাজেট, নতুন বিমান কেনা, ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম মেরামত এবং সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করতে হতে পারে।   বিশেষ করে ই-৩ সেন্ট্রির মতো পুরোনো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের অন্য অঞ্চলের সামরিক প্রস্তুতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।   একই সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কত দ্রুত নতুন বিমান ও ড্রোন সরবরাহ করতে পারবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। উৎপাদন সক্ষমতা, যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক সামরিক চাহিদার কারণে প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে।   মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব শুধু কতগুলো বিমান ধ্বংস হয়েছে, তা দিয়ে মূল্যায়ন করা যায় না। ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের সামরিক গুরুত্ব, প্রতিস্থাপন ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ অভিযানের সক্ষমতার ওপর এর প্রভাবও বিবেচনা করতে হয়।   সর্বশেষ কংগ্রেশনাল প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও ড্রোন বহর উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে এই ক্ষয়ক্ষতির কতটা স্থায়ী এবং ভবিষ্যতে সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে কত ব্যয় হবে, তা নির্ধারণে আরও বিস্তারিত সরকারি তথ্য প্রয়োজন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৭:৫৪
ভারতে ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ মুসলিমের নাম বাদ, মোদিবিরোধী বিক্ষোভ

ভারতে ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ মুসলিমের নাম বাদ, মোদিবিরোধী বিক্ষোভ

বাংলাদেশের মতো ভারতে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস

বাংলাদেশের মতো ভারতে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপির

বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের শিকার ফ্রান্সের মুসলিম মেয়র

বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের শিকার ফ্রান্সের মুসলিম মেয়র

মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশ মিসর, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে বিপুল অস্ত্র বিক্রি করছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
মিসর, কুয়েত ও আমিরাতকে ২০০ কোটি ডলারের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মিসর, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে মোট প্রায় ২ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষা সহায়তা বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশ তিনটির জন্য আলাদা তিনটি সম্ভাব্য বিদেশি সামরিক বিক্রির বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে জানিয়েছে। প্রস্তাবিত প্যাকেজে মিসরের জন্য জ্যাভেলিন ক্ষেপণাস্ত্র, কুয়েতের জন্য প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং আমিরাতের জন্য নির্ভুল নিশানার অস্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে।   তিনটি চুক্তির মধ্যে সবচেয়ে বড়টি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে। দেশটি সর্বোচ্চ ১০ হাজার অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম-২ বা এপিকেডব্লিউএস-২-এর নির্দেশনা ব্যবস্থা কিনতে পারবে। এর সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ১ দশমিক ০৪১ বিলিয়ন ডলার। এসব নির্দেশনা ব্যবস্থা আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে স্থলে ব্যবহারের উপযোগী করে চাওয়া হয়েছে।   এপিকেডব্লিউএস-২ মূলত সাধারণ রকেটকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদী অস্ত্রে রূপান্তরের একটি নির্দেশনা ব্যবস্থা। এতে লেজার-নির্দেশনা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। প্রস্তাবিত প্যাকেজে নির্দেশনা ব্যবস্থার পাশাপাশি ওয়ারহেড, রকেট মোটর, ফিউজ, প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম এবং কারিগরি ও সরবরাহ সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে তুলনামূলক কম খরচে ড্রোনের মতো লক্ষ্যবস্তু মোকাবিলায় এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চলে এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।   মিসরের জন্য প্রস্তাবিত অস্ত্র প্যাকেজের মূল্য ৮৩২ মিলিয়ন ডলার। এর আওতায় কায়রো সর্বোচ্চ ২ হাজার ২০টি এফজিএম-১৪৮এফ জ্যাভেলিন অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সর্বোচ্চ ২০০টি জ্যাভেলিন লাইটওয়েট কমান্ড লঞ্চ ইউনিট কিনতে পারবে। এর মধ্যে ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রে পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য রাখা হবে। প্যাকেজে প্রশিক্ষণ, সিমুলেশন সরঞ্জাম, খুচরা যন্ত্রাংশ, কারিগরি সহায়তা ও অন্যান্য সহায়ক ব্যবস্থাও রয়েছে।   জ্যাভেলিন একটি বহনযোগ্য অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, যা সাঁজোয়া যান ও ট্যাংকের মতো লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য তৈরি। মিসরের জন্য এই প্রস্তাবিত বিক্রিটি দেশটির সামরিক বাহিনীর জন্য জ্যাভেলিন ব্যবস্থার প্রথম সম্ভাব্য অধিগ্রহণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অনুমোদন মানেই চূড়ান্ত চুক্তি হয়ে গেছে এমন নয়। আলোচনার পর অস্ত্রের চূড়ান্ত সংখ্যা, মূল্য ও সরবরাহের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।   কুয়েতের জন্য অনুমোদিত প্যাকেজটির ধরন কিছুটা ভিন্ন। দেশটি নতুন করে বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র না কিনে বিদ্যমান প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মেরামত ও পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করার সেবা এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম পাবে। এ প্যাকেজের আনুমানিক মূল্য ৪০০ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে পরিবহন, মেরামতের যন্ত্রাংশ, সহায়ক সরঞ্জাম, পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের সরঞ্জাম, কারিগরি তথ্য, প্রশিক্ষণ এবং মার্কিন সরকারের ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশল ও কারিগরি সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, কুয়েতের এই সহায়তা দেশটির নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে ব্যবহার করা হবে। মধ্যপ্রাচ্যে কুয়েত দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে এবং দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষায় প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র মেরামত ও সংশ্লিষ্ট কারিগরি সহায়তার প্রয়োজনীয়তাই এই প্যাকেজের মূল বিষয়।   যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনটি সম্ভাব্য বিক্রিই দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এসব অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা সরবরাহের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে মৌলিক পরিবর্তন হবে না বলেও মার্কিন কর্তৃপক্ষের মূল্যায়ন রয়েছে। তবে এই বিক্রিগুলো চূড়ান্ত করতে কংগ্রেসের পরবর্তী প্রক্রিয়া এবং ক্রেতা দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।   এই ঘোষণার সময়টিও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। আঞ্চলিক সংঘাত ও ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার ঝুঁকির মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে। বিশেষ করে কুয়েতের প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা সচল রাখা এবং আমিরাতের জন্য তুলনামূলক কম ব্যয়ের নির্ভুল অস্ত্র ব্যবস্থা সংগ্রহের উদ্যোগ সেই বৃহত্তর নিরাপত্তা বাস্তবতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   সব মিলিয়ে মিসর, কুয়েত ও আমিরাতের জন্য অনুমোদিত তিনটি প্যাকেজের সম্ভাব্য মূল্য দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ দশমিক ২৭৩ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে আমিরাতের প্যাকেজ ১ দশমিক ০৪১ বিলিয়ন, মিসরের ৮৩২ মিলিয়ন এবং কুয়েতের ৪০০ মিলিয়ন ডলার। তবে এগুলো সম্ভাব্য বিদেশি সামরিক বিক্রির অনুমোদন হওয়ায় চূড়ান্ত চুক্তির পরিমাণ ও সরঞ্জামের সংখ্যা কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, আনাদোলু এজেন্সি ও ডিফেন্স নিউজ।

