বিশ্ব

জরুরি অবতরণের সময় গ্রিসে আগুনে পুড়ল এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, নিরাপদে পাইলট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৯, ২০২৬ ২১:২৭
জরুরি অবতরণের পর আগুনে জ্বলছে গ্রিসের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। ছবি: সংগৃহীত
জরুরি অবতরণের পর আগুনে জ্বলছে গ্রিসের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। ছবি: সংগৃহীত

গ্রিসের জাকিনথোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সময় একটি এফ-১৬সি ফাইটিং ফ্যালকন যুদ্ধবিমানে আগুন ধরে যায়। তবে দক্ষতার সঙ্গে বিমানটি অবতরণ করাতে সক্ষম হন পাইলট এবং তিনি অক্ষত রয়েছেন বলে জানিয়েছে গ্রিক বিমান বাহিনী। ঘটনার পর বিমানবন্দরের রানওয়েতে দমকলকর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং সাময়িকভাবে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

 

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে গ্রিসের হেলেনিক এয়ার ফোর্সের ৩৩৫তম স্কোয়াড্রনের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ মিশনে অংশ নেওয়ার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির মুখে পড়ে। বিমানটি উত্তর-পশ্চিম গ্রিসের আরাকসোস বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছিল। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পাইলট নিকটতম বিমানবন্দর জাকিনথোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রানওয়েতে নামার পর যুদ্ধবিমানটির নিচের অংশে আগুন জ্বলে ওঠে। আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা বিমানবন্দরের দমকলকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে ফোম ও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পাইলট নিরাপদে বিমান থেকে বেরিয়ে আসেন।

গ্রিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিমানটির ল্যান্ডিং গিয়ারে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

ঘটনার কারণে জাকিনথোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একমাত্র রানওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। ফলে নির্ধারিত বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল হয় এবং যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

এই দুর্ঘটনার কয়েক দিন আগেই গ্রিসের ১১৬তম কমব্যাট উইং তাদের এফ-১৬ বহর আধুনিকীকরণের ঘোষণা দিয়েছিল। যদিও সাম্প্রতিক এই ঘটনার সঙ্গে সেই আধুনিকীকরণ কর্মসূচির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামরিক বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে পাইলটদের কঠোর জরুরি প্রোটোকল অনুসরণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে পাইলট নিরাপদে বিমানটি অবতরণ করাতে সক্ষম হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে। তদন্ত শেষ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
জরুরি অবতরণের পর আগুনে জ্বলছে গ্রিসের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। ছবি: সংগৃহীত
জরুরি অবতরণের সময় গ্রিসে আগুনে পুড়ল এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, নিরাপদে পাইলট

গ্রিসের জাকিনথোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সময় একটি এফ-১৬সি ফাইটিং ফ্যালকন যুদ্ধবিমানে আগুন ধরে যায়। তবে দক্ষতার সঙ্গে বিমানটি অবতরণ করাতে সক্ষম হন পাইলট এবং তিনি অক্ষত রয়েছেন বলে জানিয়েছে গ্রিক বিমান বাহিনী। ঘটনার পর বিমানবন্দরের রানওয়েতে দমকলকর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং সাময়িকভাবে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।   বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে গ্রিসের হেলেনিক এয়ার ফোর্সের ৩৩৫তম স্কোয়াড্রনের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ মিশনে অংশ নেওয়ার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির মুখে পড়ে। বিমানটি উত্তর-পশ্চিম গ্রিসের আরাকসোস বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছিল। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পাইলট নিকটতম বিমানবন্দর জাকিনথোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রানওয়েতে নামার পর যুদ্ধবিমানটির নিচের অংশে আগুন জ্বলে ওঠে। আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা বিমানবন্দরের দমকলকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে ফোম ও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পাইলট নিরাপদে বিমান থেকে বেরিয়ে আসেন। গ্রিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিমানটির ল্যান্ডিং গিয়ারে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   ঘটনার কারণে জাকিনথোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একমাত্র রানওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। ফলে নির্ধারিত বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল হয় এবং যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এই দুর্ঘটনার কয়েক দিন আগেই গ্রিসের ১১৬তম কমব্যাট উইং তাদের এফ-১৬ বহর আধুনিকীকরণের ঘোষণা দিয়েছিল। যদিও সাম্প্রতিক এই ঘটনার সঙ্গে সেই আধুনিকীকরণ কর্মসূচির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামরিক বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে পাইলটদের কঠোর জরুরি প্রোটোকল অনুসরণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে পাইলট নিরাপদে বিমানটি অবতরণ করাতে সক্ষম হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে। তদন্ত শেষ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৯, ২০২৬ ২১:২৭
ছবি: Narendra Modi's Australia Visit

মানবাধিকার ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে মোদির ওপর চাপ বাড়ানোর দাবি অস্ট্রেলিয়ায়

ভেনেজেলার ভূমিকম্প আঘাত ছবি: সংগৃহীত

ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপে খালি হাতে ৩৮ জনকে উদ্ধার করলেন তুর্কি নাগরিক ইব্রাহিম

উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলা

উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলা: কড়া নিন্দা জানাল মিসর

মোদির সফরে ইউরেনিয়াম রপ্তানি চুক্তি করল ভারত–অস্ট্রেলিয়া
মোদির সফরে ইউরেনিয়াম রপ্তানি চুক্তি করল ভারত–অস্ট্রেলিয়া, জোরদার হচ্ছে কৌশলগত অংশীদারিত্ব