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ০:১৭
স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে প্রদর্শিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’ ভাস্কর্য। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ট্রাম্পের নগ্ন সোনালি ভাস্কর্য, নাম ‘অরেঞ্জ প্লেগ’

ফিজিক্সে নোবেলজয়ীর ২৩০ পৃষ্ঠার সিভি! গবেষণাজীবনের বিস্ময়কর দলিল

ফিজিক্সে নোবেলজয়ীর ২৩০ পৃষ্ঠার সিভি! গবেষণাজীবনের বিস্ময়কর দলিল

কিম জং উনের বাবার মৃত্যুতে ১১ দিনের শোক, চোখের পানি পড়ছে কিনা দেখতে নিষিদ্ধ ছিল টুপি-গ্লাভস-স্কার্ফ

কিম জং উনের বাবার মৃত্যুতে ১১ দিনের শোক, চোখের পানি পড়ছে কিনা দেখতে নিষিদ্ধ ছিল টুপি-গ্লাভস-স্কার্ফ

যুক্তরাজ্যের শীর্ষ কলেজে সারোয়ার দম্পতির ৫০ লাখ পাউন্ড আত্মসাৎ
যুক্তরাজ্যের শীর্ষ কলেজে সারোয়ার দম্পতির ৫০ লাখ পাউন্ড আত্মসাৎ, পরিচালকের স্বীকারোক্তি

যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে অবস্থিত কার্ডিফ সিক্সথ ফর্ম কলেজের তহবিল থেকে অন্তত ৫০ লাখ পাউন্ড আত্মসাতের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক পরিচালক দম্পতি নাদিম সারোয়ার ও ইয়াসমিন সারোয়ার। নাদিম সারোয়ার ইতোমধ্যে কলেজের অর্থ আত্মসাতের দায় স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে তার সাবেক স্ত্রী ইয়াসমিন সারোয়ার নিজের বিরুদ্ধে আনা নয়টি চুরি ও প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করে মারথার টিডফিল ক্রাউন কোর্টে বিচার মোকাবিলা করছেন।    মঙ্গলবার আদালতে প্রসিকিউশন পক্ষ অভিযোগ করে, একসময় যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় এ লেভেল কলেজ হিসেবে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটির অর্থকে ব্যক্তিগত সম্পদের মতো ব্যবহার করেছিলেন সারোয়ার দম্পতি। প্রসিকিউটর মার্ক কটার কেসি জুরিদের বলেন, তারা কলেজের তহবিলকে নিজেদের ‘ব্যক্তিগত পিগি ব্যাংক’ হিসেবে ব্যবহার করে সম্পত্তি কেনা, বিদেশে অর্থ পাঠানো এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনে ব্যয় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।    নাদিম সারোয়ার গত ২৯ সেপ্টেম্বর আদালতে ২০০৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে কার্ডিফ সিক্সথ ফর্ম কলেজ থেকে কমপক্ষে ৫০ লাখ পাউন্ড চুরির দায় স্বীকার করেন। একই মামলায় কলেজের সাবেক হিসাবরক্ষক রাগু শিবাপালান অডিট রিপোর্টে বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার অপরাধও স্বীকার করেছেন। তাদের সাজা পরে ঘোষণা করা হবে।    তবে ইয়াসমিন সারোয়ার তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, তিনি কলেজের পরিচালক ও ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্বে থাকার সময় অর্থ সরিয়ে নেওয়া এবং পরে সেই লেনদেনের তথ্য গোপন করার প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, কর্মচারী হিসেবে চুরি এবং অপরাধলব্ধ অর্থ গোপন বা স্থানান্তরসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া প্রায় ১০ সপ্তাহ চলতে পারে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।    এই মামলার সূত্রপাত অবশ্য সাম্প্রতিক নয়। সাউথ ওয়েলস পুলিশ ২০২৫ সালের মার্চে জানায়, কার্ডিফ সিক্সথ ফর্ম কলেজে ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সংঘটিত সন্দেহভাজন বহু মিলিয়ন পাউন্ডের প্রতারণা ও চুরির ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে চ্যারিটি কমিশন ফর ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সরবরাহ করেছিল। তখন নাদিম ও ইয়াসমিন সারোয়ারের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০ লাখ পাউন্ডের চুরি ও প্রতারণার অভিযোগ এবং রাগু শিবাপালানের বিরুদ্ধে মিথ্যা হিসাব তৈরির অভিযোগ আনা হয়।    কার্ডিফ সিক্সথ ফর্ম কলেজের যাত্রা শুরু হয়েছিল ছোট পরিসরে। ইয়াসমিন সারোয়ার প্রথমে নিজের বাড়িতে এ লেভেল শিক্ষার্থীদের পড়াতেন। পরে সেই কার্যক্রমই বড় হয়ে কার্ডিফ সিক্সথ ফর্ম কলেজে রূপ নেয়। প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং ফলাফলের কারণে যুক্তরাজ্যের অন্যতম সফল স্বাধীন সিক্সথ ফর্ম কলেজ হিসেবে পরিচিতি পায়। ২০১৬ সালে বিবিসির ‘ব্রিটেনস ব্রেইনিয়েস্ট স্কুল’ তথ্যচিত্রেও কলেজটি স্থান পায়।    প্রসিকিউশনের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি দাতব্য সংস্থা হিসেবে পরিচালিত হলেও ট্রাস্টি ও পরিচালনা কাঠামোর দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে বিপুল অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, কলেজের নামে থাকা মূল অ্যাকাউন্টের বাইরে অন্য অ্যাকাউন্টেও শিক্ষার্থীদের ফি জমা নেওয়া হতো এবং সেই অর্থের একটি অংশ পরে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়।   আদালতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কলেজের অর্থ ব্যবহার করে কার্ডিফে উচ্চমূল্যের সম্পত্তি কেনা এবং মালয়েশিয়ায় অর্থ পাঠানো হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বড় অংশ এখনো ইয়াসমিন সারোয়ারের বিরুদ্ধে চলমান বিচারাধীন মামলার অংশ এবং আদালত এখনো সেগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।   মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নাদিম সারোয়ারের দায় স্বীকারের ফলে ৫০ লাখ পাউন্ড আত্মসাতের অন্তত একটি অংশ এখন আর শুধু অভিযোগের পর্যায়ে নেই। তবে ইয়াসমিন সারোয়ারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো বিচারাধীন। তার দোষ বা নির্দোষ হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতই দেবে।   এদিকে কলেজটির বর্তমান পরিচালনা ও মালিকানা আগের সময়ের তুলনায় পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে ২০০৮ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সংঘটিত বলে অভিযোগ ওঠা আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে বর্তমান ব্যবস্থাপনার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি। বর্তমান বিচার মূলত প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালনা পর্বের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েই চলছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ২:৮
সৌদিতে নির্যাতনের অভিযোগে গোপনে ভিডিও করা রেহেনা এখন দূতাবাসের হেফাজতে

সৌদিতে নির্যাতনের অভিযোগে গোপনে ভিডিও করা রেহেনা এখন দূতাবাসের হেফাজতে

কানাডায় রাস্তা পার হওয়া পথচারীর সঙ্গে তর্কে জড়ানোয় ভারতীয় নারী গ্রেফতার

কানাডায় রাস্তা পার হওয়া পথচারীর সঙ্গে তর্কে জড়ানোয় ভারতীয় নারী গ্রেফতার, ভিডিও ভাইরাল

প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার ফ্লাইট চলাচল করলেও বিমান ভ্রমণ এখনো অনেকের কাছেই স্বপ্নের মতো। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ জীবনে একবারও চড়েননি বিমানে

0 Comments