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই দেশ শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচির জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতে ইউরেনিয়াম রপ্তানির প্রশাসনিক চুক্তি সই করেছে। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতের বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচিতে অস্ট্রেলিয়ার ইউরেনিয়াম সরবরাহের পথ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত হলো।     অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী Anthony Albanese ও মোদির বৈঠকে ইউরেনিয়ামের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রিন হাইড্রোজেন এবং সরবরাহ ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) শক্তিশালী করার বিষয়েও একাধিক সমঝোতা হয়েছে।     মোদি বলেন, ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। এই লক্ষ্য অর্জনে অস্ট্রেলিয়ার ইউরেনিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি ভারতীয় অবকাঠামো খাতে আরও বেশি অস্ট্রেলীয় বিনিয়োগের আহ্বান জানান।     এদিকে অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, চুক্তিটি শুধু জ্বালানি সহযোগিতা নয়, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার অংশ। বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও গুরুত্ব পেয়েছে।     ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ২০১৪ সালে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি হলেও, ভারত পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (NPT) সদস্য না হওয়ায় ইউরেনিয়াম রপ্তানি কার্যকর হতে দীর্ঘদিন বিলম্ব হয়। সর্বশেষ প্রশাসনিক চুক্তির মাধ্যমে সেই বাধা দূর হলো।   বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইউরেনিয়াম মজুদের দেশ অস্ট্রেলিয়া, আর ভারত দ্রুত পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এই চুক্তিকে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৯, ২০২৬ ৪:২২
অরুণাচলে টানা বৃষ্টিতে ভূমিধস

অরুণাচলে টানা বৃষ্টিতে ভূমিধস: নিহত ২, আহত ৪; সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে পাল্টা আঘাত ইরানের

মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে পাল্টা আঘাত ইরানের

নাজাফ থেকে মাশহাদে নেওয়া হচ্ছে খামেনির মরদেহ

নাজাফ থেকে মাশহাদে নেওয়া হচ্ছে খামেনির মরদেহ

কঙ্গোতে ইবোলা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ মৃত ৬০০ ছাড়াল
কঙ্গোতে ইবোলা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ: মৃত ৬০০ ছাড়াল, আক্রান্ত ১,৭৫৯

আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআরসি) ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। সর্বশেষ সরকারি হিসাবে, ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৫৯ জনে।   বুধবার (৮ জুলাই) প্রকাশিত সরকারের সর্বশেষ প্রতিবেদনে মঙ্গলবার পর্যন্ত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫১ জন ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন আরও ২০ জন। পরিস্থিতির এই ধারাবাহিক অবনতিতে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, টশোপো প্রদেশের রাজধানী কিসাঙ্গানিতে আরও দুইজনের মধ্যে ইবোলার উপসর্গ দেখা গেছে। তবে তাদের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল এখনও নিশ্চিত না হওয়ায় সরকারি আক্রান্তের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলাফল নিশ্চিত হলে তাদেরও মোট আক্রান্তের হিসাবে যোগ করা হবে।   এই দুইজনের একজনের সংক্রমণের উৎস ইতুরি প্রদেশের নিয়্যা-নিয়া গ্রাম বলে ধারণা করা হচ্ছে—যেখান থেকেই এবারের প্রাদুর্ভাবের সূত্রপাত। তবে অন্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে কিসাঙ্গানি ছাড়া অন্য কোনো অঞ্চলের সঙ্গে সংক্রমণের সরাসরি সংযোগ এখনো শনাক্ত করা যায়নি, যা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নতুন করে উদ্বেগে ফেলেছে।   এরই মধ্যে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ইতুরি প্রদেশে স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বেতন-ভাতা পরিশোধে বিলম্বের প্রতিবাদে তারা কর্মবিরতি শুরু করেছেন। গত সপ্তাহান্তে স্বাস্থ্যকর্মীরা জাতীয় ও প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। যদিও মঙ্গলবার পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ধর্মঘট ঘোষণা করা হয়নি, তবু বেশ কয়েকজন ইতোমধ্যে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।   স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযোগ, গত ১৫ মে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে তারা নিয়মিত বেতন ও অতিরিক্ত ভাতা পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তারা বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হচ্ছেন।   ইতুরির রাজধানী বুনিয়ার মহামারি নজরদারি কমিটির সদস্য চিকিৎসক ডা. বিয়েনসি কানো বলেন, “ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকেই আমরা আমাদের কাজের পারিশ্রমিক দাবি করে আসছি, কিন্তু এখনো তা পুরোপুরি পাওয়া যায়নি।”   এদিকে, ইবোলার ‘বান্ডিবুগিও’ ধরনের সংক্রমণ মোকাবিলায় পরীক্ষামূলক চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং রোগী নিবন্ধনও চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনটি তুলনামূলক কম প্রাণঘাতী হলেও এর বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো কার্যকর টিকা নেই, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।   বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) মে মাসে এই প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করে। তবে তার আগেই ভাইরাসটি মংগবওয়ালু, রওয়ামপারা ও বুনিয়া অঞ্চলের খনিশহরগুলোতে কয়েক সপ্তাহ ধরে অজান্তেই ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তা আশপাশের প্রদেশগুলোতেও বিস্তার লাভ করে।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই প্রাদুর্ভাব আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে। এতে শুধু কঙ্গো নয়, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর জন্যও ঝুঁকি বাড়তে পারে।   তথ্যসূত্র: আল জাজিরা  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৯, ২০২৬ ১:১৩
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিমান নিরাপদে অবতরণ করান শিক্ষার্থী। ছবি: সংগৃহীত

প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চলাকালে বিমানের বাইরে ঝাঁপ দিলেন প্রশিক্ষক, নিরাপদে অবতরণ করালেন শিক্ষার্থী

দাঁতের চিকিৎসার সময় মারা যাওয়া সাত বছরের এলা কোকাচোগুর। ছবি: সংগৃহীত

একসঙ্গে আটটি দাঁতের ফিলিং করতে গিয়ে ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু

0 Comments